Aishe Ghosh Arrest Warrant: জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) প্রাক্তন ছাত্র সংসদ সভাপতি এবং স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই)-এর নেত্রী ঐশী ঘোষের জন্য বড় স্বস্তির খবর। ২০২১ সালের একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লির নিম্ন আদালত যে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল, তা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করে দিল দিল্লি হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার এই নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। এর আগে বুধবার আদালত ওই পরোয়ানার উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিল।
কী নিয়ে শুরু হয়েছিল মামলা?
ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালে। সেই সময় কেন্দ্রীয় কৃষি আইনের বিরুদ্ধে এবং ছাত্র স্বার্থে একাধিক দাবিকে সামনে রেখে দিল্লিতে বৃহৎ প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেয় স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই)। রাজধানীর রাজপথে হওয়া ওই বিক্ষোভে বহু ছাত্র-ছাত্রী অংশ নেন।
দিল্লি পুলিশের অভিযোগ ছিল, আন্দোলনকারীরা নির্ধারিত রুট ভেঙে মিছিল করেন এবং কোভিড-১৯ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করেন। পাশাপাশি পুলিশি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। এই ঘটনার ভিত্তিতে বেআইনি জমায়েত, সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা সৃষ্টি-সহ ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
কেন জারি হয়েছিল গ্রেফতারি পরোয়ানা?
ওই মামলার তদন্ত চলাকালীন দিল্লির ট্রায়াল কোর্ট বা নিম্ন আদালত ঐশী ঘোষের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।
হাইকোর্টে ঐশী ঘোষের আইনজীবীরা দাবি করেন, তিনি একজন দায়িত্বশীল নাগরিক এবং পরিচিত ছাত্রনেত্রী। তিনি তদন্তে সহযোগিতা করতে এবং আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিতে প্রস্তুত। শুধুমাত্র একটি গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে এত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা আইনসঙ্গত নয় বলেও আদালতে যুক্তি তুলে ধরা হয়।
হাইকোর্ট কী বলল?
মামলার বিস্তারিত শুনানির পর দিল্লি হাইকোর্টের একক বেঞ্চ নিম্ন আদালতের জারি করা জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করে দেয়।
আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, যদি কোনও অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতের সামনে হাজির হতে এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক হন, তাহলে অযথা কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে আইনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই উচিত।
কোন শর্তে মিলল স্বস্তি?
পরোয়ানা বাতিলের পাশাপাশি হাইকোর্ট ঐশী ঘোষের জন্য কয়েকটি শর্তও নির্ধারণ করেছে।
তাঁকে নিয়মিত নিম্ন আদালতে হাজিরা দিতে হবে।
তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
আদালতের অনুমতি ছাড়া মামলার তদন্ত বা বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার মতো কোনও পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।
রায়কে স্বাগত বাম ছাত্র সংগঠনের
হাইকোর্টের এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছে স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই) এবং ঐশী ঘোষের আইনজীবীরা। তাঁদের বক্তব্য, সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার দিয়েছে। সেই অধিকার প্রয়োগের কারণে অযথা পুলিশি হয়রানি বা কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত নয়। আদালতের এই রায় গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করেছে তারা।
এই রায়ের ফলে ঐশী ঘোষ আপাতত বড় আইনি স্বস্তি পেলেও, মূল মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিম্ন আদালতেই চলবে এবং আদালতের নির্ধারিত শর্ত মেনেই তাঁকে সেই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে।

