West Bengal Anti Goonda Act: পশ্চিমবঙ্গের গুণ্ডা দমন আইনকে (পশ্চিমবঙ্গ জনশৃঙ্খলা রক্ষা আইন, ১৯৭২) চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলা আপাতত খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আইনে এখনও রাষ্ট্রপতির অনুমোদন মেলেনি। তাই এই পর্যায়ে আইনটির বৈধতা নিয়ে আদালত কোনও সিদ্ধান্ত বা শুনানি করতে পারে না।
তবে মামলার অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় আদালত রাজ্য সরকারকে চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে, মামলাকারীদের ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাল্টা হলফনামা দাখিল করতে বলা হয়েছে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুলাই থেকে রাজ্যে গুণ্ডা দমন আইন কার্যকর হয়েছে। যদিও বিলটি বিধানসভায় পাস হওয়ার পর রাজ্যপাল প্রথমে তাতে সম্মতি দিয়েছিলেন, পরে সেই সম্মতি প্রত্যাহার করে বিলটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠিয়ে দেন। এখনও পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না মেলায় আইনটির চূড়ান্ত সাংবিধানিক অবস্থান স্পষ্ট হয়নি।
রাজ্য সরকারের দাবি, গুজরাট ও উত্তরপ্রদেশের মতো পশ্চিমবঙ্গেও অসামাজিক কার্যকলাপ দমনে এই আইন আনা হয়েছে। আইনে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ বলতে এমন সব কর্মকাণ্ডকে বোঝানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক বা নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি করে, কারও বৈধ ব্যবসা বা জীবিকায় বাধা সৃষ্টি করে কিংবা বেআইনিভাবে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দখলের মতো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত।
এই আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রতিরোধমূলক আটক করার ক্ষমতা। কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার বা তার ঊর্ধ্বতন আধিকারিকের রিপোর্টের ভিত্তিতে রাজ্য সরকার যদি মনে করে ভবিষ্যতে তিনি অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়তে পারেন, তাহলে তাঁকে আটক রাখার নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে। একই ক্ষমতা জেলা শাসক ও পুলিশ কমিশনারকেও দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের যে কোনও প্রান্তে এই আটকাদেশ কার্যকর করা যাবে।
আইন অনুযায়ী, এই ধরনের আটক সংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনার জন্য রাজ্য সরকার এক বা একাধিক পরামর্শদাতা বোর্ড গঠন করবে। প্রতিটি বোর্ডে একজন চেয়ারপার্সন থাকবেন, যিনি হাইকোর্টের বর্তমান বা প্রাক্তন বিচারপতি হবেন। এছাড়া বোর্ডে আরও দু’জন সদস্য থাকবেন, যাঁরা হাইকোর্টের বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না মেলায় এই আইন নিয়ে আইনি অনিশ্চয়তা এখনও বজায় রয়েছে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্টে মামলার পরবর্তী শুনানিতে বিষয়টি আবারও আদালতের বিবেচনায় আসবে।
#WestBengalAntiGoondaAct #KolkataHighCourt #WestBengalNews #LegalNews #IndianJudiciary #PublicInterestLitigation #LawAndOrder
