Tarique Rahman UNGA Address: ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেবেন। বাংলায় দেওয়া এই ভাষণে তিনি রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং তাঁর সরকারের গণতান্ত্রিক কর্মসূচির বিষয়গুলি তুলে ধরবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তারেক রহমান রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে পুনর্বাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন চাইবেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকটকে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রীয় বিষয়ে ধরে রাখার লক্ষ্যেই ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি আন্তর্জাতিক সমর্থনের আবেদন জানাবেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও তাঁর সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হবে। ২৩ সেপ্টেম্বর জলবায়ু সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি অংশ নেবেন। পরের দিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে একটি অধিবেশনেও বক্তব্য রাখবেন। জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলির উদ্বেগ, জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়গুলি সেখানে গুরুত্ব পাবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন তারেক রহমান এবং ২৫ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তাঁর এই সফর বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের প্রথম জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন-অংশগ্রহণ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তিনি বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থানও তুলে ধরবেন বলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিবের বক্তব্য জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তারেক রহমান বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন বলে রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।
২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে পুনর্বাসনের জন্য আরও জোরালো আন্তর্জাতিক সমর্থন চাইবেন তারেক রহমান। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকটকে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে ধরে রাখতে ঢাকা এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান আসাদ আলম সিয়াম।
প্রসঙ্গত ২০১৭ সালে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান ও সহিংসতার মধ্যে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা মুসলিম বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর এই সংকটের শুরু। বাংলাদেশে বর্তমানে ১০ লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছেন। তাঁদের আশ্রয় দেওয়ার কারণে বাংলাদেশের সম্পদ ও পরিকাঠামোর উপর ক্রমবর্ধমান চাপ তৈরি হয়েছে।
সফরের ফাঁকে কুয়েতের যুবরাজ এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
২৩ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী বৈষম্য সংকট মোকাবিলা নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং বাংলাদেশের আয়োজিত মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য ও ধাত্রীবিদ্যা বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া তারেক রহমান জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি, বিশ্বব্যাংক গোষ্ঠীর সভাপতি, মায়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত এবং শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে তারেক রহমান মেটা, ওয়াল স্ট্রিট এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। আলোচনায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ এবং উৎপাদন, পরিকাঠামো ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সুযোগের পাশাপাশি তরুণদের মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলি থাকবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
#TariqueRahmanUNGAddress #TariqueRahman #UNGA #BangladeshPrimeMinister #UnitedNations #RohingyaCrisis #ClimateChange #BangladeshDiplomacy #EconomicDiplomacy #Bangladesh














