Bangladesh Political Situation: বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আওয়ামী লীগের কর্মসূচি, তারেক রহমানকে ঘিরে নাহিদ ইসলামের বক্তব্য এবং শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা—এই একাধিক প্রসঙ্গ উঠে এসেছে প্রথম কলকাতার সম্পাদক সুব্রত আচার্যের সঙ্গে কলকাতার সাংবাদিক সুমন ভট্টাচার্যের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে। আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে, বিএনপির সঙ্গে নাহিদ ইসলাম ও জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থানের টানাপোড়েন এবং জুলাইয়ের আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে সুমন ভট্টাচার্যের বক্তব্য। প্রদত্ত সাক্ষাৎকারের প্রতিলিপি অনুযায়ী, তিনি মনে করেন, তারেক রহমানকে শেখ হাসিনার সঙ্গে একই রাজনৈতিক অবস্থানে বিচার করলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভিন্ন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।
আলোচনার শুরুতেই সঞ্চালক সুব্রত আচার্য বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আওয়ামী লীগের যুব সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘোষিত ঢাকা লকডাউন কর্মসূচি নিয়ে সুমন ভট্টাচার্যকে প্রশ্ন করেন।
সুব্রত আচার্য জানতে চান:
বাংলাদেশে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুব সংগঠন যুবলীগের পক্ষ থেকে ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি চলছে। এখনও পর্যন্ত ঢাকায় সেই কর্মসূচির বিশেষ প্রভাব দেখা যায়নি। আওয়ামী লীগের এই কর্মসূচিকে তিনি কীভাবে দেখছেন?
উত্তর: সুমন ভট্টাচার্য (Bangladesh Political Situation)
সুমন ভট্টাচার্য বলেন, আওয়ামী লীগ প্রায় দু’বছর বাংলাদেশের রাজনীতির মূল প্রেক্ষাপটের বাইরে রয়েছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশে নিজেদের রাজনৈতিক উপস্থিতি ফেরানোর চেষ্টা হিসেবেই আওয়ামী লীগ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি করছে। তিনি স্পষ্ট করেন, ‘হাত-পা ছোড়া’ কথাটি তিনি রাজনৈতিক পরিভাষা হিসেবে ব্যবহার করছেন, কাউকে অপমান করার জন্য নয়।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই চেষ্টার একটি পদ্ধতি হল ‘লকডাউন’ কর্মসূচি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগতভাবে কথা হয়েছে এবং তাঁরা প্রকাশ্যে না বললেও স্বীকার করেছেন যে দলের বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থায় লকডাউন কর্মসূচি সফল হবে—এমন আশা খুব বেশি ছিল না।
সুমনবাবুর মতে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়ার পর আওয়ামী লীগ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে।
এরপর বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ইউনূসের শাসন চলেছে। সেই সময়কার শাসন নিয়ে ভারত ও ভারত সরকারের বিভিন্ন অভিযোগ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। এরপর একটি নির্বাচন হয় এবং তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় আসে।
তিনি বলেন, ইউনূসের সময়ে নতুন দল বা নতুন নেতৃত্বের যে উপস্থিতি দেখা গিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যগত বিরোধী বিএনপি ক্ষমতায় আসে। বিএনপিকে তিনি নিজের বিশ্লেষণে একটি মধ্যপন্থী দল হিসেবে উল্লেখ করেন।
আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ভারতে যে ধরনের উচ্ছ্বাস বা প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তাতে কিছুটা ভাটা পড়েছে। তাঁর মতে, তারেক রহমানের সরকারের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক তৈরির যে চেষ্টা চলছিল, বিভিন্ন ঘটনার কারণে তাতে কিছুটা ধাক্কা লেগেছে এবং দু’পক্ষেরই কিছু ভুলচাল সমস্যা তৈরি করেছে।
তারেক রহমানকে নিয়ে তাঁর মূল্যায়ন কী? (Bangladesh Political Situation)
বর্তমান বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের নেতৃত্ব এবং তাঁর সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে কীভাবে দেখছেন সুমন ভট্টাচার্য?
উত্তর: সুমন ভট্টাচার্য
সুমনবাবু বলেন, বাংলাদেশের প্রশাসনের বিরুদ্ধে একটি ধারাবাহিক অভিযোগ রয়েছে যে তারা ইউনূসের সময়কার কিছু ধারা অনুসরণ করছে। তবে তিনি বলেন, তিনি এ বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত নন।
এরপর নিজের ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হিসেবে তিনি বলেন, তারেক রহমানের ব্যাপারে তিনি ‘ভীষণ হোপফুল’। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ইংল্যান্ডে থাকার পর দেশে ফিরে তারেক রহমান যে ধরনের কথাবার্তা বলেছেন এবং তাঁর মেয়েকে তিনি যে ধরনের কথা বলতে শুনেছেন, তাতে তাঁর মনে হয়েছে নতুন প্রজন্মের একটি ভাবনা রয়েছে।
এরপর তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের সামাজিক জায়গায় অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বাংলাদেশের কিশোর অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, অপ্রতিম আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে মারা যায়। অপ্রতিমের মা ২০২৪ সালের জুলাইয়ের শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম অংশীদার ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সুমন বলেন, সেই কারণে অপ্রতিমের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কেউ আনন্দ প্রকাশ করলে সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁর মতে, বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক অধঃপতন নয়, সামাজিক অধঃপতনেরও উদাহরণ। তিনি বলেন, এই সামাজিক অধঃপতন বাংলাদেশ থেকে বেরোতে না পারলে তার প্রভাব ভারতেও পড়তে পারে।
শিশুদের মৃত্যু, আইনশৃঙ্খলা এবং সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে কী বললেন?
অপ্রতিমের ঘটনা তাঁকে স্তম্ভিত করেছে। বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। গত এক বছরে ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ এবং কয়েক মাসে বহু শিশুর মৃতদেহ উদ্ধারের মতো ঘটনাও সামনে এসেছে। এর পিছনে কোনও শক্তি সরকারকে বিব্রত করতে বা সরকারকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে কাজ করছে কি না—এমন প্রশ্নও তোলা হয়।
উত্তর: সুমন ভট্টাচার্য (Bangladesh Political Situation)
সুমনবাবু প্রথমেই বলেন, অপ্রতিমের ঘটনা তাঁকে ‘স্টার্ন’ বা গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তিনি এটিকে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলার জন্য সমস্যা হিসেবে দেখেন।
এরপর তিনি অতীতের কয়েকটি ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে তোফাজ্জেল নামে এক ব্যক্তিকে মোবাইল চুরির অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনায় তিনি প্রথম শিউরে উঠেছিলেন।
এরপর তিনি আরও একটি ঘটনার উল্লেখ করেন, যেখানে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও একটি মেসে খাবার চুরি করার অভিযোগে একজনকে পিটিয়ে মারা হয়েছিল।
সুমন বলেন, ছোটবেলায় ১৯৯৬ সালে প্রথম বাংলাদেশে নির্বাচন কভার করতে গিয়ে তিনি যে বাংলাদেশ দেখেছিলেন, সেখানে আতিথেয়তার একটি আলাদা সংস্কৃতি ছিল। তিনি নিজের একটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ঢাকায় একজন পরিচিত সাংবাদিকের বাড়িতে সকালে দেখা করতে গেলে তাঁকে প্রাতরাশে ইলিশ খেতে দেওয়া হয়েছিল।
এই প্রসঙ্গ থেকে তিনি বলেন, সেই বাংলাদেশের অতিথি আপ্যায়ন ও সামাজিক সংস্কৃতির জায়গা যেন অনেকটাই বদলে গেছে।
তিনি এরপর আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—দুই প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কথাই বলেন। তাঁর বক্তব্য, দুই দলকেই বুঝতে হবে যে বাংলাদেশের সামনে যে সামাজিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, সেটি রাজনৈতিক লড়াইয়ের বাইরেও একটি বড় বিষয়।
রাজনৈতিক বিরোধ কি সামাজিক অধঃপতনের কারণ হয়ে উঠছে? (Bangladesh Political Situation)
বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে হিংসা, আক্রমণাত্মক ভাষা এবং প্রতিশোধের প্রবণতা কেন এত বাড়ছে? রাজনৈতিক সংকটের সঙ্গে সামাজিক সংকটের সম্পর্ক কোথায়?
উত্তর: সুমন ভট্টাচার্য
সুমনবাবু বলেন, বাংলাদেশের সমস্যাকে শুধু রাজনৈতিক সংকট হিসেবে দেখলে হবে না। তাঁর বক্তব্যে, এটি একটি সামাজিক সংকটও।
তিনি রাজনৈতিক বিরোধের কারণে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার উদাহরণ দেন। তাঁর মতে, একজন মানুষ ছোটবেলার বন্ধুর সঙ্গে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে শত্রুতায় জড়িয়ে পড়ছে। এমনকি কোনও বন্ধুর পরিবারের সদস্যকে নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এটি কোনও সংস্কৃতি হতে পারে না।
এরপর তিনি মহাত্মা গান্ধী, মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র এবং নেলসন ম্যান্ডেলার উদাহরণ দিয়ে অহিংসার কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য, কেউ হিংসা করলেও তার বিরুদ্ধে অহিংস সত্যাগ্রহের পথ নেওয়ার আদর্শও রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতিশোধমূলক হিংসা, মারধর এবং ‘মেরে ফেলা’র ভাষা যেন স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। তাঁর বক্তব্যে, ‘মব কালচার’ বা দলবদ্ধ হিংসার প্রবণতার কথাও উঠে আসে।
এরপর তিনি আবার বলেন—এটি রাজনৈতিক সংকটের পাশাপাশি সামাজিক সংকট।

তারেক রহমানকে ঘিরে নাহিদ ইসলাম, জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে চাপ—কী বললেন?
তারেক রহমানকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে বিএনপির পাশাপাশি জামায়াত ও এনসিপির অবস্থানও আলোচনায় এসেছে। নাহিদ ইসলাম বলেছেন, তারেক রহমান যেন হেলিকপ্টারে পালিয়ে না যান, আর শফিকুর রহমান বলেছেন, তারেক রহমানও স্বৈরাচারের পথে হাঁটছেন। বিএনপির উপর এই দুই রাজনৈতিক শক্তির চাপকে কীভাবে দেখছেন?
উত্তর: সুমন ভট্টাচার্য
প্রথমে নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের প্রসঙ্গে বলেন, নির্বাচনে হারার পর নির্বাচনের রায় মেনে নেওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে অল্প সময়ের মধ্যে হেলিকপ্টারে দেশ ছাড়তে হবে—এমন কথা বলা উচিত নয়।
এরপর তিনি নাহিদ ইসলামের বক্তব্য নিয়ে সরাসরি বলেন:
“নাহিদ বুঝতে পারছেন না যে উনি যে ভাষা তারেক রহমানের সম্পর্কে প্রযোজ্য করছেন।”
এরপর তিনি বলেন:
“তারেক কিন্তু ওই জুলাইয়ের আন্দোলনে ছাত্রদের আন্দোলনে বিএনপিও ছিল।”
তারপর তাঁর বক্তব্য:
“ফলে তারে উনি যদি ভাবেন যে তারেককে উনি শেখ হাসিনার মত একই জায়গায় ফেলবেন তাহলে কিন্তু তারেক অতিদ্রুত শেখ হাসিনার সঙ্গে জোট করে ফেলবেন।”
অর্থাৎ সুমনের বক্তব্যে, তারেক রহমানকে শেখ হাসিনার সঙ্গে একই রাজনৈতিক অবস্থানে দাঁড় করানোর চেষ্টা হলে তার ফল উল্টো হতে পারে—এমন একটি রাজনৈতিক সম্ভাবনার কথা তিনি তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ, ভারতপন্থী ও পাকিস্তানপন্থী ভোটের সমীকরণ কী? (Bangladesh Political Situation)
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে ভোটের সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভাজনকে কীভাবে দেখছেন?
উত্তর: সুমন ভট্টাচার্য
সুমন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বিস্তৃত ভোটের সমীকরণের কথা বলেন। তিনি নিজের বিশ্লেষণ হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের একটি অংশকে পাকিস্তানপন্থী বা ভারতবিরোধী এবং আরেকটি অংশকে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কের পক্ষে হিসেবে দেখান। তিনি মাঝের একটি অংশের কথাও বলেন, যাদের অবস্থান বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ভারসাম্য বদলাতে পারে।
তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্বাচনের সময়ও একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তাঁর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিল।
এরপর তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনকালে তাদের বিভিন্ন ভুল, জোটসঙ্গীদের নির্বাচনে পরাজয় এবং অন্যান্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে মাঝের ভোটের একটি অংশ বিরোধী শক্তির দিকে চলে যায় বলে তাঁর বিশ্লেষণ।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহে এই রাজনৈতিক সমীকরণের ভূমিকা ছিল বলে তিনি মনে করেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনও একটি রাজনৈতিক শক্তি শুধু একটি অংশের ভোটের উপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারবে না।
শেখ হাসিনা ফিরে এলে তারেক রহমানের রাজনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?
শেখ হাসিনা যদি বাংলাদেশে ফিরে আসেন, তাহলে তারেক রহমানের রাজনৈতিক অবস্থান এবং ভারতবিরোধী রাজনীতির ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন হতে পারে?
উত্তর: সুমন ভট্টাচার্য
সুমন বলেন, শেখ হাসিনাকে দ্রুত ফিরিয়ে আনার একটি রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা না ফিরলে ভারতবিরোধী বা পাকিস্তানপন্থী যে ভোটব্যাঙ্কের কথা তিনি বলছেন, তার একটি অংশ জামায়াত বা অন্য রাজনৈতিক শক্তির দিকে চলে যেতে পারে।
তিনি বলেন, তারেক রহমানকে তিনি বর্তমানে মধ্যপন্থী অবস্থানে দেখছেন। কিন্তু শেখ হাসিনা ফিরে এলে তারেক রহমানের জন্য ভারতবিরোধী রাজনীতি করা রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক হতে পারে বলে তাঁর বিশ্লেষণ।
তাঁর বক্তব্য:
“কিন্তু যেই শেখ হাসিনা ফেরত চলে আসবেন তখন কিন্তু তারেকের জন্য ভারতবিরোধী রাজনীতি করতে সুবিধা হবে।”
এরপর তিনি বলেন, ভারতের পক্ষের ভোট আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকতে পারে এবং ভারতবিরোধী ভোট তারেক রহমানের পক্ষে যেতে পারে—এমন রাজনৈতিক সমীকরণ তিনি দেখছেন।
আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কী বললেন?
উত্তর: সুমন ভট্টাচার্য
সুমনবাবু বলেন, আওয়ামী লীগের একটি সমস্যা হল তারা এখনও পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছে না যে তারা ক্ষমতা হারিয়েছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের কিছু নেতার সমাজমাধ্যমের বক্তব্য দেখে তাঁর মনে হয়, তাঁরা এমন একটি পরিস্থিতি কল্পনা করছেন যেখানে শেখ হাসিনা ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরবেন, পরের দিনই প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাবেন এবং বর্তমানে বিরোধী অবস্থানে থাকা রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুমনবাবু বলেন, বাস্তবে এমনটা হওয়ার কথা নয়।
তিনি বলেন:
“আওয়ামী লীগকে প্রথম শিখতে হবে আমরা বিরোধী হতে পারি। বিরোধী হওয়াটা কোন দোষের না।”
একই সঙ্গে বিএনপির জন্যও তাঁর বক্তব্য রয়েছে। তিনি বলেন:
“বিএনপিকে শিখতে হবে যে যে বিরোধী তাকে মারবো কাটবো তার এখানে বোমা ছুড়বো এটা হতে পারে না।”
অর্থাৎ তাঁর বক্তব্যে, আওয়ামী লীগকে বিরোধী দলের অস্তিত্ব মেনে নেওয়া এবং বিএনপিকেও বিরোধীদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব মেনে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রশ্ন ৯: আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে পুনর্মিলন কি প্রয়োজন?
দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে সংঘাত ও প্রতিশোধের রাজনীতি কীভাবে বন্ধ হতে পারে?
উত্তর: সুমন ভট্টাচার্য
সুমনবাবু এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী হাসান মাহমুদের বক্তব্যের উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হাসান মাহমুদ বারবার ‘রিকনসাইল’ বা পুনর্মিলনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
তিনি মির্জা ফখরুলের বক্তব্যেরও উল্লেখ করেন, যেখানে তাঁর মতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্মিলনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
সুমনবাবু র বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরানো হলেও আওয়ামী লীগের মানুষজন বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে অস্তিত্বশীল থাকবেন। তাঁদের মারধর করা, বাড়িতে আগুন দেওয়া বা পরিবারের মহিলাদের উপর হামলা করা কোনওভাবেই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হতে পারে না বলে তিনি বলেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিরোধী হিসেবে থাকবে এবং নির্বাচনে জিতলে আবার ক্ষমতায় আসতে পারে। একইভাবে বিএনপি কখনও ক্ষমতা হারালে তারাও যেন রাজনৈতিকভাবে অস্তিত্বশীল থাকতে পারে—এমন পরিবেশ তৈরি হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি বলেন।
তাঁর বক্তব্যের একটি অংশ:
“ইউ বাংলাদেশ মাস্ট লার্ন টু ডেমোক্রেসি।”
অর্থাৎ তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের রাজনীতিতে রাজনৈতিক সহাবস্থান এবং বিরোধী দলের অস্তিত্ব মেনে নেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি করা প্রয়োজন।
৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকদের উপর আক্রমণ এবং অপ্রতিমের ঘটনা নিয়ে কী বললেন?
উত্তর: সুমন ভট্টাচার্য
সুমন বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের দিন গণভবনে ঢুকে যে হিংস্র উল্লাস দেখা গিয়েছিল, সেটিও খারাপ ঘটনা। কিন্তু তার প্রতিশোধ হিসেবে অপ্রতিমের মতো কোনও শিশুর পরিবারের সদস্যকে আক্রমণ করা বা সমাজমাধ্যমে গালিগালাজ করা গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি বক্তব্য রাখেন।
তিনি বলেন, অপ্রতিমের মা ৫ আগস্টের আগের আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন বলে তাঁর ছেলের মৃত্যুর পর তাঁকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে আক্রমণ করা উচিত নয়।
শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে সুমন বলেন, তাঁর দল ও সমর্থকদের হিংসার রাজনীতি থেকে বের করে আনার দায়িত্বও তাঁর রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি শেখ হাসিনার কিছু বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, অতীতের অত্যাচারের তালিকা তৈরি করে রাখার বদলে রাজনৈতিকভাবে অন্য ধরনের পথ খোঁজা প্রয়োজন।
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে কীভাবে পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে?
শেখ হাসিনা ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার কথা ঘোষণা করেছেন। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে তাঁর ফেরার মতো রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না?
উত্তর: সুমন ভট্টাচার্য
সুমনের উত্তর ছিল:
“নিশ্চয়ই শেখ হাসিনা দেশে ফিরে উচিত। কেন ফিরবেন না? মানে উনি বাংলাদেশের নাগরিক। উনি ফিরবেন।”
এরপর তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে আইনি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। তাঁর দলের উপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার মতো রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি বলেন।
তবে ৫ আগস্টকে ঘিরে তাঁর বক্তব্যে একটি নির্দিষ্ট আপত্তির কথা উঠে আসে। তাঁর মতে, যেদিন বাংলাদেশ ৫ আগস্ট উদযাপন করছে এবং শেখ হাসিনার শাসন থেকে বেরিয়ে আসার দুই বছর পূর্তি পালন করছে, সেদিন দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাংবাদিক সম্মেলন করা উচিত হয়নি। নিজের বক্তব্য জানানোর জন্য অন্য দিন বেছে নেওয়া উচিত ছিল বলে তিনি মনে করেন।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার রাজনৈতিক পরিস্থিতি কি এখন তৈরি হয়েছে?
উত্তর: সুমন ভট্টাচার্য
পরিস্থিতি পুরোপুরি তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তিনি আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলার কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করতে হবে।
তিনি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে থাকা আইনি পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ কার্যকর না হলেও আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাঁদের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে যদি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়, তাহলে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ভয় তৈরি হতে পারে কি না।
এরপর তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে বুঝতে হবে যে বর্তমান নেতৃত্ব বা তারেক রহমান যতক্ষণ না তাঁদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে নিরাপত্তার সঙ্গে রাখার নিশ্চয়তা দিচ্ছেন, ততক্ষণ দেশে ফেরা নিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করা দরকার।
তিনি বলেন, শুধুমাত্র ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার মতো আবেগের কথা বললে রাজনৈতিক পরিস্থিতির বাস্তবতা বদলাবে না।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উপর হামলার বিচার নিয়ে কী বললেন?
উত্তর: সুমন ভট্টাচার্য
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর অত্যাচার ও হত্যার ঘটনা ঘটলে তার বিচার করা শাসকের দায়িত্ব। যেখানে সম্ভব, সেখানে তদন্ত করে শাস্তি দেওয়া উচিত বলেও তিনি বলেন।
তবে একইসঙ্গে তিনি প্রতিশোধের রাজনীতির বিরোধিতা করেন।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, অতীতে কেউ কাউকে মারধর করেছে বলে তার প্রতিশোধ হিসেবে পরবর্তী প্রজন্মের কাউকে রাস্তায় পিটিয়ে মারা বা পরিবারের উপর হামলা করা সভ্য সংস্কৃতি হতে পারে না।
তিনি বলেন, দুই পক্ষকেই এই বিষয়টি বুঝতে হবে। বিদেশে থেকেও এক পক্ষ আরেক পক্ষের সঙ্গে ইট ছোড়াছুড়ি বা সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার প্রসঙ্গও তিনি তোলেন এবং এটিকে ভদ্র বা সভ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতি নয় বলে মন্তব্য করেন।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের সমাধান কোথায়?
উত্তর: সুমন ভট্টাচার্য
আলোচনার শেষ দিকে বলেন, বাংলাদেশের সমস্যাকে শুধু রাজনৈতিক সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না; সামাজিক সংস্কারের প্রশ্নও রয়েছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক সংস্কার না হলে সামাজিক পরিস্থিতিরও পরিবর্তন হবে না।
তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যেই নিজেদের দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ধারণা ছিল। তাঁর বক্তব্যে জামায়াত এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও এই প্রসঙ্গ উঠে আসে।
শেষ পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য ছিল, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য রাজনৈতিক সংস্কার এবং সামাজিক পরিবর্তন—দুই বিষয়কেই একসঙ্গে দেখতে হবে।
#BangladeshPoliticalSituation #TariqueRahman #NahidIslam #SheikhHasina #AwamiLeague #BNP #Jamaat #JulyMovement #BangladeshPolitics #DhakaLockdown #SumanBhattacharya
বিস্তারিত জানতে অবশ্যই দেখুন প্রথম কলকাতা (PROTHOM KOLKATA) youtube চ্যানেল














