Tag: DENGUE PREVENTION

  • আগামী বছরই বাজারে ডেঙ্গির টিকা? পরীক্ষার ফলের পর বড় আশার বার্তা

    আগামী বছরই বাজারে ডেঙ্গির টিকা? পরীক্ষার ফলের পর বড় আশার বার্তা

    Dengue Vaccine India: বর্তমানে ডেঙ্গি প্রতিরোধে বাজারে টিকা আসার অপেক্ষা দীর্ঘদিনের। সেই অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় চিকিৎসা-গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের নির্দেশক রাজীব বেহল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী বছর ডেঙ্গির মরশুম বাড়াবাড়ি রকম শুরু হওয়ার আগেই, অর্থাৎ আগস্ট-সেপ্টেম্বর নাগাদ দেশে ডেঙ্গির টিকা বাজারে আসতে পারে।

    তবে বাজারজাত করার আগে টিকার তৃতীয় দফার ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার ফলাফল এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রস্তাবিত ডেঙ্গি টিকার ইতিমধ্যে দ্বিতীয় দফার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শেষ হয়েছে। সেই পরীক্ষার প্রতিবেদনে প্রাথমিক ফলাফল আশাব্যঞ্জক বলে জানা গিয়েছে।

    দ্বিতীয় দফার পরীক্ষায় মিলেছে আশাব্যঞ্জক ফল

    সূত্রের খবর, প্রস্তাবিত ডেঙ্গি টিকার ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় দফার ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। সেই পরীক্ষার রিপোর্টে প্রাথমিক ফলাফলে টিকাটি ‘অনেকটাই ভালো’ কাজ করছে বলে দেখা যাচ্ছে। তবে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সময় আসেনি। কারণ টিকার তৃতীয় দফার পরীক্ষাও চলছে।

    এই তৃতীয় দফার পরীক্ষায় টিকার কার্যকারিতা এবং নিরাপত্তা সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে। বিশেষ করে টিকাটি ডেঙ্গি প্রতিরোধে কতটা কার্যকর এবং মানুষের শরীরে ব্যবহারের ক্ষেত্রে তা কতটা নিরাপদ, সেই বিষয়গুলি এই পর্যায়ের পরীক্ষায় আরও স্পষ্ট হবে।

    রাজীব বেহল জানিয়েছেন, তৃতীয় দফার পরীক্ষা বর্তমানে চলছে। পুরো পরীক্ষা শেষ হতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে। পরীক্ষার ফলাফল ইতিবাচক হলে এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী বছরই ডেঙ্গির টিকা বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

    আগস্ট-সেপ্টেম্বরেই বাজারে আসতে পারে টিকা

    রাজীব বেহলের বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী বছর ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ার আগেই টিকাটি বাজারে আনার চেষ্টা চলছে। সেই হিসাবে আগস্ট-সেপ্টেম্বর নাগাদ দেশে ডেঙ্গির টিকা বাজারে আসতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

    তবে এটি এখনও সম্ভাবনার পর্যায়ে রয়েছে। কারণ তৃতীয় দফার পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তার ফলাফল পর্যালোচনা করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলে তবেই টিকাটি সাধারণ মানুষের জন্য বাজারে আসতে পারবে।

    অর্থাৎ, এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই টিকা পাওয়া যাবে। তবে গবেষণা ও পরীক্ষার বর্তমান অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক হওয়ায় আগামী বছর ডেঙ্গির টিকা বাজারে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    শহরে তৃতীয় দফার পরীক্ষা

    রবিবার কলকাতায় একটি স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজীব বেহল। সেখানেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি প্রস্তাবিত ডেঙ্গি টিকার বিষয়ে এই তথ্য জানান।

    তিনি জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত ডেঙ্গি টিকার ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় দফার ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। সেই পরীক্ষার রিপোর্টে প্রাথমিক ফলাফল বেশ ভালো পাওয়া গিয়েছে। তবে তৃতীয় দফার ট্রায়াল এখনও চলছে।

    তৃতীয় দফার এই পরীক্ষা শেষ হলে টিকার কার্যকারিতা এবং নিরাপত্তা সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে। পরীক্ষা সম্পূর্ণ হওয়ার পরে তার ফলাফল পর্যালোচনা করা হবে। তারপর প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে টিকাটি বাজারে আনার প্রক্রিয়া এগোতে পারে।

    এক ডোজেই কাজ করবে কি টিকা?

    এই টিকার দ্বিতীয় দফার ট্রায়ালের ফলাফলে প্রাথমিক ভাবে ভালো ফল দেখা গেলেও তৃতীয় দফার পরীক্ষার ফলাফল এখনও আসেনি। তাই টিকাটি শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

    তবে তৃতীয় দফার পরীক্ষায় টিকার কার্যকারিতা এবং সুরক্ষা সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে। পুরো পরীক্ষা শেষ হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। সেই রিপোর্ট ইতিবাচক হলে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয় অনুমোদন মিললে আগামী বছরই টিকা বাজারে আসতে পারে।

    সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ এবং প্যানাসিয়া বায়োটেকের তৈরি ‘ডেংভ্যাক্সিয়া’ নামের এই টিকাটি ডেঙ্গির চার ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তৈরি করা হয়েছে। একে বলা হচ্ছে দুর্বল করা জীবন্ত ভাইরাস-ভিত্তিক টিকা।

    পরীক্ষার ফল ও অনুমোদনের দিকেই এখন নজর

    ডেঙ্গির টিকা বাজারে আসার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল তৃতীয় দফার পরীক্ষা এবং তার ফলাফল। দ্বিতীয় দফার পরীক্ষায় প্রাথমিক ভাবে ভালো ফল পাওয়া গেলেও চূড়ান্ত ভাবে টিকার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আরও তথ্য প্রয়োজন।

    তৃতীয় দফার ট্রায়াল পুরোপুরি শেষ হতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে। সেই রিপোর্ট ইতিবাচক হলে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী বছর ডেঙ্গির টিকা বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

    #denguevaccineindia #denguevaccine #dengueprevention #denguetreatment #denguevirus #medicalresearch #denguetrial

    আরও পড়ুন: ডেঙ্গিতে আক্রান্তদের বড় অংশ স্কুলপড়ুয়া শিশু!

  • ডেঙ্গিতে আক্রান্তদের বড় অংশ স্কুলপড়ুয়া শিশু!

    রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তদের মধ্যে ২৯ শতাংশই স্কুলপড়ুয়া বলে সংবাদ সূত্রে দাবি করা হয়েছে। শিশু ও কিশোরদের মধ্যে ডেঙ্গি সংক্রমণের এই পরিসংখ্যান নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আরও উল্লেখযোগ্য, গত বছর ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের ৫৯ শতাংশের বয়স ছিল ১৬ বছর বা তার কম। অর্থাৎ শিশু ও কিশোরদের একটি বড় অংশকে ডেঙ্গির কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

    শিশুদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণের কথা বলা হয়েছে। তীব্র পেটের ব্যথা, বারবার বমি, জ্বর, সারা শরীরে ব্যথা, নাক বা মাড়ি থেকে রক্তপাত, বমির সঙ্গে রক্ত, মল বা মূত্রের রং বদলে যাওয়া এবং শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। জ্বর কমে যাওয়ার পরেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    ডেঙ্গি প্রতিরোধে বাড়ি, স্কুল এবং আশপাশে জমা জল পরিষ্কার করা জরুরি। ফুলের টব, পাত্র বা অন্য কোথাও জল জমে থাকলে তা নিয়মিত সরাতে হবে। শিশুর জ্বর বা উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

    #DengueInSchoolChildren #DengueFever #DengueInChildren #SchoolChildrenHealth #DengueSymptoms #ChildHealth #DenguePrevention #WestBengalDengue

  • Dengue Prevention: বাড়ছে ডেঙ্গি, প্লেটলেট বাড়াতে কী কী খাবার খাবেন? জেনে নিন এখনই

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    Dengue Prevention: ক্রমশ বাড়ছে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা। পুজোর আগে ডেঙ্গি আরও ভয়ানক আকার ধারণ করবে এমনটাই আশঙ্কা চিকিৎসকদের। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম সূত্রের খবর অনুযায়ী জানা যাচ্ছে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। ডেঙ্গি হলে দ্রুত কমে যায় প্লেটলেট। এই সময় সেই প্লেটলেট বাড়াতে কি কি খাবার খাবেন? কি বলছেন বিশেষজ্ঞরা? চলুন, এই প্রতিবেদনে তা জেনে নেওয়া যাক।

    বিশেষজ্ঞদের ধারণা অস্তিত্ব বাঁচাতে চরিত্র বদল করছে এডিশ মশা। যে কারণেই এত বিপত্তি। এবারের ডেঙ্গিতে একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যাচ্ছে। খামখেয়ালী আবহাওয়ার কারণেই বাড়ছে জ্বর-জ্বালা। এছাড়াও ভাইরাল ফিভার তো আছেই। তাই একদিন জ্বর হলেই পরের দিন আগে চিকিৎসকের কাছে যান। রক্তপরীক্ষা করান। পাশাপাশি সারাদিনে প্রচুর পরিমাণ জল খেতে হবে। খেতে হবে ফলও। এছাড়াও তালিকায় কোন কোন খাবার রাখতেই হবে দেখে নিন। ডেঙ্গিতে সবচেয়ে বেশি ডিহাইড্রেশনের সমস্যা দেখা দেয়। সেই সঙ্গে হাই ফিভার থাকে। ঘাম, রক্তপাতেরও সম্ভাবনা থাকে। তাই ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। এজন্য প্রচুর পরিমাণ জল, ডাবের জল খেতে হবে।

    যত বেশি সম্ভব বিশ্রামের মধ্যে থাকুন। এতে শরীর দ্রুত সুস্থ হবে। একই সঙ্গে শরীরের জন্য পর্যাপ্ত ঘুমেরও ভীষণ রকম প্রয়োজন রয়েছে। জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল খান।চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অন্য কোনও ওষুধই খাওয়া যাবে না। জ্বর কমানোর জন্য মাথায় জলপট্টি দিতে পারেন। বার বার হালকা গরম জল খান। ঠান্ডা জল একেবারেই চলবে না। ডেঙ্গিতে প্লেটলেটের সংখ্যা ভীষণই কমে যায়। যার ফলে রক্তপাতের সম্ভাবনা থাকে। প্লেটলেটের সংখ্যা বাড়াতে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করুন।চিকিৎসকের পরামর্শে থাকুন। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। সবুজ শাকসবজি প্রচুর পরিমাণে খান। ফল, গোটা শস্য, চর্বিহীন প্রোটিন এসব রাখুন রোজের খাদ্য তালিকায়।

    প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার খেতে হবে। ফল, ফলের রস এসব বেশি করে খান। বারে বারে ভেষজ চা বানিয়ে খেতে পারেন। এসময় শরীরের জন্য সবথেকে ভালো রঙিন সবজি। তাই তা বেশি পরিমাণে খেতে হবে। গাজর, ক্যাপসিকাম, টমেটো, বাঁধাকপি, পেঁপে, কুমড়ো রোজ বেশি করে খেতে হবে। মশার সংক্রমণ এড়াতে সব সময় মশারি ব্যবহার করুন। হাফ প্যান্ট পরলে চলবে না। সম্পূর্ণ গা ঢাকা জামা পরতে হবে।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • DENGUE SYMPTOMS: ডেঙ্গি উপসর্গ মারাত্মক! হেমারজিক নয় তো ? সেরে উঠলেও ভোগাবে ব্রেকবোন

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    DENGUE SYMPTOMS:  খুব সাবধান, ডেঙ্গি হওয়ার এক সপ্তাহ আগে থেকেই কিন্তু সিম্পটম গুলো দেখা দেয়। সময়টা খারাপ, কোন কোন লক্ষণ দেখে বুঝবেন যে টেস্ট করালেই আপনি “ডেঙ্গি পজিটিভ”? ব্রেকবোন সিন্ড্রোমে ভুগছেন না তো? এটা মারাত্মক যন্ত্রনার। ডেঙ্গি ধরা পড়লেই কি হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে? কখন রোগীকে প্লেটলেট দিতে হবে? ডেঙ্গির শক সিনড্রোম কী? হেমারেজিক কতটা বিপজ্জনক? ডেঙ্গি হলে কী খাবেন? ডেঙ্গি থেকে সেরে উঠলেই কি নিশ্চিন্ত? জয়েন্ট পেইনে আগামী কয়েকটা বছর আপনাকে ভুগতে হতে পারে। আর কোন কোন দিক দিয়ে নাজেহাল হওয়ার চান্স থাকছে?সাধারণ জ্বর নাকি ডেঙ্গি? বিবিসির রিপোর্ট বলছে, সাধারণভাবে ডেঙ্গির লক্ষণ হচ্ছে জ্বর।

    চিকিৎসকরা বলছেন, অনেক সময় জ্বরের তাপমাত্রা খুব একটা বেশি থাকছে না। ১০১ ডিগ্রি থেকে ১০২ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকতে পারে। ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে যাওয়ার পর আবারো জ্বর আসতে পারে। সঙ্গে মাথা যন্ত্রণা, হাড় ও পেশিতে তীব্র ব্যাথা, শরীরে ফুসকুড়ি ডেঙ্গির লক্ষণ। মাংসপেশী আর অস্থি সন্ধিতে ব্যথা থেকে জ্বর চলে আসে, গোটা গায়ে অসহ্য যন্ত্রণা। তাই ডেঙ্গির অপর নাম, “ব্রেকবোন ফিভার”। আর, ডায়রিয়া, বমি, নিউমোনিয়া, মাথা ব্যথা এগুলোকে নতুন উপসর্গ বলা হচ্ছে। চিকিৎসকদের কথা অনুযায়ী শক সিন্ড্রোম আর হেমারেজিক কন্ডিশন দুটোই রিস্কের। আসলে, ডেঙ্গির চারটি ধরন আছে। যারা আগে একবার ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং দ্বিতীয়বার এই চারটি ধরনের অন্য আর একটি দ্বারা আক্রান্ত, তাদের ঝুঁকি অনেক বেশি। তারাই মূলত শক সিন্ড্রোমে চলে যান। এতে পালস, রক্তচাপ কমে যায়, শরীরে বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গে রক্ত চলাচল কমে যায়, বিভিন্ন অঙ্গের কোষে যে অক্সিজেন দরকার সেইঅক্সিজেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

    এমন অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন ব্রেইন, হার্ট, কিডনি এগুলোতে রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছাতে না পেরে অঙ্গগুলো আস্তে আস্তে কাজ করা বন্ধ হয়ে যেতে থাকে। ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীর শক সিনড্রোম হলে তার লাইফ রিস্ক আছে বলছেন চিকিৎসকরা।অন্যদিকে, ডেঙ্গি রোগীদের শরীরের যে কোনও জায়গা থেকে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ মানেই তা হেমারেজিক ডেঙ্গিতে রূপ নিয়েছে। এতে চোখে রক্ত জমে যায়; নাক, দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত ঝরে, মুখ, কান, মলদ্বার এরকম যেকোনো একটি বা একের অধিক অংশ দিয়ে রক্ত বের হতে পারে। বমি ও কাশির সাথেও রক্ত বের হতে পারে। হেমারেজিক ডেঙ্গি হলে মেয়েদের মেনোরেজিয়া হতে পারে। কখনো সপ্তাহে একবার করেও পিরিয়ড হওয়ার চান্স থাকে। হেমারেজিক ডেঙ্গির এক পর্যায়ে অন্য কারো রক্ত থেকে প্লেটলেট নিয়ে রোগীর শরীরে প্লেটলেট দিতে হয়। তবে রাজ্যে ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়লেই প্লেটলেটের আকাল দেখা দেয়। তাই চলতি বছর, পরিস্থিতি মোকাবেলায় গাইডলাইন জারি করেছে স্বাস্থ্যভবন। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে

    • রোগীর প্লেটলেট কাউন্ট ১০ হাজারের নীচে গেলে প্লেটলেট দেওয়া যাবে।
    • যেসব রোগীদের প্লেটলেট কাউন্ট ১০ থেকে ২০ হাজারের মধ্যে, তাদের রক্তপাত না হলে প্লেটলেট দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
    • কোন গ্রুপের প্লেটলেট প্রয়োজন, প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ করতে হবে।

    প্লেটলেট ঘাটতি ঠেকাতে তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করা হলেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে পরিস্থিতি কোন দিকে মন নেবে সেটা এখন থেকেই বলা যাচ্ছে না। তবে, অবশ্যই জ্বর হলে সচেতন থাকতে হবে। জ্বরে আক্রান্ত হলেই সাথে-সাথে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গি জ্বরের তিনটে ভাগ ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘সি’। এ ক্যাটাগরির রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন নেই, বি ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে পেটে ব্যথা আর বমি সঙ্গে শরীর ঠান্ডা হয়ে গেলে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। সি’ ক্যাটাগরির ডেঙ্গি সবচেয়ে খারাপ। কিছু-কিছু ক্ষেত্রে আইসিইউ’র প্রয়োজন হতে পারে, বলছে বিবিসির রিপোর্ট। আর মনে রেখে প্রচুর পরিমাণে তরল জাতীয় খাবার খান। যেমন – ডাবের জল, লেবুর শরবত, ফলের জুস, খাবার স্যালাইন। এমন নয় যে প্রচুর পরিমাণে জল খেতে হবে, তবে জৃ জাতীয় খাবার খেতে হবে। কিন্তু কোনোভাবেই অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ খাওয়া যাবে না তাহলে বড় বিপদ হতে পারে। আর, ডেঙ্গি সেরে গেলেও ভীষণ সাবধানে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

    জ্বর সেরে গেলেও হেলাফেলা নয়। জয়েন্ট পেইন বেশ কয়েক বছর পর্যন্ত থেকে যেতে পারে, বলছেন বিশিষ্ট চিকিৎসকরা। তাছাড়া জ্বর থেকে ওঠার পর রোগী দুর্বল হয়ে পড়েন। ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া না করলে শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে এনার্জি পান না! ফলে পুরোপুরি সেরে উঠতে বেশ অনেকটা সময় লেগে যায়। তাই ওষুধের পাশাপাশি খাওয়া-দাওয়ার দিকে প্রপার নজর দিতে হবে। খেতে পারেন পেঁপে পাতার রস, সবজির রস, নিম পাতার রস, হারবাল টি চিকেন স্যুপ সহ হালকা পাতলা খাবার। জানিয়ে রাখি, রোগমুক্তির পরে অন্তত মাস তিনেক ডেঙ্গি রোগীকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা বলছেন, রক্তে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বারবার পরীক্ষা করে দেখতে হবে। শ্বেতকণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক না-হওয়া পর্যন্ত বাড়ির বাইরে বেরোনো উচিত নয়। ডেঙ্গি সংক্রমণে লিভারের বিভিন্ন এনজাইম বেড়ে যায়। এর ফলে লিভারের বিশ্রাম দরকার। তাই ভুলেও তেলেভাজা, ফাস্টফুড, কফি খাবেন না। নিজেও বিশ্রামে থাকুন।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Exit mobile version