Sheikh Hasina Arrest and Return: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেফতার করতে চায় সরকার। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের রায়ের পর দেশে ফিরলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
প্রথম কলকাতা: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেফতার করতে সরকার চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের একটি ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম. বিডি নিউজ টোয়েন্টি ফোর ডট কম-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই দাবী জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা নিজে থেকে বাংলাদেশে ফিরবেন কি না, সেটিই সরকারের মূল বিবেচনা নয়; সরকার তাঁকে গ্রেফতার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়। তিনি শেখ হাসিনাকে ‘পলাতক’ এবং ‘মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনার উদ্দেশে জাহেদ বলেন, তাঁকে নিজের ইচ্ছায় দেশে ফিরতে হবে না। সরকারের অবস্থান হলো তাঁকে গ্রেফতার করে দেশে ফিরিয়ে আনা। একইসঙ্গে তিনি জানান, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ নেই বলে সরকার মনে করছে। ফলে তিনি দেশে ফিরলে তাঁর সামনে মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হওয়ার পরিস্থিতিই অপেক্ষা করছে—এমনটাই জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা।
শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে দেশে ফেরানোর কথা জানাল সরকার
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় এবং তাঁকে গ্রেফতার করার বিষয়েও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে যে অবস্থান জানানো হচ্ছে, সেটিকে শুধু ভারতের ওপর চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
জাহেদের বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে রয়েছেন এবং সেখান থেকেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে কথা বলছেন। সরকার তাঁর এই প্রকাশ্য বক্তব্য ও গণমাধ্যমে কথা বলার বিষয়টি নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে গিয়ে অবস্থান করছেন এবং তাঁর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন থাকলেও তিনি সংবাদমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন।
তাঁর বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার আশা করেছিল, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত ভারতীয় সরকার তাঁকে সংবাদ সম্মেলন বা সাক্ষাৎকার দেওয়ার সুযোগ দেবে না। কিন্তু সম্প্রতি শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করেছেন এবং ভারতের প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমগুলির সঙ্গে সাক্ষাৎকারেও কথা বলছেন। এই পরিস্থিতিকে বাংলাদেশের সরকার যথাযথ বলে মনে করছে না।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের প্রসঙ্গ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে চলে যান। এরপর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। জাহেদ উর রহমান এই আদালতের রায়ের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, শেখ হাসিনার এখন আর আপিলের সুযোগ নেই।
তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলিও জানিয়েছেন যে শেখ হাসিনার আপিল করার সুযোগ নেই। জাহেদ বলেন, পরিস্থিতি এখন এমন যে শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর সামনে মৃত্যুদণ্ডের রায় অপেক্ষা করছে। সেই কারণেই সরকার তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেফতার করতে চায় বলে তিনি জানান।
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, শেখ হাসিনা নিজে দেশে ফিরুন অথবা সরকার তাঁকে ফিরিয়ে আনুক—সরকারের লক্ষ্য হলো তাঁকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা। তাঁর বক্তব্যে এই অবস্থানকে কোনো ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও দাবি করা হয়েছে।
ডিসেম্বরেই দেশে ফেরার পরিকল্পনা শেখ হাসিনার
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। একই সময়ে বাংলাদেশে তাঁর দলের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে তাঁর দেশে ফেরার ঘোষণাকে ঘিরে সরকারের অবস্থানও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
জাহেদ উর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তিনি বলেন, কেউ কেউ মনে করছেন, সরকার আসলে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে চায় না এবং শুধু ভারতের ওপর চাপ তৈরির জন্য এমন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তথ্য উপদেষ্টা এই ধারণা নাকচ করে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়টি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই কারণে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। অর্থাৎ, সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের আলোচনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতের ভূমিকা নিয়ে জাহেদের বক্তব্য
শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করার পাশাপাশি সেখানকার সংবাদমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ পাওয়ায় বাংলাদেশ সরকার অসন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন জাহেদ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতীয় সরকার যদি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে চায়, তাহলে শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে কথা বলার সুযোগ দেওয়া বন্ধ করা একটি পদক্ষেপ হতে পারত।
জাহেদ বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যে প্রতিবাদপত্র পাঠানো হয়েছিল, সেখানেও শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘বিশ্বাসের পরিবেশ’ প্রয়োজন এবং বাংলাদেশকে নিশ্চিত হতে হবে যে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে যথাযথভাবে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী।
তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে থেকে কথা বলছেন এবং বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি নিয়ে তাঁর বক্তব্য সরকারকে ক্ষুব্ধ করছে। তিনি ভারতের কাছে বিষয়টি বোঝার আহ্বান জানান এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিকে জোরালো বলে উল্লেখ করেন।
নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার নিয়েও মন্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে ভারতের ঢাকায় নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদীর নিয়োগ নিয়েও মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি এই নিয়োগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বলে জানান। একইসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন হাইকমিশনারের কাছে শেখ হাসিনা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও প্রশ্ন করা হবে।
জাহেদের বক্তব্যে উঠে আসে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের সরকারের একটি বিশেষ সংবেদনশীলতা রয়েছে। তিনি সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রসঙ্গও টেনে বলেন, এসব পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে সংবাদমাধ্যমে কথা বলতে দেখা বাংলাদেশের সরকারের কাছে ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা নিজে দেশে ফিরুন কিংবা বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ফিরিয়ে আনুক—সরকার যেকোনোভাবেই তাঁকে দেশে ফেরাতে চায়। একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্যে ভারতের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
সরকারের অবস্থান কী?
সচিবালয়ের সংবাদ সম্মেলনে জাহেদ উর রহমানের বক্তব্য থেকে সরকারের অবস্থানটি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেফতার করতে চায় সরকার। তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং আপিলের সুযোগ না থাকার বিষয়টিও তথ্য উপদেষ্টা তুলে ধরেছেন। একইসঙ্গে ভারতে তাঁর অবস্থান এবং সেখানকার সংবাদমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য প্রকাশ নিয়েও সরকারের আপত্তির কথা জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, শেখ হাসিনা ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা এবং তাঁকে ঘিরে সরকারের অবস্থান—দুই বিষয়ই বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনটির তথ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সরকারের বার্তা একটাই—শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেফতার করতে চায় সরকার এবং তাঁর প্রত্যর্পণের দাবিও জোরালোভাবে জানানো হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
#sheikhhasinaarrestandreturn #sheikhhasina #sheikhhasinareturn #sheikhhasinaarrest #bangladeshpolitics #bangladeshpoliticalnews #bangladeshgovernment #bangladeshnews #awamileague #politicaldevelopments #internationalrelations #indiabangladeshrelations #sheikhhasinanews #jahidurrahman














