Makkah Defense Pact: মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে এই মুহূর্তে নতুন কোনও দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। তবে ভবিষ্যতে একই ধরনের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি পোষণকারী দেশগুলির জন্য এই জোটের দরজা খোলা রাখা হতে পারে। ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান এই অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বলে দ্য ডন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপাতত পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক নিজেদের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার দিকেই নজর দিচ্ছে। ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। ফলে এখনই নতুন দেশ যোগ না হলেও ভবিষ্যতে চুক্তির পরিসর বাড়তে পারে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
আপাতত নতুন কোনও দেশকে নেওয়ার পরিকল্পনা নেই
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খানের বক্তব্য অনুযায়ী, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে এই মুহূর্তে নতুন কোনও দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে কোনও পরিকল্পনা নেই। শুধু তাই নয়, এই বিষয়ে বর্তমানে কোনও আলোচনা বা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও চলছে না বলে তিনি জানিয়েছেন।
অর্থাৎ, চুক্তির প্রাথমিক কাঠামোতে আপাতত পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যেই সহযোগিতাকে আরও মজবুত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিন দেশের মধ্যে সমন্বয়, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ অবস্থানকে আরও সুসংহত করাই এখন অগ্রাধিকার বলে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে এখানেই বিষয়টি শেষ নয়। কারণ পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্যে ভবিষ্যতে এই জোট আরও বড় হওয়ার সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। অর্থাৎ, এখনই নতুন দেশ যোগ না হলেও পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে চুক্তির পরিসর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
ভবিষ্যতে কারা এই জোটে আসতে পারে?
সাজ্জাদ হায়দার খান জানিয়েছেন, প্রথমে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ককে নিজেদের জোট এবং সহযোগিতাকে আরও সুসংহত করতে হবে। এরপর একই ধরনের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি পোষণকারী দেশগুলির জন্য জোটটি উন্মুক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
এই বক্তব্যের অর্থ হল, ভবিষ্যতে নতুন দেশ অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়নি। বরং বর্তমান তিন দেশের মধ্যে সহযোগিতার কাঠামো কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা দেখার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এটাও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, জোট সম্প্রসারণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তী পর্যায়ে নেওয়া হবে। ফলে এখনই কোনও দেশের নাম ঘোষণা বা নতুন সদস্য নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। বিষয়টি ভবিষ্যতের আলোচনার ওপর নির্ভর করছে।
চুক্তির মূল লক্ষ্য কী?
৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল উদ্দেশ্য যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারায় বলা হয়েছে, স্বাক্ষরকারী দেশগুলির মধ্যে কোনও একটি দেশের ওপর আক্রমণ হলে সেটিকে সব স্বাক্ষরকারী দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হয়েছে। কোনও সম্ভাব্য আক্রমণের ক্ষেত্রে এককভাবে প্রতিক্রিয়া জানানোর পরিবর্তে সম্মিলিত প্রতিরোধের ধারণাকেই এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি মূলত প্রতিরোধের মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি রক্ষণাত্মক জোট। অর্থাৎ চুক্তিটির ঘোষিত উদ্দেশ্য নতুন কোনও সংঘাত তৈরি করা নয়, বরং সদস্য দেশগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো।
কেন আপাতত তিন দেশেই সীমাবদ্ধ?
নতুন কোনও দেশকে এখনই যুক্ত না করার সিদ্ধান্তের পিছনে চুক্তির প্রাথমিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তানের বক্তব্য অনুযায়ী, আগে তিন দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও সুসংহত করা প্রয়োজন। তার পরেই জোট সম্প্রসারণের প্রশ্নে এগোনো হবে।
এতে একদিকে যেমন তিন দেশের মধ্যে সামরিক ও কৌশলগত সমন্বয় বাড়ানোর সুযোগ থাকবে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট কাঠামো তৈরি করা সম্ভব হবে।
তবে কোন দেশকে ভবিষ্যতে এই চুক্তিতে নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখনও নির্দিষ্ট কোনও নাম জানানো হয়নি। ফলে আপাতত নতুন সদস্য নিয়ে জল্পনা থাকলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও দেশের অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত হয়নি।
মক্কা চুক্তির ভবিষ্যৎ কোন পথে?
পাকিস্তানের বক্তব্য থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির পরিসর ভবিষ্যতে বাড়ানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তবে সেই সম্প্রসারণ এখনই নয়। প্রথম পর্যায়ে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক নিজেদের সহযোগিতার ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে চাইছে।
এরপর একই ধরনের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে এমন দেশগুলিকে জোটের আওতায় আনার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। ফলে মক্কা চুক্তি বর্তমানে তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কাঠামো হলেও ভবিষ্যতে এটি আরও বড় আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় পরিণত হবে কি না, তা সময়ই বলবে।
দ্য ডন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, আপাতত নতুন কোনও দেশকে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা নেই। তবে পরবর্তী পর্যায়ে চুক্তির সম্প্রসারণ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে এই মুহূর্তে নজর থাকবে তিন দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা কতটা শক্তিশালী হয় এবং ভবিষ্যতে কোন দেশগুলি এই প্রতিরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে।
#MakkahDefensePact #Pakistan #SaudiArabia #Turkey #DefenseCooperation #RegionalSecurity #PakistanSaudiRelations














