Low Pressure West Bengal: বঙ্গোপসাগরের আকাশে ফের বদলের ইঙ্গিত। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় বাড়তে পারে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার দাপট। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই ঘূর্ণাবর্ত আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ এলাকায় পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হতে পারে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপকূল ও পশ্চিমাঞ্চল এবং উত্তর ওড়িশার সংলগ্ন এলাকায়।
তবে এই নিম্নচাপ খুব শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের মতো রূপ নেবে—এমন কোনও ইঙ্গিত আপাতত নেই। বরং এর মূল প্রভাব হতে পারে বৃষ্টিপাত, বজ্রবিদ্যুৎ এবং দমকা হাওয়ার মাধ্যমে। ইতিমধ্যেই উপকূলবর্তী কয়েকটি এলাকায় আকাশের চরিত্র বদলাতে শুরু করেছে। কোথাও আংশিক মেঘলা আকাশ, কোথাও মেঘের আনাগোনা, আবার কোথাও হালকা ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা সমুদ্রের জন্য। ১১ আগস্ট থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর ওড়িশা উপকূলের সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। উপকূলের কাছাকাছি ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ৩৫ থেকে ৪৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা হতে পারে, যা মাঝে মাঝে ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
অর্থাৎ আগামী কয়েকদিনে কলকাতা থেকে উপকূল, দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ—সব জায়গার আবহাওয়ার ছবিই একরকম থাকবে না। কোথাও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি, কোথাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা, আবার কোথাও মেঘলা আকাশ ও দমকা হাওয়াই হতে পারে প্রধান বৈশিষ্ট্য।
Low Pressure West Bengal-এর প্রভাব কোথায় বেশি?
এই মুহূর্তে আবহাওয়ার নজর মূলত উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের দিকে। ওই অঞ্চলে থাকা ঘূর্ণাবর্তই আগামী সময়ের আবহাওয়ার অন্যতম নিয়ামক হয়ে উঠছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই সিস্টেমের প্রভাব গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে তুলনামূলক বেশি অনুভূত হতে পারে। উত্তর ওড়িশার সংলগ্ন এলাকাতেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—নিম্নচাপ তৈরি হওয়া মানেই যে তা ভয়ঙ্কর শক্তিশালী হবে, এমন নয়। বর্তমান পূর্বাভাসে সিস্টেমটির অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠার কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই। তাই আতঙ্ক নয়, বরং সতর্ক থাকাই এখন মূল কথা। নিম্নচাপের অবস্থান, গতিপথ এবং শক্তির সামান্য পরিবর্তনও স্থানীয় আবহাওয়ার ছবিতে পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে উপকূলের জেলাগুলিতে সমুদ্রের পরিস্থিতি নজরে রাখা জরুরি। IMD-র ১১ আগস্টের দক্ষিণবঙ্গের পূর্বাভাসে পশ্চিমবঙ্গ উপকূল এবং উত্তর ওড়িশা উপকূলে ১১ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
এই সময় সমুদ্রের পরিস্থিতি রুক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ১১ আগস্ট থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর ওড়িশা উপকূলের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ রয়েছে। একইসঙ্গে উপকূলে ঢেউয়ের আচরণ নিয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। IMD-র তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে ১৫ থেকে ১৭ সেকেন্ডের সময়পর্বের প্রায় ১.২ থেকে ১.৩ মিটার উচ্চতার swell wave-এর সম্ভাবনাও রয়েছে ১২ আগস্ট ভোর পর্যন্ত।
ফলে শুধু বৃষ্টির পূর্বাভাস দেখলেই পরিস্থিতি বোঝা যাবে না। সমুদ্রের বাতাস, ঢেউ এবং দৃশ্যমানতার পরিবর্তনও এই সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
কলকাতায় কেমন থাকবে আবহাওয়া?
কলকাতাতেও এই নিম্নচাপের প্রভাব থেকে পুরোপুরি রেহাই মিলছে না। IMD-র ১১ আগস্টের পূর্বাভাসে শহরে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তী কয়েকদিনেও কলকাতায় বৃষ্টির প্রবণতা বজায় থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কোথাও বৃষ্টি অল্প সময়ের জন্য হলেও আচমকা হাওয়া বেড়ে যেতে পারে। তাই বাইরে বেরোনোর ক্ষেত্রে আকাশের পরিবর্তন নজরে রাখা প্রয়োজন।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার কলকাতায় বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের সাত দিনের পূর্বাভাসে এই দুই দিন শহরের বহু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে।
বিশেষ করে বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়ার সময় খোলা জায়গায় থাকা এড়ানোই নিরাপদ। শহরের পাশাপাশি হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও বৃষ্টির প্রভাব দেখা যেতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
অর্থাৎ কলকাতায় এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে না যে সারাদিন একটানা প্রবল বৃষ্টি চলবে। বরং মাঝেমধ্যে বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝোড়ো হাওয়ার পর্ব তৈরি হতে পারে। নিম্নচাপের গতিপথ ও শক্তির উপর নির্ভর করে পরিস্থিতির পরিবর্তনও সম্ভব।
দক্ষিণবঙ্গে শুক্রবার পর্যন্ত কোথায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা?
দক্ষিণবঙ্গের ক্ষেত্রে আগামী কয়েকদিনের আবহাওয়ার ছবিতে উপকূল ও পশ্চিমাঞ্চল সবচেয়ে বেশি নজরে থাকবে। আজ দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির পাশাপাশি কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। IMD-র পূর্বাভাসে এই দুই জেলায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার পরিস্থিতি আরও সক্রিয় হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা বজায় থাকবে। এর পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবারও বৃষ্টির প্রবণতা থাকবে। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় আবহাওয়ার সক্রিয়তা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে।
শুক্রবারের দিকে বৃষ্টির প্রভাব ধীরে ধীরে উপকূল ও পশ্চিমাঞ্চলের দিকে সীমাবদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার মতো পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে তখনও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকতে পারে। অর্থাৎ দক্ষিণবঙ্গে শুক্রবার পর্যন্ত বৃষ্টির সতর্কতা থাকলেও তার কেন্দ্র ধীরে ধীরে পশ্চিম ও উপকূলীয় এলাকার দিকে সরে যেতে পারে।
এরপর শনিবার ও রবিবার দক্ষিণবঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান পূর্বাভাসে ওই সময় বড় ধরনের ভারী বৃষ্টির সতর্কতা নেই। তবে বর্ষাকালে স্থানীয়ভাবে বৃষ্টি একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টি, রবিবার ফের বাড়তে পারে প্রবণতা
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও আগামী কয়েকদিন বৃষ্টির প্রবণতা থাকবে। তবে দুই অঞ্চলের আবহাওয়ার চরিত্র একেবারে একই হবে না। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের মালদা, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
বুধবার উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। অন্য জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সেদিন ভারী বৃষ্টির সতর্কতা নেই। এরপর শুক্রবার ও শনিবার আবার জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। দার্জিলিংয়েও বৃষ্টির সক্রিয়তা বাড়তে পারে।
তবে সপ্তাহান্তে, অর্থাৎ রবিবার উত্তরবঙ্গে ফের বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ার ইঙ্গিত রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি-সহ উত্তরবঙ্গের উপরের দিকের জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দক্ষিণবঙ্গে শুক্রবারের পর বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমলেও উত্তরবঙ্গে রবিবার পর্যন্ত বৃষ্টির পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে আগামী কয়েকদিন বাংলার আবহাওয়ার মূল শব্দ হতে চলেছে বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ এবং দমকা হাওয়া। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণাবর্ত নিম্নচাপে পরিণত হলে তার গতিপথ ও শক্তির উপর নির্ভর করে পরবর্তী পূর্বাভাসে আরও পরিবর্তন আসতে পারে। তাই বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা ও সমুদ্রনির্ভর মানুষের ক্ষেত্রে আবহাওয়া দপ্তরের পরবর্তী সতর্কবার্তার দিকে নজর রাখা জরুরি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা মৎস্যজীবীদের জন্য—১১ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর ওড়িশা উপকূলের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
#westbengalweather #kolkataweather #weatherupdate #lowpressure #bayofbengal #southbengal #northbengal #heavyrain #rainalert #monsoonupdate #fishermenalert #indiaweather #bengalweather #monsoonrain














