Ganga Water Treaty Renewal: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা জল বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নবীকরণ নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই বিহারের উদ্বেগ ও স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানিয়েছে ভারত। চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে কেন্দ্রের অবস্থানও এবার সামনে এসেছে।
প্রথম কলকাতা: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা জল বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সেটি নবীকরণের আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই চুক্তি নিয়ে বিহারের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানাল ভারত। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে গঙ্গা জল বণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের আগে বিহারের উদ্বেগ ও স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া হবে। বিষয়টি সামনে এসেছে বিহারের প্রাক্তন জল সম্পদ মন্ত্রী এবং বর্তমান সংসদ সদস্য সঞ্জয় ঝাকে দেওয়া জয়শঙ্করের একটি চিঠির মাধ্যমে। ১৯৯৬ সালের চুক্তিটির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষে শেষ হওয়ার কথা। ফলে তার আগে নতুন করে চুক্তি করা হবে কি না, হলে তার কাঠামো কী হবে—তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে বিহারের আপত্তি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান নতুন করে সামনে এল।
বিহারের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানাল ভারত
বাংলাদেশের সঙ্গে গঙ্গা জল বণ্টন চুক্তি নবীকরণের প্রসঙ্গে বিহারের উদ্বেগকে আমলে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বিহারের প্রাক্তন জল সম্পদ মন্ত্রী সঞ্জয় ঝাকে দেওয়া চিঠিতে তিনি জানান, গঙ্গা জল চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনায় উঠে আসা বিষয়গুলো বিবেচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
গত ২৮ আগস্ট সঞ্জয় ঝাকে এই চিঠি দেন জয়শঙ্কর। সেখানে বিহারের পক্ষ থেকে গঙ্গা জল চুক্তি নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, তা সরকার বুঝতে পারছে বলেও উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনার কথাও জানানো হয়েছে।
জয়শঙ্করের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, গঙ্গা জল বণ্টন চুক্তির নবায়ন নিয়ে আলোচনায় শুধু বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়, ভারতের অভ্যন্তরীণ সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর উদ্বেগও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে বিহারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে যে আপত্তি জানানো হচ্ছে, সেটিকে আলোচনার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
১৯৯৬ সালের গঙ্গা জল চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ডিসেম্বরে
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা জল বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। চুক্তিটির মেয়াদ ৩০ বছর। সেই হিসাবে চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষে এর মেয়াদ শেষ হবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে চুক্তিটি নবায়ন করা হবে কি না, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।
চুক্তির আওতায় শুষ্ক মরশুমে গঙ্গার জল থেকে বাংলাদেশের জন্য নির্দিষ্ট হিস্যার ব্যবস্থা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে গঙ্গার জল বণ্টনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কার্যকর রয়েছে। এখন মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসায় নতুন করে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই আলোচনার সময়ই বিহারের আপত্তির বিষয়টি সামনে এসেছে। রাজ্যটির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, গঙ্গা জল বণ্টন চুক্তির প্রভাব বিহার এবং সেখানকার কৃষকদের ওপর পড়ছে। ফলে নতুন করে চুক্তি করার আগে বিহারের স্বার্থ বিবেচনা করার দাবি জানানো হয়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জয়শঙ্করের চিঠিতে জানানো হয়েছে, চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। অর্থাৎ চুক্তি নবায়নের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা নতুন নয়; এর আগে বিভিন্ন পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে মতামত ও উদ্বেগ শোনা হয়েছে।
জল সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একাধিক বৈঠক
জয়শঙ্করের চিঠিতে গঙ্গা জল চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনুষ্ঠিত একাধিক বৈঠকের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। জল সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট এবং ৩০ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল।
এরপর ২০২৪ সালের ১৫ মার্চ এবং ৩১ মে আরও দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে গঙ্গা জল চুক্তির ভবিষ্যৎ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে।
এই আলোচনাগুলোতে যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে সরকার যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ফলে বিহারের পক্ষ থেকে উত্থাপিত উদ্বেগও ওই বৃহত্তর আলোচনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চিঠিতে জয়শঙ্কর সঞ্জয় ঝাকে জানিয়েছেন, গঙ্গা জল চুক্তি নিয়ে বিহারের উদ্বেগ সরকার পুরোপুরি বুঝতে পারছে। পাশাপাশি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আলোচনা করার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন তিনি।
চুক্তি নবীকরণের বিরোধিতায় বিহারের প্রাক্তন জল সম্পদ মন্ত্রী
বিহারের প্রাক্তন জল সম্পদ মন্ত্রী সঞ্জয় ঝা দীর্ঘদিন ধরে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জল বণ্টন চুক্তি নবীকরণের বিরোধিতা করে আসছেন। ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি বিহারের জল সম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি সংসদ সদস্য।
সঞ্জয় ঝার বক্তব্য, গঙ্গা জল চুক্তি বিহারের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর। তিনি চুক্তি নবায়নের পক্ষে না থাকার কারণ হিসেবে বিহারের মানুষের প্রয়োজনের কথা তুলে ধরেছেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিহার কোনও বিশেষ সুবিধা চাইছে না। বরং নিজস্ব বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই চুক্তি নবায়ন না করার কথা বলা হচ্ছে। তাঁর আশঙ্কা, নতুন করে আরও ৩০ বছরের জন্য চুক্তি করা হলে বিহারের বিপুল জনসংখ্যার খাবার, কৃষি এবং শিল্পাঞ্চলের প্রয়োজনীয় জলের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
সঞ্জয় ঝা জানিয়েছেন, বিহারের জনসংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি। তাঁর বক্তব্যে এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় জল নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তাই গঙ্গা জল চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বিহারের উদ্বেগের বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি নবীকরণের আগে কী হবে?
১৯৯৬ সালের গঙ্গা জল বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই চুক্তিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে ভারতের অভ্যন্তরে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যও বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জয়শঙ্করের চিঠি থেকে জানা গেছে।
চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, জল সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। এসব আলোচনায় যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
অন্যদিকে, বিহারের পক্ষ থেকে গঙ্গা জল চুক্তির বিরুদ্ধে যে আপত্তি রয়েছে, তার মূল বিষয় হিসেবে রাজ্যের কৃষি, খাদ্য এবং শিল্পাঞ্চলের প্রয়োজনীয় জলের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সঞ্জয় ঝা জানিয়েছেন, বিহার কোনও সুবিধা চাইছে না; বরং নিজেদের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে চুক্তি নবায়ন না করার দাবি জানানো হচ্ছে।
চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষে শেষ হওয়ার কথা। তার আগে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলবে। সেই আলোচনায় বিহারের উদ্বেগ এবং স্বার্থ কীভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে।
#GangaWaterTreatyRenewal #GangaWaterTreaty #IndiaBangladeshWaterTreaty #GangaWaterSharing #BangladeshIndiaRelations #BiharWaterConcerns #SJaishankar #SanjayJha #GangaWaterAgreement #WaterResources #BiharPolitics













