প্রথম কলকাতা: মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে টালিগঞ্জে তাঁর মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি জগতের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনেতা থেকে বর্ষীয়ান শিল্পী, চলচ্চিত্র নির্মাতা থেকে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের বিশিষ্টজন—সকলেই মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে একত্রিত হন।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রথা অনুযায়ী প্রথম পুষ্পার্ঘ্য নিবেদনের সুযোগ মুখ্যমন্ত্রীর থাকলেও, তিনি সেই সম্মান রঞ্জিত মল্লিকের হাতে তুলে দেন। পাশাপাশি উত্তম কুমারের পরিবারের সদস্যদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব, জিৎ, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, রত্না ঘোষাল, গৌতম ঘোষ-সহ চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি জগতের একাধিক পরিচিত মুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উত্তম কুমার শুধু একজন অভিনেতা নন, বাংলা সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্রের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এক আবেগের নাম। জন্মশতবর্ষের এই আয়োজন তাই কেবল একটি স্মরণ অনুষ্ঠান নয়, বরং মহানায়কের প্রতি গোটা বাংলা ও দেশের শ্রদ্ধা জানানোর একটি বড় মুহূর্ত।
অনুষ্ঠানে রঞ্জিত মল্লিকের প্রসঙ্গ বিশেষভাবে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, রঞ্জিত মল্লিক বয়সে প্রবীণ হলেও তাঁর হৃদয় এখনও নবীন। প্রথা অনুযায়ী প্রথম পুষ্পার্ঘ্য মুখ্যমন্ত্রীরই দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মহানায়ককে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলা চলচ্চিত্রের সঙ্গে নিজেদের শিল্পীসত্তার মাধ্যমে যুক্ত রেখেছেন, তাঁদের মধ্য থেকে একজন বর্ষীয়ান অভিনেতার হাত দিয়েই শ্রদ্ধা নিবেদনের সূচনা হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
সেই কারণেই প্রথম পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন রঞ্জিত মল্লিক। এরপর মুখ্যমন্ত্রী নিজে মহানায়কের মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এই মুহূর্তে অনুষ্ঠানের আবহ আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে।
উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানে বাংলা চলচ্চিত্রের বহু প্রজন্মের শিল্পীর উপস্থিতির কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব, জিৎ, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, রত্না ঘোষাল-সহ একাধিক শিল্পীর নাম। একইসঙ্গে চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত এমন অনেকেই বর্তমানে জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রুদ্রনীল ঘোষ ও পাপিয়া অধিকারীর মতো শিল্পীসত্তার পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয় বহন করা বিধায়কদেরও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী।
উত্তম কুমারকে ঘিরে চার দিনের আয়োজন
মুখ্যমন্ত্রী জানান, মহানায়কের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে একদিনের অনুষ্ঠান নয়, চার দিন ধরে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও নন্দনে বিশেষ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এর আগে অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে নবান্নে দেখা করেছিলেন এবং উত্তম কুমারের শতবর্ষকে কীভাবে আরও সুন্দরভাবে উদ্যাপন করা যায়, সেই বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন বলে জানান তিনি।
উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে শুধু বাংলা নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, সেই প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, মহানায়ককে ঘিরে মানুষের আবেগ এখনও অটুট। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান প্রজন্মের পর প্রজন্মকে প্রভাবিত করে চলেছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, উত্তম কুমার এমন এক শিল্পী, যাঁর জনপ্রিয়তা কোনও একটি সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর সিনেমা, অভিনয়ের ধরন এবং পর্দার উপস্থিতি এখনও দর্শকের মনে সমানভাবে জায়গা করে আছে। তাই তাঁর জন্মশতবর্ষ আসলে শুধু অতীতকে স্মরণ করার অনুষ্ঠান নয়; নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর শিল্প ও উত্তরাধিকারকে পৌঁছে দেওয়ারও একটি সুযোগ।
#UttamKumar #UttamKumarCentenary #MahanayakUttamKumar #BengaliCinema #BengaliActor #IndianCinema #BengaliFilm #UttamKumarLegacy #LegendaryActor













