Fisheries Development West Bengal: বাঙালি শুধু মাছে-ভাতেই থাকবে না, বাংলার মাছ রপ্তানি করে বাড়াবে রাজস্বও। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনায় রাজ্যের মৎস্যজীবীদের যুক্ত করে তাদের আর্থিক উন্নতির পাশাপাশি কেন্দ্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মৎস্যচাষের পরিকাঠামো গড়ে তুলতে চায় রাজ্য। সোমবার কেন্দ্রীয় মৎস্যমন্ত্রী রাজীবরঞ্জন সিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, প্রথম পর্যায়েই প্রায় ন’কোটি টাকা দিচ্ছে কেন্দ্র। বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার মতো শুকনো এলাকায় জল সমস্যা দূর করতে ছ’টি অমৃত সরোবরের অনুমোদন মিলেছে। নতুন ভাবে মৎস্যজীবীদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে। শুভেন্দু জানান, কিসান ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণপ্রদান, প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনায় রাজ্যের মৎস্যজীবীদের যুক্ত করা এবং কেন্দ্রের যে সমস্ত প্রকল্প আসছে, তার সঙ্গে কীভাবে রাজ্য যুক্ত হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চল, নোনাজলের মাছচাষ (ব্র্যাকিশ ওয়াটার), কালিম্পং ও দার্জিলিংয়ের মতো পাহাড়ি অঞ্চলের ঠান্ডা জলের মাছচাষ—- সব ক’টি ক্ষেত্র নিয়েই এদিন বৈঠক হয়। হায়দরাবাদে নতুন করে গড়ে ওঠা মৎস্যকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত মাছ মুম্বই, আমেদাবাদ, দিল্লি-সহ বিভিন্ন ফাইভ স্টার বা সেভেন স্টার হোটেলে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘এ ক্ষেত্রে রাজ্যের একটা গোল্ডেন অপরচুনিটি রয়েছে এবং রাজ্যের কাছে সেই সুযোগও রয়েছে।’’ নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার মৎস্যজীবী পোর্টালে আবেদন করেছেন। ১ লক্ষ ২০ হাজারের রেজিস্ট্রেশন ইতিমধ্যেই করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে ‘বড় ভাই’ ও এনডিএ-র প্রবীণ নেতা হিসাবে সম্বোধন করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘আপনি এবং নীতীশজি যেমন বিহারে জঙ্গলরাজ শেষ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন। পশ্চিমবঙ্গে গত ৫০ বছর ধরে যেভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে শুধু বিরোধই করা হয়েছে, কোনও ভালো কাজ হয়নি। পশ্চিমবঙ্গকে নতুন ভাবে দাঁড় করানোর জন্য আপনিও আমাকে পুরোপুরি সাহায্য করুন, এই অনুরোধ আমি করছি।’’ বিগত সরকারের আমলে কটু অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে রাজীবের আক্ষেপ, আগে বৈঠক করলে নিচু পর্যায়ের আধিকারিকদের পাঠানো হত। তাঁর কথায়, ‘‘আগের সরকার কোনও কাজ করতেই চাইত না। তারা যদি মৎস্যজীবীদের স্বার্থের জন্য কাজ করতেন, তাদের ক্ষমতায়ন করতেন, তা হলে আজ বাংলার পরিস্থিতি অন্যরকম হত।’’ বিহারের লালুপ্রসাদ-রাবড়ি দেবীর উদাহরণ তুলে তাঁর কটাক্ষ, ‘‘তাঁরা রাস্তা বানাতেন না। তাঁদের ধারণা ছিল যে যদি রাস্তা হয়ে যায়, মানুষ সচেতন হয়ে গেলে আমাদের কে ভোট দেবে? আমার মনে হয়, বাংলার সরকারেরও এটাই ছিল যে এরা ক্ষমতায়ন হয়ে যাবে, তারপর তাদের কে ভোট দেবে?’’ মৎস্যচাষের ক্ষেত্রে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, আগে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আসত, এখন আমরাই প্রায় ৫০০ টন ইলিশ রফতানি করেছি।
#FisheriesDevelopmentWestBengal #WestBengalFisheries #FisheriesSector #FishermenWelfare #PMMSY #FishExport #FisheriesInfrastructure #FisheriesRevenue #WestBengalNews













