Manaslu Avalanche: নেপালের মানাসলু শৃঙ্গে তুষারধসে পর্বতারোহী ধ্রুবজ্যোতি গুহর মৃত্যুর ঘটনায় পুরনো ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ফিরে এলো কৃষ্ণ নগরের পর্বতারোহী তথা স্কুলশিক্ষক প্রশান্ত সিংহের। চার বছর আগে সেই তুষারধসেই মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরেছিলেন কৃষ্ণনগরে বাসিন্দা প্রশান্ত সিংহ।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একই শৃঙ্গে অভিযানে গিয়ে তুষারধসের মধ্যে পড়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরেছিলেন তিনি।
সেই অভিযানে গুরুতর আহত হয়েছিলেন তারা, বরফের নীচে চাপা পড়েছিল তাঁদের তাঁবু ও গ্যাস সিলিন্ডার। পরবর্তী অভিযানে ক্যাম্প ৩ ও ক্যাম্প ৪-এর মাঝেও তুষারধসে পড়েছিলেন প্রশান্তবাবুরা।
এ বার সেই একই পাহাড়ে ধ্রুবজ্যোতির মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকস্তব্ধ তাঁর দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কৃষ্ণনগরের পর্বতারোহণ সংস্থা ‘ম্যাক’-এর হয়ে বসন্ত সিংহ রায়ের নেতৃত্বে ছয় জনের দল মানাসলু অভিযানে যায়।
প্রশান্তবাবু জানান, অভিযানের সময় তীব্র তুষারপাতের মধ্যে তুষারধসে পড়েন তাঁরা।

ক্যাম্প ২ থেকে ক্যাম্প ৩-এর মধ্যবর্তী এলাকায় ধসের কবলে পড়ে দলের তিন শেরপার মৃত্যুও হয়।
হেলিকপ্টারে তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়। ধসের পরে তাঁদের তাঁবু এবং গ্যাস সিলিন্ডারও খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে অভিযান থেকে ফিরে আসতে শুরু করেন তাঁরা।
কিন্তু বিপদ সেখানেই শেষ হয়নি। ফেরার পথে ক্যাম্প ২ থেকে ক্যাম্প ৩-এর মধ্যবর্তী এলাকায় আরও একটি তুষারধসে পড়েন দলের সদস্যেরা।
প্রশান্তবাবুর কথায়, সেই সময় দলের সদস্যেরা প্রায় গলা কিংবা কোমর পর্যন্ত বরফে ঢুকে গিয়েছিলেন। কোনও রকমে সেবার বেঁচে ফিরেছিলেন তাঁরা।
পরবর্তী সময়ে তিনি এবং দলের আর এক সদস্য রূম্পা দাস ফের অভিযানে যান। ক্যাম্প ৩ থেকে ক্যাম্প ৪-এর মাঝেও তুষারধস নামে। তাঁরা বেঁচে গেলেও অন্য একটি দলের এক শেরপার মৃত্যু হয়।
২০২২ সালের অভিযানে বিরূপ আবহাওয়া ও তুষারধসের কারণে অধিকাংশ পর্বতারোহীই শৃঙ্গ জয় করতে পারেননি বলে জানান প্রশান্তবাবু।
ধ্রুবজ্যোতির সঙ্গে প্রশান্তবাবুর পরিচয় অবশ্য তারও আগে।
২০১৫ সালে দার্জিলিংয়ের হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট (এইচএমআই)-এ ২৮ দিনের প্রশিক্ষণে দুজনে একই দলের সদস্য ছিলেন।
একই রোপমেট হিসেবে দড়িতে বাঁধা অবস্থায় প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন তাঁরা। পেশাগত কারণে ধ্রুবজ্যোতি জার্মানিতে থাকলেও কৃষ্ণনগরে ফিরলে প্রশান্তবাবুর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হত।
কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজের মাঠে দৌড়াতে এসে ফোন করতেন ধ্রুবজ্যোতি।
পাহাড় নিয়ে আলোচনা চলত দু’জনের। ধ্রুবজ্যোতির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে প্রশান্তবাবু বলেন, ‘‘ছেলেটা খুবই ভাল ছিল। মানসিকতার দিক থেকেও, যে দিক দিয়েই হোক। খুব জেদি, অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় ছেলে ছিল। আমরা ওকে হারালাম।’’
২০২২ সালের অভিজ্ঞতার পরে পরের তিন বছর, অর্থাৎ ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মানাসলু অভিযানে তেমন সমস্যা হয়নি বলে জানান প্রশান্তবাবু।
কিন্তু ২০২৬ সালে ফের তুষারধসের ঘটনায় তাঁর আশঙ্কা, মানাসলুর আবহাওয়ায় পরিবর্তন ঘটছে।
তাঁর বক্তব্য, ‘‘প্রকৃতি কখনও বলে-কয়ে দুর্যোগ আনে না। তবে ক্যাম্প ৩ থেকে ক্যাম্প ৪-এর মাঝের যে ওয়াল, সেখান থেকে তুষারধস নামছে। আগামী দিনে যাঁরা যাবেন, তাঁদের এই জায়গা নিয়ে আরও সতর্ক হতে হবে।’’
বামুনপুকুর হাই স্কুলের ভূগোলের শিক্ষক প্রশান্তবাবু নিজেও একাধিক পর্বতারোহণ অভিযানে অংশ নিয়েছেন। মাউন্ট গোরিচেন, রামঝাক শৃঙ্গ ও ব্ল্যাক পিক অভিযানের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
মানাসলুর মতো দুর্গম শৃঙ্গে অভিযানের ক্ষেত্রে আবহাওয়ার পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন তিনি।
তাঁর মতে, বেস ক্যাম্পেও তুষারধস নামার ঘটনা উদ্বেগের। হিমবাহ গলে যাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও পর্বতারোহীদের নজরে পড়ছে বলে জানান তিনি।
#ManasluAvalanche #DhruvajyotiGuha #ManasluMountain #NepalAvalanche #MountaineerDeath #PrashantaSingh #Krishnanagar #SnowAvalanche #ManasluExpedition #MountaineeringNews













