‘প্রতিবেশী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’—বাংলাদেশকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রী মোদীর নতুন পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার

Dinesh Trivedi Bangladesh Indian High Commissioner speaking about neighborhood relations and India Bangladesh ties

Dinesh Trivedi Bangladesh: বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, দুই দেশ শুধু ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস বা সংস্কৃতির বন্ধনে আবদ্ধ নয়; দুই দেশের তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাও তাদের সম্পর্ককে আরও গভীর করে।

তিনি বলেন, দুই দেশই প্রাণবন্ত গণতন্ত্র এবং উভয় দেশেই বিপুল সংখ্যক তরুণ প্রতিভা রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ভারত অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বলেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে আসে ‘প্রতিবেশী প্রথম’ ভাবনা। তাঁর কথায়, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের কেন্দ্রে রয়েছে দুই দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের আশা-আকাঙ্ক্ষা।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যের মূল সুর ছিল প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক এবং মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা।

তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, আজকের পৃথিবী প্রযুক্তির কারণে অভূতপূর্বভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। আমরা বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ, তারকা ও ঘটনাবলি সম্পর্কে খুব সহজেই জানতে পারছি। কিন্তু এই অতিরিক্ত সংযোগের মধ্যেও অনেক সময় নিজেদের কাছের মানুষ, এমনকি পাশের বাড়ির প্রতিবেশীর সম্পর্কেও আমরা যথেষ্ট জানি না।

এই প্রসঙ্গেই তিনি প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের একটি মজার উদাহরণ দেন। বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের সময় মানুষকে প্রমাণ করতে হয় যে সে সত্যিই মানুষ। তাঁর বক্তব্যে এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, প্রযুক্তির সঙ্গে অতিরিক্তভাবে যুক্ত হতে হতে মানুষের স্বাভাবিক সামাজিক যোগাযোগ যেন হারিয়ে না যায়।

দীনেশ ত্রিবেদীর মতে, এই পরিস্থিতিতে পরিবার এবং প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ককে আবার গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। আর সেখান থেকেই তিনি ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তাঁর কথায়, প্রতিবেশী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, তিনি পেশাদার কূটনীতিক নন। তিনি জনজীবনের সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর তাঁকে বাংলাদেশে পাঠানোর অন্যতম কারণ হল দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, যোগাযোগ এবং প্রয়োজনের সম্পর্ককে আরও জোরদার করা।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কারও অবস্থান বড় বা ছোট নয়—দুই দেশই সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেশী হিসেবে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা থাকা দরকার।

দুই দেশের সম্পর্কের পথে কখনও সমস্যা বা ওঠাপড়া আসতেই পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, যেমন একটি পরিবারের মধ্যেও কখনও মতপার্থক্য বা সমস্যা তৈরি হয়, তেমনই প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কেও কিছু উত্থান-পতন স্বাভাবিক। তবে সেই কারণে মূল সম্পর্ক নষ্ট হওয়া উচিত নয়।

সব মিলিয়ে, দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যে যে বিষয়টি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, তা হল—ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির কেন্দ্রে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ককে আরও গভীর করাই তাঁর বার্তার অন্যতম লক্ষ্য।

#DineshTrivedi #IndiaBangladesh #NeighborhoodFirst #NarendraModi #Bangladesh #IndiaBangladeshRelations

Exit mobile version