Tag: narendra modi

  • দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে সম্মানিত অনন্ত নাগ

    দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে সম্মানিত অনন্ত নাগ

    Anant Nag Dadasaheb Phalke Award: দীর্ঘ অভিনয়জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৪ সালের দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন প্রবীণ অভিনেতা অনন্ত নাগ। পুরস্কার ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর অভিনয়ের স্বাভাবিকতা, বহুমুখী প্রতিভা এবং কন্নড় চলচ্চিত্রে তাঁর অবদানের প্রশংসা করেন। সেই বার্তাই অনন্ত নাগের কাছে আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন প্রশংসা পাওয়া তাঁর কাছে যেন দু’টি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পাওয়ার সমান অনুভূতি। একই সঙ্গে তিনি এই সম্মানকে কর্ণাটকের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের অভিনয়জীবনে কন্নড়-সহ একাধিক ভাষার চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন অনন্ত নাগ। ‘মালগুডি ডেজ’-এর মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকেও তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা নিয়ে কী বললেন অনন্ত নাগ

    দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পাওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অনন্ত নাগকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় তাঁর কয়েক দশকের অভিনয়জীবন, সহজাত অভিনয়শৈলী, বহুমুখী প্রতিভা এবং শিল্পীসত্তার প্রশংসা করা হয়। বিশেষ করে কন্নড় চলচ্চিত্রে তাঁর অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

    এর পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথোপকথনে অনন্ত নাগ প্রধানমন্ত্রীর সেই প্রশংসার প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নিজের অভিনয় ও দীর্ঘদিনের চলচ্চিত্রজীবনের স্বীকৃতি পাওয়া তাঁর কাছে অত্যন্ত বিশেষ অনুভূতি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এমন বার্তা তাঁর পুরস্কার পাওয়ার আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    অনন্ত নাগের কথায়, প্রধানমন্ত্রী নিজে তাঁর অভিনয় সম্পর্কে প্রশংসা করে বার্তা দেওয়ায় তিনি দ্বিগুণ সম্মানিত বোধ করেছেন। সেই অনুভূতিকে বোঝাতে তিনি বলেন, এই প্রশংসা যেন দু’টি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পাওয়ার মতো।

    অর্থাৎ, তাঁর কাছে শুধু পুরস্কার পাওয়াটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া প্রকাশ্য স্বীকৃতিও এই মুহূর্তকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে।

    পাঁচ দশকের বেশি সময়ের অভিনয়জীবনের স্বীকৃতি

    অনন্ত নাগের অভিনয়জীবন পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত। কন্নড় চলচ্চিত্রের পাশাপাশি হিন্দি এবং দক্ষিণ ভারতের আরও কয়েকটি ভাষার চলচ্চিত্রেও তিনি কাজ করেছেন। তাঁর অভিনয়জীবনের পরিধি তিনশোরও বেশি চলচ্চিত্রে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    স্বাভাবিক অভিনয়শৈলী এবং বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার জন্য অনন্ত নাগ দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। তাঁর অভিনয়জীবনে চলচ্চিত্রের পাশাপাশি মঞ্চ এবং দূরদর্শনের কাজও রয়েছে। ‘মালগুডি ডেজ’-এ তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়েছিল।

    দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে সামনে এসেছে। সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান এবং দীর্ঘ অভিনয়জীবনের স্বীকৃতি হিসেবেই ২০২৪ সালের এই পুরস্কারের জন্য তাঁকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

    এর আগে ২০২৫ সালে অনন্ত নাগ পদ্মভূষণ সম্মানও পেয়েছেন। কর্ণাটক রাজ্য থেকেও তিনি একাধিক চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। ফলে তাঁর অভিনয়জীবনে জাতীয় স্তরের এই নতুন সম্মান আরও একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় তৈরি করেছে।

    কর্ণাটকের জন্যও এই পুরস্কারকে বড় সম্মান হিসেবে দেখছেন অভিনেতা

    দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পাওয়ার প্রসঙ্গে শুধু নিজের কথা বলেননি অনন্ত নাগ। তিনি এই সম্মানকে কর্ণাটকের চলচ্চিত্রজগতের জন্যও বিশেষ স্বীকৃতি হিসেবে দেখেছেন।

    তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, কর্ণাটকের মাটিতে গড়ে ওঠা শিল্পী এবং চলচ্চিত্র সংস্কৃতির সঙ্গে এই সম্মানের একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তিনি প্রয়াত অভিনেতা রাজকুমারের কথাও স্মরণ করেছেন। রাজকুমার ১৯৯৫ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পেয়েছিলেন। অনন্ত নাগ তাঁকে নিজের আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    এই প্রসঙ্গেই অনন্ত নাগ জানিয়েছেন, তাঁর কাছে এই পুরস্কার কর্ণাটকের মুকুটে একটি রত্নের মতো। অর্থাৎ, নিজের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের স্বীকৃতির পাশাপাশি তিনি এই সম্মানকে নিজের রাজ্যের চলচ্চিত্র ঐতিহ্যের সঙ্গেও যুক্ত করে দেখেছেন।

    এর ফলে অনন্ত নাগের প্রতিক্রিয়ায় একই সঙ্গে ব্যক্তিগত আনন্দ এবং কর্ণাটকের চলচ্চিত্রজগতের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার বিষয়টি উঠে এসেছে। পুরস্কার পাওয়ার খবরের পর তিনি এই সম্মান নিজের রাজ্যের মানুষের প্রতিও উৎসর্গ করার কথা জানিয়েছেন।

    ২২ সেপ্টেম্বর পুরস্কার প্রদান

    ২০২৪ সালের দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারের জন্য অনন্ত নাগের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এই সম্মান তাঁকে ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানটি ২২ সেপ্টেম্বর গুজরাতের কেভাডিয়ায় হওয়ার কথা রয়েছে।

    সরকারি ঘোষণায় তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবন এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি যে জায়গা তৈরি করেছেন, এই পুরস্কার তারই স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হচ্ছে।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও অভিনন্দন বার্তায় অনন্ত নাগের অভিনয়ের গভীরতা ও স্বতন্ত্রতার কথা উল্লেখ করেছেন। সরকারি সূত্রে প্রকাশিত বার্তায় বলা হয়েছে, তিনি যে চরিত্রেই অভিনয় করেছেন, তাতেই আলাদা গভীরতা ও সত্যতা ফুটিয়ে তুলেছেন।

    এই ঘোষণার পরই অনন্ত নাগের প্রতিক্রিয়া সামনে আসে। পুরস্কার পাওয়ার আনন্দের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া অভিনন্দন তাঁর কাছে বিশেষ হয়ে উঠেছে। আর সেই অনুভূতিকেই তিনি ‘দু’টি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

    পুরস্কার ঘোষণার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বার্তাও আলোচনায়

    অনন্ত নাগের দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পাওয়ার খবর প্রকাশের পর তাঁর অভিনয়জীবনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন বার্তাও আলোচনায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্য বার্তায় অনন্ত নাগের কয়েক দশকের কাজের প্রশংসা করা হয় এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রে, বিশেষ করে কন্নড় চলচ্চিত্রে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরা হয়।

    #anantnag #dadasahebphalkeaward #anantnagdadasahebphalkeaward #pmmodi #narendramodi #kannadacinema #indiancinema #nationalfilmawards #anantnagaward

  • বিশ্বকর্মা পুজোর প্রাক্কালে বিশ্বকর্মাদের জন্য একগুচ্ছ কর্মসূচির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    PM Vishwakarma Scheme: বিশ্বকর্মা পুজোর প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিশ্বকর্মা প্রকল্পের বর্ষপূর্তি উদযাপনের অনুষ্ঠানে বিশ্বকর্মাদের জন্য রাজ্যের একগুচ্ছ কর্মসূচির কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে বিশ্বকর্মা প্রকল্পে উপভোক্তাদের অগ্রগতি, প্রশিক্ষণ, অনুমোদন, ঋণ এবং বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত দক্ষ কারিগরদের এই প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা। একই সঙ্গে ব্যাঙ্কগুলিকে বিশ্বকর্মাদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার জন্য উৎসাহিত করার কথাও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে তিনি জানান, রাজ্যের জন্য দুই লক্ষ বিশ্বকর্মাকে যুক্ত করার কথা বলা হলেও তাঁর লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গে পাঁচ লক্ষ বিশ্বকর্মাকে যুক্ত করা।

    বিশ্বকর্মা প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত দক্ষ কারিগরদের আরও বেশি করে যুক্ত করার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কাঠমিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রি, মূর্তিকার এবং মাছ ধরার নৌকা তৈরি করেন এমন কারিগরদের এই কর্মসূচির আওতায় আনা যেতে পারে।

    উপকূলবর্তী এলাকার ছোট ডিঙি ও দেশি নৌকা তৈরির সঙ্গে যুক্ত মানুষদের পাশাপাশি মাছ ধরার জাল তৈরি করেন এমন কারিগরদেরও প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা বলেন তিনি।

    এ ছাড়াও লোহার কাজ, পুরোনো তালাচাবি তৈরি, হাতুড়ি তৈরি, নাপিত বা নরসুন্দর, মালাকার এবং মাটি, গাঁট ও পাট দিয়ে পুতুল তৈরি করেন এমন কারিগরদের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশ্বকর্মাদের জন্য আরও কয়েকটি প্রকল্পের সুযোগ ব্যবহারের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, একটি খাদ্যভিত্তিক প্রকল্পে সারা দেশে ৯০ লক্ষের বেশি নথিভুক্তি রয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যা ৬৩ লক্ষ ২২ হাজার ৮৫২। এই প্রকল্পেও বিশ্বকর্মাদের যুক্ত করার কথা জানান তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিশ্বকর্মা প্রকল্পকে সফল করার জন্য রাজ্য সরকার কাজ করছে। পঞ্চায়েত প্রধানদের হাতে থাকা ক্ষমতার পরিবর্তে পঞ্চায়েত সচিবদের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করার জন্য বিধানসভায় আইন আনা হয়েছে বলেও তিনি জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের পর দুই হাজারের বেশি বিশ্বকর্মার অনুমোদন হয়েছে।

    #pmvishwakarmascheme #pmvishwakarma #vishwakarmayojana #vishwakarmaday #artisanscheme #skilledartisans #artisanloans #creditguarantee #westbengal #governmentScheme #narendramodi

  • জন্মদিনে দেশবাসীর উদ্দেশে কী বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী?

    India Semiconductor Ecosystem: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, ভারতের অর্ধপরিবাহী ক্ষেত্র দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এই সম্প্রসারণের ফলে উদ্ভাবন, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে ভারতের অর্ধপরিবাহী ক্ষেত্রের দ্রুত বিস্তার এবং তার ফলে তৈরি হওয়া সম্ভাবনার বিষয়টিই বিশেষভাবে উঠে এসেছে।

    নয়াদিল্লিতে অর্ধপরিবাহী শিল্পের সঙ্গে যুক্ত একটি বড় সম্মেলনের উদ্বোধন করে বক্তব্য রাখার সময় মোদী বলেন, “ভারতের অর্ধপরিবাহী ক্ষেত্র দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর ফলে উদ্ভাবন, বিনিয়োগ এবং বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।”

    প্রধানমন্ত্রী একই বক্তব্যে এই কথাটিই পুনরায় জোর দিয়ে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ভারতের অর্ধপরিবাহী ক্ষেত্র দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর ফলে উদ্ভাবন, বিনিয়োগ এবং বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।”

    মোদীর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল ভারতের অর্ধপরিবাহী ক্ষেত্রের দ্রুত সম্প্রসারণ। তাঁর কথায়, এই ক্ষেত্রের পরিধি যত বাড়ছে, ততই দেশের সামনে উদ্ভাবনের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে এবং বৃদ্ধির নতুন পথ খুলছে।

    তিনি যে বিষয়গুলির উপর জোর দিয়েছেন, তার মধ্যে রয়েছে—

    • ভারতের অর্ধপরিবাহী ক্ষেত্রের দ্রুত সম্প্রসারণ।
    • এই সম্প্রসারণের মাধ্যমে উদ্ভাবনের নতুন সুযোগ তৈরি হওয়া।
    • বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হওয়া।
    • বৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি হওয়া।

    প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারতের অর্ধপরিবাহী ক্ষেত্রের বর্তমান সম্প্রসারণ শুধু একটি নির্দিষ্ট শিল্পক্ষেত্রের বৃদ্ধি নয়, এর সঙ্গে উদ্ভাবন, বিনিয়োগ এবং বৃদ্ধির নতুন সুযোগও তৈরি হচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে এই তিনটি ক্ষেত্রের সম্ভাবনার কথাই স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

    ভারতের অর্ধপরিবাহী ক্ষেত্র দ্রুত বাড়ছে এবং এই দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে উদ্ভাবন, বিনিয়োগ ও বৃদ্ধির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

    #IndiaSemiconductorEcosystem #SemiconductorIndustry #NarendraModi #SemiconductorExpansion #SemiconductorInvestment #SemiconductorInnovation #SemiconductorGrowth #IndiaSemiconductor #TechnologyNews #IndiaNews

  • “সবার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা”— ব্রিকসের শেষ দিনে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা থেকে প্রশাসনে প্রযুক্তির নতুন বার্তা মোদীর

    PM Modi BRICS Summit: ব্রিকস সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

    ব্রিকস সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার বিরুদ্ধে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর বক্তব্য, প্রযুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলে সাধারণ অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে বড় বাধা তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থাকে নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাখা জরুরি। সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তাকে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন।

    গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে মোদীর সতর্কবার্তা

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং খনিজ সম্পদকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হলে সাধারণ উন্নয়নের পথে বাধা তৈরি হতে পারে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, বাজারকে কৃত্রিমভাবে প্রভাবিত করা, পণ্য রফতানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা এবং রাজনৈতিক চাপ তৈরি করার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থাকে দুর্বল করা উচিত নয়। বরং বিভিন্ন দেশের মধ্যে সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল এবং শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।

    মোদী আরও বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার যেন সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক হয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থা যেন নানা ধরনের বাধার মধ্যেও কার্যকর থাকে, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা একটি অপরিহার্য স্তম্ভ।

    গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

    প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালকে ঘিরে তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক টানাপড়েনের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। বিরল মাটির উপাদান, স্থায়ী চুম্বক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল বিদ্যুৎচালিত যানবাহন, পরিবেশবান্ধব শক্তি পরিকাঠামো, উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

    এই ধরনের কাঁচামালের সরবরাহ যদি সীমিত হয়ে পড়ে অথবা কোনও নির্দিষ্ট উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হয়, তাহলে উৎপাদন ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বাধার মুখে পড়তে পারে। তাই সরবরাহের উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের চলাচলকে স্থিতিশীল রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মোদী।

    নতুন ব্যবস্থার কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

    ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক ও আন্তঃদেশীয় বাণিজ্যকে শক্তিশালী করার জন্য নেওয়া বিভিন্ন ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ব্রিকসের নতুন ব্যবসায়িক ও উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলির কথা উল্লেখ করেন।

    এর মধ্যে রয়েছে ব্রিকস উদ্ভাবন সংযোগ ব্যবস্থা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য ব্রিকসের বিশেষ পোর্টাল এবং ব্রিকসের নতুন উদ্যোগভিত্তিক উদ্ভাবন তহবিল। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থাগুলির মাধ্যমে সদস্য দেশগুলির ছোট ব্যবসা ও প্রযুক্তিনির্ভর সংস্থাগুলিকে অর্থায়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও বার্তা

    প্রধানমন্ত্রী উদীয়মান প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, প্রযুক্তির উন্নতি যেন মানুষের সম্ভাবনা বাড়ানোর কাজে ব্যবহার হয় এবং এর ফলে নতুন করে অর্থনৈতিক বিভাজন তৈরি না হয়।

    তিনি কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং প্রশাসনের মতো ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথা জানান। একই সঙ্গে দ্রুত প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সঙ্গে নৈতিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তার নীতির ভারসাম্য রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্যে প্রযুক্তির সুবিধা যেন সমাজের বৃহত্তর অংশের কাছে পৌঁছয়, সেই বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে।

    মোদি-শি বৈঠকের প্রসঙ্গও উঠে এল

    প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের আগে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে তাঁর সঙ্গে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়েছিল। সেই আলোচনায় দুই নেতা কাঠামোগত বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবিলা, বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধা কমানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা কমানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এই বিষয়গুলিকে বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে ব্রিকস সম্মেলনের মঞ্চে মোদীর বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থা, প্রযুক্তি এবং কাঁচামালের নিরাপদ চলাচল বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

    #PMModiBRICSSummit #BRICSSummit2026 #NarendraModi #CriticalSupplyChains #SupplyChainSecurity #BRICSIndia #GeopoliticalTools

  • মোদি-শি বৈঠকে নতুন বার্তা

    Modi Xi Meeting: নয়াদিল্লি: ঠিক যেমনটি ঠিক ছিল। একদিকে চিন। অন্যদিকে বাংলাদেশ। আবার রয়েছে আমেরিকা। স্বাভাবিকভাবে বেজিং-দিল্লি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল তুঙ্গে।
    ব্রিকস শিখর সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সাড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সাত বছর পর। ৫০ মিনিট তাঁদের বৈঠক হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-চিন সম্পর্কের বরফ গলার আবহে এই বৈঠকে মূলত সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
    বৈঠকের শুরুতেই শি জিনপিংকে ভারতে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী। ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বে চিনের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান মোদি। তিনি বলেন, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার জন্য তাঁদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, ভারত ও চিনকে আরও বড় ‘গ্লোবাল রোল’ পালন করার আহ্বান জানান শি জিনপিং। দুই দেশ একে অপরের শক্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। উচ্চমানের উন্নয়ন এবং ব্রিকসের মধ্যে আরও বেশি সহযোগিতার উপরও জোর দেন চিনা প্রেসিডেন্ট।
    জিনপিং বলেন, দুই দেশের জাতীয় পরিস্থিতি আলাদা হলেও একে অপরের শক্তি থেকে শিক্ষা নেওয়া, পরস্পরকে সহযোগিতা করা এবং অভিন্ন উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করা সম্ভব। ভারত-চিন সম্পর্ককে চিন সবসময় কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে বলেও জানান তিনি। বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। গালওয়ান সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কের যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক সময়ে তা কিছুটা কমেছে। তবে সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয় এখনও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। অরুণাচল প্রদেশ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
    ২০১৯ সালে শেষ বার ভারতে এসেছিলেন জিনপিং। তার পরেই ২০২০-তে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনের সেনাবাহিনী সশস্ত্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। তাকে কেন্দ্র করে মাসের পর মাস দুই দেশের সম্পর্ক ছিল তলানিতে। তবে ধীরে ধীরে সম্পর্কের উন্নতি ঘটেছে। দু’বার জিনপিঙের সঙ্গে দেখা করেছেন মোদি। তবে চিনের প্রেসিডেন্ট ভারত সফরে আসছেন সাত বছর পর। ব্রিক্‌স সম্মেলন চলবে রবিবার পর্যন্ত। তাতে যোগ দিতে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও। মোদির সঙ্গে তাঁদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়ে গিয়েছে। জিনপিঙের সঙ্গে শনিবার বিকেলের বৈঠক নিয়েও নানা মহলে কৌতূহল ছিল তুঙ্গে।

    #ModiXiMeeting #NarendraModi #XiJinping #IndiaChinaRelations #ModiXiJinping #BRICSSummit2026 #IndiaChinaMeeting

  • “আমরা কারও বিরোধিতা করে এগোতে চাই না”— ব্রিকসের মঞ্চে মোদির বড় বার্তা

    PM Modi BRICS Summit Speech: নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যে উঠে এল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সম্মেলনে তিনি জোর দিলেন মানুষের স্বার্থ, সহযোগিতা, নিরাপত্তা এবং বাস্তব ফলের উপর। বিশেষ করে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির মধ্যে একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ব্রিকসের ঐক্য ও পারস্পরিক ঐকমত্যকে শুধু আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব ফলাফলে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    উদ্বোধনী বক্তব্যে মোদি ভারতের সভাপতিত্বের মূল ভাবনা হিসেবে মানবকেন্দ্রিক এবং মানবতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া নীতির কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে ছিল সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে চলার বার্তা, আবার ছিল বিশ্বের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উন্নয়নশীল দেশগুলির আরও কার্যকর ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথাও। সম্মেলনের মঞ্চে তাঁর বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলি বাংলায় তুলে ধরা হল।

    মানবতাকে সামনে রেখেই ভারতের সভাপতিত্ব

    ব্রিকস সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথমেই ভারতের সভাপতিত্বের মূল দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে মানুষের প্রয়োজন, নিরাপত্তা এবং উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট ছিল। তিনি জানান, ভারতের সভাপতিত্ব এমন একটি পদ্ধতিকে সামনে রেখেছে, যেখানে সহযোগিতা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল ভাবটি ছিল—

    “ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্ব মানুষের কেন্দ্রিক এবং মানবতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া একটি দৃষ্টিভঙ্গির উপর ভিত্তি করে এগিয়েছে। সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্বকে আমরা আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছি।”

    মোদির বক্তব্যে এই চারটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ে শুধু কোনও একটি দেশের স্বার্থকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন দেশের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে মানুষের জীবনকে আরও নিরাপদ ও উন্নত করার মতো বাস্তব উদ্যোগ প্রয়োজন।

    এই কারণেই ভারতের সভাপতিত্বের সময় ব্রিকসের আলোচনায় শুধু অর্থনীতি বা কূটনীতির মতো প্রচলিত বিষয় নয়, মানুষের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বিষয়গুলিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

    ঐক্য থাকলেই হবে না, চাই বাস্তব ফল

    ব্রিকসের গত দুই দশকের পথচলার কথাও তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই জোট এখন এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে নিজেদের মধ্যে ঐক্য এবং ঐকমত্যকে বাস্তব ফলাফলে পরিণত করার সময় এসেছে।

    মোদির বক্তব্য—

    “আজ ব্রিকসও পরিণত হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত দুই দশকে ব্রিকস বিশ্বমঞ্চে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছে।”

    তিনি আরও বলেন—

    “আমরা একে অপরের মতামতকে সম্মান করি এবং ঐকমত্যের মাধ্যমে এগিয়ে চলি। কারও বিরোধিতা করে নয়, সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।”

    এই বক্তব্যের পরেই তিনি ব্রিকসের সামনে পরবর্তী কাজের দিকটি স্পষ্ট করেন। তাঁর মতে, শুধু নিজেদের মধ্যে ঐক্য দেখানো বা একমত হওয়া যথেষ্ট নয়। সেই ঐক্যকে এমন উদ্যোগে পরিণত করতে হবে, যার বাস্তব প্রভাব আন্তর্জাতিক পরিসরে দেখা যায়।

    প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়—

    “এখন সময় এসেছে ব্রিকসের ভিতরের ঐক্য এবং ঐকমত্যকে বিশ্বমঞ্চে বাস্তব ফলাফলে পরিণত করার।”

    অর্থাৎ, ব্রিকসের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং পরে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মধ্যে যেন দীর্ঘ ব্যবধান না থাকে, সেই দিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। উদ্বোধনী বক্তব্যে তাঁর এই বার্তা সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উঠে আসে।

    নাবিকদের নিরাপত্তায় নতুন প্রস্তাব মোদির

    এবারের বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সমুদ্রপথে কর্মরত নাবিকদের নিরাপত্তা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সমুদ্রপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই পথ ব্যবহার করে পণ্য পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির মধ্যে একটি বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    মোদির এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হল বিভিন্ন সদস্য দেশের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে নাবিকদের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা। তাঁর বক্তব্যে এই বিষয়টি কেবল সমুদ্র নিরাপত্তার একটি আলাদা প্রশ্ন হিসেবে নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত মানুষের নিরাপত্তার অংশ হিসেবেও উঠে আসে।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মর্মার্থ ছিল—

    “ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির মধ্যে নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে।”

    এই প্রস্তাবের মধ্যে দিয়ে সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজ এবং সেখানে কর্মরত মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি ব্রিকসের আলোচনায় আরও গুরুত্ব পেতে পারে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়েছে।

    মোদির বক্তব্যে বাণিজ্য ও নিরাপত্তার সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ নিরাপদ সমুদ্রপথ শুধু পণ্য পরিবহণের জন্য নয়, সেই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের নিরাপত্তার জন্যও প্রয়োজন। ফলে নাবিকদের নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে সদস্য দেশগুলির মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের প্রস্তাব তাঁর বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    বিশ্বের পরিবর্তিত সমীকরণে ব্রিকসের ভূমিকা

    উদ্বোধনী বক্তব্যে মোদি ব্রিকসের গত দুই দশকের পরিচয় এবং বর্তমান অবস্থানের কথাও তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, সময়ের সঙ্গে এই জোট একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছে। ফলে এখন ব্রিকসের সামনে নিজেদের ঐক্যকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ছিল—

    “গত দুই দশকে ব্রিকস বিশ্বমঞ্চে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছে। আমরা একে অপরের দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান করি এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে এগিয়ে চলি।”

    তিনি এমন একটি পদ্ধতির কথাও বলেন, যেখানে কোনও পক্ষকে বাদ দিয়ে বা কারও বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এগোনোর পরিবর্তে সব পক্ষকে সঙ্গে নেওয়ার চেষ্টা থাকবে।

    তাঁর বক্তব্য—

    “আমরা কারও বিরোধিতা করে এগোতে চাই না। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।”

    এই বক্তব্যে ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঐকমত্যের গুরুত্বকে সামনে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বোঝাতে চেয়েছেন, সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে একটি সাধারণ পথ খুঁজে নেওয়াই এই জোটের অন্যতম শক্তি।

    সম্মেলনের মঞ্চে মোদির বার্তা, আলোচনার চেয়ে বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ

    মোদির উদ্বোধনী বক্তব্যের সামগ্রিক সুর ছিল—ব্রিকসকে শুধু বৈঠক ও ঘোষণার মঞ্চ হিসেবে না রেখে বাস্তব কাজের ক্ষেত্র হিসেবে আরও কার্যকর করে তোলা। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে ঐক্য, সহযোগিতা এবং বাস্তব ফলাফলের কথা।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন—

    “ব্রিকস এখন এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে আমাদের ঐক্য এবং ঐকমত্যকে বাস্তব ফলাফলে পরিণত করার সময় এসেছে।”

    ভারতের সভাপতিত্বের ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কথা উল্লেখ করে তিনি সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এর সঙ্গে নাবিকদের নিরাপত্তার মতো নির্দিষ্ট প্রস্তাব সামনে রেখে তিনি দেখাতে চেয়েছেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আলোচনা মানুষের বাস্তব সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন।

    উদ্বোধনী অধিবেশনে তাঁর বক্তব্যে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট ছিল—ব্রিকসের সদস্য দেশগুলি নিজেদের মতপার্থক্যকে সম্মান করেও একসঙ্গে এগোতে পারে। তাঁর মতে, এই জোটের শক্তি কোনও একটি দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার মধ্যে নয়; বরং বিভিন্ন দেশের স্বার্থ ও দৃষ্টিভঙ্গিকে এক জায়গায় এনে ঐকমত্য তৈরি করার মধ্যে।

    সেই কারণেই তাঁর বক্তব্যে এসেছে—

    “আমরা একে অপরের মতামতকে সম্মান করি এবং ঐকমত্যের মাধ্যমে এগিয়ে চলি।”

    এই বার্তার সঙ্গে নাবিকদের নিরাপত্তার প্রস্তাব এবং বাস্তব ফলের উপর জোর দেওয়ার বক্তব্য মিলিয়ে দেখা গেলে, ভারতের সভাপতিত্বে ব্রিকসের আলোচনায় সহযোগিতাকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

    নয়াদিল্লির সম্মেলনের উদ্বোধনী মঞ্চে মোদির বক্তব্য তাই শুধু ব্রিকসের অতীতের সাফল্যের কথা বলা নয়। বরং আগামী দিনে এই জোট কীভাবে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, সেই দিকেও তাঁর বক্তব্যের একটি বড় অংশ ছিল। মানুষের নিরাপত্তা, সহযোগিতা, ঐকমত্য এবং বাস্তবায়ন—এই চারটি বিষয় তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রীয় সুর হিসেবে সামনে এসেছে।

    #PMModiBRICSSummitSpeech #BRICSSummit2026 #NarendraModi #BRICSSummit #BRICSSeafarersSafety #GlobalSouth #IndiaBRICSPresidency #GEOPOLITICS

  • ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কি ডলারের বিকল্প পথ খুঁজবেন মোদি? জয়শঙ্কর কী বলেছেন?


    Dollar Alternative Currency: ব্রিকসের মঞ্চে বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষমতা বদলের কথা বললেন পুতিন। বাণিজ্যের দেওয়াল ভেঙে নতুন অর্থনৈতিক সেতু গড়ার ডাক দিলেন মোদি। কিন্তু ডলার সরিয়ে নতুন ব্রিকস মুদ্রা চালুর প্রশ্নে দিল্লি হাঁটছে নিজের পথে। কেন? বিশেষ কলমে সুব্রত আচার্য

    একদিকে আমেরিকার হুঁশিয়ারি। অন্যদিকে চিন ও রাশিয়ার চাপ। মাঝখানে দাঁড়িয়ে ভারত।

    প্রশ্নটা তাই সরাসরি। ব্রিকস সম্মেলন আয়োজন করে ভারত কি ডলারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে চলেছে?

    উত্তর—না।

    বরং দিল্লি এমন একটি রাস্তা খুঁজছে, যেখানে ডলারও থাকবে, স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যও বাড়বে। রাশিয়ার তেল কেনাও চলবে। চিনের সঙ্গে ব্যবসাও হবে। আবার ব্রিকসের আর্থিক ব্যবস্থার চাবি পুরোপুরি বেজিংয়ের হাতে যাবে না।

    এই কঠিন ভারসাম্যই এবারের দিল্লি সম্মেলনে ভারতের আসল পরীক্ষা।

    মোদির বক্তব্যে ভারতের লক্ষ্য স্পষ্ট (Dollar Alternative Currency)

    ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। তার আগের দিন ব্রিকস বিজনেস ফোরামে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেখানে ভারতের লক্ষ্য অনেকটাই পরিষ্কার।

    প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর প্রকাশিত পূর্ণ বক্তব্য অনুযায়ী, মোদি বলেছেন—বিশ্বজুড়ে যখন বাণিজ্যের বাধা বাড়ছে, ভারত তখন অর্থনৈতিক সেতু তৈরি করছে।

    ব্রিকস দেশগুলিতে বিশ্বের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের বাস। বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ৪০ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ২৫ শতাংশের বেশি এই দেশগুলির হাতে। গত দুই দশকে বিশ্ব অর্থনীতি প্রায় আড়াই গুণ হয়েছে। একই সময়ে ব্রিকস দেশগুলির সম্মিলিত অর্থনীতি বেড়েছে প্রায় সাড়ে চার গুণ।

    কিন্তু শুধু বড় বড় হিসাব শুনিয়ে থামেননি মোদি।

    ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে প্রধান দশটি বাণিজ্যিক বাধা চিহ্নিত করার কথা বলেছেন। প্রতি বছর একশোটি নতুন সংস্থাকে অন্য ব্রিকস দেশের বাজারে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। সদস্য দেশগুলির ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক হাজার নতুন অংশীদারি তৈরির লক্ষ্যও সামনে রেখেছেন।

    আমার মনে হচ্ছে, ভারতের নজর এখন ব্রিকসের স্লোগানের চেয়ে তার বাজারের দিকে বেশি। দিল্লি দেখতে চাইছে—ভারতীয় পণ্য, প্রযুক্তি, ডিজিটাল লেনদেন এবং নতুন সংস্থাগুলি এই বিশাল বাজার থেকে কতটা লাভ তুলতে পারে।

    মোদির সমুদ্রপথের বার্তা হঠাৎ নয় (Dollar Alternative Currency)

    মোদি বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য তখনই এগোতে পারে, যখন সমুদ্রপথ নিরাপদ থাকবে, পণ্য পরিবহণের রাস্তা খোলা থাকবে এবং নাবিকেরা নিরাপদ থাকবেন।

    এই বক্তব্যের সময়টি লক্ষ্য করার মতো।

    ইরানকে ঘিরে সংঘাত এখনও থামেনি। হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা তেল পরিবহণে চাপ তৈরি করেছে। কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের সংঘাতেও বাণিজ্যিক জাহাজ ও ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

    ভারতের প্রয়োজন সস্তা তেল। প্রয়োজন খোলা সমুদ্রপথ। প্রয়োজন এমন সরবরাহ ব্যবস্থা, যা যুদ্ধ কিংবা নিষেধাজ্ঞার কারণে বারবার আটকে যাবে না।

    ফলে দিল্লির কাছে ব্রিকস শুধু আমেরিকাকে বার্তা দেওয়ার মঞ্চ নয়। ভারতের কারখানা, বাজার এবং জ্বালানি নিরাপদ রাখারও মঞ্চ।

    পুতিনের কথায় পশ্চিমকে খোঁচা

    রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বক্তব্য ছিল আরও রাজনৈতিক।

    দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ১১ সেপ্টেম্বর রাতের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুতিন বলেছেন—বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর পরিবর্তন চলছে। বিংশ শতাব্দীর পুরনো শক্তিকেন্দ্রগুলির জায়গা নিচ্ছে নতুন অর্থনৈতিক শক্তি।

    এই ‘পুরনো শক্তিকেন্দ্র’ বলতে পুতিন কাদের বুঝিয়েছেন, তা বোঝা কঠিন নয়।

    তিনি পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞা এবং আর্থিক বিধিনিষেধেরও তীব্র সমালোচনা করেছেন। তবে একই সঙ্গে বলেছেন, রাশিয়া নিজেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায় না। গোটা বিশ্বের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

    পুতিন আর্কটিক পরিবহণ করিডর এবং উত্তর–দক্ষিণ পরিবহণ করিডরের কথা বলেছেন। এর পিছনের হিসাবও পরিষ্কার। পশ্চিমের নিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যপথ ও আর্থিক ব্যবস্থার উপর রাশিয়ার নির্ভরতা কমাতে হবে।

    অর্থাৎ পুতিনের কাছে ব্রিকস পশ্চিমি চাপ থেকে বেরিয়ে আসার রাস্তা। মোদির কাছে ব্রিকস সব পক্ষের সঙ্গে দরকষাকষি করার মঞ্চ।

    এই দুই অবস্থানের মধ্যে ফারাক রয়েছে।

    মোদি–পুতিন বৈঠকে কী হল? (Dollar Alternative Currency)

    মোদি ও পুতিন প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠক করেছেন। পরে তাঁরা একই গাড়িতে রাশিয়ার শিল্প প্রদর্শনী ‘ইনোপ্রম ইন্ডিয়া’ দেখতে যান।

    ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বিবৃতি বলছে, বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, পরিকাঠামো, প্রযুক্তি এবং দক্ষ কর্মীদের যাতায়াত নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    দুই দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে চায়। এখন সেই বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ডলার।

    মোদি আবারও বলেছেন, যুদ্ধের সমাধান আলোচনা এবং কূটনীতির মাধ্যমেই সম্ভব। পশ্চিম এশিয়া ও কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে শান্তির উদ্যোগে সাহায্য করতেও ভারত প্রস্তুত।

    পুতিন মোদিকে রাশিয়ায় ২৪তম ভারত–রাশিয়া বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মোদি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।

    আমেরিকার চাপের মধ্যেও ভারত–রাশিয়া সম্পর্ক যে থামছে না, দিল্লির বৈঠক তার স্পষ্ট প্রমাণ।

    তাহলে ডলার নিয়ে ভারত কী করবে? (Dollar Alternative Currency)

    চিন ও রাশিয়া ডলারের উপর নির্ভরতা দ্রুত কমাতে চায়। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলাও বিকল্প মুদ্রার (Dollar Alternative Currency) পক্ষে সরব।

    কিন্তু ভারত নতুন অভিন্ন ব্রিকস মুদ্রার (Dollar Alternative Currency) পক্ষে এগোচ্ছে না।

    NDTV-র ১১ সেপ্টেম্বরের বিশ্লেষণ মনে করিয়ে দিয়েছে, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ওয়াশিংটনের কার্নেগি এনডাওমেন্টে বলেছিলেন—ডলারকে লক্ষ্যবস্তু করা ভারতের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক অথবা কৌশলগত নীতির অংশ নয়।

    তাহলে ভারত কী চাইছে?

    ভারত চাইছে ব্রিকস দেশগুলির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রাগুলিকে (Dollar Alternative Currency) পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করতে। এতে বাণিজ্য ও পর্যটনের টাকা দ্রুত পাঠানো যাবে। খরচও কমবে।

    সহজ করে বললে, দিল্লি এখনই জল বদলাতে চাইছে না। জল যাওয়ার পাইপটি দ্রুত এবং সস্তা করতে চাইছে।

    ভারতের সামনে ২২৬ বিলিয়ন ডলারের দেয়াল

    ব্রিকসের অন্য দেশগুলির সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যঘাটতি ২২৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ভারত ওই দেশগুলি থেকে যত পণ্য কেনে, তার তুলনায় অনেক কম পণ্য বিক্রি করে।

    রাশিয়ার সঙ্গে রুপিতে বাণিজ্য করতে গিয়ে সমস্যাটি সামনে এসেছে। ভারতের তেল কেনার ফলে রাশিয়ার হাতে বিপুল রুপি জমেছিল। কিন্তু সেই রুপি দিয়ে কেনার মতো পর্যাপ্ত ভারতীয় পণ্য মস্কোর সামনে ছিল না।

    তাই ডলারের বদলে রুপি বসিয়ে দিলেই বাণিজ্যঘাটতি কমে না। শুধু দেনাপাওনার হিসাবটি অন্য মুদ্রায় লেখা হয়।

    আরও একটি বড় প্রশ্ন রয়েছে। ব্রিকস মুদ্রা হলে তার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে?

    চিনের অর্থনীতি গোষ্ঠীর অন্য সদস্যদের তুলনায় অনেক বড়। ফলে নতুন ব্যবস্থায় ইউয়ানের প্রভাব বাড়ার সম্ভাবনাও বেশি। ভারত ডলারের আধিপত্য সরিয়ে ইউয়ানের আধিপত্য বসাতে চাইবে কেন?

    আমার বিশ্লেষণে, এখানেই ভারতের আপত্তির আসল কারণ। দিল্লি ডলারের উপর নির্ভরতা কমাতে চায়। কিন্তু চিনা মুদ্রার উপর নতুন নির্ভরতা তৈরি করতে চায় না।

    শি জিনপিংয়ের সফরে হিসাব বদলাবে?

    শি জিনপিং সাত বছর পরে ভারতে আসছেন। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পরে এটিই তাঁর প্রথম ভারত সফর।

    NDTV-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবর্ষে ভারত–চিন বাণিজ্য ১৫১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। কিন্তু চিনের সঙ্গে ভারতের ঘাটতিই ১১২ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার।

    চিন ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। আবার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যঘাটতির উৎসও চিন।

    মোদি–শি বৈঠক হলে সীমান্তে শান্তি, চিনা বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে কথা হবে। দুই দেশই সম্পর্কের উত্তাপ কমাতে চায়। তবে বন্ধুত্বের জন্য নয়। প্রয়োজনের জন্য।

    চিন ভারতের বাজার ছাড়তে চায় না। ভারতও চিনের কাঁচামাল ও প্রযুক্তির সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ করতে পারবে না। এই নির্ভরতাই দুই প্রতিদ্বন্দ্বীকে আবার আলোচনার টেবিলে বসাচ্ছে।

    ট্রাম্প কি ভারতকে শাস্তি দিতে পারবেন? (Dollar Alternative Currency)

    ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিকসকে ‘আমেরিকাবিরোধী’ বলে আক্রমণ করেছেন। ডলারের বিকল্প তৈরির চেষ্টা করা দেশগুলির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শুল্কের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

    কিন্তু ভারতের প্রশ্নটি আলাদা।

    ভারত কোয়াডের সদস্য। ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের প্রভাব ঠেকাতে ওয়াশিংটনের কাছে দিল্লি প্রয়োজনীয়। ভারতকে বেশি চাপ দিয়ে চিন ও রাশিয়ার দিকে ঠেলে দেওয়াও আমেরিকার পক্ষে বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

    দিল্লি এই জায়গাটিই কাজে লাগাচ্ছে। ব্রিকসে থেকেও ডলারের বিরুদ্ধে যাচ্ছে না। আবার ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে বিকল্প অর্থপ্রদানের আলোচনা থেকে পিছিয়েও আসছে না।

    বাংলাদেশ না যাওয়ায় ধাক্কা খেল কে?

    বাংলাদেশ ব্রিকসের পূর্ণ সদস্য নয়। ফলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান না যাওয়ায় সম্মেলনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনও পরিবর্তন হবে না।

    কিন্তু ঢাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ ছেড়ে দিল। একই সফরে নরেন্দ্র মোদি, শি জিনপিং এবং অন্য নেতাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ তৈরি হতে পারত। ভিসা, সীমান্ত, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ এবং জলবণ্টনের বিষয়ও ভারতের সামনে সরাসরি তোলা যেত।

    ভারতেরও ক্ষতি রয়েছে। তারেক রহমানকে দিল্লিতে পাশে বসাতে পারলে মোদি দেখাতে পারতেন—বাংলাদেশে সরকার বদলালেও দুই দেশের রাজনৈতিক যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে।

    আমার মনে হচ্ছে, বাংলাদেশ ভারতকে রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে ঠিকই। তবে সেই বার্তা দিতে গিয়ে নিজের জন্য একটি দরজাও বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে ভারতও বুঝেছে, শুধু বহুপাক্ষিক সম্মেলনের আমন্ত্রণে ঢাকা–দিল্লির জমে থাকা সমস্যা মিটবে না।

    শেষ পর্যন্ত লাভ কার?

    ভারত কি আমেরিকা, চিন এবং রাশিয়ার চাপে রয়েছে? অবশ্যই রয়েছে। কিন্তু সেই চাপেই দিল্লি কোণঠাসা হয়ে পড়েছে—এমন ছবি এখনও দেখা যাচ্ছে না।

    বরং ভারত তিন পক্ষের প্রয়োজনকে নিজের শক্তিতে বদলানোর চেষ্টা করছে।

    আমেরিকার চিনকে আটকাতে ভারত প্রয়োজন। রাশিয়ার তেল ও বাজারের জন্য ভারত প্রয়োজন। চিনেরও ভারতের বিশাল বাজার প্রয়োজন। আর ভারত চাইছে—সবার সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে, কিন্তু কারও নিয়ন্ত্রণে যেতে হবে না।

    এবারের ব্রিকস সম্মেলনের আসল প্রশ্ন তাই ডলার হারবে কি না নয়। প্রশ্ন হল, দিল্লি কি চিনের পাশে দাঁড়িয়েও চিনের নেতৃত্ব ঠেকাতে পারবে? রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক রেখেও আমেরিকার সঙ্গে অংশীদারি বাঁচাতে পারবে? আর প্রতিবেশী বাংলাদেশকে বাইরে রেখেও দক্ষিণ এশিয়ায় নিজের নেতৃত্ব অটুট দেখাতে পারবে?

    এই তিন প্রশ্নের উত্তরই ঠিক করবে—দিল্লির ব্রিকস সম্মেলন শুধু বড় আয়োজন হয়ে থাকবে, না ভারতের ভবিষ্যৎ কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে উঠবে।

    লেখক প্রথম কলকাতার সম্পাদক ও প্রকাশক। ‘প্রাসঙ্গিক প্রসঙ্গ’ অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও বিশ্লেষক।

    #BRICSCurrency #BRICSDollarAlternative #NarendraModi #SJaishankar #VladimirPutin #BRICSSummit2026 #USDollar #IndiaBRICS

  • মোদি-পুতিন-শি এক মঞ্চে! তিন শক্তির এই জোট কি বদলে দেবে বিশ্বের ক্ষমতার সমীকরণ?

    Modi Putin Xi Summit: নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের একসঙ্গে উপস্থিতি কূটনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারত মণ্ডপমে তিন দেশের শীর্ষ নেতার এই উপস্থিতি শুধু নয়াদিল্লি নয়, আমেরিকা থেকে পাকিস্তান—সব মহলের নজর কেড়েছে।

    একই মঞ্চে মোদি-পুতিন-শি (Modi Putin Xi Summit)

    ভারত, রাশিয়া ও চিন—তিন শক্তিশালী দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের একসঙ্গে উপস্থিতি ব্রিকসের বাড়তে থাকা প্রভাবের দিকটিই সামনে আনছে। সম্মেলনে তিন দেশের উপস্থিতি এশিয়ার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা বাড়াতে পারে।

    অর্থনীতি ও বাণিজ্যে বিকল্প পথের আলোচনা (Modi Putin Xi Summit)

    ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বাড়তে থাকা অপরিশোধিত তেলের দাম এবং বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এই সম্মেলন হচ্ছে। পশ্চিম দেশগুলি নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থার বিকল্প নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্র হিসেবেও ব্রিকসকে ক্রমশ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সদস্য দেশগুলির মধ্যে নিজেদের মুদ্রায় বাণিজ্য এবং ভবিষ্যতে ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবস্থার মতো বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

    ভারতের কৌশলগত স্বাধীনতার বার্তা (Modi Putin Xi Summit)

    ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভারত নিজের কৌশলগত স্বাধীনতার অবস্থানও তুলে ধরছে। নয়াদিল্লি একদিকে আমেরিকা, রাশিয়া ও চিনের মতো বড় শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে, অন্যদিকে নিজের জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণের পথ অনুসরণ করছে।

    বিশ্বশক্তির নতুন সমীকরণে এশিয়ার গুরুত্ব (Modi Putin Xi Summit)

    ভারত-রাশিয়া-চিনের এই মিলন বিশ্ব অর্থনীতি, বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং ভূরাজনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে। সামগ্রিকভাবে ব্রিকসের এই সম্মেলন দেখিয়ে দিচ্ছে, পরিবর্তনশীল বিশ্বশক্তির কাঠামোয় এশিয়ার গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে এবং ভারত সেই পরিবর্তিত সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে।

    #ModiPutinXiSummit #BRICSSummit #NarendraModi #VladimirPutin #XiJinping #IndiaRussiaChina #GlobalPowerShift #GEOPOLITICS

  • মোদি-পুতিনের ঘনিষ্ঠতা কি বদলে দিচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণ?

    Modi Putin Meeting: ব্রিকস সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও মহাকাশ ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়েও দুই নেতা মতবিনিময় করেছেন।

    বৈঠকে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়। রুশ প্রেসিডেন্ট মোদিকে রাশিয়ায় ২৪তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মোদি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। তবে সফরের তারিখ কূটনৈতিক মাধ্যমে পরে নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

    ব্রিকসের মঞ্চে মোদির বার্তা (Modi Putin Meeting)

    অর্থনৈতিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ব্রিকসের পরিসর ক্রমশ বাড়ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ব্রিকস ব্যবসায়িক সম্মেলন এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড়। তিনি জানান, ব্রিকস দেশগুলি বিশ্বের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। সম্মিলিত অর্থনীতির প্রায় ৪০ শতাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ২৫ শতাংশও এই গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন-

    “ব্রিকসের সদস্য দেশগুলি বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ, সম্মিলিত মোট দেশজ উৎপাদনের ৪০ শতাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের ২৫ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করে।”

    মোদি আরও বলেন, বাণিজ্যিক বাধা বাড়লেও ভারত অর্থনৈতিক সেতু তৈরির দিকে এগোচ্ছে। ব্রিকসের ক্ষেত্রে ভারতের লক্ষ্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করা। সদস্য দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্যিক বাধা কমানোর জন্য শীর্ষ ১০টি বাধা চিহ্নিত করে একটি প্রতিবেদন তৈরিরও আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন-

    “ব্রিকসের ক্রমবর্ধমান পরিসর এবং এই জোটকে ঘিরে আশাবাদ যে বাড়ছে, তার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে, এখনও পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সবচেয়ে বড় ব্রিকস ব্যবসায়িক সম্মেলনে।”

    সমুদ্রপথ ও বাণিজ্য নিয়েও বার্তা (Modi Putin Meeting)

    নরেন্দ্র মোদি নিরাপদ সমুদ্রপথ এবং নাবিকদের নিরাপত্তার উপরেও গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্য, নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ বাণিজ্যের জন্য সমুদ্রপথ সুরক্ষিত রাখা জরুরি।

    অন্যদিকে পুতিন বলেন, ব্রিকস দেশগুলির অভ্যন্তরীণ বাজার অত্যন্ত বড় এবং গত কয়েক বছরে বিশ্ব অর্থনীতির বৃদ্ধির একটি বড় অংশ ব্রিকস দেশগুলি থেকে এসেছে। তিনি নতুন বিনিয়োগ ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তাবও দেন, যার মাধ্যমে ব্রিকস দেশগুলির অর্থনীতিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব হবে।

    মোদি-পুতিন বৈঠকে কী কী উঠে এল? (Modi Putin Meeting)

    বিদেশ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোদি ও পুতিনের আলোচনায় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, মহাকাশ এবং দক্ষ কর্মী চলাচল—সহযোগিতার একাধিক ক্ষেত্র উঠে এসেছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়েও দুই নেতা মতবিনিময় করেছেন।

    এর পাশাপাশি ভারত-রাশিয়া সহযোগিতার অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকের পর পুতিন মোদিকে রাশিয়ায় ২৪তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান এবং মোদি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন। সফরের তারিখ পরে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

    সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য

  • ব্রিকস আসলে কী? সদস্য নয় বাংলাদেশ, তবু কেন এত গুরুত্বপূর্ণ আউটরিচ?

    Bangladesh BRICS Outreach: বাংলাদেশ ব্রিকসের স্থায়ী সদস্য (Bangladesh BRICS Outreach) না হলেও আউটরিচ মঞ্চে তার উপস্থিতি ভারত ও ঢাকার কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে। ব্রিকসের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ, ভারতের ভূমিকা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার সম্ভাবনা ঘিরে সামনে আসছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

    ব্রিকস ছিল ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চিন—চারটি দ্রুত-বর্ধনশীল অর্থনীতিকে ঘিরে একটি ধারণা। আজ সেই ধারণা অনেক বড় এক ভূরাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত হয়েছে। ২০০১ সালে অর্থনীতিবিদ জিম ও’নিলের তৈরি করা ‘ব্রিক’ ধারণা থেকে শুরু করে ২০০৯ সালের প্রথম শীর্ষ সম্মেলন, দক্ষিণ আফ্রিকার যোগদান এবং পরবর্তী সম্প্রসারণ—ব্রিকসের পথচলা আসলে বিশ্ব অর্থনীতি ও কূটনীতির বদলে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ গল্প। বর্তমানে ১১টি পূর্ণ সদস্য দেশ নিয়ে এই জোট বিশ্বের প্রায় ৪৯.৫ শতাংশ জনসংখ্যা, ৪০ শতাংশ বিশ্ব উৎপাদন এবং ২৬ শতাংশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রতিনিধিত্ব করে।

    এই পরিবর্তিত ব্রিকস কাঠামোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে ২০২৬ সালের ভারত-আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ফলে প্রশ্ন শুধু ব্রিকসে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনীতি, চিন-ভারত সমীকরণ এবং বাংলাদেশের বৃহত্তর পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্য।

    ব্রিকসের জন্ম থেকে আজকের বিস্তার (Bangladesh BRICS Outreach)

    ব্রিকসের ইতিহাস বুঝতে হলে শুরুতে ফিরে যেতে হয় ২০০১ সালে। সেই সময় গোল্ডম্যান স্যাকসের অর্থনীতিবিদ জিম ও’নিল ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চিনকে বোঝাতে ‘ব্রিক’ শব্দটি ব্যবহার করেন। তখন এটি কোনও রাজনৈতিক জোট ছিল না; বরং দ্রুত বেড়ে ওঠা অর্থনীতিগুলিকে নিয়ে একটি অর্থনৈতিক ধারণা ছিল। পরে এই ধারণাই রাষ্ট্রগুলির রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার মঞ্চে পরিণত হয়। ২০০৬ সালে চার দেশের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হয় এবং ২০০৯ সালের ১৬ জুন রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবুর্গে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম আনুষ্ঠানিক ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন।

    এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা যুক্ত হওয়ায় ‘ব্রিক’ থেকে ‘ব্রিকস’ নামটি প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ সময় পাঁচ দেশের কাঠামো বজায় থাকার পর ২০২৩ সালের জোহানেসবার্গ শীর্ষ সম্মেলনে আরও বড় সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে এবং ইন্দোনেশিয়া ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে পূর্ণ সদস্য হয়। পাশাপাশি ২০২৫ সালে বেলারুশ, বলিভিয়া, কাজাখস্তান, কিউবা, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম অংশীদার দেশ হিসেবে যুক্ত হয়।

    এই সম্প্রসারণের ফলে ব্রিকসের চরিত্রও বদলেছে। এটি আর কেবল কয়েকটি উদীয়মান অর্থনীতির সমন্বয় নয়; বরং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের দেশকে নিয়ে বৃহত্তর গ্লোবাল সাউথের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। এর পাশাপাশি ২০১৪ সালে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উন্নয়ন অর্থায়নের ক্ষেত্রেও নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হয়েছে।

    আউটরিচ অধিবেশন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

    ব্রিকসের আউটরিচ ব্যবস্থা শুরু থেকেই ছিল না। ২০১৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে অনুষ্ঠিত পঞ্চম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ধরনের সংলাপের আয়োজন করা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা তার আঞ্চলিক বাস্তবতা সামনে রেখে আফ্রিকান ইউনিয়ন ও আফ্রিকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দেশের নেতাদের সঙ্গে ব্রিকসের মূল বৈঠকের পাশাপাশি একটি বিশেষ সংলাপের সুযোগ তৈরি করেছিল। এরপর আয়োজক দেশগুলি নিজেদের অঞ্চল ও আঞ্চলিক সংগঠনের নেতৃত্বকে ব্রিকসের সঙ্গে যুক্ত করার এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে থাকে।

    ২০১৪ সালে ব্রাজিলের ফোর্তালেজা সম্মেলনে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলির সঙ্গে সংযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ২০১৫ সালে রাশিয়ার উফা সম্মেলনে ইউরেশিয়া ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক সামনে আসে। ২০১৬ সালে ভারতের গোয়া সম্মেলনে বিমসটেক দেশগুলিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেই অধিবেশনে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশ নেন। ২০১৭ সালে চিনের শিয়ামেন সম্মেলনে এই ধারণা আরও বিস্তৃত হয়ে ‘ব্রিকস প্লাস’ কাঠামোর দিকে যায়।

    আউটরিচের গুরুত্ব এখানেই। কোনও দেশ পূর্ণ সদস্য না হয়েও ব্রিকসের আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং অর্থায়নের মতো বিষয়ে বৃহত্তর সংলাপ তৈরি হয়। একইসঙ্গে আয়োজক দেশের কাছেও এটি হয়ে ওঠে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক হাতিয়ার।

    ২০২৬ সালে ভারতের আউটরিচের তাৎপর্য

    ২০২৬ সালে ভারতের সভাপতিত্বে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সম্মেলনের মূল ভাবনা—সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বকে কেন্দ্র করে নির্মাণ। এই সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

    এখানে বাংলাদেশের আমন্ত্রণকে শুধু একটি সম্মেলনে উপস্থিতির বিষয় হিসেবে দেখলে আউটরিচের কূটনৈতিক গুরুত্বের একটি বড় অংশ বাদ পড়ে যায়। কারণ বাংলাদেশ এখানে শুধু নিজের দেশের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, একটি আঞ্চলিক সংগঠনের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবেও বৃহত্তর আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এই জায়গাটিই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

    ভারতের কাছে ব্রিকস কেন কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ?

    ভারতের ব্রিকস নীতির কেন্দ্রে রয়েছে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন। অর্থাৎ কোনও একটি শক্তির সঙ্গে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে আবদ্ধ না রেখে একাধিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা। ব্রিকস ভারতকে চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে একই বহুপাক্ষিক মঞ্চে কাজ করার সুযোগ দেয়। আবার একই সময়ে পশ্চিমা দেশগুলির সঙ্গেও ভারতের নিজস্ব কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক বজায় থাকে।

    ভারতের জন্য ব্রিকসের আরেকটি বড় ক্ষেত্র হল গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্ব। বিশ্বব্যবস্থায় উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার, উন্নয়ন অর্থায়ন, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তির প্রবেশাধিকার—এই বিষয়গুলিতে ভারত ব্রিকসকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

    অর্থনীতির ক্ষেত্রেও ব্রিকস ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বিকল্প উন্নয়ন অর্থায়নের একটি কাঠামো তৈরি করেছে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ভারতের ৩২টি প্রকল্পের জন্য প্রায় ৯.৫ বিলিয়ন ডলার অনুমোদন করা হয়েছে। মেট্রো, দ্রুতগামী গণপরিবহণ, সড়ক, সেতু, জল ও নিকাশি, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এই অর্থ ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    চিনের সঙ্গে ভারতের জটিল সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ব্রিকস একটি আলাদা মাত্রা তৈরি করে। দ্বিপাক্ষিক ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা বা মতপার্থক্য থাকলেও বহুপাক্ষিক মঞ্চে যোগাযোগের একটি কাঠামো বজায় থাকে। একইভাবে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এবং নতুন সদস্য দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য ও বাজারের সুযোগ ভারতের কূটনৈতিক পরিসরকে আরও বিস্তৃত করে।

    বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে, আর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ কী? (Bangladesh BRICS Outreach)

    বাংলাদেশের জন্য ব্রিকসের গুরুত্ব (Bangladesh BRICS Outreach) মূলত তিনটি স্তরে দেখা যায়—অর্থনীতি, ভূরাজনীতি এবং আঞ্চলিক কূটনীতি।

    প্রথমত, ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির সম্মিলিত অর্থনৈতিক শক্তি বাংলাদেশের কাছে নতুন বাজার ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা থেকে উত্তরণের পথে থাকায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং উন্নয়ন অর্থায়নের বিকল্প পথ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্যপদে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং চিন ও রাশিয়া এই আগ্রহকে সমর্থন করেছে।

    দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান তাকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে সামনে আনে। ব্রিকসের বিস্তৃত কাঠামোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক তাই শুধু অর্থনৈতিক নয়; এর সঙ্গে বঙ্গোপসাগর, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং বৃহত্তর এশীয় ভূরাজনীতির প্রশ্নও যুক্ত।

    তৃতীয়ত, বাংলাদেশের সামনে রয়েছে ভারসাম্যের কূটনীতি। একদিকে ভারত, অন্যদিকে চিন; পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক—সবকিছুকে একসঙ্গে সামলে এগোতে হবে। প্রদত্ত তথ্যেই বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়’ ধরনের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    এই জায়গায় ব্রিকস বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাব্য অতিরিক্ত কূটনৈতিক মঞ্চ। কিন্তু আউটরিচে আমন্ত্রণ পাওয়া এবং পূর্ণ সদস্য হওয়া এক বিষয় নয়। আউটরিচ অংশগ্রহণ বৃহত্তর সংলাপের সুযোগ তৈরি করে; পূর্ণ সদস্যপদের জন্য আলাদা প্রক্রিয়া ও সমঝোতা প্রয়োজন।

    ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন কূটনৈতিক জানালা কি ব্রিকস? (Bangladesh BRICS Outreach)

    ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল বলে প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দুই দেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল করার প্রয়োজন সামনে আসে। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের ব্রিকস আউটরিচে বাংলাদেশের আমন্ত্রণকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক জানালা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যদি এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন, তাহলে ব্রিকসের মতো একটি বহুপাক্ষিক মঞ্চে ভারতীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে বিমসটেক ও ব্রিকসের মধ্যে আঞ্চলিক সংযোগের প্রশ্নটিও সামনে আসবে। ২০১৬ সালের গোয়া সম্মেলনের পর ভারত-বিমসটেক-ব্রিকস সংযোগের যে অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছিল, ২০২৬ সালে তা নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

    এখানে ভারতের স্বার্থও স্পষ্ট। প্রতিবেশী দেশগুলিকে বৃহত্তর আঞ্চলিক ও বিশ্বব্যাপী মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত করা ভারতের প্রতিবেশনীতি এবং গ্লোবাল সাউথ নেতৃত্বের ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাংলাদেশের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বঙ্গোপসাগরীয় দেশকে ব্রিকসের আউটরিচে যুক্ত করা সেই কৌশলেরই অংশ হতে পারে।

    অন্যদিকে বাংলাদেশের কাছেও এই অংশগ্রহণের মূল্য রয়েছে। সদস্য না হয়েও ব্রিকসের বৃহত্তর আলোচনায় নিজের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পাওয়া যায়। ভারত, চিন, রাশিয়া এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতির সঙ্গে একই মঞ্চে সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি হয়। ফলে এটি বাংলাদেশের জন্য কেবল একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ নয়; বরং নিজের বহুমুখী কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার একটি সুযোগ।

    একবিংশ শতাব্দীর অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে বিশ্বজুড়ে ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা দক্ষিণের উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ব্রিকস আর শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন উদীয়মান ও বিকাশমান অর্থনীতিকে আলোচনার পরিসরে আনার জন্য ব্রিকসের বৈঠকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সম্প্রসারিত আলোচনা অধিবেশন। দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ ভারত ও বাংলাদেশের সামনে আলাদা হলেও পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত একাধিক কৌশলগত সুযোগ তৈরি করেছে। ভারত এই মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে নিজের আঞ্চলিক নেতৃত্বকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ পাচ্ছে।

    বিমসটেককে গুরুত্ব দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগ

    বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিমসটেকের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। ভারত এই আঞ্চলিক সহযোগিতার কাঠামোকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও গভীর করার সুযোগ পায়।

    ব্রিকসের সম্প্রসারিত আলোচনায় বিমসটেকের সদস্য দেশগুলির উপস্থিতি তাই আলাদা গুরুত্ব বহন করে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক আলোচনার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়। ভারতের জন্য এটি আঞ্চলিক নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করার একটি পথ। বাংলাদেশের জন্যও এর গুরুত্ব কম নয়। কারণ বাংলাদেশ একইসঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

    ফলে ব্রিকসের সম্প্রসারিত আলোচনায় বাংলাদেশের উপস্থিতি শুধু একটি দেশের অংশগ্রহণ হিসেবে দেখা যায় না। এর মাধ্যমে বঙ্গোপসাগর, আঞ্চলিক বাণিজ্য, যোগাযোগ, উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলিও বৃহত্তর আলোচনার পরিসরে আসতে পারে।

    বাংলাদেশের কূটনীতির ক্ষেত্রে এই সুযোগ (Bangladesh BRICS Outreach) বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনও একটি শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে নিজের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থ এগিয়ে নেওয়া বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিকসের সম্প্রসারিত আলোচনা সেই বহুমুখী কূটনীতির একটি কার্যকর ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।

    এর মাধ্যমে বাংলাদেশ নতুন বাজার, বিনিয়োগ, উন্নয়ন অর্থায়ন এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে পারে। একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, উন্নয়ন অর্থায়ন এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির স্বার্থের মতো বিষয়েও নিজেদের অবস্থান বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ পায়।

    ব্রিকসের সম্প্রসারিত আলোচনা ভারত ও বাংলাদেশের সামনে দুই ধরনের সুযোগ তৈরি করছে। ভারতের জন্য এটি আঞ্চলিক নেতৃত্বকে বিশ্বমঞ্চের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ। বাংলাদেশের জন্য এটি কোনও নির্দিষ্ট জোটে আবদ্ধ না হয়েও বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ। এই দুই স্বার্থ যদি পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগোয়, তাহলে আগামী দিনে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে এই সম্প্রসারিত আলোচনার গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।

    #bangladeshbricsoutreach #brics #bricssummit #bangladesh #india #bricsoutreach #narendramodi

Exit mobile version