Cockroach Janta Party Protest: দিল্লির যন্তর মন্তরে চলতে থাকা আন্দোলন ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রবিবার ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) গুরুতর অভিযোগ করে জানিয়েছে, তাদের আন্দোলন ভণ্ডুল করার উদ্দেশ্যে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ৩০ থেকে ৪০ জন দুষ্কৃতী এবং দিল্লি পুলিশের কিছু সদস্যকে বিক্ষোভস্থলের আশপাশে মোতায়েন করা হয়েছে। দলের দাবি, পরিকল্পিতভাবে আন্দোলনের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা চলছে।
সিজেপির অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের উস্কে দিয়ে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি করার ছক কষা হয়েছে। এজন্যই বিক্ষোভস্থলের আশপাশে কিছু ব্যক্তিকে রাখা হয়েছে, যাঁরা সুযোগ পেলেই গোলমাল বাঁধানোর চেষ্টা করতে পারেন। দলটির দাবি, এর মাধ্যমে আন্দোলনের ভাবমূর্তি নষ্ট করার পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি করা হতে পারে।
দলটি তাদের সমর্থক ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সিজেপির বক্তব্য, কেউ যদি আন্দোলনের নামে উস্কানিমূলক বা ভারতবিরোধী স্লোগান দেন কিংবা এমন কোনও কাজ করেন যা আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, তাহলে তাঁকে দলের সমর্থক বলে মনে করা উচিত হবে না। বরং এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় সিজেপি জানিয়েছে, আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে চালিয়ে যাওয়াই তাদের লক্ষ্য। তাই কোনও প্ররোচনায় পা না দিয়ে শান্ত থাকার জন্য আন্দোলনকারীদের বারবার অনুরোধ করা হয়েছে।
এই অভিযোগ এমন সময় সামনে এসেছে, যখন জলবায়ু আন্দোলনের কর্মী সোনম ওয়াংচুক-এর নেতৃত্বে চলা দীর্ঘ অনশন এবং বিক্ষোভ ইতিমধ্যেই জাতীয় স্তরে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রশাসনের তরফে চাপ বাড়ানো হচ্ছে এবং আন্দোলনকে দুর্বল করার নানা চেষ্টা চলছে।
সিজেপি আরও দাবি করেছে, বিক্ষোভস্থলের আশপাশে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের সরঞ্জামও নিয়ে আসা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে সরকারি তরফে কোনও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। দলটির আশঙ্কা, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে আইনশৃঙ্খলার অজুহাতে আন্দোলন ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।
অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সংসদ অভিমুখে মিছিল বা পদযাত্রার জন্য কোনও অনুমতি চাওয়া হয়নি এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এমন কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি। পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া আইন ভঙ্গ করে কোনও জমায়েত বা মিছিল করার চেষ্টা হলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বিজেপির পক্ষ থেকেও সিজেপির অভিযোগের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে সামনে আসেনি। ফলে ককরোচ জনতা পার্টির তোলা অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, যন্তর মন্তরের এই আন্দোলন এবং তা ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। আন্দোলনকারীরা যেখানে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের দাবি করছেন, সেখানে প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। সব মিলিয়ে রাজধানীর পরিস্থিতির দিকে এখন নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষেরও।
#CockroachJantaParty #CJP #DelhiProtest #JantarMantar #BJP #DelhiPolice #SonamWangchuk #IndiaNews #PoliticalNews














