How Spain Can Stop Lionel Messi:বিশ্বকাপের ইতিহাসে লিওনেল মেসিকে পুরোপুরি থামাতে পেরেছে খুব কম দলই। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের সেরা ডিফেন্ডার ও কোচদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল—মেসিকে কীভাবে আটকানো যায়? ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে স্পেন। সেই ম্যাচের আগে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল, যেখানে জার্মানি কৌশলগতভাবে মেসিকে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় করে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই ম্যাচের কৌশলই এবার স্পেনের কাছে বড় শিক্ষা হতে পারে।
একজন নয়, পুরো দল মিলে আটকে দেওয়া হয়েছিল মেসিকে
বেশিরভাগ দলই মেসিকে আটকাতে একজন নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে সারাক্ষণ তাঁর পিছু নিতে বলে। কিন্তু এই কৌশল প্রায়ই উল্টো ফল দেয়। কারণ, মেসি নিজের অবস্থান বদলে সেই ডিফেন্ডারকে টেনে নিয়ে যান এবং ফাঁকা জায়গা তৈরি করে দেন সতীর্থদের জন্য।
২০১৪ সালের ফাইনালে জার্মানি এই ভুল করেনি। তারা কোনও ব্যক্তিগত পাহারা দেয়নি। বরং মাঠের বিভিন্ন অংশে একটি চলমান রক্ষণাত্মক বলয় তৈরি করেছিল। মেসি যে জোনেই ঢুকেছেন, সঙ্গে সঙ্গে সবচেয়ে কাছের জার্মান ফুটবলার তাঁকে চেপে ধরেছেন। একই সময়ে আরও দু’ বা তিনজন খেলোয়াড় তাঁর সম্ভাব্য পাসের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন।
ফলে মেসি কখনওই খোলা জায়গা পাননি। একজন ডিফেন্ডারের কাছ থেকে আরেকজনের কাছে তাঁকে কার্যত ‘হস্তান্তর’ করা হয়েছে। এই সমন্বিত রক্ষণই ছিল জার্মানির সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি।
শভাইনস্টাইগারের বড় ভূমিকা
মেসির সবচেয়ে বিপজ্জনক এলাকা হল মাঝমাঠের সামনের অংশ, যাকে ফুটবলে ‘নাম্বার টেন পকেট’ বলা হয়। এখান থেকেই তিনি আক্রমণ তৈরি করেন, গোল করেন কিংবা সতীর্থদের সুযোগ করে দেন।
২০১৪ সালের ফাইনালে এই জায়গাটিকেই বন্ধ করে দিয়েছিলেন জার্মান মিডফিল্ডার বাস্তিয়ান শভাইনস্টাইগার। তিনি বারবার নিচে নেমে এসে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ড থেকে মেসির উদ্দেশে যাওয়া পাস কেটে দেন। ফলে বিপজ্জনক এলাকায় বলই খুব কম পেয়েছিলেন মেসি।
বল পেলেও শভাইনস্টাইগার তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক চাপে ফেলতেন। ফলে মেসি নিজের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারেননি।
বাম পা ব্যবহারের সুযোগই দেয়নি জার্মানি
মেসির সবচেয়ে বড় অস্ত্র তাঁর বাঁ পা। ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ে শট নেওয়া বা নিখুঁত পাস দেওয়াই তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
এই কারণেই জার্মানি এমনভাবে নিজেদের রক্ষণ সাজিয়েছিল, যাতে মেসিকে সবসময় বাইরের দিকে ঠেলে দেওয়া যায়। তাঁকে ডান পায়ে খেলতে বাধ্য করা হয়। বক্সের ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ে শট নেওয়ার সুযোগই পাননি তিনি। জার্মান রক্ষণের এই শৃঙ্খলাই আর্জেন্টিনাকে নির্ধারিত সময়ে গোল করতে দেয়নি।
স্পেনের ভরসা হতে পারেন রদ্রি
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের ফাইনালে স্পেনের হয়ে একই ভূমিকা পালন করতে পারেন অধিনায়ক রদ্রি।
বিশ্বের অন্যতম সেরা রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে রদ্রির সবচেয়ে বড় শক্তি হল সঠিক জায়গায় থাকা, প্রতিপক্ষের পাস পড়ে ফেলা এবং আক্রমণের গতি ভেঙে দেওয়া।
মেসির দিকে যাওয়া উল্লম্ব পাস কেটে দেওয়া, মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং আর্জেন্টিনার দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থামানো—এই তিনটি কাজই রদ্রির সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হতে পারে।
পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের মাঝমাঠকে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছেন তিনি, ফাইনালেও সেই একই ছন্দ ধরে রাখতে পারলে মেসির প্রভাব অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
মেসিকে থামানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় কী?
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, মেসিকে থামানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল তাঁর কাছে বলই পৌঁছাতে না দেওয়া।
যতক্ষণ স্পেন বল নিজেদের দখলে রাখবে, ততক্ষণ মেসিকে অনেক নিচে নেমে এসে বল নিতে হবে। এতে তিনি প্রতিপক্ষের বক্সের কাছাকাছি কম সময় কাটাবেন এবং গোলের সুযোগও কম তৈরি হবে।
রদ্রির নিখুঁত পাস, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ এবং মাঝমাঠে আধিপত্য স্পেনকে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সাহায্য করতে পারে।
শারীরিক লড়াইয়েও প্রস্তুত থাকতে হবে স্পেনকে
তবে মেসিকে আটকে রাখতে গিয়ে স্পেনকে আরেকটি বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে হতে পারে। যদি মেসি চাপে পড়েন, তাহলে আর্জেন্টিনার অন্য ফুটবলাররা, বিশেষ করে রদ্রিগো দে পল, মাঝমাঠে শারীরিক লড়াই বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন।
সে ক্ষেত্রে স্পেনকে মাথা ঠান্ডা রেখে নিজেদের পরিকল্পনায় অটল থাকতে হবে। কারণ, আবেগে ভেসে গেলে জার্মানির মতো শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।
২০১৪ সালে জার্মানি দেখিয়েছিল, লিওনেল মেসিকে থামাতে কোনও একজন ফুটবলারের প্রয়োজন হয় না; দরকার পুরো দলের নিখুঁত সমন্বয়, শৃঙ্খলা এবং সঠিক কৌশল। এবার সেই পরীক্ষার সামনে স্পেন। রদ্রির নেতৃত্বে যদি তারা জার্মানির সেই সফল ছক অনুসরণ করতে পারে, তাহলে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তিকে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হতে পারে।
#LionelMessi #SpainVsArgentina #WorldCupFinal #Rodri #Germany2014 #Argentina #SpainFootball #FIFAWorldCup

