BRICS Declaration on Terrorism: ব্রিকসের নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্রে সীমান্তপারের সন্ত্রাস, সন্ত্রাসে অর্থ জোগান এবং জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলারও তীব্র নিন্দা করা হয়েছে, যা ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানকে আরও জোরালো করেছে।
নয়াদিল্লি: ব্রিকস-এর মঞ্চে বিরাট কূটনৈতিক সাফল্য ভারতের। পাকিস্তানের নাম না করেই চিনের সামনে সর্বসম্মতিতে সীমান্তপারের সন্ত্রাস, সন্ত্রাসে অর্থ জোগান এবং জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়ের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল ব্রিকস। শুধু তাই নয়, নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্রে ২০২৫-এর ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলারও তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। যে ঘটনায় পাকিস্তানের যোগ দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট। আর সেই পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র চিনও ঘোষণাপত্রের কঠোর ভাষায় সায় দিয়েছে– তা নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানকে বহুপাক্ষিক স্বীকৃতি দেওয়ারই ইঙ্গিত। পাকিস্তানের নাম না নিয়েও সীমান্তের ওপার থেকে সন্ত্রাস, তার অর্থের জোগান এবং জঙ্গিদের আশ্রয়– তিনটি ক্ষেত্রকেই নিশানা করা হয়েছে। ওই হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। নয়াদিল্লি থেকে ওই হামলার কড়া নিন্দা করার পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির রাষ্ট্রনেতারা।
শুধু নিন্দায় থেমে থাকেনি ব্রিকস। সন্ত্রাসে জড়িতদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রসংঘের আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ সম্মেলন দ্রুত গ্রহণের পক্ষেও সওয়াল করা হয়েছে। অর্থাৎ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিবৃতির বদলে দায় নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো তৈরির দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাস মোকাবিলায় দ্বৈত মানদণ্ডের বিরোধিতা করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনও সন্ত্রাসী কার্যকলাপকে এক ক্ষেত্রে গুরুতর অপরাধ এবং অন্য ক্ষেত্রে তুলনামূলক ভাবে হালকা হিসাবে দেখার নীতির বিরোধিতা করেছেন রাষ্ট্রনেতারা। পহেলগাঁওয়ের পর পাকিস্তানকে কূটনৈতিকভাবে চাপে রাখাই নয়াদিল্লির অন্যতম লক্ষ্য। সেই লড়াইয়ে ব্রিকসের মতো মঞ্চে চিনের সম্মতি-সহ সর্বসম্মত ঘোষণা ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করল।
পাশাপাশি, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ থেকে ইউক্রেন, ডলারের আধিপত্য থেকে রাষ্ট্রসংঘের সংস্কার– একাধিক জটিল প্রশ্নে মতপার্থক্য সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ঐকমত্যে পৌঁছল ব্রিকস। ২০২৩-এর জি ২০-র মতো এবারও ভিন্ন মেরুর দেশগুলিকে একই অবস্থানে নিয়ে আসাও ভারতের কৌশলী কূটনীতির সাফল্য হিসেবে দেখছে নানা মহল। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য থাকলেও নির্দিষ্ট কোনও দেশের নাম না করে একতরফা সামরিক পদক্ষেপ ও যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আবহে এই ঐকমত্য ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ সংহতির গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। ভোর চারটে পর্যন্ত দীর্ঘ আলোচনার পর যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করতে রাজি হয় সদস্য দেশগুলি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যেও উঠে এসেছে বদলে যাওয়া বিশ্বব্যবস্থার প্রশ্ন। একদিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আর্থিক ব্যবস্থায় ডলারের একচ্ছত্র প্রভাবের বিকল্প তৈরির আলোচনা, অন্য দিকে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ-সহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের দাবি– বিশ্ব রাজনীতিতে গ্লোবাল সাউথের বাড়তে থাকা ভূমিকার কথাই সামনে এনেছে ব্রিকস। তাঁর মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে যে দেশগুলি চালিকাশক্তির কাজ করছে, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে তাদের ভোটাধিকার এবং নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রেও উপযুক্ত স্থান পাওয়া উচিত। অর্থাৎ একদিকে সংঘাত সামলে ব্রিকসকে একসঙ্গে রাখা, অন্য দিকে ভারতের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থকে ঘোষণাপত্রে জায়গা দেওয়া– নয়াদিল্লির মাটিতে ব্রিকস সম্মেলনকে ভারতের কূটনৈতিক বাজিমাত হিসাবেই দেখছে সকলে।
#BRICSDeclarationOnTerrorism #BRICSSummit2026 #NewDelhiDeclaration #CrossBorderTerrorism #TerrorFinancing #TerroristSafeHavens #IndiaBRICS #PahalgamTerrorAttack














