Sheikh Hasina Bangladesh Return: শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার ইঙ্গিত ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। ভারত থেকে একাধিক সাক্ষাৎকারে তাঁর প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গ সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠছে, তিনি কি সত্যিই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, নাকি রাজনৈতিক উপস্থিতি বজায় রাখতেই এই বার্তা?
প্রথম কলকাতা: শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মামলায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩০ আসামিকে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের আত্মসমর্পণের বিষয়ে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই মামলায় মোট ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩০ জন পলাতক এবং ১০ জনকে এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অসুস্থ থাকায় সাংবাদিক ফারজানা রুপাকে হাজির করা হয়নি। মামলায় ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি পরদিন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগও আনা হয়েছে।
১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মামলায় পলাতক ৩০ আসামিকে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-২। বৃহস্পতিবার সকালে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পলাতক আসামিদের আদালতে আত্মসমর্পণের বিষয়ে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২৭ জুলাই শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় মোট ৪১ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। একই সময়ে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং গ্রেপ্তার আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার মামলায় গ্রেপ্তার ১০ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, দীপু মনি, শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, লেখক ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, প্রাক্তন পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, প্রাক্তন উপমহাপরিদর্শক আব্দুল জলিল মণ্ডল এবং একাত্তর টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু। অসুস্থ থাকায় সাংবাদিক ফারজানা রুপাকে এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়নি।
পলাতক ৩০ আসামির তালিকায় কারা রয়েছেন
ট্রাইব্যুনালের নির্দেশের আওতায় থাকা ৩০ পলাতক আসামির তালিকায় প্রথমেই রয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া রয়েছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দীন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রাক্তন মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এবং তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী।
তালিকায় আরও রয়েছেন প্রাক্তন সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ ওরফে এস এম জাহিদ এবং গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার।
পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন পুলিশ মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার, প্রাক্তন পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, প্রাক্তন পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান এবং প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।
এছাড়া রয়েছেন তৎকালীন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, প্রাক্তন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, প্রাক্তন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মাহবুব হোসেন, প্রাক্তন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন অতিরিক্ত উপকমিশনার এস এম মেহেদী হাসান, প্রাক্তন উপমহাপরিদর্শক হারুন-অর-রশীদ, প্রাক্তন উপমহাপরিদর্শক বিপ্লব কুমার সরকার, প্রাক্তন উপমহাপরিদর্শক সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বি এম ফরমান আলী।
মামলায় মোট ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
শাপলা চত্বর মামলায় মোট ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতা, প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা এবং সাংবাদিক রয়েছেন।
মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, প্রাক্তন মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাহরিয়ার কবির, জিয়াউল আহসান, এ কে এম শহীদুল হক, আব্দুল জলিল মণ্ডল, মোজাম্মেল হক বাবু এবং ফারজানা রুপা। তবে ফারজানা রুপা অসুস্থ থাকায় বৃহস্পতিবার তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়নি।
মামলার পলাতক আসামিদের তালিকায় থাকা ৩০ জনের বিরুদ্ধে এখন আত্মসমর্পণের নির্দেশ জারি হয়েছে। তাঁদের আদালতে হাজির করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২৭ জুলাই ট্রাইব্যুনাল মামলাটির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়ার পাশাপাশি পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। এরপর মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনা
মামলায় প্রথম অভিযোগ হিসেবে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন রাতের ঘটনায় ৩২ জনকে হত্যার বিষয়টি মামলায় তুলে ধরা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে আসামিদের যোগসাজশে রাতের আঁধারে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এর উদ্দেশ্য ছিল হেফাজতে ইসলামকে নির্মূল করা।
মামলার নথিতে শাপলা চত্বরের ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ২০১৩ সালের ওই ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর নতুন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
শাপলা চত্বরের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে মামলার বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবারের কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত ৬১ জন নিহতের তালিকা পাওয়া গেছে এবং তাঁদের মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে।
মামলার দ্বিতীয় অভিযোগে ২০১৩ সালের ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
অর্থাৎ মামলার অভিযোগ শুধু ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নয়। এর সঙ্গে পরদিন সিদ্ধিরগঞ্জ এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ভিত্তিতেই ২৭ জুলাই ট্রাইব্যুনাল মামলাটি আমলে নেন। এরপর পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং গ্রেপ্তার আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এবার ৩০ পলাতক আসামিকে ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হলো।
পলাতকদের দেশে ফেরাতে ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়ার কথা
শাপলা চত্বর হত্যা মামলায় পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও পরবর্তী পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, পলাতক আসামিদের দেশে ফেরাতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার সহায়তা নেওয়া হবে।
এর আগে ২৭ জুলাই মামলায় অভিযোগ আমলে নেওয়ার সময় পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। এখন তাঁদের ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে আদালতে আত্মসমর্পণের বিষয়টি তাঁদের জানানো যায়।
এই মামলায় বর্তমানে ৩০ জন পলাতক আসামির বিরুদ্ধে আত্মসমর্পণের নির্দেশ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে শেখ হাসিনাসহ রাজনৈতিক নেতা, প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাক্তন ও তৎকালীন কর্মকর্তারা রয়েছেন। মামলার বাকি আসামিদের মধ্যে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিচারিক কার্যক্রমও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলছে।
#SheikhHasinaBangladeshReturn #SheikhHasina #BangladeshPolitics #BangladeshNews #SheikhHasinaIndia #SheikhHasinaInterview #IndiaBangladeshRelations #BangladeshPoliticalNews #SheikhHasinaLatestNews #BangladeshGovernment #PoliticalNews













