পুরীর মতো উত্তাল সমুদ্র নেই , যেদিকেই তাকাবেন নীল জল। এই অচেনা সমুদ্র সৈকতে আপনি কি হারিয়ে যেতে চান?
ঝাউবনের মাঝে লুকোচুরি খেলতে খেলতে কখন যে সময় কেটে যাবে বুঝতেও পারবেন না। চারিদিকে লাল কাঁকড়ার আনাগোনা। পায়ের শব্দ পেলেই গর্তে লুকিয়ে পড়ে কাঁকড়ার ঝাঁক। এমনই এক সি বিচে দুটো দিন কাটাতে চান?
চলে আসুন সিয়ালি সি বিচে। কিভাবে পৌঁছাবেন সেখানে, বিস্তারিত রইল এই প্রতিবেদনে।
কলকাতার দিক থেকে গেলে পৌঁছে যান ভুবনেশ্বর। সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া নিয়ে জগৎসিংপুরে পৌঁছোতে পারেন। এখানেই রয়েছে সিয়ালী সমুদ্র সৈকত।এখনো পর্যটকদের তেমন ভিড় দেখা যায় না এই সিবিচে। তাই এলাকাতেই যথেষ্ট শান্ত নিরিবিলি। বেশিরভাগ পর্যটক এখানে গাড়ি নিয়েই যান। সারাদিন যা কাটিয়ে পুরীতে গিয়ে রাত্রি বাস।
এই জায়গায় গাড়ি নিয়ে যাঁরা যেতে চান তাঁদের বম্বে রোড হয়ে আসতে হবে। কটক-পারাদ্বীপ রোড হয়ে যেতে হবে। চাঁদি খোল থেকে বেকে যায় রাস্তা। তারপরেই কটক-পারাদ্বীপ রোড। ওড়িশার জগৎ সিংপুরের গ্রামের ছবি ধরা পড়বে যেতে যেতে। সেই সঙ্গে দেখা যাবে বাংলার মতোই প্রচুর মাছের ভেড়ি, ধানের খেতে। অসম্ভব সুন্দর এখানে আসার পথ।
এই সমুদ্রতটটি দিঘা, পুরীর মতো বিস্তৃত নয়। লোকজন কম থাকায় একান্তে বেড়ানোর মজা নেওয়া যায়। ভোরে নির্জন নিরিবিলি সমুদ্রতটে দাঁড়িয়ে দেখা যায় সূর্যোদয়। অনন্য সুন্দর অভিজ্ঞতা অনেক দিনের জন্য পর্যটকের মনের মধ্যে গেঁথে থাকবে। কোলাহলহীন এই সমুদ্রতটের পাশে রয়েছে ঝাউবানের সারি। মৃদু হাওয়ায় মাথা দোলায়। মনে হয় যেন নৃত্য করছে। দর্শক সমুদ্রের অগণিত ঢেউ।
একেবারে ঝাঁউ বনের ডঙ্গল ভেদ করে গিয়েছে সৈকতে যাওয়ার রাস্তা। মাছের ভেড়ি রয়েছে অনেক কাজেই বাঙালির মাছ ভাতের অভাব হবে না তাতে কোনও। গাড়ি নিয়ে একেবারে সরাসরি পৌঁছে যেতে পারবেন সমুদ্র সৈকত।
নিরিবিলি, নির্জনতায় ঘেরা সমুদ্র সৈকতে ভ্রমণের স্বাদ বদলের জন্য অফবিট সি বিচ অনেক আছে কলকাতার আসেপাশেই। আমরা জানি না বলেই সেগুলি এখনও প্রায় খালি পড়ে আছে। তেমনই একটা শান্ত সমুদ্র সৈকতের ঠিকানা সিয়ালী সি বিচ।
প্রতিবেদন – রিমিতা রায়














