সাত বছর পর দিল্লিতে জিনপিং! বদলাবে কি ভারত-চিনের সমীকরণ?

Xi Jinping Delhi Visit during the BRICS summit with India-China flags and diplomatic representation.

Xi Jinping Delhi Visit: আগামী সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বসতে চলা ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আগে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে নজর কেড়েছে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফর। সফরটি নিশ্চিত হলে প্রায় সাত বছর পর ভারতে আসবেন শি। তাঁর সঙ্গে প্রায় ৪০০ সদস্যের একটি বড় প্রতিনিধি দল আসতে পারে বলেও সূত্রের খবর। তবে এখনও চিনের পক্ষ থেকে শি জিনপিংয়ের সফর নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।

ভারত ও চিনের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে সীমান্ত সংঘাতের কারণে যথেষ্ট টানাপোড়েনের মধ্যে ছিল। সেই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য বৈঠক শুধু দুই দেশের সম্পর্কের জন্য নয়, ব্রিকসের ভবিষ্যৎ গতিপথের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের সম্পর্কের বরফ কিছুটা গললে ব্রিকসের অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বাস্তব অগ্রগতির সুযোগ বাড়তে পারে।

সাত বছর পর ভারতে ফিরতে পারেন শি

শি জিনপিং শেষবার ২০১৯ সালের অক্টোবরে ভারতে এসেছিলেন। এরপর ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘাত ভারত-চিন সম্পর্ককে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর গত কয়েক বছরে দুই দেশ আবার উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা। সেখানে শির উপস্থিতির সম্ভাবনা এখন আন্তর্জাতিক মহলের অন্যতম আলোচিত বিষয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিনের একটি অগ্রবর্তী দল ইতিমধ্যেই দিল্লিতে এসে সম্ভাব্য সফরের নিরাপত্তা ও আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেছে। যদিও শির সফর এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি, তবুও এই প্রস্তুতি জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে।

মোদি-শি বৈঠকেই নজর কূটনৈতিক মহলের

শি জিনপিং দিল্লিতে এলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। এমন বৈঠক হলে সীমান্ত সমস্যা থেকে শুরু করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা—বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

তবে একটি বৈঠকেই ভারত-চিনের সমস্ত মতপার্থক্য দূর হয়ে যাবে, এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। দুই দেশের সীমান্ত বিরোধ এখনও পুরোপুরি মেটেনি এবং এশিয়ায় প্রভাব বিস্তার নিয়েও দুই দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে। তাই সম্ভাব্য বৈঠকের গুরুত্ব মূলত সম্পর্কের স্থিতিশীলতা কতটা বাড়ানো যায়, তার ওপর নির্ভর করবে।

ব্রিকসের অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন দরজা?

ব্রিকস দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের দাবি তুলে আসছে। কিন্তু সদস্য দেশগুলির মধ্যে বিভিন্ন স্বার্থগত পার্থক্যের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই বড় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কঠিন হয়েছে। ভারত ও চিনের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনও সেই বাধাগুলির অন্যতম।

এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীল হলে ব্রিকসের মধ্যে বাস্তব অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ বাড়তে পারে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের অর্থপ্রদান ব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করা, স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য সহজ করা এবং কৃষিপণ্যের বাণিজ্য বাড়ানোর মতো উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

ব্রিকসের নিজস্ব অভিন্ন মুদ্রা চালুর আলোচনা বহুদিন ধরেই রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তা অত্যন্ত জটিল। বরং বিভিন্ন দেশের অর্থপ্রদান ব্যবস্থার মধ্যে সংযোগ তৈরি করা তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হতে পারে। ভারতের নিজস্ব দ্রুত অর্থপ্রদান ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সদস্য দেশের নিজস্ব ব্যবস্থাগুলিকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে আন্তর্জাতিক লেনদেনে খরচ কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

৪০০ সদস্যের প্রতিনিধি দল ঘিরে বাড়ছে কৌতূহল

শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য সফরের সঙ্গে যে বিষয়টি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে, তা হল তাঁর সম্ভাব্য প্রতিনিধি দলের আকার। সূত্রের খবর, প্রায় ৪০০ জন আধিকারিক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং সহায়ক কর্মী নিয়ে দলটি ভারতে আসতে পারে। ২০১৯ সালে তাঁর ভারত সফরের তুলনায় এই প্রতিনিধি দল দ্বিগুণেরও বেশি বড় হতে পারে বলে প্রতিবেদনগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এত বড় প্রতিনিধি দলের উপস্থিতি শুধুমাত্র ব্রিকসের আনুষ্ঠানিক বৈঠকে সীমাবদ্ধ না থেকে বাণিজ্য, শিল্প, বিনিয়োগ, জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং আর্থিক সহযোগিতার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমান্তরাল আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি করে। ফলে শির সফর হলে দিল্লির সম্মেলন দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সীমান্ত সমস্যা থাকছেই, তবু সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা

ভারত-চিন সম্পর্কের সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত বিষয় এখনও সীমান্ত। ২০২০ সালের সংঘাতের পর দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালে সেনা প্রত্যাহার সংক্রান্ত সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান এখনও হয়নি।

সম্প্রতি সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যেও আলোচনা হয়েছে। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই সীমান্ত সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিনিধিদের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির বিষয়টি সেখানে গুরুত্ব পেয়েছে।

তাই দিল্লিতে সম্ভাব্য মোদি-শি বৈঠককে শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং মতপার্থক্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

#XiJinpingDelhiVisit #BRICSSummit #IndiaChinaRelations #XiJinpingIndiaVisit #NarendraModi #BRICS2026 #IndiaChinaDiplomacy

Exit mobile version