West Bengal Transport: রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক,পরিবেশবান্ধব ও নাগরিকবান্ধব করে তুলতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল, পরিবহণ দফতরের সচিব রবীন্দ্র সিং-সহ পরিবহণ দফতর, পরিবহণ অধিকর্তা, ডব্লিউবিটিসি, এনবিএসটিসি, এসবিএসটিসি, ট্রান্সপোর্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত আধিকারিককে ধন্যবাদ জানানো হয়।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, একটি সমাজ, রাজ্য বা সরকার তখনই প্রকৃত অর্থে গতিশীল হয়ে উঠতে পারে, যখন তার যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিক, স্বচ্ছন্দ, পরিবেশবান্ধব এবং সময়নিষ্ঠ হয়। উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা শুধু মানুষের যাতায়াতকে সহজ করে না, এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকে শিল্পের প্রসার, বাণিজ্যের বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি।
সেই কারণে সড়কপথের পাশাপাশি রেল, মেট্রো, জলপথ ও আকাশপথের সঙ্গে সরকারি গণপরিবহণ ব্যবস্থাকেও আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে। বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, দেশের সড়ক পরিকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলে রাজ্যের অর্থনৈতিক অগ্রগতিও আরও দ্রুত হবে।
কলকাতা ও রাজ্যের পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে কেন্দ্রীয় পরিবহণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বৈঠকে রাজ্যের পক্ষ থেকে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছিল বলে জানানো হয়। বিশেষ করে সিএনজি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়িয়ে দূষণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও টেকসই করার লক্ষ্য রয়েছে।
এরই পাশাপাশি পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও পরিবেশবান্ধব করার বিষয়েও একাধিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। বক্তব্যে জানানো হয়েছে, কলকাতা বন্দরের পণ্যবাহী যানবাহন শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে চলাচল করার ফলে একদিকে যেমন যানজট তৈরি হয়, অন্যদিকে ধুলো ও দূষণের পরিমাণও বাড়ে। এই সমস্যার সমাধানে জলপথকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হাওড়া ও গার্ডেনরিচের মধ্যে রো-রো পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এই পরিষেবা চালু হলে পণ্যবাহী যানবাহনকে সড়কপথে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে না। ফলে কলকাতা শহরের উপর যানবাহনের চাপ কমার পাশাপাশি দূষণ নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়াও রাজ্যের গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে ৫০টি নতুন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস পরিষেবায় যুক্ত করার ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন বাস চালু হলে সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত আরও আরামদায়ক হবে এবং শহর ও শহরতলির গণপরিবহণ ব্যবস্থার পরিধিও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাস পরিষেবার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মহিলাদের বিনামূল্যে বাসে যাতায়াতের সুবিধা দেওয়ার জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, যাঁরা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল এবং নিজের টিকিটের খরচ বহন করতে সক্ষম, তাঁরা চাইলে নিজেরাই টিকিট কেটে যাতায়াত করতে পারেন। তবে যাঁদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা প্রয়োজন, তাঁদের জন্য এই পরিষেবা চালু রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বক্তব্যে রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করে তোলার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা, যানজট নিয়ন্ত্রণ, জলপথের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং গণপরিবহণের পরিকাঠামো শক্তিশালী করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। নতুন এসি বাস পরিষেবা, হাওড়া-গার্ডেনরিচ রো-রো পরিষেবা এবং পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোর মতো উদ্যোগগুলি ভবিষ্যতে কলকাতা ও রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
#WestBengalTransport #435NewBuses #KolkataTransport #NewBusService #TramService #PublicTransport #ElectricVehicles #CNGBuses #RoRoService

