West Bengal Composite School Grant: রাজ্যের শিক্ষা পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সমগ্র শিক্ষা মিশন ও বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে রাজ্যের ৮০ হাজার ৩৭৫টি সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ের জন্য কম্পোজিট স্কুল অনুদান প্রদান করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পে মোট ২৯৬ কোটি ৩৪ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অনুদানের অর্থ সরাসরি বিদ্যালয়গুলির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে, যাতে দৈনন্দিন প্রশাসনিক ও শিক্ষামূলক কাজ আরও সহজে পরিচালিত করা যায়।
বিদ্যালয়ের উন্নয়নে ব্যয় হবে অনুদানের অর্থ
সরকার জানিয়েছে, এই অনুদান বিদ্যালয়ের রক্ষণাবেক্ষণ, শিক্ষণ-শিখন কার্যক্রমের উন্নয়ন, পরিকাঠামোর সংস্কার এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করতে ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি চক, ডাস্টার, পানীয় জলের ব্যবস্থা, ছোটখাটো মেরামতি, বিদ্যুৎ পরিষেবা, শৌচাগারের রক্ষণাবেক্ষণ, ছাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত পরিকাঠামো-সহ বিভিন্ন জরুরি খাতে এই অর্থ ব্যয় করা যাবে।
সরকারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের অনুদান নিয়মিত না পাওয়ায় বহু বিদ্যালয় নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে সমস্যায় পড়েছিল। নতুন এই উদ্যোগে সেই সমস্যা অনেকটাই দূর হবে।
মধ্যাহ্নভোজে নতুন উদ্যোগ, সপ্তাহে মিলবে সেদ্ধ ডিম
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগামী ১ আগস্ট থেকে মধ্যাহ্নভোজ প্রকল্পে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সপ্তাহে এক বা দু’দিন পড়ুয়াদের সেদ্ধ ডিম দেওয়া হবে। পাশাপাশি খাবারের গুণগত মান বজায় রাখতে ইস্কনের সহযোগিতায় খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থাও চালু করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এই মডেল সফলভাবে চালু রয়েছে, সেই অভিজ্ঞতাকেই পশ্চিমবঙ্গে কাজে লাগানো হবে।
জনজাতি শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব
তফসিলি জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় আবাসিক বিদ্যালয় গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। যেখানে জনজাতি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেশি, সেই জেলাগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের মডেল অনুসরণ করে জনজাতি পড়ুয়াদের জন্য পৃথক ছাত্রাবাস তৈরির পরিকল্পনাও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
নবোদয় বিদ্যালয় ও স্মার্ট শ্রেণিকক্ষে জোর
দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা নবোদয় বিদ্যালয় প্রকল্পেও অগ্রগতি হয়েছে বলে সরকার জানিয়েছে। ইতিমধ্যে মালদা, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম, জলপাইগুড়ি এবং বাঁকুড়া জেলায় জমি বরাদ্দ করা হয়েছে।
এছাড়া প্রথম পর্যায়ে ১,২০০টি বিদ্যালয়ে স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ ও ডিজিটাল শিক্ষার পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ শুরু হবে। ধাপে ধাপে আরও বিদ্যালয়কে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে এবং পিছিয়ে পড়া জেলাগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা
বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তর বর্তমানে রাজ্যের স্কুলগুলির পরিকাঠামো, ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত, শিক্ষক নিয়োগ, বদলি নীতি, মধ্যাহ্নভোজ, পানীয় জল, শৌচাগার, বিদ্যুৎ, সৌরবিদ্যুৎ, গ্যাস সংযোগ-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত সমীক্ষা চালাচ্ছে।
সরকারের আশা, আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এই সমীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশিত হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে বিদ্যালয়গুলির উন্নয়নে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ধাপে ধাপে বিদ্যালয় পরিষেবা কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াও শুরু করার কথা জানানো হয়েছে।
সরকারের বক্তব্য, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করে তোলাই এই উদ্যোগগুলির মূল লক্ষ্য। দীর্ঘদিনের বিভিন্ন ঘাটতি দূর করে বিদ্যালয়গুলিকে স্বাভাবিক ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য নিয়মিত আর্থিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

