Trump Tariff India: ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার উচ্চ শুল্কের হুমকি দিয়েছেন। বিশেষ করে ভারতের রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা এবং স্বাধীন বিদেশনীতি নিয়ে ওয়াশিংটনের চাপের মধ্যে এই শুল্কনীতি সামনে এসেছে। অস্থায়ী জ্বালানি ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ফের আমেরিকার পক্ষ থেকে চাপ বাড়ানো হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ লিন্ডসে ও. গ্রাহাম রাশিয়া ও ইরানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার আইন, ২০২৬ অনুমোদন করেছে। এর জবাবে ভারত শুধু পাল্টা শুল্কের পথে না গিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা, আইনি ব্যবস্থা, বাণিজ্যিক সমঝোতা এবং বিকল্প বাজার তৈরির মতো একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।
২০২৫ সালে ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক
২০২৫ সালের জুলাইয়ে কয়েক মাসের বাণিজ্য আলোচনা চলার পর ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ মূল শুল্ক ঘোষণা করেন। এর কয়েক দিন পর, ৬ আগস্ট ২০২৫-এ আরও ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে ভারতের পণ্যের উপর মোট শুল্কের হার দাঁড়ায় ৫০ শতাংশ।
রাশিয়া থেকে ভারতের জ্বালানি কেনার বিষয়টিও ট্রাম্প প্রকাশ্যে তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ভারত রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি কেনার মাধ্যমে ইউক্রেনের যুদ্ধ চালানোর ব্যবস্থাকে সহায়তা করছে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই পদক্ষেপকে অন্যায্য, অযৌক্তিক এবং গ্রহণযোগ্য নয় বলে প্রত্যাখ্যান করে। ভারতও রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করেনি। দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানানো হয়।
৫০ শতাংশ শুল্কের প্রভাবে ভারতের শ্রমনির্ভর কয়েকটি শিল্পে রপ্তানি আদেশ বাতিল হতে শুরু করে। বস্ত্র, রত্ন ও গয়না এবং সামুদ্রিক খাদ্যশিল্প এর মধ্যে ছিল। পরিস্থিতি সামলাতে ভারত ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য বিকল্প বাজারের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেয়। ২০২৫ সালের শেষদিকে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি ৩৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়।
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ফোনে কথা হয়। এরপর ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ভারতের উপর মার্কিন শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে।
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে এবং আমেরিকার কাছ থেকে জ্বালানি, প্রযুক্তি ও কৃষিপণ্য-সহ ৫০ হাজার কোটি ডলারের বেশি পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শুল্ক কমানোর বিষয়টি স্বীকার করলেও রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনা সম্পূর্ণ বন্ধ করার বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও বিস্তারিত প্রতিশ্রুতি দেয়নি। ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের মোট বাণিজ্য ৫০ হাজার কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার সাধারণ লক্ষ্য স্বীকার করেছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বদলে দিল জ্বালানি পরিস্থিতি
২০২৬ সালের শুরুতে আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরানের সঙ্গে যুক্ত সামরিক সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অবরোধ তৈরি হয়। এর ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায় এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে চাপ তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার নীতিতেও পরিবর্তন আসে। ঘরোয়া মূল্যবৃদ্ধির চাপের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন ভারত-সহ কয়েকটি দেশকে রাশিয়া ও ইরান থেকে আটকে থাকা তেল কেনার জন্য সাময়িক ছাড় দেয়।
এর পর ভারত আবার রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বাড়ায়। ২০২৬ সালের এপ্রিল নাগাদ রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি ১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ১০০ শতাংশ শুল্কের নতুন হুমকি
সাময়িক জ্বালানি ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে আমেরিকা আবার রাশিয়া ও ইরানের উপর চাপ বাড়ানোর পথে যায়।
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ আমেরিকার প্রতিনিধি পরিষদ রাশিয়া ও ইরানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার একটি আইন অনুমোদন করে। ওই আইনে রাশিয়ার জ্বালানির সবচেয়ে বড় আমদানিকারক দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
ভারতের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ছিল দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া। রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে মার্কিন চাপের মুখেও ভারত নিজের জ্বালানি প্রয়োজনের সঙ্গে আপস করেনি।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক বারবার জানিয়েছে, ১৪০ কোটি মানুষের জন্য সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ১৭ সেপ্টেম্বর ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানায়, তারা মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ওই আইন সম্পর্কে অবগত এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
#TrumpTariffIndia #IndiaUSTrade #USTariffPolicy #IndiaTradeDefence #TrumpTariff #USIndiaRelations #IndiaExportStrategy #TradeWar #GlobalTrade














