Trinamool Congress Student Politics: ছাত্র পরিষদের কর্মসূচিকে ঘিরে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল ও ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের পৃথক সভা ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। দুই মঞ্চ থেকেই উঠে এসেছে ভিন্ন সুরের বক্তব্য, যা দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
প্রথম কলকাতা ডিজিটাল ডেস্ক: রানি রাসমণি রোডের সভা থেকে ফিরহাদ হাকিমের আত্মসমালোচনামূলক বক্তব্য, আর ক্যাথিড্রাল রোডের ছাত্র পরিষদের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ—একই দিনে তৃণমূলের দুই পরিসরে যেন সামনে এল দুই ভিন্ন রাজনৈতিক সুর। একদিকে দলের অতীতের ভুল, নেতৃত্বের কেন্দ্রীকরণ এবং কর্মীদের পাশে থাকার প্রশ্ন তুললেন ফিরহাদ হাকিম। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে পুলিশ, বিজেপি এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি নিয়ে একের পর এক কড়া মন্তব্য উঠে এল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও দলীয় কার্যালয় ঘিরে ঘটনাকে সামনে রেখে হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপিকে।
তৃণমূলের অন্দরে রাজনৈতিক বার্তার ভাষা এখন অনেকটাই তীব্র। কোথাও আত্মসমালোচনা, কোথাও পুরনো কর্মীদের পাশে থাকার দাবি, কোথাও আবার সরাসরি পাল্টা আক্রমণ ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের বার্তা। রানি রাসমণি রোডের সভায় ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্যের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল দলের অতীতের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য আত্মসমালোচনা। তিনি দাবি করেন, তাঁরা গণতন্ত্রের পক্ষে ছিলেন, কোনও সিদ্ধান্ত বা নেতৃত্বকে জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার পক্ষে ছিলেন না। কিন্তু তাঁর বক্তব্যেই উঠে আসে, দলের ভিতরে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার রাজনৈতিক মূল্য এখন দিতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন : নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে কলকাতার ৩২ জন নিখোঁজ, তাঁদের খোঁজে জরুরি হেল্পলাইন, জানুন নম্বর
ফিরহাদের কথায়, “আজকে একটার পর একটা যে অন্যায়গুলো আমরা করে এসেছি, সেই অন্যায়গুলো হচ্ছে স্বৈরাচার।”
কর্মীদের পাশে থাকার বার্তা, দলীয় সম্পদ নিয়েও বড় দাবি
ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্যের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল তৃণমূলের পুরনো কর্মীদের প্রসঙ্গ। তাঁর দাবি, দলের বহু কর্মী রাজনৈতিক সংঘর্ষ, মামলা, জেল এবং বাড়িছাড়া হওয়ার পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন। তাঁদের পাশে দাঁড়ানো দলের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী যারা রাস্তাঘাটে মার খেয়েছে, যারা জেলে রয়েছে, যারা নিপীড়িত হচ্ছে, যারা বাড়িছাড়া হচ্ছে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।”
ক্যাথিড্রাল রোডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র আক্রমণ, নিশানায় পুলিশ ও বিজেপি
অন্যদিকে ক্যাথিড্রাল রোডে ছাত্র পরিষদের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের সুর ছিল অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। আপনার দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তীব্র মন্তব্য করেন এবং পুলিশকে ‘দলদাস’ বলে চিহ্নিত করেন।
পাশাপাশি বিজেপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও একাধিক কড়া মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে দলীয় কার্যালয় দখল, ভাঙচুর, আগুন লাগানো এবং কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ।
মমতার বক্তব্যের একটি বড় অংশ ছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে। ছাত্র রাজনীতি, জাতীয় পতাকা, বন্দেমাতরম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে তিনি একাধিক মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যের সুর ছিল, যাদবপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী ভাবধারার প্রশ্নকে রাজনৈতিকভাবে সামনে আনা হবে।
তিনি বিজেপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে নিশানা করে বলেন, বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ পায়।
‘অত্যাচার ততটাই করুন’—অভিষেকের হুঁশিয়ারি, সঙ্গে দ্রব্যমূল্য ও অন্নপূর্ণা প্রসঙ্গ
ক্যাথিড্রাল রোডের একই রাজনৈতিক পরিসরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যেও ছিল সরাসরি পাল্টা আক্রমণের সুর। দলীয় কার্যালয়ের বিলবোর্ড ও সাইনবোর্ড খুলতে আসার অভিযোগ তুলে তিনি বিজেপির উদ্দেশ্যে বলেন, “অত্যাচার ততটাই করুন, যতটা সহ্য করার ক্ষমতা রাখবেন।”
অভিষেকের বক্তব্যে আরও উঠে আসে কর্মসংস্থান ও যুবকদের আর্থিক সহায়তার প্রসঙ্গ। তাঁর দাবি, আগের সরকারের সময় বহু যুবক-যুবতীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হলেও বর্তমানে অনেকে সেই সুবিধা থেকে বাদ পড়েছেন। ফলে প্রশ্নটা এখন শুধু কোন মঞ্চে কত মানুষ ছিলেন, তা নয়। বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াচ্ছে—তৃণমূলের ভিতরে কি একই সঙ্গে দুটি আলাদা রাজনৈতিক বার্তা তৈরি হচ্ছে? একদিকে অতীতের ভুল নিয়ে আত্মসমালোচনা, অন্যদিকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে আরও তীব্র রাজনৈতিক লড়াই।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, দীর্ঘ সময় ধরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। এর ফলে শুধু নির্বাচন প্রক্রিয়াই থেমে নেই, তার সঙ্গে ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তরুণদের সাংগঠনিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হল ছাত্র সংসদ। সেখানে নির্বাচন না হলে ছাত্রদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্ব তৈরির প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হয়।
‘ইসলামীয় নেটো’-র দিকে কি বাংলাদেশ? মক্কা চুক্তিতে ঢাকার আগ্রহ ঘিরে বাড়ছে ভারতের উদ্বেগ?
নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়! নিখোঁজ ১০৫ ভারতীয়, ভেসে গেল গ্রাম থেকে সেতু














