প্রথম কলকাতা ডিজিটাল ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও বিপর্যয়ের পর উদ্ধারকাজ চললেও এখনও বহু ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। নেপাল পর্যটন বোর্ডের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়দের মধ্যে ৮৫ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন দেশের ১৯১ জনকে এখনও পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ৩২৩ জন ভারতীয় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপালে ৮৫ ভারতীয়কে উদ্ধার
নেপালের অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক, পর্যটন বিভাগ এবং পর্যটন পরামর্শদাতা বোর্ডের বৈঠক শেষ হওয়ার পর পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৮৫ জন ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে এবং তাঁদের উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়াও চিনের ১৬ জন, দক্ষিণ কোরিয়ার ৯ জন, আমেরিকার ২ জন, রাশিয়ার ২ জন, ইতালির ২ জন, বুলগেরিয়ার ১ জন, সুইজারল্যান্ডের ১ জন এবং পরিচয় নিশ্চিত হয়নি এমন ৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ১৯১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
আরও পড়ুন : নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে কলকাতার ৩২ জন নিখোঁজ, তাঁদের খোঁজে জরুরি হেল্পলাইন, জানুন নম্বর
নতুন করে বন্যার সতর্কতা নেপালে
উদ্ধারকাজ চলার মধ্যেই নেপাল সরকারের তরফে নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়। তিব্বত-চিন সীমান্ত এলাকায় বিপজ্জনক অবস্থায় একটি হিমবাহ তৈরি হওয়ার খবর পাওয়া যায়। সেটি ভেঙে পড়লে ফের বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়।
এরপর রসুয়া এলাকায় বন্যার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সতর্কতা জারি করা হয়। বোটে কোশি নদীতে জলস্তর এবং জলের স্রোত বাড়ার খবর পাওয়ার পর বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়। উদ্ধারকারী দলের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বোটে কোশি এবং ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী এলাকায় থাকা মানুষদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে নদীর তীরে থাকা উদ্ধারকারী দল এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা মানুষদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় চলে যেতে বলা হয়।
৩২৩ ভারতীয় এখনও নিখোঁজ
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও ৩২৩ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন। তবে তিব্বতীয় স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে আটকে থাকা প্রায় ৪০০ জন ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাস তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও যোগাযোগ করতে পারছেন।
তামিলনাড়ুর ২১ জন ভারতীয় নিরাপদে ভারতে ফিরে এসেছেন। তাঁদের বিমানবন্দরে গিয়ে স্বাগত জানান বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিকরা।
বিপদের মধ্যে থেকেও নিরাপদে ফিরলেন পর্যটকরা
দুর্ঘটনার পর যাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল, তাঁদের একজন জানিয়েছেন, তাঁরা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে ছিলেন। তবে নেপাল প্রশাসন, তাঁদের গাড়ির চালক এবং সঙ্গে থাকা ব্যবস্থাপকের সাহায্যে তাঁদের উদ্ধার করে বিকল্প রাস্তা দিয়ে কাঠমান্ডু নিয়ে আসা হয়।
এই উদ্ধারকাজে যথেষ্ট সময় লেগেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁরা বিপদ এড়িয়ে নিরাপদে কাঠমান্ডুতে পৌঁছতে পেরেছেন।
এদিকে ত্রিশূলী এলাকায় আটকে থাকা ভারতীয়দেরও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। চিনের দিকে আটকে থাকা ভারতীয় নাগরিকদেরও ভারতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা হয়েছে।
তবে পশ্চিমবঙ্গের যে সমস্ত বাসিন্দা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, তাঁদের পরিবারের উদ্বেগ কাটেনি। বহু চেষ্টা করেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। রসুয়া সীমান্তের চেকপোস্ট এলাকার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এখনও আশা করা হচ্ছে, নিখোঁজ ভারতীয়রা সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসবেন।
‘ইসলামীয় নেটো’-র দিকে কি বাংলাদেশ? মক্কা চুক্তিতে ঢাকার আগ্রহ ঘিরে বাড়ছে ভারতের উদ্বেগ?
নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়! নিখোঁজ ১০৫ ভারতীয়, ভেসে গেল গ্রাম থেকে সেতু













