Tag: United States

  • পুতিনের চেকমেটে ঘুরবে খেলা? সু ৭৫ নিয়ে বড় মাস্টারপ্ল্যান মস্কোর, চিন্তায় যুক্তরাষ্ট্র

    পুতিনের চেকমেটে ঘুরবে খেলা? সু ৭৫ নিয়ে বড় মাস্টারপ্ল্যান মস্কোর, চিন্তায় যুক্তরাষ্ট্র

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    রাশিয়ার চেকমেট! ফাইটার জেট সু-৭৫ এর নামে প্রাণ শোকাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের। ন্যাটোর সঙ্গে হাই পাওয়ার অ্যাকশনের তোরজোড়? ফাইটার জেটের বাজারে বড় মাস্টারপ্ল্যান মস্কোর। কেন রাশিয়ার বিমান বাহিনী সু ৭৫-এ এতো ভরসা রাখছে?‌কবে প্রথম উড়ান? ইউক্রেন যুদ্ধে সু ৭৫ ই কী গেমচেঞ্জার? কেনার প্ল্যানে কোন কোন দেশ? যুক্তরাষ্ট্রের এফ ৩৫ কে বলে বলে টেক্কা দেবে রাশিয়ার সু ৭৫ চেকমেট। অর্থাৎ, পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ ফাইটার জেট সু ৭৫ চেকমেট আগামী দিনে আকাশযুদ্ধকে বদলে দিতে রাশিয়ার কাছে যে নতুন হাতিয়ার হতে যাচ্ছে তাতে সন্দেহ নেই। এটাকে বলা হচ্ছে এলটিএস বা লাইট টেকনিক্যাল এয়ারক্র্যাফ্ট।

    এক ইঞ্জিনের এই যুদ্ধ বিমানটি হতে চলেছে রাশিয়ার বিমানবাহিনীর আগামী দিনের সেরা অস্ত্র। যুদ্ধযানটিতে নকশা এবং বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে সু ৩৫, সু ৫৭ ও মিগ ফাইটারের সংমিশ্রণ থাকবে। অর্থাৎ, এই ফাইটার জেটটির ক্ষমতা হবে মারাত্মক। এর রাডার, সেন্সর, অ্যাটাকিং পাওয়ার এবং কন্ট্রোল সিস্টেমের সব কিছুই হবে ইউনিক। অপারেটিং সিস্টেম হবে তুলনামূলক সহজ, ব্যবহৃত হবে অনেক কম ইকুইপমেন্ট। পাইলট সিস্টেমের দিকে কম মনোযোগ রেখে টার্গেটের দিকে কনসেনট্রেট করা যাবে সহজেই। অত্যাধুনিক এয়ার টু ইয়ার এবং এয়ার টু সারফেস মিসাইল বহন করতে পারবে এই ফাইটার জেট। থাকবে বিভিন্ন ধরনের বোমা বহনের ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে এই ফাইটার জেটটি ৭৪০০ কেজি ওজনের অস্ত্র ক্যারি করতে পারবে। এক ইঞ্জিনের বিমানটি ইন্টারনাল ফুয়েল ট্যাংকের মজুদ দিয়ে ১৮০০ মাইল পর্যন্ত উড়তে পারবে। এক্সটার্নাল ফুয়েল ট্যাংক যুক্ত করলে এর দূরত্ব বেড়ে যাবে অনেক খানি। আধুনিক প্রযুক্তিতে এই যুদ্ধযানটি ছাড়িয়ে যাবে বর্তমানের সব ফাইটার জেটকে। এই ফাইটার জেটটি কে নিয়ে রাশিয়া কোনো ধরনের একচেটিয়া মনোভাব দেখাবে না।

    মানে সার্ভিসে যোগ দেওয়ার শুরু থেকে এটি রপ্তানির প্রক্রিয়া শুরু হবে। যেমন, যুক্তরাষ্ট্র তার ন্যাটো মিত্রদের নিয়ে গড়ে তুলেছে এফ ৩৫ এর যৌথ প্রকল্প। তাই মস্কো তলে তলে সু 75 দেওয়ার ছক কষছে মিত্র দেশগুলোকে।ফাইটার জেটের বাজারে বিশাল এক মাস্টার প্ল্যান নিয়ে রাশিয়া তৈরি করছে এই যুদ্ধযানটিকে। যাতে কুপোকাত হবে শত্রু দেশ, আবার ক্রেতা দেশগুলোর কথা মাথায় রেখে এর দামও রাখা হবে কম। টার্গেটে রয়েছে কী ন্যাটো? ভেতরের খবর ন্যাটোর সাথে আকাশযুদ্ধে রাশিয়ার অ্যারো স্পেস ফোর্স যাতে পিছিয়ে না পড়ে সেটা নিশ্চিত করতে অনেকদিন ধরেই উন্নত ফাইটার জেট চাইছিল মস্কো। তাই নতুন এই যুদ্ধযানের নকশা হাতে পেতেই সেটা লোভে নিতে দেরী করেননি পুতিন।

    ৭ বছর আগে এই যুদ্ধযানটি কে নিয়ে শুরু হয়েছিল পরিকল্পনা। যদিও, এই যুদ্ধযানটি এখনো ডেভেলপমেন্টের পর্যায়ে রয়েছে। চলতি বছরে পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের কথা থাকলেও তা পিছিয়েছে। তবে, ২০২১ সালে রাশিয়ায় একটি ৬ দিনের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যেখানে দেশটির তৈরি কমব্যাট এয়ারক্র্যাফ্ট, হেলিকপ্টার, ড্রোন, আন্টি এয়ারক্র্যাফট মিসাইল সহ অত্যাধুনিক কিছু সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হয়েছিল। প্রদর্শনীতে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় স্বার্থ ছিল তার সর্বাধুনিক ট্যাকটিক্যাল ফাইটারের জন্য ক্রেতা বাছাই করা। সেখানেই তারা পরিচয় করিয়ে দেয় সু ৭৫ চেকমেট এর সঙ্গে। প্রাথমিকভাবে এই মডেলের ৩০০ টি ফাইটার বানানোর পরিকল্পনা নিয়েছে রাশিয়া। তবে পরে এই সংখ্যা বাড়তে পারে। এই পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ ফাইটার জেট সু ৭৫ চেকমেট রাশিয়ার আকাশে কবে থেকে রাজত্ব করবে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা। যদিও সু ৭৫ এর খবরে অলরেডি ঘুম উড়ে গেছে ইউক্রেনের। চিন্তায় পড়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • বিশ্বকে রিস্কে ফেলে দিচ্ছে কোন দেশ? কাজে করে দেখাতে এক্সপার্ট ড্রাগনরা! মিললো বড় সর্বনাশের ইঙ্গিত

    বিশ্বকে রিস্কে ফেলে দিচ্ছে কোন দেশ? কাজে করে দেখাতে এক্সপার্ট ড্রাগনরা! মিললো বড় সর্বনাশের ইঙ্গিত

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    পৃথিবীর জন্য বড় রিস্ক ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াচ্ছে কোন দেশ? কোন দেশের হাতেই বা পৃথিবীর ভবিষ্যৎ? জানাজানি হয়ে গেছে, চারিদিকে হইচই হচ্ছে। কেন সুপার পাওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের উপর থেকে ভরসা উঠে যাচ্ছে বাকি বিশ্বের? ভূরাজনীতি আর অর্থনীতিতে যা দেখছেন, শুনছেন, বুঝছেন তার সব হিসেব যদি ওলটপালট হয়ে যায়? চীন, রাশিয়া, ভারত, ইরান নাকি যুক্তরাষ্ট্র; গোটা বিশ্বের রাশ ধরছে কোন দেশ? বিশেষজ্ঞদের কথা শুনলে শান্তিতে দু চোখের পাতা এক করতে পারবেন না। বিশ্ব রাজনীতিতে জটিল সমীকরণেরে খেলা। এরমধ্যে কার দিকে ঝুঁকছে বিশ্বের সব দেশ? ভবিষ্যতের পৃথিবীর জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি কি চীন নাকি রাশিয়া? ইরান নাকি উত্তর কোরিয়া? মার্কিন নীতি বিশেষজ্ঞ রিচার্ড হাসের সোজাসাপ্টা উত্তর।

    না, এর কোনোটাই নয়! তাহলে কি জলবায়ু পরিবর্তন বা মহামারী? এতেও না বলেছেন। তাঁর মতে যুক্তরাষ্ট্রই ভবিষ্যৎ পৃথিবীর নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় হুমকি। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি অন্যান্যরা অনুকরণ করতে চায় না, বরং এর সম্পর্কে পূর্বভাস দিতে না পারা এবং এর নির্ভরযোগ্যতার অভাব যুক্তরাষ্ট্রকে দিনে দিনে বিষাক্ত করে তুলেছে দাবি তাঁর। যখন আন্তর্জাতিক সম্পর্কগুলো জটিল সময় পার করছে, যখন উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে ঠিক তখনই নিউইয়র্ক টাইমসের এই রিপোর্ট রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ভবিষ্যদ্বাণী এক নিমেষে সব হিসেব পাল্টে দিয়েছে। ফলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গলার কাঁটা হয়ে বিধে থাকলো বাকি বিশ্বের কাছে। আসলে, মিত্রদের জন্য আমেরিকার উপর নির্ভর করা খুবই কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটু লক্ষ্য করলেই বোঝা যাবে পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলো কেন যুক্তরাষ্ট্রকে ছেড়ে চীনের উপর ভরসা করছে? মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছেও চীন বন্ধু হয়ে উঠছে। প্রতি বাড়ছে ভরসা, বিশ্বাস। কিন্তু কেন?

    একটা উদাহরণ দিয়ে বললে বুঝতে সুবিধা হবে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট যখন জাম্বিয়াতে গণতন্ত্রের পাঠ পড়াচ্ছেন তখন দেশটায় বিশাল এক হাসপাতাল গড়ে দিচ্ছে চীন। একইভাবে, মার্কিন নেতারা আফ্রিকার দেশে সফরে করলে চীনের বন্ধু হওয়ার বিপদ নিয়ে বক্তৃতা দেয়। কিন্তু চীনের নেতারা আফ্রিকার দেশে সফরে গেলে স্থানীয়দের জীবনযাত্রায় উন্নয়ন আনে, গতি আনে এমন সম্পদ দিয়ে আসে। এটাই তো স্বাভাবিক যেকোনো দেশের মানুষ কথার চেয়ে কাজকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। তাই তো আফ্রিকার ৫০ টি দেশ চীনের বেল্ট ও রোড ইনিশিয়েটিভ এর সদস্য। আর যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু ইউরোপ? যে, দীর্ঘদিন ধরে অন্ধের মতো দেশটার পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করে আসছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কি লাভ হয়েছে তা ওয়াশিংটন জানে। কিন্তু ধসে গেছে ইউরোপের দেশগুলোর অর্থনীতি।২০০৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনীতি মার্কিন অর্থনীতির চেয়ে ১০% বড় ছিল।

    অথচ, আজ মার্কিন অর্থনীতি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনীতির চেয়ে কয়েক শতাংশ বড়। এদিকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যুদ্ধ বাঁধিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিক্রিয়ায় শরণার্থী সংকট তৈরি হয়েছে ইউরোপে। একই সাথে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ঘায়েল করার সুযোগ পেয়ে ইউক্রেনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানেও টেনে এনেছে ইউরোপ কে। কারো কারো মতে, যুদ্ধ বিরতি বা শান্তি আলোচনা হতে দিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। আর তার মাশুল গুনছে গোটা ইউরোপ রাশিয়ার জ্বালানি গ্যাস কেনায় বাধা ও নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে ইউরোপকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে চার গুণ বেশি দামে জ্বালানি কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন শরণার্থী সংকট থেকে ইউরোপকে মুক্তি দিতে চাইলে মধ্যপ্রাচ্য আর আফ্রিকার দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে হবে। কারো কারো মতে এই ক্ষমতা আছে শুধু যুক্তরাষ্ট্র আর চীনের। তবে যুক্তরাষ্ট্র নাকি স্বার্থপর। হ্যাঁ এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের। আর চীন দ্যিখে পারস্পরিক লাভ। তাহলে কি চীনের হাতেই পৃথিবীর ভবিষ্যৎ? সত্যিই কি নিজেদের পায়ে কুড়ুল মারছে যুক্তরাষ্ট্র?

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • জাপান সাগরে চীন রাশিয়ার চক্রব্যূহ! বড় কোনো যুদ্ধের ইঙ্গিত? টেনশনে যুক্তরাষ্ট্র

    জাপান সাগরে চীন রাশিয়ার চক্রব্যূহ! বড় কোনো যুদ্ধের ইঙ্গিত? টেনশনে যুক্তরাষ্ট্র

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    বড় কোনো যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন রাশিয়া? জাপান সাগরে তৈরি করেছে চক্রব্যূহ। নিজেদের শক্তি জানান দিচ্ছে দুই দেশ। চীন-রাশিয়ার সামরিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ইঙ্গিত। চীনা জাহাজের বহর মিশে যাচ্ছে রাশিয়ার নৌ ও বিমানবাহিনীর সাথে। দুই দেশের যৌথ সামরিক মহড়ার নেপথ্যে লুকিয়ে কোন রহস্য? হাঁ করে দেখছে পশ্চিমা বিশ্ব। টার্গেট কৌশলগত জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

    সেই লক্ষ্যেই জাপান সাগরে রাশিয়ার নৌ ও বিমানবাহিনীর আকাশ এবং সমুদ্র মহড়ায় অংশ নিচ্ছে চীনা নৌবাহিনীর জাহাজের বহর। মস্কোর এই মহড়ার নাম নর্দার্ন ইন্টারঅ্যাকশন-২০২৩। যেখানে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর দুটি রণতরী গ্রোমকি ও সোভারশেন্নি অংশ নিচ্ছে। অন্যদিকে, চীনা সামরিক বাহিনীর ওই জাহাজের বহরে রয়েছে পাঁচটি রণতরী, চারটি হেলিকপ্টারবাহী জাহাজ। যা জাপান সাগরে রুশ বাহিনীর সাথে মিলিত হচ্ছে। গত ছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ শুরুর কয়েক দিন আগে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুই রাষ্ট্র প্রধান বেইজিং-মস্কোর ‘সীমাহীন’ বন্ধুত্বের কথা ঘোষণা করেছিলেন। কথা হয়ে গেছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে তারা এই অংশীদারিত্বের কথা ঘোষণা করেন। দুই দেশের অংশীদারিত্বের অন্যতম একটি খাত পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা। আর রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর চীন রাশিয়া দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ পেয়েছে বিভিন্ন সময়। দেশ দু’টির সামরিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। এবার তাতেই যোগ হচ্ছে অন্য মাত্রা।

    বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে এই মহড়ার মধ্য দিয়ে চীন এবং রাশিয়ার সামরিক মৈত্রী অনন্য মাত্রায় পৌঁছাবে। দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় সক্ষমতা বাড়াতে এই যৌথ মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও প্রতিরক্ষা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে এই যৌথ সামরিক মহড়ার মাধ্যমে। তাহলে কী, আগামী দিনে যুদ্ধেও রাশিয়ার হাত শক্ত করবে চীন? ভেতরে ভেতরে কোন ছক কষছে দুই দেশ? ভেবেই হাহুতাশ করছে পশ্চিমা বিশ্ব।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Iran: পরমাণু অস্ত্র ইরানের হাতে? মাটির তলায় বিশুদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ বাড়ছে, ভয়ে কাঁটা যুক্তরাষ্ট্র

    Iran: পরমাণু অস্ত্র ইরানের হাতে? মাটির তলায় বিশুদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ বাড়ছে, ভয়ে কাঁটা যুক্তরাষ্ট্র

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    Iran: ইরান কী গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে? কী পরিমাণ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে ফেলেছে দেশটা? তেহরানকে আটকানো সহজ কথা নয়, পশ্চিমা বিশ্বের হার্টবিট বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটা ভুলে আগ্রাসী হয়ে উঠছে দেশটা। ১২ দিনেই পরমাণু শক্তির কাতারে নাম লেখাবে ইরান? চুক্তিতে নেই, তোয়াজ করতে বাধ্য যুক্তরাষ্ট্র। একবার পরমাণু অস্ত্র তৈরি করে ফেললে আর কাউকে ভয় করবে না ইরান।

    বিভিন্ন সময়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, অলরেডি ইরান ৮৪ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে ফেলেছে। আর পারমাণবিক বোমা বানাতে প্রয়োজন ৯০% ইউরেনিয়াম। ইরান নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নিয়েই এত পরিমান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে ফেলেছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে পশ্চিমা বিশ্বের তরফে। আসলে আজ নয়, বহুদিন ধরেই পরমাণু কর্মসূচী নিয়ে বিভিন্ন রকম গবেষণা চালিয়ে আসছে ইরান। যদিও ইরান দাবি করে, পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন সহ অন্যান্য শান্তিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্যই তাদের এই কর্মসূচী। কিন্তু তা মানতে নারাজ পশ্চিমা বিশ্ব। যুক্তরাষ্ট্র বলছে কর্মসূচীর আড়ালে পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে ইরান। শুধু বলেই ক্ষান্ত হয়নি, এইজন্য তাঁরা গত কয়েক দশক ধরে একের পর এক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত করেছে দেশটাকে। তারপরেও এটা তো মানতে হবে ১০ থেকে ১৫ বছর আগের ইরানের সঙ্গে বর্তমান ইরানের মধ্যে পার্থক্য অনেক। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান তার সামরিক শিল্পী যে পরিমাণ উন্নতি সাধন করেছে তাতে রীতিমতো চমকে গেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ তার মিত্র দেশগুলো। ভয় শিটিয়ে যাচ্ছে শত্রুরা। কিন্তু কেন?

    বিশেষজ্ঞদের মতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে রিস্কে ফেলে দিতে পারে যখন তখন। আর মূলত ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার টার্গেটকেই ভয় পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এমনকি জার্মানিও। যুক্তরাষ্ট্রই সম্প্রতি দাবি করেছে, পরমাণু অস্ত্র বানাতে ইরানের ১২ দিন সময় লাগবে। অতএব লক্ষ্যের খুব কাছে পৌঁছে গেছে ইরান। কারণ, এই মুহূর্তে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোন পরমাণু চুক্তিতেও আবদ্ধ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে চুক্তি হলেও, দু বছর যেতে না যেতেই তা থেকে একতরফাভাবে সরে যান সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৮ সালে চুক্তি থেকে বের হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। ২০২০ সালের শুরুর দিকে পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা করে ইরান। ইরানের ওপর আসতে থাকে ওয়াশিংটনের একের পর এক স্যাংশন। ইরানও তার পরমাণু কর্মসূচি নতুন করে শুরু করে। এতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। ২০২০ সালে জো বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর ওই চুক্তি নিয়ে আবারও উৎসাহ দেখায় যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলো ফের আলোচনা শুরু করে।

    ২০২২ এর আগস্টে একটি চূড়ান্ত খসড়া চুক্তি তৈরি হয়। তবে এখন পর্যন্ত চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি। আলোচনাও স্থগিত হয়ে আছে। আর, ঠিক এই পরিস্থিতিতে ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির চিন্তায় ভেতরে ভেতরে প্রাণ শোকাচ্ছে পশ্চিমাদের। পশ্চিমারা আবার বলছে, তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ভূগর্ভস্থ পরমাণু কেন্দ্রে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ শুরু করেছে। দিনদিন পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। তবে এই সংক্রান্ত মার্কিন গোয়েন্দাদের সাম্প্রতিক রিপোর্ট কিন্তু অন্য কথা বলছে। ইরান কোনো পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে না। তারা পরমাণু সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, যার ফলে তেহরানের পক্ষে পরমাণু অস্ত্র তৈরি আরও সহজ হবে বলে রিপোর্টে মেনশন করা হয়েছে।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • টিট ফর ট্যাট নীতি পুতিনের, ধসে পড়তে পারে এই দেশটা!  সাগরতলে সব ছিন্নভিন্ন করবে রাশিয়া?

    টিট ফর ট্যাট নীতি পুতিনের, ধসে পড়তে পারে এই দেশটা! সাগরতলে সব ছিন্নভিন্ন করবে রাশিয়া?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    সমুদ্রের নীচে বিছানো সাবমেরিন কেবল কমিউনিকেশনই কী পুতিনের নয়া টার্গেট? পশ্চিমাদের সবক শেখাতে একটা অ্যাটাক, ব্যাস ধ্বসে পড়তে পারে আদ্যোপান্ত। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কীসের এতো রাগ? কেন প্রতিশোধ নিতে মরিয়া মস্কো? জোর জবরদস্তি নর্ডস্ট্রিম ধ্বংসের দায় চাপালে সর্বনাশ ঘটাবে রাশিয়া। টিট ফর ট্যাট নীতিতেই হাঁটবেন পুতিন? নাকি নেবেন অন্য কোনো কৌশল? জলের নিচে ক্রেমলিনের এই খতরনাক অস্ত্রে জড়িয়ে শেষ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ। বড় ভুল হচ্ছে, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    খুব সাবধানে পা ফেলতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। মাথায় রাখতে হবে ইন্টারন্যাশনাল ডেটার অন্তত ৯৫% ট্রান্সফার হয় সমুদ্রের নিচে স্থাপিত সীমিত সংখ্যক কিছু কেবল বা তারের মাধ্যমে। প্রতি সেকেন্ডে ২০০ টেরাবাইট ডেটা ট্রান্সফারে সক্ষম এধরনের কেবলের সংখ্যা প্রায় ২০০ টি। এসব তার দিয়েই দৈনিক প্রায় ১০ লাখ কোটি ডলার সমান আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হয়। তাহলে, বোঝাই যায় পৃথিবীর মহাসাগরগুলোর তলদেশে বিছানো এ ধরনের কেবলগুলো ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এই সাবমেরিন কেবলই, কমিউনিকেশন বা যোগাযোগ ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ, যা সব দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। অথচ, সামরিক ও আর্থিক শক্তিতে বলীয়ান পশ্চিমা দুনিয়া দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারছেনা যে সাগরতলদেশের কেবলগুলো তাঁদের জন্য অবকাঠামোগত দুর্বলতার জায়গা।

    কিন্তু, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগী দেশগুলো ওই কেবলের ‘চোক পয়েন্ট’গুলোকে বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমেই চূড়ান্ত আঘাত করার ফন্দি আঁটছে। যুদ্ধে নতুন টার্গেট হয়ে উঠেছে সাবমেরিন কেবল। মার্কিন মিত্র যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। গত দুই দশকে সাগরতলের এসব কেবল নেটওয়ার্কে হামলা চালানোর মতো বিভিন্ন অস্ত্র তৈরি করেছে রাশিয়া। হামলার জন্য মানবহীন, অত্যাধুনিক সাবমার্সিবল যানের বহর রয়েছে ক্রেমলিনের কাছে। চীনেরও রয়েছে এমন বহর। আশঙ্কা করা হচ্ছে, রাশিয়ার সাথে সশস্ত্র সংঘাতের পরিণতিতে সাগরতলের কেবলগুলোই আক্রমণের শিকার হতে পারে। কিন্তু, রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাবমেরিন কেবল ধ্বংসের আগাম অভিযোগ কেন তুলছে ব্রিটিশরা? ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের শেটল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সাথে বাকি বিশ্বের ইন্টারনেট কানেকশন এর কেবল দুই জায়গায় বিচ্ছিন্ন হয়। তখন সেখানে নাকি রাশিয়ার একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা জাহাজ কে দেখতে পাওয়া গিয়েছিল। তবে রাশিয়ায় যে ওই কাজ করেছে তা কিন্তু প্রমাণ হয়নি‌

    কারণ, বেশিরভাগ সময় মাছ ধরার ট্রলারের জালে জড়িয়ে, বা সাগরতলে ভূমিকম্পের মতো ঘটনায় সাবমেরিন কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু, তারপরেও ঘটনাস্থলে রাশিয়ান জাহাজের উপস্থিতির ঘটনায় রীতিমতো নড়েচড়ে বসে পশ্চিমা নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। কারণ যে কোন দেশের সাবমেরিন কেবলে হামলা হলে সীমাহীন ক্ষতি হতে পারে, অন্য মাত্রার বিপদ ডেকে আনতে পারে, নাশকতায় ধ্বসে পড়তে পারে যোগাযোগ ব্যবস্থাও। রাতারাতি বৈশ্বিক ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক ব্যাহত হওয়ার রিস্ক থাকছে ১০০%। তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি ইন্ডাস্ট্রিতে এর প্রভাব কতটা মারাত্মক হবে তা কল্পনারও বাইরে। এমনকি ভৌগলিক মন্দা ও শুরু হতে পারে। বিপর্যস্ত হতে পারে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য, ব্যাংকিং, আর্থিক সেবা, টেলি যোগাযোগ। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক বিনিময়ও এতে বাধাগ্রস্ত হবে।

    তার চেয়েও বড় কথা, সাবমেরিন কেবল বিচ্ছিন্ন করে কোনো দেশকে বহুমুখী সংকটের মধ্যে ঠেলে দেওয়া সম্ভব, যা মোকাবিলা করা প্রায় অসাধ্য। কোনো সন্ত্রাসী বা বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এই কাজ করে, প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রের প্রতি দায় চাপাতে পারে। বাধিয়ে দিতে পারে দেশে দেশে যুদ্ধ। এই ধরনের কূটচালে সংঘাত উস্কে দেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের মিত্রতায় চিড় ধরাতে বা জোট গঠনেও পরিবর্তন আনতে পারে। তাই, বিশেষজ্ঞরা বলছেন অবহেলা না করে যুক্তরাষ্ট্রের সচেতন হওয়া উচিত, সাবধান হওয়া উচিত। কিন্তু, তা না করে যুক্তরাষ্ট্র যা করেছে তাতে এখন তার দাম চোকাতে ঘুম উড়ে যাওয়ার জোগাড় হয়েছে। ২০২২ এর সেপ্টেম্বর রাশিয়া থেকে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহের প্রধান দুটি পাইপলাইন নর্ডস্ট্রিম-১ ও নর্ডস্ট্রিম-২ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। গোটা ঘটনাকে রুশ সন্ত্রাসী হামলা বলে দাবি করে ইউক্রেন।

    যুক্তরাষ্ট্র আর ন্যাটো জোটের অন্য দেশগুলো গোটা পৃথিবীকে বুঝিয়েই ছাড়ে যে রাশিয়াই সেই কালপ্রিট যে কিনা নর্ড স্ট্রিম গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। আর এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই বেজায় চটেছেন পুতিন। রাশিয়া এখন কি করবে? টিট ফর ট্যাট নীতিতে চলতে হলে পুতিন বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাহত করার পথে হাঁটতেই পারেন। সেই সুযোগ রাশিয়ার কাছে আছে। প্রাক্তন রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, যেভাবে নর্ডস্ট্রিম ধ্বংস করার ক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়া কে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে, সেই বিষয়টাকে আমলে নিয়ে রাশিয়া শত্রুদের সাবমেরিন কেবল কমিউনিকেশন ধ্বংস করতেই পারে। এতে তো রাশিয়ার কোনো নৈতিক বাধাও নেই। আর তারপর থেকেই আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। ভাবতে পারছেন, সাবমেরিন কেবলের ওপর হামলার ঘটনায় পশ্চিমা বিশ্বের সাথে চীন, রাশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সংঘাত কতোটা মারাত্মক হতে পারে? না, সেটা কল্পনারও অতীত।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Bangladesh Election: বাংলাদেশের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ নেই, রাশিয়ার দাবি মিথ্যে! সত্যি কি তাই?

    Bangladesh Election: বাংলাদেশের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ নেই, রাশিয়ার দাবি মিথ্যে! সত্যি কি তাই?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    Bangladesh Election: বাংলাদেশের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র কোন হস্তক্ষেপ করছে না, জানিয়ে দিল দেশটা। রাশিয়ার দাবি মিথ্যে! তাহলে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে টা কি? এভাবেই কি বাংলাদেশকে হাতের মুঠোয় রাখবে? চীন রাশিয়া ইরান বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েও কিচ্ছু করতে পারছে না। গণতন্ত্রকে শক্ত করার অজুহাতে অন্য ফাঁদ পাতছে না তো যুক্তরাষ্ট্র? এত জল্পনা সমালোচনার মাঝে বাংলাদেশের মানুষ কি চায়? সেটা কি কেউ ভেবে দেখছে?

    বাংলাদেশে অবাধ নিরপেক্ষ আর সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়টা যাতে জো বাইডেন দেখেন সেই বিষয় চিঠি লিখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের ৬ সদস্য। তখন রাশিয়া বিষয়টাকে অভ্যন্তরীণ নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ বলে দেগে দেয়। ইরানেও রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমের অনুষ্ঠানে এই বিষয়টি নিয়ে তুমুল সমালোচনা চলে। একইভাবে প্রশ্ন তোলেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। একটা দেশের নির্বাচন, সেই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কিন্তু বাংলাদেশের নির্বাচন এখন আন্তর্জাতিক ময়দানের হট টপিক। এবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার জানিয়ে দিলেন, তাদের দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে যদি অন্য কোন দেশ কথা বলে সেটা অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপ বলে মনেই করে না। মানেটা স্পষ্ট। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যে তারা কথা বলছে এটা কোন অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপই নয়। বরং এই ধরনের আলোচনাকে তারা স্বাগত জানায়। এটা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে।

    তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও বারংবার অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতির কথা বলেছেন। দুই দেশের সঙ্গে প্রায় ৫০ বছরের অংশীদারিত্ব এবং বন্ধুত্ব। এখানে যুক্তরাষ্ট্র কোন রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে না। তারা সত্যিকারের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে। তারা কোনভাবেই বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে হস্তক্ষেপ করছে না। আচ্ছা সত্যি কি তাই? ভেবে দেখুন তো, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়ে যদি অন্য কোন শক্তিধর রাষ্ট্র বারংবার কথা বলত, সমালোচনা করত, রাষ্ট্রদূত পাঠিয়ে দিত তাহলে কি যুক্তরাষ্ট্রের সত্যি ভালো লাগত? বাংলাদেশ বন্ধুত্বের নীতিতে মেনে চলে। আর তাই ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে।

    আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যতই দ্বন্দ্ব থাকুক না কেন, বাংলাদেশের মানুষ কি চায়? সেটাই বেশি ইম্পর্ট্যান্ট। বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু এই রাজনৈতিক দলাদলি কিংবা আন্তর্জাতিক ময়দানে এত জল ঘোলা পছন্দ করে না। তারা ভীষণ শান্তিপ্রিয়। তারা চায় সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচিত হোক। তারা যে মানুষটাকে নির্বাচনের মাধ্যমে জিতিয়ে আনবেন তারা মানুষের জন্য কাজ করুক। মানুষের পাশে দাঁড়াক।

    এসব বিতর্কের মাঝেই ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়া। তিনি মানবাধিকার, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট, মানব পাচার প্রতিরোধ, শ্রম, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের যে কূটনৈতিক তাৎপরতা চলছে সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে কিন্তু এই সফর বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • ইরানের এই অস্ত্রের দৌলতে লাভের ফসল ঘরে তুলছে রাশিয়া! হাঁ করে দেখছে ইউক্রেন, তেহরানকে ব্লক করবে যুক্তরাষ্ট্র? রুখে দেওয়া মুস্কিল

    ইরানের এই অস্ত্রের দৌলতে লাভের ফসল ঘরে তুলছে রাশিয়া! হাঁ করে দেখছে ইউক্রেন, তেহরানকে ব্লক করবে যুক্তরাষ্ট্র? রুখে দেওয়া মুস্কিল

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    ইরান রাশিয়ার কিলার ড্রোন টেনশন বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে কী এক্সট্রা বেনিফিট এনে দেবে এই কিলার ড্রোন? রাশিয়ার ভেতরেই মাথা উঁচিয়ে দাঁড়াচ্ছে ইরানের ড্রোন কারখানা। ইরানকে ব্লক করার ছুঁতো খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। ভেতরে ভেতরে রাশিয়ার হাত শক্ত করছে ইরানি ড্রোন। জালের মতো নিজের নেটওয়ার্ক বিস্তার করছে ইরান। নিজেদের দুর্বলতা কাটানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে রাশিয়া। ইরানের হাত ধরে চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে পারবে কি দেশটা?

    ইরানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কিলার ড্রোন নির্মাণের নতুন একটি কারখানা তৈরীর পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। দেশটার ভেতরে তৈরি হওয়া এই ড্রোনের মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া অনেকটা সুবিধাজনক পজিশনে পৌঁছে যেতে পারবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞদের একাংশ। ইরান ও রাশিয়া, দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে রাশিয়ার ভেতরেই তৈরি হবে এই কিলার ড্রোন। ড্রোন কারখানাটি মস্কোর পূর্বে অঞ্চলে তৈরি করা হবে। ২০২৪ সালে এই কারখানা কাজ শুরু হবে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই কারখানা থেকে তৈরি হবে ৬০০০ এর বেশি ড্রোন। এতে রাশিয়ার সামরিক শক্তি আরও বেশি জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এমনিতেও ইউক্রেন যুদ্ধে তলে তলে রাশিয়ার হাত শক্ত করে চলেছে ইরান থেকে আমদানি হওয়া বিভিন্ন শক্তিশালী অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র। জানা যায়, ইরান থেকে জাহাজে করে নিয়মিত ড্রোন আমদানি করে রাশিয়া। ইরানের আমিরাবাদ থেকে নিয়ে আসা হয় এসব ড্রোন। যা কাস্পিয়ান সাগর হয়ে রাশিয়ার মারগাছ কালায় চলে আসে। সেখান থেকে রাশিয়ার দুটো ঘাঁটিতে ড্রোনগুলোকে স্থানান্তরিত করা হয়। এই ঘাঁটির একটি আছে ইউক্রেনের উত্তর-পূর্ব এলাকায়, অপরটি রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায়।

    ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার করা হয় এই সমস্ত ড্রোন। যুদ্ধে ব্যবহারের আগে পর্যন্ত এই দুটো ঘাঁটিতেই রাখা হয় ইরানি ড্রোন গুলোকে। এই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে গলা তুলেছে, কিন্তু তাতে যে বিশেষ ফল হয়নি সেটা বুঝতে অসুবিধা হয় না। তবে এরপর দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে যে ড্রোন কারখানা নির্মাণ হতে চলেছে রাশিয়ার ভেতরে, তা যুক্তরাষ্ট্রকে ইতিমধ্যেই টেনশনে ফেলে দিয়েছে। ২০২১ সাল থেকেই এই ড্রোন কারখানা নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কথা শোনা গেছে। হোয়াইট হাউস এরই মধ্যে স্যাটেলাইট থেকে তোলা কিছু সেনসিটিভ ছবি সংগ্রহ করে বিভিন্ন ফোরামে পাঠিয়ে, ইরানের উপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী ফোরামগুলো যেন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইরানের ড্রোন প্রকল্পে কোনরকম সাহায্য না করে, যুক্তরাষ্ট্র সেই বিষয়টাই নিশ্চিত করতে চাইছে। জানিয়ে রাখি, ইরান বিভিন্ন দেশে তার নেটওয়ার্কের জাল ছরিয়ে দিচ্ছে যাতে যে কোন নিষেধাজ্ঞা বা অবরোধকে সরিয়ে রেখে তারা যেন তাদের প্রয়োজনীয় সামরিক প্রযুক্তি সংগ্রহ করতে পারে।

    সেক্ষেত্রে ইরানকে থামিয়ে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এতো সহজ কাজ যে হবে না সেটা বলতেই হচ্ছে। অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ ড্রোন খাতে রাশিয়ার পদ্ধতিগত দুর্বলতা কে বড় করে সামনে এনেছে। রাশিয়া তাদের বর্তমান ড্রোন ঘাটতি এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য একাধিক ড্রোন প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে, দ্রুত সংকটকালীন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা চালাচ্ছে। রাশিয়ার চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে আছে অপরিণত ড্রোন নির্মাণ কাঠামো এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তি হাতে না পাওয়া। রাশিয়া যে এতদিন ধরে স্বল্প পাল্লার ট্যাকটিক্যাল ড্রোন গুলো নির্মাণ করেছে সেগুলোতে রয়েছে নানান সীমাবদ্ধতা। কারণ রাশিয়া নির্মিত ড্রোন গুলো ভারী পেলোড বহন করতে পারে না। এছাড়া উন্নত ড্রোন প্রযুক্তিগুলো রাশিয়ার হাতে নেই। সে ক্ষেত্রে ইরান যদি ড্রোন ও মিসাইল নির্মাণে রাশিয়াকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসে তাহলে রাশিয়া যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হচ্ছে সেগুলো অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • আরেকটা নতুন যুদ্ধ? মুখোমুখি উঃ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্র! গুলি করে স্পাই ড্রোন ওড়ানোর ওয়ার্নিং, ঘুম হারাম বাইডেনের

    আরেকটা নতুন যুদ্ধ? মুখোমুখি উঃ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্র! গুলি করে স্পাই ড্রোন ওড়ানোর ওয়ার্নিং, ঘুম হারাম বাইডেনের

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    এবার কি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে উত্তর কোরিয়া? ওয়াশিংটনকে ওয়ার্নিং দিল পিয়ংইয়ং। সত্যিই কী যুক্তরাষ্ট্র কোরিয় উপদ্বীপে যুদ্ধ উস্কে দিচ্ছে? মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন উত্তর কোরিয়ার আকাশে ঢুকলেই বড় বিপদ। সোজা গুলি করে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি। শঙ্কায় কাঁপছে যুক্তরাষ্ট্র। বন্ধুর বিপদে পাশে দাঁড়ালো দক্ষিণ কোরিয়া। হুমকি উপেক্ষা করলে পস্তাতে হবে ওয়াশিংটন কে। সংকটের মাত্রা আরো বেশি জটিল হবে। আরও একটা যুদ্ধ?

    নতুন করে মুখোমুখি অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া। যা পরিস্থিতি তাদের যখন তখন যুদ্ধ লেগে যেতে পারে। কিমের হুঁশিয়ারি, মার্কিন গোয়েন্দা বিমানগুলো যদি দেশটির আকাশসীমা লঙ্ঘন করে তাহলে এবার সেগুলোকে সরাসরি গুলি করে ফেলে দেওয়া হবে। এমনকি, উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তরফেও কঠোর সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে শত্রু দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তারা বারংবার দাবি করে আসছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গোয়েন্দা বিমান উত্তর কোরিয়ার আকাশসীমা লঙ্ঘন করে দেশটির আকাশে ঢুকে পড়ছে। বিশেষ করে পূর্ব সাগরের দিক দিয়ে মার্কিন বিমান বাহিনীর কৌশলগত গোয়েন্দা ড্রোন একবার নয়, বহুবার উত্তর কোরিয়ার আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। যে বিষয়টাকে মোটেই ভালো নজরে দেখছে না পিয়ংইয়ং। তাই এবার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে ওয়ার্ন করা হয়েছে।

    বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আকাশ সীমা লংঘন করে মার্কিন ড্রোন বেশ কয়েকবার উত্তর কোরিয়ার দশ কিলোমিটার পর্যন্ত ভেতরে ঢুকে পড়ে। সেক্ষেত্রে এরপরে এরকম ঘটলে পূর্ব সাগরের আকাশে কোনো মার্কিন গোয়েন্দা বিমানকে যে গুলি করে ফেলে দেওয়া হবে না- তেমন গ্যারান্টি দেওয়া অসম্ভব। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। এখানে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, অতীতের অভিজ্ঞতাও কিন্তু খুব ভালো নয়, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। উত্তর কোরিয়া তার আকাশসীমার কাছে মার্কিন গোয়েন্দা বিমান ভূপাতিত করেছে কিংবা রুখে দিয়েছে, এমন ঘটনা ঘটেছে কিন্তু অনেকবার। তবে, মার্কিন গোয়েন্দা বিমানগুলো কোরীয় উপত্যকার কাছে টহল দিলেও উত্তর কোরিয়ার আকাশসীমা লঙ্ঘনের দাবি যে সত্য নয় সেটা পরিষ্কার ভাবে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী কি বলছে? মার্কিন বিমান নজরদারি সরঞ্জামগুলো কোরীয় উপদ্বীপের চারপাশে নিয়মিত নজরদারি চালায়, তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোও উত্তর কোরিয়ার কর্মকাণ্ড নিরীক্ষণের জন্য একসাথে কাজ করে। তবে দুই দেশের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব রয়েছে যে উত্তেজনা চলছে তার মাঝে পিয়ং ইয়ং এর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তোলা ইহানো অভিযোগ বিষয়টাকে যে আরো বেশি জটিল করবে সেটা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • যুক্তরাষ্ট্রে নিজেই মানবাধিকার লঙ্ঘন করে, অথচ নজর বাংলাদেশে! সপাটে জবাব শেখ হাসিনার

    যুক্তরাষ্ট্রে নিজেই মানবাধিকার লঙ্ঘন করে, অথচ নজর বাংলাদেশে! সপাটে জবাব শেখ হাসিনার

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    যুক্তরাষ্ট্রের মুখের উপর আবারো সপাটে জবাব দিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এভাবে আগে কেউ বলেনি। যুক্তরাষ্ট্র আগে নিজের দেশের মানবাধিকার নিয়ে চিন্তা করুক, তারপর তো বাংলাদেশ। এভাবে বলতে কজন পারে বলুন তো? যুক্তরাষ্ট্রে প্রায়ই সময় গুলি করে চলছে মানুষ হত্যা, অথচ সেখানে বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে এত মাথাব্যথা কেন? এটাই প্রশ্ন শেখ হাসিনার। যুক্তরাষ্ট্রের কি করা উচিত, সেটাও জানিয়ে দিলেন।

    আচ্ছা, শেখ হাসিনা কেন বারবার যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনার সরব হচ্ছেন? বাংলাদেশ তো বন্ধুত্বে বিশ্বাসী, কখনোই আগ বাড়িয়ে শত্রুতা করবে না। তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে এভাবে চটানোর মানেটা কি? শেখ হাসিনা যেভাবে দৃঢ় কন্ঠে ক্রমাগত যুক্তরাষ্ট্রের উপর বাক্যবাণ ছুঁড়ছেন তাতে দুই দেশ বেশ অস্বস্তিতে। এই ক্ষোভের মূলে দুটো কারণ। এক র‍্যাবের উপর নিষেধাজ্ঞা, দুই মানবাধিকার ইস্যুতে বাংলাদেশের নির্বাচনে উপর চাপ। যদিও এই দ্বিতীয় পয়েন্টটা বারংবার অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ সরকার। দেশটার অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে বারংবার মাথা ঘামাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শেখ হাসিনা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজের দেশের মানুষকে কি করে বাঁচাবে সেই চিন্তা আগে করা উচিত।

    আরেকটা প্রশ্ন করেন। বাংলাদেশের মানবাধিকার খোঁজ নিতে অনেকেই আসছেন, কিন্তু ২০০১ সালের যেভাবে দেশ জুড়ে হত্যা নির্যাতন ধর্ষণ হয়েছিল সেই সময় মানবাধিকার ইস্যু গুলো কোথায় ছিল? তাঁর কথায়, যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলে নিরাপদ নয় শিশুরা।। শপিং মল সহ প্রকাশ্য রাস্তায় মানুষকে গুলি করা হচ্ছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত, আগে নিজের দেশের কথা চিন্তা করা। ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধ বাঁধিয়ে আজ হাজার হাজার নারী পুরুষ রিফিউজি। ভীষণ কষ্ট পাচ্ছে। একইভাবে গোলাগুলি চলছে সিরিয়ায়। বোমা হামলায় বিধ্বস্ত ফিলিস্তিন। অথচ এই বিষয় নিয়ে কেউ কোনো কথা বলছে না। এখানে কি মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে না? প্রত্যক্ষভাবে না হলেও, পরোক্ষভাবে বলতে চাইলেন, সব দোষ তাহলে কি শুধু বাংলাদেশের? কেন যুক্তরাষ্ট্র শুধুমাত্র বাংলাদেশকে টার্গেট করছে? এসব প্রসঙ্গ উঠে এসেছে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে।

    বাংলাদেশের বহু বিশ্লেষকদের মতে, মানবাধিকার আর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজের স্বার্থ হাসিল করতে চাইছে। বাংলাদেশের মাটিতে পোক্ত করতে চাইছে নিজের জায়গা। কিন্তু পারছে কি? যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্র নিয়ে কাজ করার জন্য বেছে বেছে কয়েকটা দেশ হাতে রেখেছে। এর আগেও চীনের সুনির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। উত্তর কোরিয়াও এর ভুক্তভোগী। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক নিষেধাজ্ঞা বয়ে বেড়াচ্ছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র কখনো একা, আবার কখনো সমিল্লিতভাবে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ঠান্ডা লড়াইয়ের সময় কিউবা, চীন আর উত্তর কোরিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। এবার এই ঝঞ্ঝাটে পড়েছে বাংলাদেশ। ২০১৪ এবং ১৮ এর নির্বাচনে বাংলাদেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তা নিয়েও কিন্তু কম জলঘোলা হয়নি। সেই বিষয়টাকে কেন্দ্র করেই আমেরিকা তাগাদা দিচ্ছে বাংলাদেশকে। যদিও এখনো পর্যন্ত দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে তিক্ততার ছাপ পড়েনি। এখানে শেখ হাসিনার আর একটা কথা ইম্পর্ট্যান্ট। যে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে তারা কিভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে? বিশ্বের বহু জায়গায় মানুষ খুন হচ্ছে কিন্তু নিশানায় বাংলাদেশ কেন? পুরোটাই ভূ রাজনৈতিক প্ল্যান নয় তো?

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • যুদ্ধে জড়াচ্ছে চীন যুক্তরাষ্ট্র? হটলাইনে তীব্র আপত্তি, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানেজ পলিসি ডাহা ফেল

    যুদ্ধে জড়াচ্ছে চীন যুক্তরাষ্ট্র? হটলাইনে তীব্র আপত্তি, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানেজ পলিসি ডাহা ফেল

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    চীনের সেনাবাহিনী কি আমেরিকার সাথে সংঘাতের রাস্তায় হাঁটছে?‌ কোন পথে যাচ্ছে দুই দেশের সম্পর্ক? দঃ চীন সাগর আর তাইওয়ান প্রণালী নিয়ে চীন যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত সত্যিই কি শুরু হতে যাচ্ছে? ঝঞ্ঝাট এড়াতে হটলাইন চালুর দিকে পাল্লা ভারী যুক্তরাষ্ট্রের, বড় অ্যালার্জি চীনের। হটলাইন চালু হলে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দুই দেশের দ্বন্দ্বের তীব্রতা কমার চান্স কতটা? অহংকারের জোরে নিজেদের দাবি মানাতে মরিয়া মার্কিনিরা। কিন্তু, আদৌ কী সংঘাত রুখে দিতে পারবে যুক্তরাষ্ট্রের এই স্ট্র্যাটেজি? আজ নয়, দীর্ঘদিন ধরেই চীনের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সংঘাত এড়াতে হটলাইন চালু নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।

    সহজ ভাষায় হটলাইন হলো জরুরি মুহূর্তে ব্যবহারযোগ্য একটা বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা। যেখানে কোড ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে কোনো সাইবার হামলার সতর্কবার্তা বা সামরিক কোনো পদক্ষেপের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি তথ্য আদানপ্রদান করা হয়। এটাই চীনের থেকে চায় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মিলিটারি-টু-মিলিটারি যোগাযোগের প্রস্তাব বারেবারেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে চীন। যদিও, বিশেষজ্ঞদের মতে এই হটলাইন চালুর পথে না হাঁটলেও চলবে। কারণ, চীনের লিবারেশন আর্মি অলরেডি জানে দক্ষিণ চীন সাগর বা তাইওয়ান প্রণালিতে কীভাবে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। কিন্তু, যেহেতু দক্ষিণ চীন সাগর এবং তাইওয়ান প্রণালিকে নিজেদের অংশ মনে করে চীন, তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হোক বা অস্ট্রেলিয়ান, জাপানি হোক বা কানাডিয়ান জাহাজ, এমনকি বিমানের সাথেও যোগাযোগ করে তাদেরকে আগেভাগেই সতর্ক করে দেয় চীন। ওই অঞ্চল থেকে তাদের দূরে থাকতে বলে। নিজেদের স্ট্যান্ড পয়েন্ট বারবার স্পষ্ট করে দেয় দেশটা।

    ফলে, বিশেষ ‘যোগাযোগ চ্যানেল’ থাকা না থাকায় চীনের যে কিছু এসে যাবেনা সেটা একপ্রকার পরিষ্কার। কারণ হটলাইন চালু হলেও, মার্কিনিরা চীনের সাথে জরুরী পরিস্থিতিতে যোগাযোগ করতে পারলেও বিষয়টা অর্থহীন হয়েই থেকে যাবে। এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খুশি না হলেও, তাতে চীন পাত্তা দেয় না। তাই, হটলাইন চালুর পরিবর্তে, ইন্দো-প্যাসিফিক এলাকায় নিজেদের নৌবাহিনী, জাহাজ, সাবমেরিন, অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইলের স্টক থাকার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবা উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, চীনের উদ্দেশ্য আমেরিকানদের এশিয়া-প্যাসিফিক থেকে তাড়িয়ে চীনা লিবারেশন আর্মির আধিপত্য বিস্তার করা। ফলে, হটলাইন চালু হলেও ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন-চীন দ্বন্দ্বের তীব্রতা কমার চান্স নেই। আর, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে তারা যদি কারও সাথে কথা বলতে পারে তবে তারা যে কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে। তাই, যুক্তরাষ্ট্র যোগাযোগ চ্যানেল স্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, আর যাবেও। কিন্তু তার পরিপ্রেক্ষিতে চীনা সেনারা কী করবে? তাহলে কী সংঘাতের পথে হাঁটতেই, হটলাইন স্ট্র্যাটেজির ফাঁদে পা দিচ্ছে না বেইজিং? সময়ের সাথে সাথে পরিষ্কার হবে চিত্রটা।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম