Tag: Hezbollah

  • Iron Dome: আয়রন ডোম ভেঙে দিলো হিজবুল্লা, যু’দ্ধ’বিরতি চুক্তি নয় কঠিন পরিণতি

    Iron Dome: আয়রন ডোম ভেঙে দিলো হিজবুল্লা, যু’দ্ধ’বিরতি চুক্তি নয় কঠিন পরিণতি

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Iron Dome: আয়রন ডোমকে ফাঁকি , ইসরায়েল নাকি হিজবুল্লাহ? যুদ্ধে জিতবে কে? বেকার হয়ে গেল ইসরায়েলের প্রাণ ভোমরা আয়রন ডোম! ইসরায়েলের যুদ্ধ কৌশল চুরি করতে, ইসরায়েলের মধ্যেই হানা দিল হিজবুল্লাহ। যুদ্ধ বাঁধলে জিতবে কে? ইসরায়েল নাকি হিজবুল্লাহ? কে বেশি শক্তিশালী? যুদ্ধের পরিণতি শেষ পর্যন্ত গাজার মতো হবে না তো? শিক্ষা নিচ্ছে লেবানন। এবার হয়ত উল্টে মাত দিতে পারে ইসরায়েলকে। চোখে ধুলো দিতে হিজবুল্লাহ চলছে নতুন কৌশলে। মদদ দিচ্ছে ইরান। ইসরায়েলের অন্দরে ঢুকে পড়ল হিজবুল্লাহর ড্রোন, চুরি করল প্রচুর সিক্রেট। জানেন, ড্রোনের ক্যামেরায় ঠিক কী কী ধরা পড়েছে? ইসরায়েলকে মাত দিতে লেবাননের এ কোন ভয়ঙ্কর প্রস্তুতি?

     

    •ইসরায়েলের গর্ব ভাঙল হিজবুল্লাহ, ড্রোন দিয়ে চালাচ্ছে নজরদারি

    ইসরায়েলের আয়রন ডোম, যার কিনা বিশ্বজোড়া নাম। সেই আয়রন ডোমের চোখকে ফাঁকি দিচ্ছে হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলের চারিদিকে ঘিরে রয়েছে একগুচ্ছ শত্রু। তাই দেশটা প্রথম থেকেই, কঠোর আকাশ প্রতিরক্ষা সুরক্ষা প্রযুক্তি অর্থাৎ আয়রন ডোম দিয়ে নিজেকে সুরক্ষিত রেখেছে। কিন্তু এভাবে আর কদিন? কারণ, যে ভাবে হিজবুল্লাহ উঠে পড়ে লেগেছে, আর অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজেদের শক্তিশালী করছে, তাতে কিন্তু ইসরায়েলের সামনে বড় বিপদ। মনে করেছে কূটনৈতিক মহলের একাংশ। ইতিমধ্যেই ইসরায়েলের ভিতরে গোয়েন্দা ড্রোন পাঠিয়ে দিয়েছে লেবাননের এই সশস্ত্র গোষ্ঠী। শুধু তাই নয়, ড্রোনটি দিয়ে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের প্রায় সাড়ে ৯ মিনিট একটা ভিডিও করেছে। ভিডিওতে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। যা ইসরায়েলের মাথা ব্যথার অন্যতম কারণ। ইসরায়েলের হাইফা বন্দরে যে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে তার ছবি এখন চলে এসেছে হিজবুল্লাহর কাছে। প্রশ্নটা তো এখানেই, যে আয়রন ডোম নিয়ে ইসরায়েলের এত গর্ব, সেই গর্ব কি তাহলে ভেঙে দেবে হিজবুল্লাহ্?

     

    বিগত বেশ কিছু বছর ধরেই ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ যে রকেট মজুদ করছে, তা দিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন ছিল তেল আবিব। যার জেরে উত্তপ্ত লেবানন আর ইসরায়েলের সীমান্ত। তখন থেকেই মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম তৈরি করার পরিকল্পনা করে ফেলে ইসরায়েল। ২০১১ সাল থেকে কাজ শুরু করে দেয় আয়রন ডোম। আর সেই আয়রন ডোমকেই এবার টক্কর দিতে চলেছে হিজবুল্লাহ। ইতিমধ্যেই উচ্চগতির, কম উড়ন্ত ড্রোন মোতায়েন করে ফেলেছে। গোয়েন্দা পাঠিয়ে দিচ্ছে ইসরায়েলের মধ্যে। সেই ড্রোন ধারণ করছে ইসয়েলেল স্থাপনা গুলোর ভিডিও। ফলতেইসরায়েলিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো স্বাভাবিক। কারণ যখন শত্রুপক্ষ দেশের মধ্যে ঢুকে গতিবিধির ওপর নজর রাখে, তার মানে বুঝতে হবে সেই শত্রুপক্ষ কম শক্তিশালী নয়। হিজবুল্লাহ যে আক্রমণের সমস্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, তা তো আগেই জানা গিয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তুতি যে এতটা সূক্ষ্ম তা বোঝা যায়নি।

     

    আয়রন ডোমকে বলা হয়, বিশ্বের অন্যতম সফল এবং শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এবার তাকেই মাত দিতে চলেছে হিজবুল্লাহ। সত্যি সত্যি যদি আয়রন ডোমের প্রযুক্তি হিজবুল্লাহর কাছে হেরে যায়, তাহলে কিন্তু চাপে পড়বে যুক্তরাষ্ট্রও। কারণ রকেট আর আর্টিনারি হামলার বিরুদ্ধে ব্যাপক কার্যকর এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি তৈরি করেছে ইসরায়েলের রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেম আর ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ। যেখানে সহযোগিতা রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। এত উন্নত একটা প্রযুক্তি কিনা হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা ড্রোনকে ধরতেই পারলো না। উল্টে সেই গোয়েন্দা ড্রোন ইসরায়েলের মধ্যে ঢুকে ভিডিও ধারণ করল। এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। হতবাক দেশটার নিরাপত্তা বিভাগ।

     

    আর কেনই বা হবে না? ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর কাছে নিরাপত্তার দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর স্থানগুলোকে হিজবুল্লাহ চিহ্নিত করে ফেলেছে। প্রকাশিত ফুটেজে রয়েছে নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত ইসরায়েলের দিমোনা আণবিক চুল্লি, তেল আবিবের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রামাত ডেভিড বিমান ঘাঁটি, লেবানন উপকূলের কারিশ গ্যাসক্ষেত্র এবং নেভাতিম বিমানঘাঁটি। এছাড়াও রয়েছে হাকিরিয়া কমপ্লেক্স। যেখানে ইসরায়েল সামরিক বাহিনীর জেনারেল স্টাফ এবং অনেক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার বাড়ি রয়েছে।

     

    •যুদ্ধে জিতবে কে? বিস্ফোরণের রূপ নিচ্ছে ছাই চাপা আগুন

    কূটনৈতিক মহলের ধারণা, যদি লেবাননের ইরানপন্থী সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে ইসরায়েলের পুরোদমে যুদ্ধ বেঁধে যায়, তখন কিন্তু নেতানিয়াহু ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। একই আশঙ্কা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তা। ধারণা করা হচ্ছে, আয়রন ডোম সহ ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ঠিক যতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে তার থেকেও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন রয়েছে হিজবুল্লাহর কাছে। আর তাই হয়তো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুলোর মাধ্যমে হিজবুল্লাহর হামলা পুরোপুরি ঠেকানো যাবে না। প্রশ্নটা উঠছে এখানেই। কারণ হিজবুল্লাহ শুধুমাত্র একটা সশস্ত্র গোষ্ঠী নয়, পিছন থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বড় বড় দেশসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর বড় সাপোর্ট রয়েছে। তাদের থেকে যদি গুচ্ছগুচ্ছ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সহ অস্ত্রের সাপোর্ট পায়, তা ইসরায়েলের সমকক্ষ হতে বেশি সময় লাগবে না। বলা হয়ে থাকে, হিজবুল্লাহ নাকি ইসলামিক জিহাদের থেকেও অনেক বেশি শক্তিশালী। সুনির্দিষ্ট ভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে এমন ক্ষেপণাস্ত্র সহ বহু অস্ত্র দিয়ে বছরের পর বছর এই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সাহায্য করে আসছে ইরান। তাই কূটনৈতিক মহলের ধারণা, হিজবুল্লার কাছে বড়সড় অস্ত্রের মজুদ রয়েছে। আর যেগুলো হামলা ঠেকাতে পারে একমাত্র আয়রন ডোম। কিন্তু এবার জিজ্ঞাসার মুখে সেই আয়রন ডোমও। এমনকি হামাসের থেকেও হিজবুল্লাহর হাতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন রকেটের সংখ্যা বেশি। যার মধ্যে অধিকাংশটাই স্বল্প পাল্লার। যার কিছু কিছু ইসরায়েলের বেশ ভিতরে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। ইসরায়েলি বাহিনীর ধারণা, হিজবুল্লার কাছে আছে প্রায় দেড় লক্ষ ক্ষেপণাস্ত্র আর রকেট।

     

    অপরদিকে মার্কিন সরকারের তথ্য বলছে, হিজবুল্লাহর কাছে আছে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার যোদ্ধা। যদিও এই সশস্ত্র সংগঠনের প্রধান হাসান নাসরাল্লাহর মতে, তাদের সংগঠনে যোদ্ধা সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষেরও বেশি। রয়েছে বিশেষ বাহিনী রেদওয়ান ফোর্সের সদস্যরা। যাদের সিরিয়ায় বাশার আল আসাদ সরকারের পক্ষে লড়াই করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রসঙ্গত বলে রাখি, এই হিজবুল্লার জন্যই কিন্তু একটা সময় ইসরায়েল লেবানন থেকে পিছু হটার বাধ্য হয়েছিল। তাহলে কি, সেই দিন ফিরে আসতে চলেছে? আর তাই হয়ত, যুক্তরাষ্ট্রর কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, যদি বড় আকারে সত্যি যুদ্ধ বেঁধে যায় তাহলে কিন্তু তা ধ্বংসাত্মক রূপ নিতে পারে। কারণ ওদিকে হামাস আর ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ বিরতির সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। বহু আলাপ আলোচনা করেও কোন কাজ হয়নি। উল্টে ইসরায়েল আর হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ছে।

     

    দেখুন, যদি গাজায় একটা যুদ্ধ বিরতি চুক্তি হত, তাহলে কিন্তু ইসরায়েল আর হিজবুল্লাহর মধ্যে হয়ত বা একটা কূটনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে সমস্যাটার সমাধান হত। আর সেই চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন মার্কিন সরকারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিনিধি। কিন্তু সেখানেও যেন কোন আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। হিজবুল্লাহ বহুদিন ধরেই বলছে, গাজায় যতদিন না অস্ত্র বিরতি হবে, ততদিন তারা ইসরায়েলের উপর হামলা চালিয়ে যাবে। তবে সেই ধিকে ধিকে আগুন যে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটবে এ তা কে জানতো।

     

    •ইসরায়েল-হিজবুল্লাহর পুরোনো শত্রুতা, চলছে পাল্টা হুমকি

    ২০০৬ সালেও এই দুই পক্ষ একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে ছিল। সেই সময় ইসরায়েলের ভিতরেও ঢুকে পড়েছিল হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা। লেবাননের রাজনীতিতে যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর। শুধু তাই নয়, দেশটিতে সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী রয়েছে তাদের। গত শতকের আশির দশকে, ইরান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে তৈরি করেছিল এই হিজবুল্লাহ। যাকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তকমা দিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো সহ উপসাগরীয় আরব দেশ, আরব লীগ এবং ইসরায়েল। বহুদিন ধরেই লেবাননের সীমান্তে বিরোধপূর্ণ এলাকাগুলোয় ইসরায়েলের উপস্থিতির বিরোধিতা করছে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের যুক্তি, তাদের মূল লক্ষ্য ইসরায়েলের উত্তরে থাকা লেবানন সীমান্ত থেকে হিজবুল্লাহকে পিছু হটানো। লেবানন সীমান্তে একটা নিরাপদ অঞ্চল তৈরি করা। কারণ হিজবুল্লাহর হামলার কারণে উত্তর ইসরায়েল থেকে বহু বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন। ওই জায়গা নিরাপদ হলে তারা আবার পুনরায় সেই স্থানে ফিরে আসতে পারবেন।

     

    কারণ ইসরায়েলিদের নিজেদের ঘর ফেরাতে চাপে রয়েছে ইসরায়েল সরকার। যদি পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হয় তাহলে নাকি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে লেবাননের এই সশস্ত্র গোষ্ঠী। শোচনীয় পরাজয় ঘটবে লেবাননের। এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাটজ। তিনি লেবাননের বিরুদ্ধে নতুন কৌশল অবলম্বনে সম্ভাবনার কথাও বলেছেন। আবার ওদিকে হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহর যুক্তি, যদি ইসরায়েল লেবাননের উপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়, তাহলে কিন্তু লেবানন কোন নিয়মের তোয়াক্কাই করবে না। যুদ্ধ বাঁধলে ইসরায়েলের কোন স্থানে আর নিরাপদ থাকবে না। শুধু তাই নয়, যদি সাইপ্রাস লেবাননে হামলার জন্য ইসরায়েলকে বিমানবন্দর ব্যবহারের অনুমতি দেয়, সেক্ষেত্রে ওই দেশটাকেও ছাড় দেবে না হিজবুল্লাহ। দুই পক্ষই কিন্তু যথেষ্ট শক্তিশালী, ইসরায়েলের পাশে যেমন পশ্চিমারা রয়েছে, তেমনই হিজবুল্লাহর পাশে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশ। তাই যুদ্ধ হলে তার পরিণাম খুব একটা ভালো হবে না।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Israel in Hezbollah’s trap: হিজবুল্লার ফাঁদে ইসরায়েল ! নাজেহাল আমেরিকাও এবার দূরে সরে যাচ্ছে

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Israel in Hezbollah’s trap: মধ্যপ্রাচ্যে বাঁধবে সবচেয়ে বড় যুদ্ধ, মুখোমুখি ইরান-ইসরায়েল। ইসরায়েল-হামাসের পর আবারো মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা। ভয় পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তড়িঘড়ি সবটা সামলাতে চাইছেন জো বাইডেন। না হলে যে মারাত্মক বিপদ। এবার আর চুপ থাকবে না ইরান। হিজবুল্লাহর ফাঁদে পড়ে গেল না তো ইসরায়েল? ইরান হয়তো এটাই চাইছিল। যুদ্ধে যুদ্ধে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ুক ইসরায়েল। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বের কোন নতুন প্ল্যান? মুহূর্তে সুর পাল্টে ফেলছে যুক্তরাষ্ট্র, এবার আর ঘুরপথে নয়। সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে ইরান-ইসরায়েল! লেবানন তো মাধ্যম মাত্র। মধ্যপ্রাচ্যের ভয়ঙ্কর পরিণতির আঁচ পড়বে যুক্তরাষ্ট্রে। রিস্কে জো বাইডেনের গদি।

     

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়, বানচাল বাইডেনের স্বপ্ন!

    গোটা মধ্যপ্রাচ্য যেন বসে আছে উত্তেজনার কড়াইতে। আবারো বড় যুদ্ধের আশঙ্কা। কিন্তু এবারও সেই ঘুরে ফিরে চলে এল ইসরায়েলের নাম। তবে হামাস বা ফিলিস্তিন নয়, লড়াইটা শুরু হতে পারে লেবাননের সঙ্গে। দুই পক্ষই যুদ্ধের জন্য একদম প্রস্তুত। যে কোনো মুহূর্তে যুদ্ধ বেঁধে যাওয়া সময়ের অপেক্ষা মাত্র। আর একবার যদি ইসরায়েল আর লেবাননের মধ্যে যুদ্ধ বেঁধে যায়, তাহলে গোটা মধ্যপ্রাচ্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতের বাইরে চলে যাবে। তাই তড়িঘড়ি জো বাইডেন ইসরায়েল আর লেবাননের সমস্যা সমাধানের জন্য প্রতিনিধি পাঠালেন ইসরায়েলে। কিন্তু কেনই বা যুক্তরাষ্ট্র এত ভয় পাচ্ছে? আদৌ কি ভয় পাওয়ার কোন কারণ রয়েছে? কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, সামনে ওয়াশিংটনকে ফেস করতে হবে প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে, শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের জেরে ফেল হয়ে যেতে পারে জো বাইডেনের পররাষ্ট্রনীতি। যা বাইডেন সম্পর্কে একটা নেতিবাচক ধারণা তৈরি করবে। হয়ত বা যুক্তরাষ্ট্র এই মুহূর্তে কোন বড় রকমের ঝামেলা চাইছে না।

     

    তার উপর যে মধ্যপ্রাচ্যে এতদিন যুক্তরাষ্ট্র মোড়লগিরি ফলাতে চেয়েছিল, সেই মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশই কিন্তু এখন যুক্তরাষ্ট্রকে মানে না। উল্টে বিরুদ্ধে চলে গিয়েছে। ইসরায়েল আর লেবাননের যুদ্ধ বাঁধা মানে, আবারো সেই দলাদলি। কিন্তু পক্ষ আর বিপক্ষের অঙ্কের সমীকরণে খুব একটা বদল আসবে না। অর্থাৎ লেবাননের পক্ষে থাকবে ইরান ফিলিস্তিন সহ মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশ। ওদিকে ইসরায়েলের সাপোর্টে থাকবে পশ্চিমারা। অনেকটা ইসরায়েল হামাসের যুদ্ধের মতোই পরিস্থিতি। শুধুমাত্র হামাসের পরিবর্তে এখানে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে লেবাননের হিজবুল্লাহ্। গাজা যুদ্ধের প্রথম থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পাশে থেকেও গোটা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিশ্বাস অর্জনের জন্য মাঝেমধ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছে। অস্ত্র দেবে না বলে হুমকিও দিয়েছে। কিন্তু শেষমেষ অটুট রেখেছে তেল আবিব-ওয়াশিংটনের বন্ধুত্ব। যা মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম প্রধান দেশগুলোর কাছে চক্ষুশূল ব্যাপার। এটা প্রথম থেকেই আঁচ করতে পেরেছেন জো বাইডেন। তাই এবারে আর কোন ভুল পদক্ষেপ নয়। তিনি খুব ভালো করে জানেন, যুদ্ধ বাঁধলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র তার ক্ষমতা ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলবে। আর একবার যদি হিজবুল্লাহ্ হামাস সহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো জোট বেঁধে একসাথে ইসরায়েলকে আক্রমণ করে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু দেশের পক্ষে তা ভালো হবে না। বলে রাখা ভাল, ইসরায়েল যথেষ্ট শক্তিধর দেশ। পশ্চিমাদের প্রচুর সাপোর্ট রয়েছে। কিন্তু শত্রু সংখ্যা বেড়ে গেলে, সামাল দেওয়া মুশকিল।

     

    ইসরায়েলকে বোঝাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, নেতানিয়াহু আদৌ শুনবেন তো?

    এই সম্ভাব্য যুদ্ধ যদি না ঠেকানো যায়, তাহলে সত্যি সত্যি এবার মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বলে উঠবে। আর তাই হয়ত যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থামাতে তড়িঘড়ি মাঠে নেমে পড়েছে। বোঝানোর চেষ্টা করছে ইসরায়েলকে। কারণ ইসরায়েল লেবাননে হামলার সমস্ত প্রস্তুতি সেরে রেখেছে। ওদিকে হুঙ্কার ছাড়ছে হিজবুল্লাহ। লেবাননের সাথে ইসরায়েলের শত্রুতা কম নেই। গাজায় হামলার শুরুর পর থেকেই নেতানিয়াহুর সরকার লেবাননের দিক থেকে প্রচুর প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। প্রতিনিয়ত চলছে হিজবুল্লাহ আর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর লড়াই। কিন্তু কি বলুন তো, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের কথা যে অক্ষরে অক্ষরে শুনবে, এমনটা কিন্তু কোনও গ্যারান্টি নেই। এর আগেও যখন যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের মধ্যে একটু মনোমালিন্য চলেছিল। তখন স্পষ্ট বোঝা গিয়েছিল, নেতানিয়াহু স্বার্থের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনকে পাত্তা দেন না। নিজের নীতিতেই চলেন। তাই তিনি যদি মনে করেন, লেবাননের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন তো অবশ্যই যুদ্ধ করবেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কথাকে কোন রকম ভাবেই তোয়াক্কা করবেন না। তার বড় উদাহরণ সাম্প্রতিক সময়। গাজায় যুদ্ধ বিরতি চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কম চেষ্টা করেনি। এমনকি ইসরায়েলকে বারংবার বোঝানোর চেষ্টা করেছে, কিন্তু ইসরায়েল তার সিদ্ধান্তেই অনড়।

     

    পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে বাইডেন চুপ করে বসেও থাকতে পারছেন না। তাই বিশেষ দূত আমোস হোচস্টেইন পাঠিয়েছেন নেতানিয়াহু আর ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের সঙ্গে বৈঠক করতে। হোচস্টেইনকে বাইডেন নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে এই ইসরায়েল আর লেবাননের মধ্যে শত্রুতার ব্লু লাইন কোনভাবেই অতিক্রম না হয়। সেই চেষ্টা চালাতে হবে। হোচস্টেইনের সাথে ছিলেন মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি স্টেফানি হ্যালেট। যদিও বৈঠকে বিস্তারিত কী আলোচনা হয়েছে তা এখনও পর্যন্ত ইসরায়েল সরকার জানায়নি। তবে হোচস্টেইন ইয়োভ গ্যালান্টের সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান বৈঠক করেছেন। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলের মধ্যে জরুরী ভিত্তিতে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন। শুধু তাই নয় , হোচস্টেইন গিয়েছিলেন লেবাননেও। দেশটার রাজধানী বৈরুত সফরে গিয়ে বলেন, ইসরায়েল আর লেবাননের হিজবুল্লাহর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এই সংঘাত চলছে। এই ইস্যু কূটনৈতিকভাবে খুব দ্রুত সমাধান করা জরুরী। পাশাপাশি স্পষ্ট বলেছেন, ওয়াশিংটনে এই অঞ্চলে বড় যুদ্ধ এড়াতে চায়।

     

    ইসরায়েলের ত্রাস হিজবুল্লাহ, লড়াই লাগবে ইরানের সাথে

    বিগত আট মাস ধরে ইসরায়েল এবং লেবাননে একের পর এক চলছে পাল্টাপাল্টি হামলা। ইসরায়েলের উপর এই হামলাগুলো মূলত চালাচ্ছে লেবাননের ইরান সমর্থিত ইসলামিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের ত্রাস হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সশস্ত্র গোষ্ঠী। ইরানের সাথে হিজবুল্লাহর সখ্যতা কিন্তু অত্যন্ত গভীর। তাই তো কূটনৈতিক মহলের আশঙ্কা, যদি লেবানন আর ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধে, আর সেই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে সেখানে ইরান জড়িয়ে পড়তে পারে। এমনি থেকেই হিজবুল্লাহ্কে সমস্ত রকম সাপোর্ট দিয়ে থাকে ইরান। তেহরানের ক্ষমতাতে এত জোর পায় এই সশস্ত্র গোষ্ঠী। না হলে ইসরায়েলের মত শক্তিধর দেশে একটা সশস্ত্র গোষ্ঠীর পক্ষে বারংবার হামলা চালানো অত সহজ ব্যাপার ছিল না। এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা, প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে উচ্চ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা গিয়েছে হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের। ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে তারা যে জোট বাঁধতে একে অপরের সঙ্গে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তা জোর গলায় ঘোষণাও করেছে। আর তাই হয়ত, ভয় পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ লেবানন ইসরায়েলের যুদ্ধ গোটা মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে। যুদ্ধটা তখন শুধু এই দুই পক্ষের মধ্যে থাকবে ন, দলাদলি হয়ে দুভাগ হয়ে যাবে গোটা অঞ্চল। যেখানে এক দিকে থাকবে ইরান সমর্থিত দেশ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। অপরদিকে থাকবে ইসরায়েল সমর্থিত দেশগুলো। লড়াই হবে শেয়ানে সেয়ানে। ইসরায়েল যুদ্ধ করা মানেই পশ্চিমারা জড়িয়ে পড়বে। আর এই মুহূর্তে নির্বাচনের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে যুদ্ধের এত বড় ধকল নেয়া সম্ভব নয়।

     

    আসলে মধ্যপ্রাচ্যে লেবানন-ইসরায়েলের উত্তেজনা ধীরগতির। কিন্তু সমস্যা হল তা ক্রমাগত বাড়ছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে সীমান্তে দুই পক্ষের হতাহতের সংখ্যা আর হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরণ। যা ইসরায়েলের জন্য বড় হুমকি তৈরি করেছে। এই দুই পক্ষের যুদ্ধ প্রায় কয়েক দশক ধরে চলছে। ১৯৮২ সালে ইসরায়েল লেবাননে আক্রমণ চালিয়ে রাজধানী বৈরুত পর্যন্ত ট্যাংক পাঠিয়েছিল। এখানেও কিন্তু ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল লেবাননে থাকা ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের প্রসঙ্গ। তার দীর্ঘ ২২ বছর পর দক্ষিণ লেবানন দখল করে নেয় ইসরায়েল। আর সেই সময় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে হিজবুল্লাহ। ওই অঞ্চল থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয় ইসরায়েল। তারপর থেকেই গোটা বিশ্বে একটা ক্ষমতাশীল সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিতি পেতে থাকে হিজবুল্লাহ্। এই গোষ্ঠীর মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী আধা সামরিক বাহিনী রয়েছে। তারা সবসময় ইসরায়েলকে প্রতিহত করার দায়িত্বে নিজেদের নিয়োজিত করেছে। ইসরায়েলকে বিবেচনা করে এসেছে একটা শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে। তাই তো পশ্চিমা বিশ্বে হিজবুল্লাহকে প্রায়ই সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে গণ্য করা হয়। দুপক্ষ বারংবার দিয়েছে কঠোর বক্তব্য। এর আগেও নেতানিয়াহু স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, যদি কেউ মনে করে, তারা ইসরায়েলের ক্ষতি করবে, তখন কিন্তু ইসরায়েল নীরব থাকবে না। যেভাবেই হোক ইসরায়েল উত্তরের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনবে। অপরদিকে হিজবুল্লাহ্ ইসরায়েলকে দমিয়ে রাখতে বদ্ধপরিকর। এমত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ বাঁধার আশঙ্কা প্রবল।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • হিজবুল্লাকে ভয় পাচ্ছে ইজরায়েল! কতটা ক্ষমতা এই গোষ্ঠীর? যুদ্ধের জন্য রেডি

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    হিজবুল্লা প্রস্তুত যুদ্ধের জন্য চরম হুঁশিয়ারি। হিজবুল্লাকে নিয়ে কেন চাপে ইজরায়েল? কবে থেকে ময়দানে নামছে লেবাননের ফোর্স? হিজবুল্লা যুদ্ধে নামলে ইরান বদলে দেবে চেহারা। এখনও পর্যন্ত যুদ্ধ এক অবস্থায়, কিন্তু একবার হিজবুল্লা বাহিনী ময়দানে নামলে যুদ্ধ নেবে অন্য মোড় এমনটা দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা, কিন্তু কেন? হিজবুল্লার ক্ষমতা কি ইজরায়েলের থেকেও বেশি? নাকি হিজবুল্লার রাজনৈতিক প্রভাব অনেক খেলা বদলে দিতে পারে? এরইমধ্যে বড়সড় ঘোষণা করে দিল হিজবুল্লা বাহিনী ঠিক কবে তারা ইজরায়েলের বিরুদ্ধে রণাঙ্গনে নামছে সোজা তারই ঘোষণা। হিজবুল্লা কারা? কীভাবে এই বাহিনীর উত্থান?

    যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, জাতিসংঘসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যেই হিজবুল্লাহকে এই যুদ্ধ থেকে তফাতে থাকতে সতর্কবার্তা দিয়েছে। এএফপিকে হিজবুল্লাহর উপপ্রধান নাঈম কাসিম জানিয়েছেন হিজবুল্লাহ এসব সতর্কবার্তাকে আমলে নিচ্ছে না। কারা কি বলল, তাতে হিজবুল্লাহর কিছু যায়-আসে না আমরা আমাদের কর্তব্য সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত। লেবাননে গৃহযুদ্ধ চলার সময়ে দেশটিতে শিয়াদের সশস্ত্র গোষ্ঠি হিজবুল্লাহ’র উত্থান হয় গৃহযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে। যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক স্বাধীন গবেষণা সংস্থা কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের এক নিবন্ধে বলা হচ্ছে ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লব হবার পর দেশটির রেভ্যুলশনারি গার্ডের ছত্রছায়ায় গড়ে উঠে হিজবুল্লা। এই গোষ্ঠী জন্ম নেওয়ার পর লেবানন-ইসরায়েলের সমীকরণ অনেকটাই বদলে যায়। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে হিজবুল্লা ব্যাপক বিতর্কের মধ্যেও হিজবুল্লা ১৯৯২ সালের নির্বাচনে অংশ নেয় এবং আটটি আসনে জয়লাভ করে। তাদের উত্থানে অনেকটাই চাপের মুখে পড়ে ইসরায়েল।

    তাদের ঘোষিত নীতিই ছিল ইহুদি রাষ্ট্র ধ্বংসের লক্ষ্যে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে তাড়ানো এবং জেরুজালেম মুক্ত করা। হেযবোল্লাহ’র ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে ২০০০ সালে দখলকৃত উত্তর লেবানন থেকে পুরোপুরি সরে যেতে বাধ্য হয় ইসরায়েল। এর মানে হিজবুল্লার কাছে মাথা ঝোকাতে হয়েছিল ইহুদি রাষ্ট্রকে। এখন লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর উপপ্রধান নাঈম কাসিম জানিয়ে দিয়েছেন বিশ্বের বৃহত্তম এই শিয়া রাজনৈতিক গোষ্ঠী বর্তমানে সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষায়। সেই সময় এলেই ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধে হামাসের পক্ষে যোগ দেবে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা। এক্ষেত্রে ওয়াকিবহাল মহলের মত সেক্ষেত্রে ইরানেরো ভোল বদলে যেতে পারে। ইরান যুদ্ধে সরাসরি অংশ না নিলেও বড় সমর্থন থাকবে। সেক্ষেত্রে ইজরায়েল কি স্ট্র্যাটেজি নেয় সেটাই দেখার।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Exit mobile version