ক্ষমতায় আসার আড়াই মাস পর প্রথমবার আদ্যাপীঠে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

Shubhendu Adhikari at Adyapeath Temple during his first visit after taking office

Shubhendu Adhikari at Adyapeath: নবনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার প্রায় আড়াই মাস পর প্রথমবার আদ্যাপীঠ মন্দিরে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সকাল থেকেই তাঁকে ঘিরে আশ্রম চত্বরে ছিল উৎসাহ ও উদ্দীপনা। সাধু-সন্ত, আশ্রমের কর্মী এবং অনুগামীদের মধ্যে দেখা যায় বিশেষ আগ্রহ।

আদ্যাপীঠে পৌঁছে প্রথমেই সেখানকার শিশুদের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন, পড়াশোনা ও জীবনযাপন সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং কিছুটা সময় তাঁদের সঙ্গে কাটান।

এরপর ঐতিহ্যবাহী মন্দিরে গিয়ে দেবীর আরাধনায় অংশ নেন শুভেন্দু অধিকারী। পুজো দেওয়ার পাশাপাশি আশ্রমের ভোগও গ্রহণ করেন তিনি।

এদিনের কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ছিল নতুন অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার উদ্বোধন। আদ্যাপীঠের উদ্যোগে চালু হওয়া এই পরিষেবার শুভ সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি আশ্রমের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও খোঁজ নেন তিনি।

মঠের অধ্যক্ষ মুরাল ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে প্রণাম করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের বক্তব্যে তিনি সনাতনী প্রতিষ্ঠানগুলির শিক্ষা, চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেবাদানের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিশুদের শিক্ষা, পোশাক ও বইপত্রের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি বিভিন্ন সনাতনী প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার কাজ করে আসছে। খরা, বন্যা, ভূমিকম্প, মহামারি কিংবা দুর্ঘটনার সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ঐতিহ্যের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ তুলে রামকৃষ্ণদেব, শ্রীচৈতন্যদেব ও স্বামী বিবেকানন্দের কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বাংলাকে শুধু সাংস্কৃতিক রাজধানী নয়, আধ্যাত্মিক ভূমি হিসেবেও গড়ে তোলার ভাবনা।

এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিভিন্ন ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থানের উন্নয়নের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। মা অন্নপূর্ণার প্রতিমা ফিরিয়ে আনা, কেদারনাথে আদি গুরু শংকরাচার্যের সমাধিস্থলের পুনর্নির্মাণ, কাশী বিশ্বনাথ ধাম, উজ্জয়িনীর মহাকাল মন্দির এবং অযোধ্যার রাম মন্দিরের প্রসঙ্গ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

আদ্যাপীঠের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির সমস্যার কথাও শোনেন তিনি। প্রতিষ্ঠানগুলির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।

সরকারি সংস্থার লাভের অর্থ ব্যবহার করে এক হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে রান্নাঘর তৈরি, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামের স্কুলগুলিতে যানবাহনের ব্যবস্থা এবং বালিকা বিদ্যালয় ও বালিকা মহাবিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যসুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।

চিকিৎসার জন্য আর্থিকভাবে অসহায় মানুষদের সাহায্য করতে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অর্থ দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। পাশাপাশি স্বামী বিবেকানন্দের জন্মস্থান সিমলার প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য প্রথম বছরে পাঁচ কোটি টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন এবং কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে পাঁচ কোটি টাকার চেক তুলে দেওয়ার কথাও জানান।

প্রায় এক ঘণ্টার আদ্যাপীঠ সফরে পুজো, শিশুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, সাধু-সন্তদের সঙ্গে দেখা, আশ্রমের কর্মকাণ্ডের খোঁজখবর এবং নতুন অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার উদ্বোধন—একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

#ShubhenduAdhikari #Adyapeath #AdyapeathTemple #WestBengal #ChiefMinister #TempleVisit #AmbulanceService #WestBengalPolitics

Exit mobile version