NRS Hospital Nurse Death: এনআরএস হাসপাতালে কর্মরত এক নার্সের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একাধিক প্রশ্ন। স্ত্রীরোগ বিভাগের অ্যান্টিনেটাল ওয়ার্ডের পাশে একটি শৌচালয়ের দরজা ভেঙে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। কিন্তু ঠিক কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, সেই উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া একাধিক ভায়াল, অ্যাম্পিউল ও সিরিঞ্জ তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। যদিও সেগুলির সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্টের দিকেই এখন তাকিয়ে তদন্তকারীরা। একইসঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে তাঁর শেষ কর্মঘণ্টা, সহকর্মীদের সঙ্গে কথাবার্তা, শেষ ফোন যোগাযোগ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ব্যক্তিগত জীবনের কোনও সম্ভাব্য সমস্যার বিষয়ও।
অসম্পূর্ণ ডেথ সার্টিফিকেটেই বদলে যায় পরিস্থিতি
হাসপাতাল সূত্রে জানা যাচ্ছে, ঘটনার দিন ওই নার্সের স্ত্রীরোগ বিভাগে কর্তব্যরত ছিলেন। সহকর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর আচরণে কোনও অস্বাভাবিকতা চোখে পড়েনি। তিনি নিয়মমতো নিজের কাজ করছিলেন। কিন্তু রাত প্রায় ৯টা ৪৫ মিনিট নাগাদ একটি ডেথ সার্টিফিকেট লেখার সময় সেটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় থেকে যায়।
এরপরই আচমকাই তাঁর খোঁজ শুরু হয়। সহকর্মীরা তাঁকে ওয়ার্ডে না পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজতে থাকেন। পরে অ্যান্টিনেটাল ওয়ার্ডের পাশে একটি শৌচালয়ের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর তাঁকে উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়। ভোরের দিকে তাঁর দেহ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা যাচ্ছে।
ভিতর থেকে বন্ধ দরজা, তবু মিলল না কোনও সুইসাইডাল নোট
তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে শৌচালয়ের দরজা। সেটি বাইরে থেকে বন্ধ ছিল না। ভিতর থেকেই দরজা বোল্ট করা অবস্থায় ছিল। ফলে দরজা ভেঙেই নার্সিং স্টাফকে উদ্ধার করতে হয়। এই পরিস্থিতি নিয়েই তদন্তকারীরা বিভিন্ন সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন।
অন্যদিকে, এখনও পর্যন্ত তাঁর কাছ থেকে কোনও সুইসাইডাল নোট পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যাগ বা সঙ্গে থাকা সামগ্রী থেকেও এমন কোনও নোট মেলেনি বলে জানা যাচ্ছে। ফলে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধরে নিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে না। অসুস্থতা, দুর্ঘটনা কিংবা অন্য কোনও কারণ—সব সম্ভাবনাই আপাতত খোলা রাখা হয়েছে।
তাঁর সাম্প্রতিক মানসিক অবস্থা, সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক, ব্যক্তিগত জীবনে কোনও সমস্যা ছিল কি না এবং কোনও সম্পর্কজনিত জটিলতা তৈরি হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভায়াল-সিরিঞ্জে কী ছিল, উত্তর খুঁজছে ফরেনসিক দল
ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু ভায়াল, অ্যাম্পিউল এবং ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জ পাওয়া গিয়েছে। তবে এই সামগ্রীগুলিই মৃত্যুর কারণ—এমন কোনও সিদ্ধান্ত এখনও নেয়নি তদন্তকারী দল। সেগুলি ব্যবহৃত না পুরনো, তার মধ্যের উপাদান কী ছিল, কিংবা সেগুলির কোনওটি ওই নার্স ব্যবহার করেছিলেন কি না, তা পরীক্ষার বিষয়।
হাসপাতালের ওয়ার্ডের শৌচালয়ে চিকিৎসা সংক্রান্ত এমন সামগ্রী পাওয়া সবসময় অস্বাভাবিক নয়। তাই শুধুমাত্র ভায়াল বা সিরিঞ্জ উদ্ধারের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা হচ্ছে না। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করবেন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হবে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পাশাপাশি ফরেনসিক রিপোর্টও এই তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে শরীরে কোনও নির্দিষ্ট পদার্থের উপস্থিতি ছিল কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর সেখান থেকে মিলতে পারে।
শেষ কার সঙ্গে কথা হয়েছিল, খতিয়ে দেখা হচ্ছে ফোন
তদন্তকারীরা ওই নার্সিং স্টাফের ফোনও বাজেয়াপ্ত করেছেন। তাঁর শেষ ফোন কার সঙ্গে হয়েছিল, শেষবার কার সঙ্গে কথা হয়েছিল এবং সেই যোগাযোগের সঙ্গে মৃত্যুর কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফোনের কল ডিটেলসও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
একইসঙ্গে তাঁর শেষ কর্মঘণ্টায় যাঁরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন, সেই সহকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে। তিনি কোনও অস্বাভাবিক আচরণ করেছিলেন কি না, কোনও সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন কি না কিংবা কারও সঙ্গে কোনও বিরোধ হয়েছিল কি না—এসব তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
ওয়ার্ড এবং আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তের আওতায় এসেছে। শৌচালয়ে যাওয়ার আগে তিনি কোথায় ছিলেন, কারও সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল কি না এবং শেষ মুহূর্তে কী ঘটেছিল, তার কোনও সূত্র ক্যামেরার ফুটেজে পাওয়া যায় কি না, সেটিও দেখা হচ্ছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের বাড়ি, দমদমে স্বামীর সঙ্গে থাকতেন
তদন্তে ওই নার্সিং স্টাফের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, তাঁর বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরে। প্রায় এক বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর তিনি স্বামীর সঙ্গে দমদমের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন।
তাঁর পারিবারিক জীবনে সাম্প্রতিক কোনও সমস্যা ছিল কি না, কোনও সম্পর্কজনিত জটিলতা তৈরি হয়েছিল কি না কিংবা ব্যক্তিগত জীবনে কোনও চাপ ছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে এমন কোনও তথ্য সামনে আসেনি, যার ভিত্তিতে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে মৃত্যুর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা যায়।
ময়নাতদন্তেই মিলতে পারে মৃত্যুর আসল কারণ
এই মুহূর্তে তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অপেক্ষা ময়নাতদন্তের রিপোর্টকে ঘিরে। নার্সিং স্টাফের শরীরে কী ঘটেছিল, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া সামগ্রীর সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার ক্ষেত্রে ময়নাতদন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত চালাচ্ছেন হোমিসাইড বিভাগের আধিকারিকরা। স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে। ঘটনাটি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে।
অসম্পূর্ণ ডেথ সার্টিফিকেট থেকে শুরু করে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া, ভিতর থেকে বন্ধ শৌচালয়ের দরজা, ঘটনাস্থলে পাওয়া ভায়াল ও সিরিঞ্জ, কোনও সুইসাইডাল নোট না থাকা, শেষ ফোন যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা প্রশ্ন—সবকিছুকে একসঙ্গে রেখে তদন্ত এগোচ্ছে। এখন ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টের দিকেই নজর। রিপোর্ট সামনে এলেই এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর নেপথ্যে আসলে কী ঘটেছিল, সেই বিষয়ে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যেতে পারে।
#NRSHospital #NurseDeath #KolkataNews #HospitalNews #NurseDeathInvestigation #WestBengalNews #ForensicInvestigation #NursingStaff #KolkataHospital #BreakingNews
