Shikha Inn Hotel Fire: মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যুর ঘটনার পর অবশেষে হোটেলটির মূল মালিক বীরেশ্বর মিত্রকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। শনিবার দুপুরে দক্ষিণ কলকাতার বেহালা, ডায়মন্ড হারবার রোড সংলগ্ন এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
১৯ আগস্টের ওই ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারান নয়জন। নিহতদের মধ্যে একাধিক বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পাঁচতলা ভবনের ভিতরে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি ঘন ধোঁয়ায় পুরো হোটেল ঢেকে যায়। প্রাথমিক ময়নাতদন্তের তথ্য অনুযায়ী, ধোঁয়া শ্বাসনালিতে ঢুকে যাওয়াও মৃত্যুর অন্যতম কারণ হতে পারে। ঘটনার পর থেকেই হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এবার মালিকের গ্রেফতারের পর তদন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছল।
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর অবশেষে গ্রেফতার হোটেল মালিক
১৯ আগস্ট শিখা ইন হোটেলে আগুন লাগার পর থেকেই হোটেলটির মালিক বীরেশ্বর মিত্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। শনিবার পুলিশ তাঁকে বেহালার একটি বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। তদন্তকারীরা এখন হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, অনুমোদন, ব্যবস্থাপনা এবং ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন।
পাঁচতলা ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ার সময় হোটেলের অধিকাংশ আবাসিক ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুনের পাশাপাশি দ্রুত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করলেও সবাইকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনা সম্ভব হয়নি। ফলে হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আদৌ যথাযথ ছিল কি না, সেই প্রশ্নই এখন তদন্তের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।
নয়জনের মৃত্যু, নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও
এই অগ্নিকাণ্ডে মোট নয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার বাসিন্দাদেরও থাকার কথা জানা গিয়েছে।
ঘটনায় বাংলাদেশের সাংবাদিক দেবাশিস দত্তের পরিবারের মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কলকাতায় আসা ওই পরিবারের একাধিক সদস্য এই দুর্ঘটনার শিকার হন বলে জানা গিয়েছে। ফলে দুর্ঘটনাটি শুধু কলকাতায় নয়, বাংলাদেশেও গভীর শোকের আবহ তৈরি করেছে।
প্রাথমিক ময়নাতদন্তের তথ্য অনুযায়ী, আগুনের তাপের পাশাপাশি ঘন ধোঁয়া মৃত্যুর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। আগুন লাগার পর অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো ভবন ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়ায় ঘুমন্ত আবাসিকদের অনেকেই সময়মতো বেরিয়ে আসতে পারেননি।
হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন
শিখা ইন-এর অগ্নিকাণ্ডের পর কলকাতার হোটেল ও অতিথিশালাগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একটি বহুতল হোটেলে আগুন লাগলে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমন পথ, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনার পর প্রশাসনও বিভিন্ন হোটেল ও অতিথিশালার পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। কোথাও নিয়মের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। ফলে শিখা ইন-এর তদন্ত এখন শুধু ওই একটি হোটেলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; শহরের অন্যান্য হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নজরদারির আওতায় আসছে।
একাধিক হোটেলকে নোটিশ, কোথাও বন্ধের নির্দেশ
শিখা ইন-এর ঘটনার পর প্রশাসনিক তৎপরতা আরও বেড়েছে। কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় হোটেল এবং অতিথিশালাগুলির বিরুদ্ধে পরিদর্শন শুরু হয়েছে। প্রায় ২৫টি হোটেল ও অতিথিশালাকে ইতিমধ্যেই নোটিশ বা কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
নিউ মার্কেট-সহ কয়েকটি এলাকায় একাধিক হোটেলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কোথাও নিয়ম না মানার অভিযোগ সামনে এলে হোটেল বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, অগ্নিনিরাপত্তার ক্ষেত্রে সামান্য গাফিলতিও যাতে বড় বিপর্যয়ের কারণ না হয়।
তদন্তের পাশাপাশি বাড়ছে প্রশাসনিক নজরদারি
হোটেল মালিকের গ্রেফতারের পর এখন তদন্তকারীরা ঘটনার সম্পূর্ণ ক্রম খতিয়ে দেখবেন। আগুন কীভাবে লাগল, আগুন ছড়ানোর সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কী ছিল, আবাসিকদের বের করে আনার জন্য কী পদক্ষেপ করা হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না—সব বিষয়ই তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
একইসঙ্গে রাজ্যের অন্যান্য হোটেল ও অতিথিশালাতেও পরিদর্শন চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের এই তৎপরতা মূলত ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্ঘটনা রুখতেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। শিখা ইন-এর ভয়াবহ ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিল, একটি হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তায় সামান্য গাফিলতিও কত বড় প্রাণহানির কারণ হতে পারে।
#ShikhaInnHotelFire #KolkataHotelFire #KolkataNews #HotelFire #KolkataPolice #WestBengalNews #FireInvestigation #HotelOwnerArrest #BreakingNews














