Sheikh Hasina Return to Bangladesh: বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের নিরাপত্তার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, মৃত্যুর ভয় থাকলেও দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান। ইউনূস সরকারের সমালোচনা করে তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দলকে নিষিদ্ধ করা, নির্বাচন থেকে আওয়ামী লীগের ভোটারদের বঞ্চিত করা, বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি, সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ এবং দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিক কথা জানিয়েছেন। ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করেছেন, মহম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং দলকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের ভোটারদের একটি বড় অংশ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। একই সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। দেশে ফেরার প্রসঙ্গে নিজের নিরাপত্তার আশঙ্কার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, “যদি মরেই যাই তাহলে এসব দেখতেও পাব না বুঝতেও পারব না।” এই কথার মাধ্যমে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন, ইউনূস সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে আর কী কী বলেছেন—সাক্ষাৎকারের সেই বক্তব্যগুলিই উঠে এসেছে এখানে।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়া নিয়ে কী বললেন শেখ হাসিনা?
আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করেছেন, মহম্মদ ইউনূস অগণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠার সময় থেকে আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের জন্য লড়াই করে এসেছে। তিনি জানিয়েছেন, নয় বার নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর এবার তিনি নিজে নির্বাচনে দাঁড়াবেন না বলেও দলকে ভোটের অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন।
শেখ হাসিনার দাবি, তাঁর সেই অনুরোধ শোনা হয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংস্থা বা কোনও দেশও এই বিষয়ে সরব হয়নি। বরং তাঁর অভিযোগ, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ভোটের আয়োজন করা হলেও আওয়ামী লীগের ভোটারদের একটি বড় অংশ ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগের ভোটার সংখ্যা ৫০ শতাংশেরও বেশি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে ভোটাধিকার থেকে দূরে রেখে নির্বাচন হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জামায়াতের সংসদে ৭০টি আসন পাওয়ার প্রসঙ্গও তুলেছেন। তাঁর প্রশ্ন, এই পরিস্থিতিকে যদি গণতন্ত্রের প্রক্রিয়া হিসেবে মেনে নেওয়া হয়, তাহলে কি এর মাধ্যমে জামায়াতের প্রসার আরও বাড়ানো হয়নি?
এগুলি শেখ হাসিনার নিজের বক্তব্য এবং অভিযোগ। আনন্দবাজারের ওই সাক্ষাৎকারে তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতেই বিষয়গুলি সামনে এসেছে।
বাংলাদেশে ভারত-বিরোধিতা বাড়ছে কেন, কী বললেন শেখ হাসিনা?
বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী মনোভাব বাড়ছে বলেও সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছেন শেখ হাসিনা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের বিদেশনীতি ছিল স্পষ্ট—সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সুসম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানের কথাও তিনি স্মরণ করেছেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের মধ্যে যদি কোনও নির্দিষ্ট দেশের প্রতি বিদ্বেষ তৈরি হয়, তাহলে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরও সেই পরিস্থিতির দায় নিতে হয়। তাঁর অভিযোগ, রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাই যদি বিদেশ-বিরোধী মনোভাব উসকে দেন, তাহলে তার ফল ভালো হয় না।
এই প্রসঙ্গেই বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী মনোভাব বাড়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন শেখ হাসিনা। তাঁর বক্তব্যে বিদেশনীতি, প্রতিবেশী সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশ—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে উঠে এসেছে।
সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে কী অভিযোগ করলেন শেখ হাসিনা?
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ নিয়েও সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের সময় বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের খবর নিয়মিত সামনে এসেছে এবং সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষও চোখে পড়েছে।
তবে শেখ হাসিনা শুধু ইউনূস সরকারের সময়ের কথা বলেননি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এখনও বাংলাদেশে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে এবং সংবাদমাধ্যমে সব ঘটনা প্রকাশিত হচ্ছে না। সম্প্রতি রংপুরে একটি হিন্দু পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে পরে মিথ্যা বয়ান দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন।
শেখ হাসিনা নিজের সরকারের সময়ের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তাঁদের সময়ে এই ধরনের বিদ্বেষ ছিল না। তখন স্লোগান ছিল—ধর্ম যার যার, উৎসব সকলের। তাঁর দাবি, ঈদের জমায়েতে হিন্দু স্বেচ্ছাসেবক থাকতেন এবং দুর্গাপুজোর সময় মুসলিম স্বেচ্ছাসেবকরাও দায়িত্ব পালন করতেন।
তাহলে হঠাৎ করে বিদ্বেষ এতটা ছড়াল কেন—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে সমস্যার শিকড়ে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ তাঁর মতে, শুধু কোনও একটি ঘটনা নিয়ে আলোচনা না করে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন।
এখানে উল্লেখিত নির্যাতন, হত্যা এবং মিথ্যা বয়ানের বিষয়গুলি শেখ হাসিনার বক্তব্য হিসেবে এসেছে। এগুলিকে তাঁর অভিযোগ হিসেবেই দেখা হয়েছে।
আওয়ামী লীগকে আবার রাজনীতির মূল স্রোতে ফেরাতে কী ভাবছেন?
আওয়ামী লীগকে রাজনীতির মূল স্রোতে ফেরানোর পরিকল্পনা এবং দলের ভিতরে শুদ্ধিকরণের প্রয়োজন রয়েছে কি না—এই প্রশ্নও করা হয়েছিল শেখ হাসিনাকে।
উত্তরে তিনি জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক দল এবং দলটি গণতান্ত্রিক নিয়মেই চলে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দলের ভিতরে নিয়মিত পর্যালোচনা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
তাঁর বিরুদ্ধে এবং আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেই প্রসঙ্গেও প্রশ্ন উঠেছে। শেখ হাসিনা দাবি করেছেন, দুর্নীতির অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ করা হয়নি। একই সঙ্গে মুহাম্মদ ইউনূসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যাঁরা অন্যের দুর্নীতির বিচার করছেন, তাঁদের নিজেদের সম্পত্তি ও সম্পদের বিষয়ও কি খতিয়ে দেখা উচিত নয়?
শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি একসময় ইউনূসকে ভালো মানুষ বলেই জানতেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হন এবং তখন তাঁর বেতন ছিল ছয় হাজার টাকা। এরপর কীভাবে তাঁর বিপুল সম্পত্তি তৈরি হল, সেই প্রশ্নও তুলেছেন শেখ হাসিনা।
তবে এই সম্পত্তি সংক্রান্ত অভিযোগের বিস্তারিত প্রমাণ বা নথি ওই বক্তব্যে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার তোলা প্রশ্ন ও অভিযোগ হিসেবেই সামনে এসেছে।
দেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা, ‘যদি মরেই যাই’ কেন বললেন?
বাংলাদেশ সরকার বারবার তাঁর প্রত্যর্পণের কথা বলছে—এই প্রসঙ্গেও সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করা হয় শেখ হাসিনাকে। উত্তরে তিনি জানান, এবার তিনি নিজেই বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যখন সরকার বারবার তাঁকে দেশে ফেরানোর কথা বলছে, তখন তিনি নিজে ফিরতে চাইলে তাঁকে বাধা দেওয়ার কথা নয়।
দেশে ফিরলে তাঁর কী হতে পারে, সেই আশঙ্কার কথাও আগের মতোই জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। তাঁর বক্তব্য, তিনি বহুবার মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন এবং মৃত্যুর দরজা থেকে ফিরে এসেছেন। এবার যদি মৃত্যুই আসে, তাহলে দেশের মাটিতেই ফিরে গিয়ে মৃত্যুবরণ করতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি।
শেখ হাসিনার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কারাগারে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হচ্ছে এবং দেশের বাইরেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, “যদি মরেই যাই তাহলে এসব দেখতেও পাব না বুঝতেও পারব না।”
এই কথার পরেই তাঁর বক্তব্যের মূল কারণটি সামনে আসে। তিনি জানিয়েছেন, বেঁচে থেকে নিজের চোখের সামনে মানুষের উপর এই পরিস্থিতি দেখতে দেখতে প্রতিবাদ না করে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। অর্থাৎ মৃত্যুর আশঙ্কা থাকলেও দেশের মানুষের পরিস্থিতি নিজের চোখে দেখে চুপ করে থাকার চেয়ে দেশে ফিরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকেই তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন—সাক্ষাৎকারে তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম এমনই।
কেন দেশে ফিরতে চাইছেন, নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে কী জানালেন?
শেখ হাসিনার বক্তব্যে বারবার বাংলাদেশের মানুষের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঝুঁকি তিনি জানেন। দেশে ফিরলে গ্রেফতার হতে পারেন, এমনকি তাঁর সঙ্গে আরও খারাপ কিছু ঘটতে পারে—এই আশঙ্কার কথাও তিনি জানিয়েছেন। তবু তাঁর বক্তব্য, মানুষ যদি সমস্যার মধ্যে থাকে, তাহলে তিনি বাইরে থেকে তা দেখতে চান না।
আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দলের নেতা-কর্মীদের কারাগারে নির্যাতন করে হত্যা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের বাইরে থাকা অবস্থায় তিনি বাংলাদেশের পরিস্থিতি দেখছেন এবং সেই কারণেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার জানিয়েছেন, মানুষ মরণশীল এবং মৃত্যু অনিবার্য। তাই মৃত্যুকে ভয় করে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো থেকে পিছিয়ে যেতে চান না তিনি। তাঁর বক্তব্যে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার আশঙ্কার পাশাপাশি রাজনৈতিক দায়িত্ববোধের কথাও উঠে এসেছে।
তাঁর কথায়, দেশে ফিরে গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং পরিস্থিতির প্রতিবাদ করাই এখন তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই কারণেই নিজের জীবনের ঝুঁকি সম্পর্কেও জানার পরেও বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
#SheikhHasinaReturnToBangladesh #SheikhHasina #BangladeshPolitics #YunusGovernment #SheikhHasinaInterview #BangladeshPoliticalNews #AwamiLeague #BangladeshNews














