Sheikh Hasina Bangladesh Return: মাধ্যম বদলেছে, সাক্ষাৎকার বেড়েছে; কিন্তু ডিসেম্বরের সময়সীমা বদলায়নি। দেশে ফেরা আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফেরা কি একই কথা? লিখেছেন সুব্রত আচার্য ।।
প্রথম কলকাতা: শেখ হাসিনা কি সত্যিই ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরছেন? সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে ডিসেম্বরের প্রথম দিন পর্যন্ত সময় প্রায় ৯০ দিন। ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত ধরলে মোটামুটি ১২০ দিন। ঘোষণা সত্যি হলে এই সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে নিজের দেশে ফিরতে হবে।
কিন্তু ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ কোথায়? যাত্রাপথ বা বিমানের ব্যবস্থা হয়েছে কি? দিল্লি কিংবা ঢাকার সঙ্গে কোনও কথা হয়েছে? তাঁর সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোন কোন নেতা ফিরবেন? কোনও প্রশ্নেরই স্পষ্ট উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি।
শেখ হাসিনা এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের লিখিত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। ১০ জুলাই রয়টার্সকে টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি প্রথম নির্দিষ্টভাবে ডিসেম্বরের কথা বলেন। জানান, বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান। দেশের বাইরে থাকা আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদেরও তাঁর সঙ্গে ফেরার আহ্বান জানান। তবে ঢাকার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা কোনও বিদেশি সরকারের সঙ্গে ফেরার সময় নিয়ে আলোচনার কথা অস্বীকার করেন তিনি।
এরপর ৫ আগস্ট দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবের অনুষ্ঠানে অডিও মাধ্যমে যোগ দিয়ে আবার ডিসেম্বরের কথা বলেন। ডিসেম্বরকে বাংলাদেশের বিজয়ের মাস হিসেবে তুলে ধরেন। সাম্প্রতিক WION অডিও সাক্ষাৎকারেও তাঁর বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনাই গুরুত্ব পেয়েছে।
কথাটি তাই একবার বলা হয়নি। মাধ্যম বদলেছে, সাক্ষাৎকার বেড়েছে, কিন্তু সময়সীমা একই রয়েছে। সেই কারণে ঘোষণাটিকে নিছক আবেগ বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আবার নিশ্চিত সফরসূচি বলার মতো প্রমাণও নেই। নিশ্চিত তথ্য একটিই—শেখ হাসিনা ফেরার ইচ্ছা জানিয়েছেন। আগামী ১২০ দিনের মধ্যে তিনি অবশ্যই ফিরবেন, এই দাবিটি এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
তা হলে একই কথা বারবার বলা হচ্ছে কেন? (Sheikh Hasina Bangladesh Return)
দেশের ভিতরে সভা বা প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচির সুযোগ না থাকলে সাক্ষাৎকার, অডিও বার্তা এবং সমাজমাধ্যমই কোনও নির্বাসিত নেতার রাজনৈতিক মঞ্চ হয়ে ওঠে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। দলের নিবন্ধনও বাতিল। বহু নেতা-কর্মী কারাগারে, আত্মগোপনে অথবা দেশের বাইরে। এই অবস্থায় ‘আমি ফিরছি’ কথাটি কর্মীদের উদ্দেশে একটি বার্তাও হতে পারে—নেতৃত্ব শেষ হয়ে যায়নি, অপেক্ষা করো।
প্রথম আলোর রাজনৈতিক বিশ্লেষণে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার বক্তব্য রয়েছে। তাঁদের অনেকে ডিসেম্বরের কোনও নির্দিষ্ট সাংগঠনিক প্রস্তুতির কথা জানেন না। কারও কারও ধারণা, ঘোষণাটি কর্মীদের মনোবল ধরে রাখা এবং দলের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলার চাপ তৈরির কৌশল।
ডিসেম্বর বেছে নেওয়ার মধ্যেও হিসাব রয়েছে। এটি বাংলাদেশের বিজয়ের মাস। মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিচয় গভীরভাবে যুক্ত। শেখ হাসিনা তাই নিজের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনকে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের মধ্যে আটকে রাখছেন না; বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি আবেগের সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছেন।
এই ঘোষণা বর্তমান সরকারকেও পরীক্ষার সামনে দাঁড় করাচ্ছে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ভারতের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইছে। এখন তিনি বলছেন, তাঁকে ফেরত পাঠাতে হবে না—তিনি নিজেই ফিরবেন এবং আদালতের সামনে দাঁড়াবেন।
ঢাকা ট্রিবিউনের ১১ আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, শেখ হাসিনা ফিরলে তাঁকে পূর্ণ নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় আইনি অধিকার দেওয়া হবে। তবে বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখিও হতে হবে। অর্থাৎ দেশে ফেরার দরজা পুরো বন্ধ নয়। কিন্তু ফিরে স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার সুযোগ বর্তমান আইনি বাস্তবতায় নেই।
ভারতের হিসাবটিও সহজ নয়। শেখ হাসিনা ভারতের নিরাপত্তার মধ্যে থেকে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে ধারাবাহিক বক্তব্য দিচ্ছেন। ৫ আগস্টের অনুষ্ঠান নিয়ে ঢাকা তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সবাল ৭ আগস্ট বলেন, অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি সংস্থা আয়োজন করেছে। ভারত সরকারের কোনও ভূমিকা নেই এবং সেখানে প্রকাশিত মতামত দিল্লি সমর্থনও করে না।
ভারত প্রকাশ্যে দূরত্ব বজায় রাখছে। কিন্তু ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকারের মাত্রা বাড়ায় ঢাকার অস্বস্তিও বাড়ছে। দিল্লির সমর্থনে তাঁর প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি চলছে, এমন কোনও প্রকাশ্য প্রমাণ এখনও নেই। এই দাবিটিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
ভারত ও বাংলাদেশের গণমাধ্যমে একই খবরের দুটি আলাদা ছবি দেখা যাচ্ছে। ভারতীয় প্রতিবেদনে গুরুত্ব পাচ্ছে শেখ হাসিনার ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফেরার ঘোষণা (Sheikh Hasina Bangladesh Return) এবং আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন। বাংলাদেশের গণমাধ্যম সামনে আনছে আদালতের রায়, আত্মসমর্পণ, দলের নিষেধাজ্ঞা এবং প্রস্তুতি নিয়ে সংশয়।
দুটি দেশের দেখার জায়গাও আলাদা। ভারতের কাছে শেখ হাসিনা দীর্ঘদিনের পরিচিত রাজনৈতিক অংশীদার। বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কাছে তিনি আদালতে দণ্ডিত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং নিষিদ্ধ দলের নেত্রী। দিল্লির সংবাদমাধ্যম তাঁর ঘোষণার রাজনৈতিক সম্ভাবনা দেখছে। ঢাকার সংবাদমাধ্যম দেখছে আইনি পরিণতি ও নিরাপত্তার ঝুঁকি।
বারবার ফেরার কথা বলে শেখ হাসিনা ইতিমধ্যেই একটি লক্ষ্য পূরণ করেছেন। তিনি এখনও বাংলাদেশে পৌঁছননি, কিন্তু তাঁকে নিয়ে সরকারকে কথা বলতে হচ্ছে। ভারতকে অবস্থান জানাতে হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যেও আলোচনা চলছে। অর্থাৎ দেশে ফেরার আগেই তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনায় ফিরেছেন।
তবু সবটাই রাজনৈতিক কৌশল, এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া তাড়াহুড়ো হবে। শেখ হাসিনা একাধিকবার ফেরার কথা বলেছেন এবং আদালতে আত্মসমর্পণের কথাও জানিয়েছেন। তিনি সত্যিই ফিরতে পারেন। তার বাস্তব প্রমাণ মিলবে নির্দিষ্ট তারিখ, যাত্রার ব্যবস্থা, দিল্লি–ঢাকার যোগাযোগ এবং অন্য আওয়ামী লীগ নেতাদের দৃশ্যমান প্রস্তুতিতে। এখনও সেগুলির কোনওটিই প্রকাশ্যে আসেনি।
আসল পার্থক্যটি দেশের মাটিতে ফেরা এবং রাজনীতিতে ফেরার মধ্যে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে পৌঁছতে পারেন। তারপর তাঁকে আদালত, আইনি হেফাজত এবং একাধিক মামলার মুখোমুখি হতে হবে। আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে প্রকাশ্য দলীয় রাজনীতির পথও বন্ধ থাকবে।
তাই শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণা সত্য (Sheikh Hasina Bangladesh Return), কিন্তু ডিসেম্বরে নিশ্চিত প্রত্যাবর্তনের প্রকাশ্য প্রমাণ এখনও নেই। আপাতত এটি সফরসূচির চেয়ে বেশি একটি রাজনৈতিক বার্তা। আগামী ৯০ থেকে ১২০ দিনে তাঁর কথার দিকে নয়, পদক্ষেপের দিকেই নজর রাখতে হবে। তিনি কি সত্যিই বাংলাদেশের মাটিতে ফিরবেন, নাকি ‘ফিরছি’ বলতে বলতেই বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রে নিজের নামটিকেই ফিরিয়ে আনবেন—উত্তরটি সেখানেই মিলবে।
#SheikhHasinaBangladeshReturn #SheikhHasina #BangladeshPolitics #BangladeshPoliticalNews #SheikhHasinaReturn #SheikhHasinaDecemberReturn #BangladeshElection #AwamiLeague #AwamiLeagueLeaders #ReutersInterview #BangladeshIndiaRelations #SheikhHasinaNews #BangladeshNews #PoliticalUpdate
বিস্তারিত জানতে অবশ্যই দেখুন প্রথম কলকাতা (PROTHOM KOLKATA) youtube চ্যানেল














