PM Modi BRICS Summit Speech: নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যে উঠে এল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সম্মেলনে তিনি জোর দিলেন মানুষের স্বার্থ, সহযোগিতা, নিরাপত্তা এবং বাস্তব ফলের উপর। বিশেষ করে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির মধ্যে একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ব্রিকসের ঐক্য ও পারস্পরিক ঐকমত্যকে শুধু আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব ফলাফলে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মোদি ভারতের সভাপতিত্বের মূল ভাবনা হিসেবে মানবকেন্দ্রিক এবং মানবতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া নীতির কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে ছিল সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে চলার বার্তা, আবার ছিল বিশ্বের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উন্নয়নশীল দেশগুলির আরও কার্যকর ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথাও। সম্মেলনের মঞ্চে তাঁর বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলি বাংলায় তুলে ধরা হল।
মানবতাকে সামনে রেখেই ভারতের সভাপতিত্ব
ব্রিকস সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথমেই ভারতের সভাপতিত্বের মূল দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে মানুষের প্রয়োজন, নিরাপত্তা এবং উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট ছিল। তিনি জানান, ভারতের সভাপতিত্ব এমন একটি পদ্ধতিকে সামনে রেখেছে, যেখানে সহযোগিতা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল ভাবটি ছিল—
“ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্ব মানুষের কেন্দ্রিক এবং মানবতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া একটি দৃষ্টিভঙ্গির উপর ভিত্তি করে এগিয়েছে। সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্বকে আমরা আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছি।”
মোদির বক্তব্যে এই চারটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ে শুধু কোনও একটি দেশের স্বার্থকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন দেশের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে মানুষের জীবনকে আরও নিরাপদ ও উন্নত করার মতো বাস্তব উদ্যোগ প্রয়োজন।
এই কারণেই ভারতের সভাপতিত্বের সময় ব্রিকসের আলোচনায় শুধু অর্থনীতি বা কূটনীতির মতো প্রচলিত বিষয় নয়, মানুষের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বিষয়গুলিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
ঐক্য থাকলেই হবে না, চাই বাস্তব ফল
ব্রিকসের গত দুই দশকের পথচলার কথাও তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই জোট এখন এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে নিজেদের মধ্যে ঐক্য এবং ঐকমত্যকে বাস্তব ফলাফলে পরিণত করার সময় এসেছে।
মোদির বক্তব্য—
“আজ ব্রিকসও পরিণত হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত দুই দশকে ব্রিকস বিশ্বমঞ্চে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছে।”
তিনি আরও বলেন—
“আমরা একে অপরের মতামতকে সম্মান করি এবং ঐকমত্যের মাধ্যমে এগিয়ে চলি। কারও বিরোধিতা করে নয়, সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।”
এই বক্তব্যের পরেই তিনি ব্রিকসের সামনে পরবর্তী কাজের দিকটি স্পষ্ট করেন। তাঁর মতে, শুধু নিজেদের মধ্যে ঐক্য দেখানো বা একমত হওয়া যথেষ্ট নয়। সেই ঐক্যকে এমন উদ্যোগে পরিণত করতে হবে, যার বাস্তব প্রভাব আন্তর্জাতিক পরিসরে দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়—
“এখন সময় এসেছে ব্রিকসের ভিতরের ঐক্য এবং ঐকমত্যকে বিশ্বমঞ্চে বাস্তব ফলাফলে পরিণত করার।”
অর্থাৎ, ব্রিকসের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং পরে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মধ্যে যেন দীর্ঘ ব্যবধান না থাকে, সেই দিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। উদ্বোধনী বক্তব্যে তাঁর এই বার্তা সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উঠে আসে।
নাবিকদের নিরাপত্তায় নতুন প্রস্তাব মোদির
এবারের বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সমুদ্রপথে কর্মরত নাবিকদের নিরাপত্তা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সমুদ্রপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই পথ ব্যবহার করে পণ্য পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির মধ্যে একটি বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদির এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হল বিভিন্ন সদস্য দেশের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে নাবিকদের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা। তাঁর বক্তব্যে এই বিষয়টি কেবল সমুদ্র নিরাপত্তার একটি আলাদা প্রশ্ন হিসেবে নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত মানুষের নিরাপত্তার অংশ হিসেবেও উঠে আসে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মর্মার্থ ছিল—
“ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির মধ্যে নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে।”
এই প্রস্তাবের মধ্যে দিয়ে সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজ এবং সেখানে কর্মরত মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি ব্রিকসের আলোচনায় আরও গুরুত্ব পেতে পারে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়েছে।
মোদির বক্তব্যে বাণিজ্য ও নিরাপত্তার সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ নিরাপদ সমুদ্রপথ শুধু পণ্য পরিবহণের জন্য নয়, সেই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের নিরাপত্তার জন্যও প্রয়োজন। ফলে নাবিকদের নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে সদস্য দেশগুলির মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের প্রস্তাব তাঁর বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিশ্বের পরিবর্তিত সমীকরণে ব্রিকসের ভূমিকা
উদ্বোধনী বক্তব্যে মোদি ব্রিকসের গত দুই দশকের পরিচয় এবং বর্তমান অবস্থানের কথাও তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, সময়ের সঙ্গে এই জোট একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছে। ফলে এখন ব্রিকসের সামনে নিজেদের ঐক্যকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ছিল—
“গত দুই দশকে ব্রিকস বিশ্বমঞ্চে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছে। আমরা একে অপরের দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান করি এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে এগিয়ে চলি।”
তিনি এমন একটি পদ্ধতির কথাও বলেন, যেখানে কোনও পক্ষকে বাদ দিয়ে বা কারও বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এগোনোর পরিবর্তে সব পক্ষকে সঙ্গে নেওয়ার চেষ্টা থাকবে।
তাঁর বক্তব্য—
“আমরা কারও বিরোধিতা করে এগোতে চাই না। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।”
এই বক্তব্যে ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঐকমত্যের গুরুত্বকে সামনে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বোঝাতে চেয়েছেন, সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে একটি সাধারণ পথ খুঁজে নেওয়াই এই জোটের অন্যতম শক্তি।
সম্মেলনের মঞ্চে মোদির বার্তা, আলোচনার চেয়ে বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ
মোদির উদ্বোধনী বক্তব্যের সামগ্রিক সুর ছিল—ব্রিকসকে শুধু বৈঠক ও ঘোষণার মঞ্চ হিসেবে না রেখে বাস্তব কাজের ক্ষেত্র হিসেবে আরও কার্যকর করে তোলা। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে ঐক্য, সহযোগিতা এবং বাস্তব ফলাফলের কথা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন—
“ব্রিকস এখন এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে আমাদের ঐক্য এবং ঐকমত্যকে বাস্তব ফলাফলে পরিণত করার সময় এসেছে।”
ভারতের সভাপতিত্বের ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কথা উল্লেখ করে তিনি সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এর সঙ্গে নাবিকদের নিরাপত্তার মতো নির্দিষ্ট প্রস্তাব সামনে রেখে তিনি দেখাতে চেয়েছেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আলোচনা মানুষের বাস্তব সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন।
উদ্বোধনী অধিবেশনে তাঁর বক্তব্যে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট ছিল—ব্রিকসের সদস্য দেশগুলি নিজেদের মতপার্থক্যকে সম্মান করেও একসঙ্গে এগোতে পারে। তাঁর মতে, এই জোটের শক্তি কোনও একটি দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার মধ্যে নয়; বরং বিভিন্ন দেশের স্বার্থ ও দৃষ্টিভঙ্গিকে এক জায়গায় এনে ঐকমত্য তৈরি করার মধ্যে।
সেই কারণেই তাঁর বক্তব্যে এসেছে—
“আমরা একে অপরের মতামতকে সম্মান করি এবং ঐকমত্যের মাধ্যমে এগিয়ে চলি।”
এই বার্তার সঙ্গে নাবিকদের নিরাপত্তার প্রস্তাব এবং বাস্তব ফলের উপর জোর দেওয়ার বক্তব্য মিলিয়ে দেখা গেলে, ভারতের সভাপতিত্বে ব্রিকসের আলোচনায় সহযোগিতাকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
নয়াদিল্লির সম্মেলনের উদ্বোধনী মঞ্চে মোদির বক্তব্য তাই শুধু ব্রিকসের অতীতের সাফল্যের কথা বলা নয়। বরং আগামী দিনে এই জোট কীভাবে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, সেই দিকেও তাঁর বক্তব্যের একটি বড় অংশ ছিল। মানুষের নিরাপত্তা, সহযোগিতা, ঐকমত্য এবং বাস্তবায়ন—এই চারটি বিষয় তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রীয় সুর হিসেবে সামনে এসেছে।
#PMModiBRICSSummitSpeech #BRICSSummit2026 #NarendraModi #BRICSSummit #BRICSSeafarersSafety #GlobalSouth #IndiaBRICSPresidency #GEOPOLITICS














