Pakistan Bangladesh Sugar Industry: দীর্ঘদিনের লোকসান ও উৎপাদন সংকটে থাকা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় চিনিশিল্পকে ঘুরে দাঁড় করাতে পাকিস্তানের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রস্তাব সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল চিনিকল পরিদর্শন করে সংস্কার, আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রয়োজন চিহ্নিত করবে।
২১ বছরের অপশাসন থেকে মুক্ত হতে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, ৩০ লাখ বাঙালির জীবনহানী, কয়েক লাখ মা বোনের সম্ভ্রমহানী সেসব আজ অতীত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সাফল্য ধরা দিয়েছে পাকিস্তানের হাতে। ডঃ ইউনূসের কাঁধে ভর করে পরম বন্ধু সেজে বাংলাদেশের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় চিনি শিল্প কঠিন সময় পার করছে। দেশের বেশ কয়েকটি চিনিকল বছরের পর বছর লোকসান গুনছে এবং অনেক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ বা সীমিত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চিনি শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে পাকিস্তান কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এ লক্ষ্যে পাকিস্তানের একটি বিশেষজ্ঞ কারিগরি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে দেশের চিনিকলগুলোর বর্তমান অবস্থা, উৎপাদন সক্ষমতা, যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোগত সমস্যা পর্যালোচনা করবে। পরিদর্শনের মাধ্যমে কোন কারখানায় কী ধরনের সংস্কার, আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে পুরোনো চিনিকলগুলোকে আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলে দেশের চিনি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্পটির লোকসানও কমানো যেতে পারে।
এই সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা বলেছে, পাকিস্তানের হেভি মেকানিক্যাল কমপ্লেক্স (এইচএমসি), টেক্সিলার। প্রতিষ্ঠানটি অতীতে বাংলাদেশের নাটোর ও পাবনায় চিনিকল স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিয়েছিল। প্রতিনিধি দলের কাজ হবে দেশের চিনিকলগুলোর কারিগরি সক্ষমতা যাচাই, পুরোনো যন্ত্রপাতির অবস্থা পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় আধুনিক প্রযুক্তি ও মেরামতের সম্ভাব্য পরিকল্পনা তৈরি করা।
তারা চাইছে, একটি চিনিকলকে শুধু চিনি উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বহুমুখী উৎপাদন ব্যবস্থায় নিয়ে আসা। প্রস্তাবিত সহযোগিতার আওতায় চিনি উৎপাদনের পাশাপাশি আখের উপজাত ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বায়ো-ইথানল তৈরি এবং মানসম্পন্ন জৈব সার উৎপাদনের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে একটি চিনিকল একই সঙ্গে একাধিক পণ্য উৎপাদন করে বাড়তি আয় করতে পারবে। আখ প্রক্রিয়াজাত করার পর অবশিষ্ট বর্জ্য ও উপজাত যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে উৎপাদন খরচের একটি অংশও পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হলে কারখানার নিজস্ব জ্বালানি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
প্রস্তাবিত এ উদ্যোগের আরেকটি দিক হল, বাংলাদেশ সফরকারী পাকিস্তানি কারিগরি প্রতিনিধি দলের যাতায়াত ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের ব্যয় পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বহন করার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা।
#PakistanBangladeshSugarIndustry #PakistanSugarIndustry #BangladeshSugarMills #BangladeshSugarIndustry #PakistanTechnicalAssistance #SugarIndustryCooperation #SugarMillsModernization













