সাসপেন্ড কল্যাণের সঙ্গে বিজেপি সভাপতির কথোপকথন, আচমকা সাক্ষাৎ ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন

Kalyan Banerjee Shamik Bhattacharya Meeting after Lok Sabha suspension sparks political speculation

Kalyan Banerjee Shamik Bhattacharya Meeting: লোকসভার অধিবেশনে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সাসপেন্ড হলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলেরই কয়েকজন সাংসদের সঙ্গে তাঁর বচসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংসদে তৈরি হয় উত্তেজনা। এরপরই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ে বলে দাবি করা হয়েছে। সেই ঘটনার পর তাঁকে অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে, তা নিয়ে বিভিন্ন দাবি সামনে এসেছে।

জানা যাচ্ছে, তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের তিন সাংসদ—কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায় এবং মিতালি বাগের সঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বচসা হয় বলে অভিযোগ। তাঁদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে ঠিক কী কারণে এই তর্কাতর্কির সূত্রপাত, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

অভিযোগকারী সাংসদদের পক্ষ থেকে স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অসংযত ভাষা ব্যবহার এবং আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ তোলা হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে।
এই অভিযোগের পরেই বিষয়টি নিয়ে সংসদে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এরপর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয় এবং তাঁকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার পরেই সামনে আসে আরও একটি ছবি। লোকসভা থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর সংসদ চত্বরের বাইরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
এই ছবিই এখন রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কারণ, লোকসভায় সাসপেন্ড হওয়ার পর একজন তৃণমূল সাংসদকে বিজেপির রাজ্য সভাপতির সঙ্গে এভাবে কথা বলতে দেখা যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন উঠছে।

কী নিয়ে কথা বলছিলেন তাঁরা? সংসদের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েই কি আলোচনা হচ্ছিল? নাকি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেনশন নিয়ে কোনও কথা হয়েছে? নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও রাজনৈতিক বিষয়?

এই মুহূর্তে কোনও প্রশ্নেরই নিশ্চিত উত্তর পাওয়া যায়নি।

তবে ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা আরও বেড়েছে, কারণ সেই সময় সেখানে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

ফলে একই জায়গায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শমীক ভট্টাচার্য এবং মহুয়া মৈত্রের উপস্থিতি নতুন করে রাজনৈতিক চর্চার জন্ম দিয়েছে। এর মধ্যেই রাজনৈতিক মহলের একাংশ থেকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তাহলে কি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিজেপির কোনও রাজনৈতিক যোগাযোগ তৈরি হচ্ছে?

তবে এই ধরনের জল্পনার পক্ষে এখনও কোনও নিশ্চিত প্রমাণ সামনে আসেনি।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন—এমন কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও হয়নি।

শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গেও তাঁর কথোপকথনের বিষয়টি নিয়ে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা সামনে আসেনি।

তাই আপাতত এই সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক জল্পনাই সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একদিকে লোকসভায় সাসপেনশন, অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতির সঙ্গে কথোপকথন—পরপর দুটি ঘটনাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন বাড়ছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে যখন দীর্ঘদিন ধরে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত চলছে, তখন দুই দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতার এমন সাক্ষাৎ আলাদা গুরুত্ব পেতেই পারে।

Exit mobile version