Jharkhand Student Protest: চাকরির পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দাবি এবং পরীক্ষা বাতিলের প্রশ্ন—এই একাধিক ইস্যুকে সামনে রেখে ঝাড়খণ্ডে ছাত্র আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। সোমবার, ১০ অগস্ট, হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী রাঁচিতে ঝাড়খণ্ড বিধানসভার দিকে মিছিল করেন। আন্দোলনের অন্যতম মুখ দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো, যিনি টানা নবম দিন অনশনে রয়েছেন বলে সাম্প্রতিক, শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে অ্যাম্বুল্যান্সে করে সেই মিছিলে যোগ দেন।
ঘটনার গুরুত্ব এখানেই যে, এটি আর শুধু একটি পরীক্ষাকে ঘিরে ক্ষোভের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ঝাড়খণ্ডের সরকারি চাকরির নিয়োগব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, পরীক্ষার নিরপেক্ষতা এবং অভিযোগের তদন্ত নিয়ে বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীরা চাইছেন, অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং যেসব পরীক্ষাকে তাঁরা বিতর্কিত বলে দাবি করছেন, সেগুলির বিষয়ে সরকার স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিক। অন্যদিকে আন্দোলন যত বিধানসভা-কেন্দ্রিক হচ্ছে, ততই রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে।
কেন এত বড় আন্দোলনে নামলেন ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়ারা?
ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। সাম্প্রতিক আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশনের চতুর্দশ প্রাথমিক পরীক্ষা, ঝাড়খণ্ড কর্মী নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ পরীক্ষা এবং আরও কয়েকটি নিয়োগপ্রক্রিয়া। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় এমন কিছু অনিয়ম ও অস্পষ্টতা রয়েছে, যার ফলে বহু পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি, বিতর্কিত পরীক্ষাগুলির বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। এর পাশাপাশি চতুর্দশ লোকসেবা কমিশনের প্রাথমিক পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে স্বচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার দাবিও সামনে এসেছে। এর আগেও রাঁচিতে পড়ুয়ারা মিছিল করে পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির দাবি জানিয়েছিলেন।
অর্থাৎ, আন্দোলনের মূল প্রশ্নটি শুধু চাকরি পাওয়া নয়। পরীক্ষার্থীদের বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে—একটি সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় যদি কোনও অভিযোগ ওঠে, তাহলে তার তদন্ত কীভাবে হবে এবং পরীক্ষার্থীরা কীভাবে নিশ্চিত হবেন যে তাঁদের পরিশ্রম ও মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হয়েছে?
নবম দিনেও অনশন, অ্যাম্বুল্যান্সে বিধানসভা অভিযানে মাহাতো
আন্দোলনের আবেগকে আরও তীব্র করেছে দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোর অনশন। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি টানা নবম দিন অনশনে ছিলেন। দীর্ঘ অনশনের ফলে তাঁর ওজন প্রায় ১০.৫ কেজি কমেছে বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শারীরিক দুর্বলতা সত্ত্বেও তিনি আন্দোলনস্থল থেকে সরে যাননি। বরং অ্যাম্বুল্যান্সে করে বিধানসভা অভিমুখী মিছিলে যোগ দেন।
এই দৃশ্যই আন্দোলনের তীব্রতা বোঝানোর জন্য যথেষ্ট। একজন আন্দোলনকারী শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ার পরেও মিছিলের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—এতে বোঝা যায়, পরীক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে বিষয়টি কতটা গভীর অসন্তোষ তৈরি করেছে।
মাহাতো শুধু ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতা নন, তিনি ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার সঙ্গেও যুক্ত। তাঁর নেতৃত্বে পরীক্ষার্থীদের আন্দোলন গত কয়েক সপ্তাহে রাঁচির বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়েছে। এর আগে জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়াম থেকে আলবার্ট এক্কা চৌক পর্যন্ত পদযাত্রার কর্মসূচিও হয়েছিল।
কী কী দাবি নিয়ে পথে পরীক্ষার্থীরা?
আন্দোলনকারীদের দাবিগুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা এবং কথিত অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত। তাঁরা চতুর্দশ লোকসেবা কমিশনের পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং সেটি বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন। পাশাপাশি কর্মী নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও তাঁদের আপত্তি রয়েছে।
এর আগে ছাত্র সংগঠনগুলির তরফে কথিত অনিয়মের তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবিও উঠেছে। ৩০ জুলাই রাঁচিতে আজসু-র যুব ও ছাত্র সংগঠনের কর্মীরাও এই ইস্যুতে মিছিল করেছিলেন এবং চতুর্দশ লোকসেবা কমিশনের পরীক্ষা বাতিল, তদন্ত এবং দুই নিয়োগ কমিশনের কাজকর্মে সংস্কারের দাবি তুলেছিলেন।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন—পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ এবং প্রশাসনিকভাবে প্রমাণিত অনিয়ম এক বিষয় নয়। আন্দোলনকারীরা যে অভিযোগ তুলছেন, সেগুলির সত্যতা নির্ধারণের জন্য নিরপেক্ষ তদন্তই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও বিষয়টি মূলত ‘অভিযোগ’ হিসেবেই উঠে এসেছে।
বিধানসভা অভিযান ঘিরে বাড়ল রাজনৈতিক চাপ
সোমবারের কর্মসূচিকে ঘিরে আন্দোলনের রাজনৈতিক মাত্রাও স্পষ্ট হয়েছে। হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী বিধানসভার দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একই সময়ে বিরোধী বিজেপির নেতারাও বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়েছেন। বিরোধী দলনেতা বাবুলাল মারান্ডি-সহ কয়েকজন বিজেপি নেতাকে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভের সময় আটক করা হয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ফলে ছাত্রদের নিয়োগ-সংক্রান্ত ক্ষোভ এখন রাজ্য সরকারের জন্য সরাসরি রাজনৈতিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের কাছে তাঁদের দাবির জবাব চাইছেন, অন্যদিকে বিরোধীরা এই ঘটনাকে সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
এই পরিস্থিতিতে ঝাড়খণ্ড সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল আন্দোলনকারীদের অভিযোগের বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ অবস্থান তৈরি করা। শুধু আইনশৃঙ্খলা সামলানো নয়, পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নগুলির উত্তর দেওয়াও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আন্দোলনের শুরু থেকে আজকের পরিস্থিতি কীভাবে বদলাল?
রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় শুরু হয়। ছাত্ররা সেখানে অবস্থান করে নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব হন। পরবর্তী সময়ে পদযাত্রা, বিক্ষোভ এবং বিধানসভা অভিযানের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
২৯ জুলাইয়ের পদযাত্রাতেও পরীক্ষার্থীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দাবি তুলেছিলেন। তখন থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, বিষয়টি দ্রুত বড় আকার নিতে পারে। পরে আন্দোলনের সঙ্গে অনশন যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে।
এখন বিধানসভা অভিযানে হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখিয়ে দিল, বিষয়টি আর কেবল কয়েকজন পরীক্ষার্থীর ক্ষোভের মধ্যে নেই। বৃহত্তর সংখ্যক চাকরিপ্রার্থী এই প্রশ্নে একত্রিত হচ্ছেন।
সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন কী?
ঝাড়খণ্ডের এই আন্দোলনের সামনে এখন মূল প্রশ্ন—সরকার কীভাবে এই অভিযোগের মোকাবিলা করবে? পরীক্ষার্থীরা যদি কোনও পরীক্ষার ফল বা নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাহলে তাঁদের অভিযোগের দ্রুত, স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্য নিষ্পত্তি প্রয়োজন। কারণ সরকারি চাকরির পরীক্ষা শুধু একটি পরীক্ষার বিষয় নয়; এর সঙ্গে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর সময়, অর্থ, প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ জড়িয়ে থাকে।
একটি নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলতে থাকলে তার প্রভাব পরীক্ষার্থীদের মানসিক চাপের উপরও পড়ে। ফলে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট তথ্য, তদন্তের সময়সীমা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের ঘোষণা আন্দোলন প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের কাছেও দায়িত্ব রয়েছে—বিক্ষোভ যেন শান্তিপূর্ণ থাকে এবং কোনও ধরনের হিংসা বা জনজীবন বিপর্যয়ের পরিস্থিতি তৈরি না হয়। দাবি যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক, তার গ্রহণযোগ্যতা অনেকটাই নির্ভর করে আন্দোলনের পদ্ধতির উপর।
মাহাতোর অ্যাম্বুল্যান্সে যোগ দেওয়া কেন তাৎপর্যপূর্ণ?
সোমবারের সবচেয়ে আলোচিত দৃশ্যগুলির একটি ছিল অ্যাম্বুল্যান্সে করে দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোর মিছিলে যোগ দেওয়া। দীর্ঘ অনশনের কারণে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও তিনি আন্দোলনের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এটি আন্দোলনের প্রতীকী ছবিতে পরিণত হয়েছে। কারণ এখানে একদিকে রয়েছে চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ, অন্যদিকে আন্দোলনের নেতৃত্বের দৃঢ়তা। তবে একই সঙ্গে দীর্ঘ অনশন যে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে, সেই বিষয়টিও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
এই মুহূর্তে তাই শুধু রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, আন্দোলনকারীদের স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সামনে কোন পথে যাবে ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলন?
এখন নজর থাকবে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। পরীক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে সরকার কোনও আলোচনার পথে যায় কি না, অভিযোগগুলির তদন্ত নিয়ে নতুন কোনও সিদ্ধান্ত নেয় কি না এবং বিতর্কিত পরীক্ষাগুলির ভবিষ্যৎ কী হবে—এই প্রশ্নগুলির উত্তরই পরবর্তী পর্বের গতিপথ ঠিক করবে।
ইতিমধ্যেই আন্দোলন রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীদের একটি বড় অংশকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। আর দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোর অনশন ও অ্যাম্বুল্যান্সে করে মিছিলে যোগ দেওয়া আন্দোলনের আবেগকে আরও বাড়িয়েছে।
#JharkhandStudentProtest #JharkhandStudentMovement #RanchiProtest #JharkhandPSC #JSSC #DevendranathMahto #StudentProtest #GovernmentJobs #RecruitmentExam #JharkhandNews













