Digha Hilsa: ইলিশপ্রেমীদের জন্য অবশেষে এল স্বস্তির খবর। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দিঘার সমুদ্রে ফের দেখা মিলছে ইলিশের। রবিবার দিঘা মোহনায় একদিনেই প্রায় ৪০ টন ইলিশ ওঠার দাবি করেছেন মৎস্যজীবীরা। শুধু তাই নয়, গত দু’দিন মিলিয়েও বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই খুশি মৎস্যজীবী, আড়তদার এবং মাছ ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিন ধরে ইলিশের আশায় সমুদ্রে পাড়ি দিয়েও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ার পর এবার যেন জালে ফিরেছে সেই রুপোলি ফসল। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে আগামী দিনে ইলিশের জোগান আরও বাড়তে পারে বলেই আশা করছেন মৎস্যজীবীরা। আর জোগান বাড়লে বাজারে ইলিশের দামও কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে দিঘার এই ইলিশ খুব শীঘ্রই কলকাতা-সহ আশপাশের বাজারেও পৌঁছে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর দিঘার জালে ফের ইলিশ
ইলিশের মরশুম শুরু হলেও এবার প্রথম দিকে সেই অর্থে আশানুরূপ ইলিশের দেখা মিলছিল না। মৎস্যজীবীদের মধ্যে তাই তৈরি হয়েছিল উদ্বেগ। মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা শেষ হওয়ার পর জুন মাস থেকেই ইলিশের খোঁজে সমুদ্রে পাড়ি দিতে শুরু করেছিলেন মৎস্যজীবীরা। কিন্তু প্রথম দফায় অনেককেই প্রায় খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল।
জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে কিছুটা ইলিশের দেখা মিললেও সেই পরিমাণ আশাব্যঞ্জক ছিল না। কখনও ২৫ থেকে ৩০ টন ইলিশ উঠেছে, আবার পরবর্তী সময়ে সেই জোগান একেবারেই কমে গিয়েছিল। ফলে বাজারে ইলিশের জোগান নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ক্রেতাদের মধ্যেও অপেক্ষা ছিল—কবে আবার বাজার ভরবে রুপোলি শস্যে?
সেই অপেক্ষার মধ্যেই সম্প্রতি আবহাওয়ার পরিস্থিতির উন্নতি হয়। সমুদ্রে নামতে শুরু করেন আরও বেশি সংখ্যক মৎস্যজীবী। হাজারেরও বেশি ট্রলার ইলিশের সন্ধানে সমুদ্রে পাড়ি দেয়। আর তার পরেই বদলাতে শুরু করে পরিস্থিতি। জালে ধরা পড়তে শুরু করে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ।
একদিনেই প্রায় ৪০ টন, খুশি মৎস্যজীবী থেকে ব্যবসায়ী
রবিবার দিঘা মোহনায় প্রায় ৪০ টন ইলিশ ওঠার দাবি করেছেন মৎস্যজীবীরা। গত দু’দিন ধরেই ইলিশের আমদানি বাড়তে শুরু করেছে বলে তাঁদের বক্তব্য। ফলে দিঘার মৎস্যবন্দর এবং আশপাশের বাজারে এখন তৈরি হয়েছে উৎসবের মতো পরিবেশ।
দীর্ঘদিন পরে জালে এতটা ইলিশ ওঠায় মৎস্যজীবীদের মুখে যেমন হাসি ফিরেছে, তেমনই খুশি মাছ ব্যবসায়ীরাও। কারণ ইলিশের জোগান বাড়লে বাজারে মাছের ঘাটতি কিছুটা কমবে। একইসঙ্গে ক্রেতাদের চাহিদা মেটানোও সহজ হবে।
মৎস্যজীবীদের আশা, এই প্রবণতা যদি আগামী কয়েক দিনও বজায় থাকে, তাহলে আরও বেশি ইলিশ ধরা পড়তে পারে। সমুদ্রে ইলিশের ঝাঁকের আনাগোনা শুরু হয়েছে বলেও মৎস্য দপ্তরের এক আধিকারিকের বক্তব্য সামনে এসেছে। ফলে এবারের মরশুমে ভালো পরিমাণ ইলিশ পাওয়ার আশা আরও জোরালো হয়েছে।
বাজারে কত দামে বিকোচ্ছে ইলিশ?
ইলিশের জোগান বাড়লেও আপাতত তার দাম একেবারে কমে যায়নি। দিঘা মোহনা এবং আশপাশের বাজারে বিভিন্ন ওজন অনুযায়ী ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে রুপোলি শস্য। ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম বর্তমানে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
এর চেয়ে বেশি ওজনের ইলিশের দামও স্বাভাবিকভাবেই বেশি। প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা দরে। আবার এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশের দাম উঠছে প্রায় ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত। এমনকী প্রায় দেড় কেজি ওজনের ইলিশও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে মৎস্যজীবীদের বক্তব্য, এখনই দামের দিকে তাকিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নয়। যদি সমুদ্রের আবহাওয়া ভালো থাকে এবং নিয়মিতভাবে বড় পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়তে থাকে, তাহলে বাজারে জোগান বাড়বে। আর জোগান বাড়লে স্বাভাবিক নিয়মেই দাম কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
কেন এত দেরিতে ইলিশের দেখা মিলল?
এবার ইলিশের জন্য এতটা অপেক্ষা করতে হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ ছিল মাছ ধরার উপর নির্দিষ্ট সময়ের নিষেধাজ্ঞা। সেই নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর জুন মাস থেকেই মৎস্যজীবীরা সমুদ্রে নামতে শুরু করেন। কিন্তু প্রথম কয়েক দফায় প্রত্যাশিত পরিমাণে ইলিশ জালে ওঠেনি।
জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে পরিস্থিতি কিছুটা বদলালেও তাতেও আশানুরূপ সাফল্য মেলেনি। ২৫ থেকে ৩০ টনের মতো ইলিশ ওঠার পর ফের জোগান কমে যায়। একসময় কার্যত ইলিশের পরিমাণ শূন্যের কাছাকাছি চলে যায় বলে মৎস্যজীবীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়।
এরপর আবহাওয়া ধীরে ধীরে অনুকূল হতে শুরু করে। সমুদ্রের পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হওয়ায় নতুন করে বড় সংখ্যায় ট্রলার সমুদ্রে নামানো হয়। হাজারেরও বেশি ট্রলার ইলিশের সন্ধানে সমুদ্রে যায়। সেই অভিযানের ফলেই এবার জালে ফিরতে শুরু করেছে কাঙ্ক্ষিত রুপোলি ফসল।
অর্থাৎ শুধু মাছের উপস্থিতিই নয়, আবহাওয়ার পরিস্থিতিও ইলিশ ধরার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিয়েছে। এখন সেই অনুকূল পরিস্থিতি কতদিন স্থায়ী হয়, তার উপরই অনেকটাই নির্ভর করছে আগামী দিনের ইলিশের জোগান।
সমুদ্রে শুরু হয়েছে ইলিশের ঝাঁকের আনাগোনা
মৎস্য দপ্তরের এক আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, সমুদ্রে ইলিশের ঝাঁকের আনাগোনা শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে সেই ঝাঁকের পরিমাণও বাড়ছে বলে আশা করা হচ্ছে। আর এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে চলতি মরশুমে মৎস্যজীবীদের জালে আরও বেশি ইলিশ ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই খবর মৎস্যজীবীদের কাছে যেমন আশার, তেমনই ইলিশপ্রেমীদের কাছেও স্বস্তির। কারণ বাজারে ইলিশের জোগান বাড়লে শুধু মাছের প্রাপ্যতাই বাড়বে না, দামও কিছুটা নাগালের মধ্যে আসতে পারে।
দিঘার মৎস্যজীবীদের একাংশের আশা, আগামী দিনে আবহাওয়া যদি বাধা না দেয়, তাহলে আরও বড় বড় ইলিশ ধরা পড়বে। ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণ মাছ ওঠায় সেই সম্ভাবনাই আরও জোরালো হয়েছে।
দিঘার ইলিশ এবার পৌঁছবে কলকাতার বাজারেও?
দিঘা মোহনায় ইলিশের আমদানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই এবার নজর কলকাতার বাজারের দিকে। দিঘায় যদি নিয়মিতভাবে বড় পরিমাণে ইলিশ উঠতে থাকে, তাহলে সেই মাছ খুব শীঘ্রই কলকাতা-সহ আশপাশের বিভিন্ন বাজারে পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতার ইলিশপ্রেমীদের কাছে এই খবর নিঃসন্দেহে স্বস্তির। কারণ দীর্ঘ অপেক্ষার পর বাজারে দেশীয় ইলিশের জোগান বাড়লে পছন্দের মাছ কেনার সুযোগও বাড়বে। একইসঙ্গে দাম যদি কিছুটা কমে, তাহলে মধ্যবিত্ত পরিবারের পাতে ইলিশ ফেরার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
তবে সবটাই নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া এবং সমুদ্রের পরিস্থিতির উপর। আবহাওয়া প্রতিকূল হয়ে গেলে ফের মাছ ধরার কাজে বাধা আসতে পারে। আর আবহাওয়া অনুকূল থাকলে আরও বেশি ট্রলার সমুদ্রে নামবে এবং ইলিশের জোগান আরও বাড়তে পারে।
আগামী দিনের আশা কতটা?
এই মুহূর্তে দিঘার সমুদ্রে ইলিশের যে প্রত্যাবর্তন দেখা যাচ্ছে, তা মৎস্যজীবীদের কাছে বড় আশার খবর। একদিনে প্রায় ৪০ টন ইলিশ ওঠার দাবি এবং গত দু’দিনে বিপুল আমদানি প্রমাণ করছে যে পরিস্থিতি আগের তুলনায় বদলেছে। সমুদ্রে ইলিশের ঝাঁকের উপস্থিতি বাড়ার খবরও সেই আশাকে আরও শক্তিশালী করছে।
এখন মৎস্যজীবীদের অপেক্ষা শুধু একটাই—এই পরিস্থিতি যেন বজায় থাকে। আবহাওয়া ভালো থাকলে আগামী দিনে আরও অনেক বেশি ইলিশ জালে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেই সম্ভাবনা বাস্তব হলে শুধু দিঘার মৎস্যবন্দর নয়, কলকাতার বাজারও ভরে উঠতে পারে রুপোলি শস্যে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পরে তাই দিঘার সমুদ্রে ইলিশের এই প্রত্যাবর্তন শুধু মৎস্যজীবীদের মুখে হাসি ফেরাচ্ছে না, ইলিশপ্রেমীদের মনেও জাগাচ্ছে নতুন আশার আলো। এখন দেখার, আগামী কয়েক দিনে এই রুপোলি ফসলের জোগান কতটা বাড়ে এবং তার প্রভাব বাজারদরে কতটা পড়ে।
#DighaHilsa #HilsaFish #HilsaSeason #DighaMohana #HilsaPrice #WestBengal #HilsaFishing #FishMarket













