India Pakistan Warship Collision: উত্তর আরব সাগরে ভারত ও পাকিস্তানের দুই নৌযানের সংঘর্ষকে ঘিরে ফের কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বরের ওই সংঘর্ষের এক দিন পর পাকিস্তান ভারতের নৌবাহিনীকে ঘটনার জন্য দায়ী করেছে এবং ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের বক্তব্য সম্পূর্ণ বিপরীত। ভারতের দাবি, পাকিস্তানের নৌযান ভারতীয় যুদ্ধজাহাজকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও অনুসরণ করছিল এবং অত্যন্ত কাছাকাছি চলে আসার পর সংঘর্ষ ঘটে।
এই ঘটনার সঙ্গে ২০১১ সালের একটি পুরনো নৌ-সংঘর্ষের মিলও তুলে ধরেছে দ্য উইক পত্রিকার প্রতিবেদন। ২০১১ সালের ১৬ জুন ভারত ও পাকিস্তানের নৌযানের মধ্যে একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময়ও পাকিস্তান ভারতীয় নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল এবং ভারত কূটনৈতিক স্তরে তার প্রতিবাদ জানিয়েছিল। দ্য উইক-এর প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক ঘটনাকে ১৫ বছর আগের সেই ঘটনার সঙ্গে তুলনা করে দুই দেশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং কূটনৈতিক পদক্ষেপের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
উত্তর আরব সাগরে ঠিক কী ঘটেছিল (India Pakistan Warship Collision)
দ্য উইক পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান নৌবাহিনী যখন তাদের দ্বিবার্ষিক মহড়ার আয়োজন করছিল, তখন উত্তর আরব সাগরে ভারতীয় ও পাকিস্তানি নৌযানের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পাকিস্তানের বিদেশ দফতর এই ঘটনার জন্য ভারতীয় নৌযানকে দায়ী করেছে।
পাকিস্তানের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের নৌবাহিনী ওই সময় নির্ধারিত মহড়ায় অংশ নিচ্ছিল। সেই সময় ভারতীয় নৌযান একটি পাকিস্তানি নৌযানের অত্যন্ত কাছাকাছি গিয়ে আক্রমণাত্মক ধরনের গতিবিধি চালায়। পাকিস্তানের বিদেশ দফতরের দাবি, এই বিপজ্জনকভাবে কাছাকাছি চলে আসার ফলেই দুই নৌযানের মধ্যে ধাক্কা লাগে।
পাকিস্তান আরও দাবি করেছে, ঘটনাটি তাদের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অধিকারের আওতাভুক্ত সমুদ্র এলাকায় ঘটেছে। সেই কারণেও ঘটনাটিকে তারা গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে। তাদের বক্তব্যে আন্তর্জাতিক আইন এবং ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৯১ সালের সামরিক মহড়া, সামরিক গতিবিধি ও সেনা চলাচলের বিষয়ে করা চুক্তির প্রসঙ্গও উঠে এসেছে।
পাকিস্তানের বিদেশ দফতর জানিয়েছে, তাদের অভিযোগ শুধু সমুদ্রপথে দুই নৌযানের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে নয়। তাদের দাবি, ভারতীয় নৌযানের আচরণ আন্তর্জাতিক আইনের পাশাপাশি ১৯৯১ সালের দুই দেশের চুক্তিরও লঙ্ঘন করেছে।
এই অভিযোগের পর ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারের কাছে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়। দ্য উইক-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের খবর সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনের সূত্রে সামনে আসে।
ভারতের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা (India Pakistan Warship Collision)
পাকিস্তানের অভিযোগের সঙ্গে ভারতের বক্তব্যের মিল নেই। দ্য উইক-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত এই ঘটনার জন্য পাকিস্তানের নৌযান পিএনএস হুনাইনকে দায়ী করেছে।
ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের ওই নৌযান ভারতীয় নৌযানকে সক্রিয়ভাবে অনুসরণ করছিল। ভারতীয় পক্ষ থেকে একাধিকবার সতর্ক করার পরেও পাকিস্তানের নৌযান তার গতিবিধি বন্ধ করেনি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর পরেই দুই নৌযানের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংঘর্ষের ফলে পাকিস্তানের ইয়রমুক শ্রেণির ওই নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর কলকাতা শ্রেণির যুদ্ধজাহাজকে পাকিস্তানের নৌযানটি অনুসরণ করছিল বলে ভারতীয় বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, একই ঘটনার বিষয়ে দুই দেশের বক্তব্য একেবারেই বিপরীত। পাকিস্তানের দাবি, ভারতীয় নৌযান বিপজ্জনকভাবে কাছাকাছি এসে আক্রমণাত্মক গতিবিধি চালিয়েছিল। অন্যদিকে, ভারতের বক্তব্য, পাকিস্তানের নৌযানই ভারতীয় যুদ্ধজাহাজকে অনুসরণ করে বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে কাছাকাছি চলে এসেছিল।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকও বিষয়টি নিয়ে ইসলামাবাদের প্রতিনিধির কাছে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছে। ১৯৯১ সালের চুক্তি লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরে ভারতের পক্ষ থেকেও কূটনৈতিক স্তরে আপত্তি জানানো হয়েছে।
১৯৯১ সালের চুক্তির প্রসঙ্গ কেন উঠল (India Pakistan Warship Collision)
দ্য উইক-এর প্রতিবেদনে বর্তমান সংঘর্ষের ক্ষেত্রে ভারত ও পাকিস্তানের ১৯৯১ সালের চুক্তির উল্লেখ বিশেষভাবে করা হয়েছে। ওই চুক্তির বিষয় ছিল সামরিক মহড়া, সামরিক গতিবিধি এবং সেনা চলাচলের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আগাম তথ্য জানানোর ব্যবস্থা।
পাকিস্তানের বিদেশ দফতর দাবি করেছে, বর্তমান ঘটনায় ওই চুক্তির বিধানও লঙ্ঘিত হয়েছে। অন্যদিকে, ভারতও পাকিস্তানের নৌযানের আচরণের বিরুদ্ধে একই চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ফলে সমুদ্রের একটি সংঘর্ষ শুধু দুই নৌযানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। দুই দেশই নিজেদের বক্তব্যের পক্ষে একই চুক্তির উল্লেখ করেছে এবং কূটনৈতিক স্তরে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। দ্য উইক-এর প্রতিবেদনে এই বিষয়টিকেই ২০১১ সালের ঘটনার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির অন্যতম মিল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বর্তমান ঘটনায় পাকিস্তান বলেছে, ভারতীয় নৌযান তাদের নৌযানের বিপজ্জনকভাবে কাছাকাছি এসে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। ভারত আবার বলেছে, পাকিস্তানের নৌযানই ভারতীয় যুদ্ধজাহাজকে অনুসরণ করছিল এবং বারবার সতর্ক করার পরেও সরে যায়নি। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্যেই ১৯৯১ সালের চুক্তির বিষয়টি দুই পক্ষের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
১৫ বছর আগেও ঘটেছিল একই ধরনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন (India Pakistan Warship Collision)
দ্য উইক-এর প্রতিবেদনে ২০১১ সালের ১৬ জুনের একটি ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সময় পাকিস্তান ভারতীয় নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল যে, ভারতীয় নৌবাহিনী তাদের নৌযান পিএনএস বাবরের দিকে বন্ধুত্বপূর্ণ নয়, এমন আচরণ করেছিল।
পাকিস্তানের সেই সময়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতীয় নৌবাহিনীর ওই আচরণের কারণেই পিএনএস বাবর দ্রুত গতিতে ভারতীয় নৌযানের কাছে চলে এসেছিল। এর ফলে ভারতীয় নৌবাহিনীর আইএনএস গোদাবরীর হেলিকপ্টার ওঠানামার জায়গার চারপাশে থাকা নিরাপত্তা জালের একটি অংশ সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, ২০১১ সালের ঘটনাতেও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভারতীয় নৌবাহিনীর আচরণকে ঘটনার কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। বর্তমান ঘটনার মতোই সেই সময়ও দুই দেশের বক্তব্যের মধ্যে বড় পার্থক্য ছিল।
২০১১ সালের ওই ঘটনার সঙ্গে আরও একটি বিষয় জড়িয়ে ছিল। পাকিস্তান তখন দাবি করেছিল, ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্মকাণ্ডের কারণে এমভি সুয়েজ নামের একটি পণ্যবাহী জাহাজে থাকা নাবিকদের নিরাপত্তা বিপন্ন হয়েছিল। ওই জাহাজটি জলদস্যুদের হামলার শিকার হয়েছিল এবং পাকিস্তানের নৌযান পিএনএস বাবর তখন সেটিকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল বলে দ্য উইক-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
২০১১ সালে ভারতের প্রতিবাদও ছিল কূটনৈতিক স্তরে (India Pakistan Warship Collision)
২০১১ সালের ঘটনায় পাকিস্তানের অভিযোগের পর ভারতও কূটনৈতিক স্তরে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। দ্য উইক-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত সেই সময় নিজেদের বক্তব্যের সমর্থনে ছবিও দিয়েছিল।
ভারতের বক্তব্য ছিল, তাদের নৌযান আইএনএস গোদাবরী ওই পণ্যবাহী জাহাজে থাকা ছয়জন ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছিল। ভারত এই কারণেই তাদের নৌযানের সেখানে উপস্থিতি ও গতিবিধির ব্যাখ্যা দিয়েছিল।
ভারত আরও দাবি করেছিল, সেই ঘটনায় পাকিস্তানের নৌবাহিনীর কর্মকাণ্ড ১৯৯১ সালের চুক্তির বিধান লঙ্ঘন করেছিল। অর্থাৎ, ২০১১ সালের ঘটনাতেও ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একই চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
এই জায়গাতেই ২০২৬ সালের ঘটনার সঙ্গে ২০১১ সালের ঘটনার মিল তুলে ধরেছে দ্য উইক। ১৫ বছর আগে সমুদ্রপথে দুই দেশের নৌযানের একটি সংঘর্ষের পর পাকিস্তান ভারতীয় নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল এবং ভারত তার প্রতিবাদ করেছিল। এবারও সংঘর্ষের পর পাকিস্তান ভারতীয় নৌযানকে দায়ী করেছে এবং ভারত পাল্টা পাকিস্তানের নৌযানের আচরণ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
বর্তমান সংঘর্ষ ঘিরে দুই দেশের দুই দাবি (India Pakistan Warship Collision)
বর্তমান ঘটনায় পাকিস্তানের বিদেশ দফতরের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের নৌবাহিনী যখন নির্ধারিত মহড়া চালাচ্ছিল, তখন ভারতীয় নৌযান একটি পাকিস্তানি নৌযানের অত্যন্ত কাছাকাছি গিয়ে আক্রমণাত্মক গতিবিধি চালায়। পাকিস্তানের দাবি, এর ফলেই সংঘর্ষ ঘটে এবং ঘটনাটি তাদের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অধিকারের আওতাভুক্ত এলাকায় হয়েছিল।
ভারতের বক্তব্য আবার সম্পূর্ণ বিপরীত। ভারতের দাবি, পাকিস্তানের নৌযান পিএনএস হুনাইন ভারতীয় কলকাতা শ্রেণির যুদ্ধজাহাজকে অনুসরণ করছিল এবং বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও কাছাকাছি চলে আসে। এরপর সংঘর্ষ ঘটে এবং পাকিস্তানের ইয়রমুক শ্রেণির নৌযানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুই পক্ষই নিজেদের বক্তব্যের ক্ষেত্রে ১৯৯১ সালের চুক্তির প্রসঙ্গ তুলেছে। পাকিস্তান বলেছে, ভারতীয় নৌযানের আচরণ ওই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। ভারতও পাল্টা পাকিস্তানের নৌযানের আচরণকে ওই চুক্তির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
#indiapakistanwarshipcollision #indiannavy #pakistannavy #inskolkata #pnshunain #indiapakistanrelations #arabiansea #navalcollision #diplomaticprotest #2011collision













