Hanim Mondal Pakistan Link: হামিম মণ্ডল ও অর্পিতা সরকারের বিরুদ্ধে তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে বলে জানিয়েছেন রাজ্য এসটিএফের আইজি গৌরব শর্মা। তাঁর দাবি, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, পাকিস্তান থেকে পরিচালিত একাধিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছিল এবং বিভিন্ন নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে নির্দেশ পাঠানো হচ্ছিল।
গৌরব শর্মা জানান, রাজ্য এসটিএফ নিয়মিতভাবে দিল্লি পুলিশ, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ, সন্ত্রাসদমন শাখা এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তথ্য আদানপ্রদান করে। সেই সূত্রেই এই ঘটনার সূত্রপাত। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে সমস্ত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও তিনি স্পষ্ট জানান।
তদন্তে উঠে এসেছে, গত প্রায় চার বছর ধরে হামিম মণ্ডল ও অর্পিতা সরকারের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। সেই যোগাযোগের সূত্র ধরেই পাকিস্তান থেকে পরিচালিত একাধিক গোপন পরিচয়ের মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছিল বলে দাবি এসটিএফের।
যুবকদের জড়ানোর চেষ্টা
আইজি জানান, তদন্তে দেখা যাচ্ছে, পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য ছিল আরও বেশি সংখ্যক যুবককে নিজেদের জালে টেনে আনা। তাঁদের দিয়ে একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা, তাঁদের যাতায়াত ও চলাফেরার ওপর নজর রাখা এবং ভবিষ্যতে কারা নাশকতার কাজে ব্যবহারযোগ্য হতে পারে, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল।
তিনি বলেন, এই সমস্ত তথ্য এখনও যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় এখনই সবকিছু প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
মন্ত্রীকে লক্ষ্য করে অপহরণ ও ব্ল্যাকমেলের ছক
গৌরব শর্মা জানান, কয়েকদিন আগে একটি নির্দিষ্ট তথ্য আসে যে হাওড়ার এক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীকে ব্ল্যাকমেল করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর ছেলেকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণের ষড়যন্ত্রেরও তথ্য পাওয়া যায়।
এই তথ্য পাওয়ার পরই এসটিএফ এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত শুরু করে। তদন্তে একটি সন্দেহভাজন যোগাযোগের সূত্র পাওয়া যায়। সেই সূত্র থেকেই হামিম মণ্ডলের নাম সামনে আসে।
হামিমের সঙ্গে পাকিস্তানি যোগাযোগের অভিযোগ
তদন্তে জানা যায়, হামিম আগে হাওড়ায় থাকলেও কয়েক মাস আগে পূর্ব বর্ধমানের রোহিণী আবাসনে চলে আসে। সেখানে তার বিভিন্ন যোগাযোগ বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা দেখতে পান, সে “রানা”, “আবির”, “জাহির”, “হাম্মাদ” নামে একাধিক পরিচয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
এসটিএফের দাবি, যাচাই করে দেখা গিয়েছে, এই সব পরিচয় পাকিস্তান থেকেই পরিচালিত হচ্ছিল।
এরপর ৩০ ও ৩১ জুলাই রাতের মধ্যে হামিমকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন লক্ষ্যবস্তু
এসটিএফের আইজি দাবি করেন, তদন্তে উঠে এসেছে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও সন্দেহভাজনদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিলেন।
পাকিস্তান থেকে পরিচালিত যোগাযোগের মাধ্যমে হামিমকে বারবার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল মুখ্যমন্ত্রীর চলাফেরা, নিরাপত্তাহীন মুহূর্ত এবং যাতায়াতের তথ্য সংগ্রহ করে জানাতে।
জন্তর-মন্তরে নাশকতার ছক
তদন্তকারীদের দাবি, সম্প্রতি জন্তর-মন্তরে হওয়া ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরির পরিকল্পনাও ছিল।
এই উদ্দেশ্যে হামিমকে পুলিশের পোশাক সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে এসটিএফের দাবি। যদিও ঠিক কী ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল, তা এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে লক্ষ্য করার অভিযোগ
আইজি জানান, তদন্তে এমনও তথ্য মিলেছে যে কয়েকজন পুলিশ আধিকারিক, রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকেও লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা ছিল। তবে তদন্তের স্বার্থে তাঁদের পরিচয় এই মুহূর্তে প্রকাশ করা হচ্ছে না।
অর্পিতার ভূমিকা
গৌরব শর্মার দাবি, অর্পিতা সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হাওড়ার ওই জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর ছেলেকে প্রেমের ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনায় হামিমই অর্পিতাকে যুক্ত করেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পাকিস্তান থেকে পরিচালিত বিভিন্ন পরিচয়ের সঙ্গে অর্পিতারও নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং তিনি কী করছেন, সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন ছিলেন বলেই তদন্তকারীদের দাবি।
একাধিক মাধ্যমে নির্দেশ আসত
এসটিএফ জানিয়েছে, হামিমের কাছে নির্দেশ আসত একাধিক যোগাযোগমাধ্যমে। তাকে বলা হতো পুলিশের পোশাক জোগাড় করতে, আরও যুবককে দলে টানতে, তথ্য সংগ্রহ করতে এবং একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে।
তদন্তকারীদের মতে, পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য ছিল নতুন যুবকদের যুক্ত করে একটি বড় নাশকতামূলক চক্র তৈরি করা।
অর্থের লেনদেন ও উগ্রপন্থার দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে
এসটিএফ জানিয়েছে, এই ঘটনায় অর্থ লেনদেনের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তবে পাকিস্তান থেকে পরিচালিত একাধিক যোগাযোগের সূত্র পাওয়ায় তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, এখানে যুবকদের উগ্রপন্থার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা এবং বড় ধরনের নাশকতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
হামিম মণ্ডল ও অর্পিতা সরকারকে আদালতে পেশ করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

