Dinesh Trivedi Delhi Relations: দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আরও মজবুত করার চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন হুমায়ুন কবির। কিন্তু সেই প্রচেষ্টার পথেই নয়াদিল্লিতে কোথায় বাধা তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলে ধরেছেন তিনি।
ভারতীয় হাইকমিশনারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন না বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। বরং তাঁর ইঙ্গিত, সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা দিল্লির কোনও একটি স্তরে গিয়ে আটকে যাচ্ছে।
ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। কিন্তু সেই চেষ্টা দিল্লির কোনও একটি জায়গায় গিয়ে আটকে যাচ্ছে—এমনই মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক ডেইলি ওয়াদার ৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে হুমায়ুন কবিরের এই বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
সেখানে দীনেশ ত্রিবেদীর ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ভারতীয় হাইকমিশনার চেষ্টা করছেন। কিন্তু দিল্লির কোথাও গিয়ে সেই চেষ্টা আটকে যাচ্ছে।
ছোট একটি মন্তব্য। কিন্তু এর রাজনৈতিক অর্থ যথেষ্ট গভীর।
দীনেশ ত্রিবেদীর কাজে কি সন্তুষ্ট ঢাকা?
হুমায়ুন কবির ভারতীয় হাইকমিশনারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি। উল্টে তাঁর বক্তব্যে দীনেশ ত্রিবেদীর চেষ্টার স্বীকৃতিই রয়েছে।
সমস্যার জায়গা হিসেবে তিনি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে দেখাননি। আঙুল তুলেছেন দিল্লির দিকে।
তাহলে কি দীনেশ ত্রিবেদী সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন, কিন্তু নয়াদিল্লির কোনও নীতি বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে সেই উদ্যোগ এগোতে পারছে না?
নাকি ভারত সরকারের বিভিন্ন স্তরে বাংলাদেশকে নিয়ে এখনও দ্বিধা রয়েছে?
হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য থেকে এই প্রশ্নগুলি উঠছে। কিন্তু এখনও কোনওটিরই নিশ্চিত উত্তর পাওয়া যায়নি।
দিল্লির কোথায় বাধা?
ডেইলি ওয়াদায় প্রকাশিত বক্তব্যে হুমায়ুন কবির বলেননি, দিল্লির ঠিক কোন জায়গায় সমস্যা হচ্ছে।
তিনি কোনও মন্ত্রণালয়, দপ্তর বা ব্যক্তির নামও উল্লেখ করেননি। ফলে দিল্লির অন্দরে মতবিরোধ রয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত এখনই টানা ঠিক হবে না।
ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও এই মন্তব্যের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।
তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রশ্নে ঢাকার একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি প্রকাশ্যেই বলছেন—চেষ্টা হচ্ছে, কিন্তু সেই চেষ্টা দিল্লিতে গিয়ে আটকে যাচ্ছে।
শুধু হাইকমিশনারের চেষ্টায় কি জট খুলবে?
দুই দেশের সম্পর্কে একাধিক কঠিন প্রশ্ন রয়েছে। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য, প্রত্যর্পণ, সীমান্ত, জলবণ্টন এবং পারস্পরিক বিশ্বাস—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যথেষ্ট জটিল।
এই অবস্থায় একজন হাইকমিশনার আলোচনা চালাতে পারেন। দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের পথ খোলা রাখতে পারেন। ভুল বোঝাবুঝি কমানোর চেষ্টা করতে পারেন।
কিন্তু বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁর হাতে নেই। সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে ঢাকা ও নয়াদিল্লির সর্বোচ্চ রাজনৈতিক স্তরকে।
হুমায়ুন কবিরের মন্তব্যে সম্ভবত সেই বাস্তবতাই সামনে এসেছে।
সম্পর্কের দরজা বন্ধ করেনি ঢাকা?
বক্তব্যটির আরও একটি দিক রয়েছে।
বাংলাদেশ হয়তো বোঝাতে চাইছে, দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার দরজা ঢাকা বন্ধ করেনি। ভারতীয় হাইকমিশনারও চেষ্টা করছেন। কিন্তু আলোচনা এখনও বাস্তব সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারছে না।
এটি অবশ্য হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য থেকে উঠে আসা একটি রাজনৈতিক ব্যাখ্যা। দিল্লির কোন স্তরে এবং ঠিক কোন বিষয়ে অগ্রগতি আটকে রয়েছে, তার কোনও নথিভুক্ত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
তাই অনুমানকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখানোর সুযোগ নেই।
কিন্তু মূল প্রশ্নটিও এড়িয়ে যাওয়া যাবে না—ভারতীয় হাইকমিশনার যদি সত্যিই চেষ্টা করে থাকেন, তাহলে সেই চেষ্টা দিল্লিতে গিয়ে থামছে কেন?
বাধা কি শেখ হাসিনা ইস্যুতে ভারতের অবস্থান?
বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে কি কোনও দ্বিধা রয়েছে?
নাকি নয়াদিল্লির সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিতরেই বাংলাদেশকে নিয়ে একাধিক মত কাজ করছে?
হুমায়ুন কবির কোনওটিরই সরাসরি উত্তর দেননি। কিন্তু তাঁর একটি মন্তব্য এই প্রশ্নগুলিকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।
এখন দিল্লির প্রতিক্রিয়ার দিকেই নজর থাকবে। কারণ দীনেশ ত্রিবেদীর ব্যক্তিগত চেষ্টা নয়, নয়াদিল্লির রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত বলে দেবে—ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক কোন পথে এগোবে।
সূত্র: ডেইলি ওয়াদা, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬। প্রকাশিত বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
#dineshtrivedidelhirelations #dineshtrivedi #humayunkabir #delhirelations #dhakadelhirelations #indiabangladeshrelations #dineshtrivedistatement #humayunkabirstatement #delhipolitics #bangladeshindiare lations #indiabangladesh #southasiapolitics #geopolitics













