লিখেছেন শবনম বানু
Baruipur Murder Case: ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপি বারবার বলেছিল, অপরাধীদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না। বারুইপুরে নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন ও হত্যার মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি গুলিতে মৃত্যুর পরে সেই ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির কথাই সামনে আনলেন বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ।
প্রথম কলকাতার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবি, অপরাধীদের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার আগের সরকারের সম্পূর্ণ বিপরীত পথে হাঁটছে। সজলের অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা বহু অপরাধী আইনের ফাঁক এবং বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ পেয়েছেন। নতুন সরকার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে চায়।
বারুইপুরে পুলিশের গুলিতে অভিযুক্তের মৃত্যুর প্রসঙ্গে সজল বলেন, “আমরা তো আগেই বলেছিলাম, সকালে জমা করব, বিকেলে খরচ করে দেব। কোনও রকম অন্যায়ের সঙ্গে আপস করব না।” অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে মত জানিয়ে তিনি পুলিশের ভূমিকাকে ‘বলিষ্ঠ ও সাহসী’ বলেও উল্লেখ করেন।
পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য প্রভাসকে সূর্যপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে তিনি এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পাল্টা গুলিতে আহত হওয়ার পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে পুলিশের এই বয়ানের সত্যতা যাচাই করতে রাজ্য অপরাধ তদন্ত বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধানও চলছে। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনাটিকে আদালতের দেওয়া শাস্তি বা প্রতিষ্ঠিত বিচার হিসেবে বর্ণনা করা যায় না।
সজল ঘোষের দাবি, দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া এবং আইনের নানা জটিলতার কারণে বহু ক্ষেত্রে অপরাধের শিকার পরিবারকে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। জেলে বসেও অপরাধ পরিচালনার অভিযোগ অতীতে বহুবার সামনে এসেছে। সেই কারণেই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার বিশ্বাস তৈরি করবে বলে তাঁর মত।
প্রসঙ্গত, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসককে যৌন নির্যাতন ও হত্যার মামলায় সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে শিয়ালদহ আদালত। সিবিআই তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করেছে। অন্যদিকে প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ধর্ষণ-খুনের মূল মামলায় দোষী সাব্যস্ত হননি; তদন্তে প্রমাণ নষ্ট ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পরে নির্ধারিত সময়ে অভিযোগপত্র জমা না পড়ায় তিনি জামিন পেয়েছিলেন। ফলে এই দুই আইনি অবস্থানকে এক করে দেখা ঠিক নয়।
আরজি কর-সহ তৃণমূল আমলের কয়েকটি আলোচিত ঘটনার তদন্ত নতুন করে খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে বর্তমান সরকার। সজল ঘোষের বক্তব্য, ধর্ষণ, হত্যা ও সংগঠিত অপরাধের ক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না। তবে পুলিশের গুলিতে মৃত্যুকে ঘিরে বিরোধীরা বিচারবহির্ভূত ব্যবস্থার অভিযোগ তুলেছে। তৃণমূল এই ঘটনাকে ‘উত্তরপ্রদেশের মডেল’ বলে কটাক্ষ করেছে।
সজলের মন্তব্য তাই শুধু বারুইপুরের একটি ঘটনাকে ঘিরে নয়; নতুন সরকারের আইনশৃঙ্খলা নীতির রাজনৈতিক ভাষ্যও স্পষ্ট করেছে। তবে কঠোরতা এবং আইনের শাসনের মধ্যে ভারসাম্য কতটা বজায় থাকে, তার উত্তর মিলবে চলতি তদন্ত ও পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়ায়।
#BaruipurMurderCase #SajalGhosh #BJP #WestBengalPolitics #LawAndOrder #PoliceEncounter #CrimeNews #PoliticalNews #BengalNews

