Bangladesh Foreign Policy: বাংলাদেশকে ঘিরে ভারত, আমেরিকা ও চিনের ভূ-কৌশলগত প্রতিযোগিতা নিয়ে জল্পনার মাঝেই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনও “দুই স্ত্রীর ঝগড়া” নয়, যেখানে এক পক্ষকে বেছে নিতেই হবে। বরং দেশের স্বার্থই ঢাকার একমাত্র অগ্রাধিকার।
তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশকে প্রায়ই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়—দেশটি কি আমেরিকার দিকে ঝুঁকছে, নাকি চিনের দিকে, অথবা ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবস্থান কী। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটিকে “স্ত্রী-সতীনের লড়াই” হিসেবে দেখার কোনও কারণ নেই। বাংলাদেশ কোনও পক্ষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে চায় না; বরং সব দেশের সঙ্গেই পারস্পরিক সম্মান ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
তিনি আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিবেশী হিসেবে এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে ঢাকা আগ্রহী। একই সঙ্গে চিনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো মানেই অন্য দেশের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করা নয়।
বাংলাদেশের বক্তব্য অনুযায়ী, পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হবে পারস্পরিক স্বার্থ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনগণের কল্যাণ। কোনও আন্তর্জাতিক শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হওয়ার পরিবর্তে, বাংলাদেশ সবার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতেই আগ্রহী।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা এবং একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা—দুটি দিকই সমান গুরুত্ব দিয়ে এগোচ্ছে ঢাকা। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষাই এখন বাংলাদেশের প্রধান কূটনৈতিক কৌশল হয়ে উঠেছে।
