Bangladesh BRICS Outreach: বাংলাদেশ ব্রিকসের স্থায়ী সদস্য (Bangladesh BRICS Outreach) না হলেও আউটরিচ মঞ্চে তার উপস্থিতি ভারত ও ঢাকার কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে। ব্রিকসের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ, ভারতের ভূমিকা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার সম্ভাবনা ঘিরে সামনে আসছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
ব্রিকস ছিল ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চিন—চারটি দ্রুত-বর্ধনশীল অর্থনীতিকে ঘিরে একটি ধারণা। আজ সেই ধারণা অনেক বড় এক ভূরাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত হয়েছে। ২০০১ সালে অর্থনীতিবিদ জিম ও’নিলের তৈরি করা ‘ব্রিক’ ধারণা থেকে শুরু করে ২০০৯ সালের প্রথম শীর্ষ সম্মেলন, দক্ষিণ আফ্রিকার যোগদান এবং পরবর্তী সম্প্রসারণ—ব্রিকসের পথচলা আসলে বিশ্ব অর্থনীতি ও কূটনীতির বদলে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ গল্প। বর্তমানে ১১টি পূর্ণ সদস্য দেশ নিয়ে এই জোট বিশ্বের প্রায় ৪৯.৫ শতাংশ জনসংখ্যা, ৪০ শতাংশ বিশ্ব উৎপাদন এবং ২৬ শতাংশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রতিনিধিত্ব করে।
এই পরিবর্তিত ব্রিকস কাঠামোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে ২০২৬ সালের ভারত-আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ফলে প্রশ্ন শুধু ব্রিকসে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনীতি, চিন-ভারত সমীকরণ এবং বাংলাদেশের বৃহত্তর পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্য।
ব্রিকসের জন্ম থেকে আজকের বিস্তার (Bangladesh BRICS Outreach)
ব্রিকসের ইতিহাস বুঝতে হলে শুরুতে ফিরে যেতে হয় ২০০১ সালে। সেই সময় গোল্ডম্যান স্যাকসের অর্থনীতিবিদ জিম ও’নিল ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চিনকে বোঝাতে ‘ব্রিক’ শব্দটি ব্যবহার করেন। তখন এটি কোনও রাজনৈতিক জোট ছিল না; বরং দ্রুত বেড়ে ওঠা অর্থনীতিগুলিকে নিয়ে একটি অর্থনৈতিক ধারণা ছিল। পরে এই ধারণাই রাষ্ট্রগুলির রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার মঞ্চে পরিণত হয়। ২০০৬ সালে চার দেশের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হয় এবং ২০০৯ সালের ১৬ জুন রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবুর্গে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম আনুষ্ঠানিক ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন।
এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা যুক্ত হওয়ায় ‘ব্রিক’ থেকে ‘ব্রিকস’ নামটি প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ সময় পাঁচ দেশের কাঠামো বজায় থাকার পর ২০২৩ সালের জোহানেসবার্গ শীর্ষ সম্মেলনে আরও বড় সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে এবং ইন্দোনেশিয়া ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে পূর্ণ সদস্য হয়। পাশাপাশি ২০২৫ সালে বেলারুশ, বলিভিয়া, কাজাখস্তান, কিউবা, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম অংশীদার দেশ হিসেবে যুক্ত হয়।
এই সম্প্রসারণের ফলে ব্রিকসের চরিত্রও বদলেছে। এটি আর কেবল কয়েকটি উদীয়মান অর্থনীতির সমন্বয় নয়; বরং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের দেশকে নিয়ে বৃহত্তর গ্লোবাল সাউথের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। এর পাশাপাশি ২০১৪ সালে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উন্নয়ন অর্থায়নের ক্ষেত্রেও নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হয়েছে।
আউটরিচ অধিবেশন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
ব্রিকসের আউটরিচ ব্যবস্থা শুরু থেকেই ছিল না। ২০১৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে অনুষ্ঠিত পঞ্চম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ধরনের সংলাপের আয়োজন করা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা তার আঞ্চলিক বাস্তবতা সামনে রেখে আফ্রিকান ইউনিয়ন ও আফ্রিকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দেশের নেতাদের সঙ্গে ব্রিকসের মূল বৈঠকের পাশাপাশি একটি বিশেষ সংলাপের সুযোগ তৈরি করেছিল। এরপর আয়োজক দেশগুলি নিজেদের অঞ্চল ও আঞ্চলিক সংগঠনের নেতৃত্বকে ব্রিকসের সঙ্গে যুক্ত করার এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে থাকে।
২০১৪ সালে ব্রাজিলের ফোর্তালেজা সম্মেলনে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলির সঙ্গে সংযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ২০১৫ সালে রাশিয়ার উফা সম্মেলনে ইউরেশিয়া ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক সামনে আসে। ২০১৬ সালে ভারতের গোয়া সম্মেলনে বিমসটেক দেশগুলিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেই অধিবেশনে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশ নেন। ২০১৭ সালে চিনের শিয়ামেন সম্মেলনে এই ধারণা আরও বিস্তৃত হয়ে ‘ব্রিকস প্লাস’ কাঠামোর দিকে যায়।
আউটরিচের গুরুত্ব এখানেই। কোনও দেশ পূর্ণ সদস্য না হয়েও ব্রিকসের আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং অর্থায়নের মতো বিষয়ে বৃহত্তর সংলাপ তৈরি হয়। একইসঙ্গে আয়োজক দেশের কাছেও এটি হয়ে ওঠে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক হাতিয়ার।
২০২৬ সালে ভারতের আউটরিচের তাৎপর্য
২০২৬ সালে ভারতের সভাপতিত্বে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সম্মেলনের মূল ভাবনা—সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বকে কেন্দ্র করে নির্মাণ। এই সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এখানে বাংলাদেশের আমন্ত্রণকে শুধু একটি সম্মেলনে উপস্থিতির বিষয় হিসেবে দেখলে আউটরিচের কূটনৈতিক গুরুত্বের একটি বড় অংশ বাদ পড়ে যায়। কারণ বাংলাদেশ এখানে শুধু নিজের দেশের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, একটি আঞ্চলিক সংগঠনের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবেও বৃহত্তর আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এই জায়গাটিই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের কাছে ব্রিকস কেন কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ?
ভারতের ব্রিকস নীতির কেন্দ্রে রয়েছে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন। অর্থাৎ কোনও একটি শক্তির সঙ্গে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে আবদ্ধ না রেখে একাধিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা। ব্রিকস ভারতকে চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে একই বহুপাক্ষিক মঞ্চে কাজ করার সুযোগ দেয়। আবার একই সময়ে পশ্চিমা দেশগুলির সঙ্গেও ভারতের নিজস্ব কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক বজায় থাকে।
ভারতের জন্য ব্রিকসের আরেকটি বড় ক্ষেত্র হল গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্ব। বিশ্বব্যবস্থায় উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার, উন্নয়ন অর্থায়ন, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তির প্রবেশাধিকার—এই বিষয়গুলিতে ভারত ব্রিকসকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
অর্থনীতির ক্ষেত্রেও ব্রিকস ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বিকল্প উন্নয়ন অর্থায়নের একটি কাঠামো তৈরি করেছে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ভারতের ৩২টি প্রকল্পের জন্য প্রায় ৯.৫ বিলিয়ন ডলার অনুমোদন করা হয়েছে। মেট্রো, দ্রুতগামী গণপরিবহণ, সড়ক, সেতু, জল ও নিকাশি, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এই অর্থ ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
চিনের সঙ্গে ভারতের জটিল সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ব্রিকস একটি আলাদা মাত্রা তৈরি করে। দ্বিপাক্ষিক ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা বা মতপার্থক্য থাকলেও বহুপাক্ষিক মঞ্চে যোগাযোগের একটি কাঠামো বজায় থাকে। একইভাবে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এবং নতুন সদস্য দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য ও বাজারের সুযোগ ভারতের কূটনৈতিক পরিসরকে আরও বিস্তৃত করে।
বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে, আর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ কী? (Bangladesh BRICS Outreach)
বাংলাদেশের জন্য ব্রিকসের গুরুত্ব (Bangladesh BRICS Outreach) মূলত তিনটি স্তরে দেখা যায়—অর্থনীতি, ভূরাজনীতি এবং আঞ্চলিক কূটনীতি।
প্রথমত, ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির সম্মিলিত অর্থনৈতিক শক্তি বাংলাদেশের কাছে নতুন বাজার ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা থেকে উত্তরণের পথে থাকায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং উন্নয়ন অর্থায়নের বিকল্প পথ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্যপদে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং চিন ও রাশিয়া এই আগ্রহকে সমর্থন করেছে।
দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান তাকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে সামনে আনে। ব্রিকসের বিস্তৃত কাঠামোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক তাই শুধু অর্থনৈতিক নয়; এর সঙ্গে বঙ্গোপসাগর, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং বৃহত্তর এশীয় ভূরাজনীতির প্রশ্নও যুক্ত।
তৃতীয়ত, বাংলাদেশের সামনে রয়েছে ভারসাম্যের কূটনীতি। একদিকে ভারত, অন্যদিকে চিন; পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক—সবকিছুকে একসঙ্গে সামলে এগোতে হবে। প্রদত্ত তথ্যেই বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়’ ধরনের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এই জায়গায় ব্রিকস বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাব্য অতিরিক্ত কূটনৈতিক মঞ্চ। কিন্তু আউটরিচে আমন্ত্রণ পাওয়া এবং পূর্ণ সদস্য হওয়া এক বিষয় নয়। আউটরিচ অংশগ্রহণ বৃহত্তর সংলাপের সুযোগ তৈরি করে; পূর্ণ সদস্যপদের জন্য আলাদা প্রক্রিয়া ও সমঝোতা প্রয়োজন।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন কূটনৈতিক জানালা কি ব্রিকস? (Bangladesh BRICS Outreach)
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল বলে প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দুই দেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল করার প্রয়োজন সামনে আসে। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের ব্রিকস আউটরিচে বাংলাদেশের আমন্ত্রণকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক জানালা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যদি এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন, তাহলে ব্রিকসের মতো একটি বহুপাক্ষিক মঞ্চে ভারতীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে বিমসটেক ও ব্রিকসের মধ্যে আঞ্চলিক সংযোগের প্রশ্নটিও সামনে আসবে। ২০১৬ সালের গোয়া সম্মেলনের পর ভারত-বিমসটেক-ব্রিকস সংযোগের যে অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছিল, ২০২৬ সালে তা নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
এখানে ভারতের স্বার্থও স্পষ্ট। প্রতিবেশী দেশগুলিকে বৃহত্তর আঞ্চলিক ও বিশ্বব্যাপী মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত করা ভারতের প্রতিবেশনীতি এবং গ্লোবাল সাউথ নেতৃত্বের ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাংলাদেশের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বঙ্গোপসাগরীয় দেশকে ব্রিকসের আউটরিচে যুক্ত করা সেই কৌশলেরই অংশ হতে পারে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের কাছেও এই অংশগ্রহণের মূল্য রয়েছে। সদস্য না হয়েও ব্রিকসের বৃহত্তর আলোচনায় নিজের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পাওয়া যায়। ভারত, চিন, রাশিয়া এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতির সঙ্গে একই মঞ্চে সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি হয়। ফলে এটি বাংলাদেশের জন্য কেবল একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ নয়; বরং নিজের বহুমুখী কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার একটি সুযোগ।
একবিংশ শতাব্দীর অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে বিশ্বজুড়ে ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা দক্ষিণের উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ব্রিকস আর শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন উদীয়মান ও বিকাশমান অর্থনীতিকে আলোচনার পরিসরে আনার জন্য ব্রিকসের বৈঠকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সম্প্রসারিত আলোচনা অধিবেশন। দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ ভারত ও বাংলাদেশের সামনে আলাদা হলেও পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত একাধিক কৌশলগত সুযোগ তৈরি করেছে। ভারত এই মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে নিজের আঞ্চলিক নেতৃত্বকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ পাচ্ছে।
বিমসটেককে গুরুত্ব দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগ
বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিমসটেকের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। ভারত এই আঞ্চলিক সহযোগিতার কাঠামোকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও গভীর করার সুযোগ পায়।
ব্রিকসের সম্প্রসারিত আলোচনায় বিমসটেকের সদস্য দেশগুলির উপস্থিতি তাই আলাদা গুরুত্ব বহন করে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক আলোচনার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়। ভারতের জন্য এটি আঞ্চলিক নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করার একটি পথ। বাংলাদেশের জন্যও এর গুরুত্ব কম নয়। কারণ বাংলাদেশ একইসঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
ফলে ব্রিকসের সম্প্রসারিত আলোচনায় বাংলাদেশের উপস্থিতি শুধু একটি দেশের অংশগ্রহণ হিসেবে দেখা যায় না। এর মাধ্যমে বঙ্গোপসাগর, আঞ্চলিক বাণিজ্য, যোগাযোগ, উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলিও বৃহত্তর আলোচনার পরিসরে আসতে পারে।
বাংলাদেশের কূটনীতির ক্ষেত্রে এই সুযোগ (Bangladesh BRICS Outreach) বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনও একটি শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে নিজের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থ এগিয়ে নেওয়া বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিকসের সম্প্রসারিত আলোচনা সেই বহুমুখী কূটনীতির একটি কার্যকর ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।
এর মাধ্যমে বাংলাদেশ নতুন বাজার, বিনিয়োগ, উন্নয়ন অর্থায়ন এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে পারে। একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, উন্নয়ন অর্থায়ন এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির স্বার্থের মতো বিষয়েও নিজেদের অবস্থান বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ পায়।
ব্রিকসের সম্প্রসারিত আলোচনা ভারত ও বাংলাদেশের সামনে দুই ধরনের সুযোগ তৈরি করছে। ভারতের জন্য এটি আঞ্চলিক নেতৃত্বকে বিশ্বমঞ্চের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ। বাংলাদেশের জন্য এটি কোনও নির্দিষ্ট জোটে আবদ্ধ না হয়েও বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ। এই দুই স্বার্থ যদি পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগোয়, তাহলে আগামী দিনে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে এই সম্প্রসারিত আলোচনার গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।
#bangladeshbricsoutreach #brics #bricssummit #bangladesh #india #bricsoutreach #narendramodi













