Assam Floods 2026: প্রতিবছরের মতো এ বছরও ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে অসম। ২০২৬ সালের বন্যায় ইতিমধ্যেই অন্তত ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, রাস্তা ও সেতুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বহু জেলায় ঘরবাড়ি, যানবাহন ও গবাদিপশু পুরু পলির নিচে চাপা পড়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চললেও বহু পরিবার এখনও গৃহহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
কেন বারবার বন্যা হয় অসমে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান, অতিবৃষ্টি, ব্রহ্মপুত্র ও তার অসংখ্য উপনদী, নদীতে পলি জমা, বনভূমি ধ্বংস এবং নদীভাঙনের কারণে অসম ভারতের অন্যতম বন্যাপ্রবণ রাজ্যে পরিণত হয়েছে।
অসমের চারপাশে হিমালয়, পাতকাই, নাগা, খাসি ও গারো পাহাড় রয়েছে। বর্ষাকালে এই পাহাড়ি অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ জল নেমে আসে। পাশাপাশি ব্রহ্মপুত্র এবং তার ৩৩টি প্রধান উপনদী দ্রুত ফুলে-ফেঁপে ওঠে। ফলে নদীর জল ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।
ব্রহ্মপুত্র নদ কেন এত বড় বিপদের কারণ?
ব্রহ্মপুত্র বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নদী। অরুণাচল প্রদেশ থেকে নেমে আসা সিয়াং, দিবাং ও লোহিত নদী একত্রিত হয়ে ব্রহ্মপুত্র তৈরি করে। পাহাড়ি ঢাল থেকে সমতলে নামার সময় নদীর গতি কমে যায় এবং বিপুল পরিমাণ পলি নদীর তলদেশে জমতে থাকে।
বছরের পর বছর এই পলি জমে নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে গেছে। ফলে নদীর জল বহন করার ক্ষমতা কমে যাওয়ায় অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেও নদী উপচে পড়ে।
১৯৫০ সালের ভূমিকম্প কীভাবে পরিস্থিতি বদলে দেয়?
১৯৫০ সালের অসম-তিব্বত ভূমিকম্প পূর্ব হিমালয়ে হাজার হাজার ভূমিধসের সৃষ্টি করে। সেই সময় বিপুল পরিমাণ মাটি ও পাথর ব্রহ্মপুত্রে এসে পড়ে।
এর পর থেকেই নদীতে পলি জমার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে থাকে।
বনভূমি ধ্বংস কেন বড় কারণ?
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অসমে প্রায় ৩,৬০০ বর্গকিলোমিটার বনভূমি নষ্ট হয়েছে।
বনভূমি কমে যাওয়ায় মাটি ধরে রাখার স্বাভাবিক ক্ষমতা কমেছে। বৃষ্টির জল দ্রুত নদীতে নেমে আসে এবং সঙ্গে বিপুল পরিমাণ পলি নিয়ে যায়। এতে নদীর তলদেশ আরও ভরাট হয়ে বন্যার আশঙ্কা বাড়ে।
নদীভাঙনের প্রভাব কতটা?
অসমে বন্যা ও নদীভাঙন একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
১৯৫০-এর দশক থেকে এখন পর্যন্ত নদীভাঙনের কারণে প্রায় ৪.২৭ লক্ষ হেক্টর জমি হারিয়েছে অসম। প্রতি বছর অসংখ্য গ্রাম, কৃষিজমি ও রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
২০২৬ সালে কেন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর ও চরাইদেও?
অসম সরকারের তথ্য অনুযায়ী, উজানের অতিবৃষ্টি এবং স্থানীয়ভাবে স্বাভাবিকের তুলনায় ৪৩৬ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় শিবসাগর ও চরাইদেও জেলায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
দিখৌ নদীর জল উপচে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ পলি কৃষিজমি ও বসতভিটা ঢেকে দেয়।
নাগাল্যান্ডের ভূমিকা নিয়ে কী বলা হচ্ছে?
অসমে একটি ধারণা রয়েছে যে নাগাল্যান্ডের পাহাড়ি এলাকায় বন উজাড় ও খননকার্যের ফলে অতিরিক্ত পলি নদীতে নেমে এসে বন্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
যদিও বিষয়টি এখনও চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত নয়, তবু অসম সরকারের একাংশের মতে, প্রতিবেশী পাহাড়ি রাজ্যগুলিতে ব্যাপক বনায়ন হলে দীর্ঘমেয়াদে মাটি ক্ষয় ও নদীতে পলি জমার সমস্যা কিছুটা কমতে পারে।
সরকার কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে?
অসম সরকার ইতিমধ্যেই—
নদীবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত করেছে।
নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
আধুনিক পূর্বাভাস ব্যবস্থা চালু করেছে।
হাইড্রো ইনফরমেটিক্স ইউনিটের মাধ্যমে বাস্তবসময়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।
এছাড়া বন্যায় মৃতদের পরিবারকে ৯ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা এবং এক লক্ষেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা অন্তর্বর্তীকালীন সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে।
স্থায়ী সমাধানের দাবি
অসমের বিভিন্ন সরকার, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন বহু বছর ধরে কেন্দ্রের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে, যাতে অসমের বারবারের বন্যা ও নদীভাঙন সমস্যাকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে ঘোষণা করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র ত্রাণ নয়, জলাধার ব্যবস্থাপনা, বনায়ন, নদী সংস্কার, বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা এবং কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া অসমের বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
#AssamFloods2026 #AssamFloods #Brahmaputra #FloodNews #IndiaFloods #Monsoon #RiverErosion #ClimateChange #DisasterNews #NortheastIndia

