Gyanesh Kumar Impeachment Motion: বাংলার প্রথম সারির একটি সংবাদ মাধ্যম এবিপি আনন্দের একটি টকশো তে প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জহর সরকার দেশজুড়ে শোরগোল ফেলে দেওয়া বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। নিজের সংবাদ মাধ্যমেও তিনি সেই ভিডিও ক্লিপিং শেয়ার করেছেন। বিশেষ নিবিড় সংশোধন ঘিরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ফর্ম ৬, ভোটার তালিকা পরিচালনার সফটওয়্যার, কমিশনের অভ্যন্তরীণ আপত্তি এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জহর সরকার। তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে এসেছে ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ, সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশির আপত্তি এবং পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার বিষয়।
জহর সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, ফর্ম ৬ এমন একটি সরকারি নির্ধারিত নথি, যেখানে পরিবর্তন আনার বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভোটার তালিকা ব্যবস্থাপনা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
“ফর্ম ৬ কেউ বদলাতে পারে না, ওটা বানিয়েছে ভারত সরকার” (Gyanesh Kumar Impeachment Motion)
ফর্ম ৬ নিয়ে জহর সরকার বলেন, এই ফর্মে পরিবর্তন আনার বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশি আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁদের আপত্তির বিষয়টি বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় ফর্ম ৬-এ নতুন তথ্য চাওয়ার সঙ্গে যুক্ত।
জহর সরকারের বক্তব্য,
“ফর্ম নম্বর ৬ কেউ বদলাতে পারে না। ওটা বানিয়েছে ভারত সরকার।”
ফর্ম ৬-এ কীভাবে পরিবর্তন আনা হলো এবং সেই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো, সেটিই তাঁর বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের দুই কমিশনারের আপত্তির কথাও উঠে এসেছে। তাঁদের আপত্তির মধ্যে ফর্ম ৬-এ পরিবর্তনকে অননুমোদিত ও বেআইনি বলা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জহর সরকার আরও বলেন, এমন একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল, যেগুলি তাঁর কাছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে হয়েছে।
সুনীল কুমার অরোরা থেকে রাজীব কুমার, তারপর জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar Impeachment Motion)
নির্বাচন কমিশনের কাজের ধারাবাহিকতা প্রসঙ্গেও নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন জহর সরকার। তিনি জানান, তিনি নির্বাচন কমিশনের হয়ে কাজ করেছেন এবং দুটি সংসদীয় নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তাঁর বক্তব্যে প্রথমে উঠে আসে ২০১৯ সালের নির্বাচন এবং তৎকালীন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল কুমার অরোরার প্রসঙ্গ। জহর সরকারের দাবি, সেই সময়ও নির্বাচন কমিশনের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল।
এরপর তিনি রাজীব কুমারের প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজীব কুমারের সঙ্গে তিনি দেখা করেছিলেন এবং প্রথমে তাঁর সম্পর্কে ভালো ধারণা তৈরি হলেও পরবর্তীতে কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে তাঁর হতাশা তৈরি হয়।
এরপর বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রসঙ্গে জহর সরকার বলেন,
“জ্ঞানেশ কুমার যেভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, সেগুলোর কোনো আইনসংগত ভিত্তি নেই।”
তিনি আরও বলেন,
“জ্ঞানেশ কুমার শুরু করেনি। গণেশ কুমার একটা চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে।”
অর্থাৎ, জহর সরকারের বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ককে শুধুমাত্র বর্তমান সময়ের বিষয় হিসেবে না দেখে ২০১৯ সালের পরবর্তী সময়ের ধারাবাহিকতার মধ্যেও দেখা হয়েছে।
“এসআইআরের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই” (Gyanesh Kumar Impeachment Motion)
বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন জহর সরকার। তাঁর বক্তব্যে এসআইআরের আইনগত ভিত্তি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
তিনি বলেন,
“এসআইআরের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।”
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আইনে বিস্তৃত পুনর্বিবেচনা এবং বিশেষ পুনর্বিবেচনার কথা রয়েছে। সেই দুই ধরনের প্রক্রিয়াকে একসঙ্গে মিশিয়ে নতুন ধরনের প্রক্রিয়া তৈরি করা যায় কি না, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
তবে এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান নিয়েও তিনি মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আদালত এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে এবং আদালতের সঙ্গে এ নিয়ে বিতর্কে যাওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এসআইআর নিয়ে আইনগত বিতর্কের পাশাপাশি এর বাস্তব প্রয়োগের বিভিন্ন দিক নিয়েও তাঁর বক্তব্যে প্রশ্ন উঠে এসেছে।

২৭ লক্ষ ভোটার বাদ যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন
পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টিও জহর সরকারের বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
তিনি বলেন,
“সাতাশ লক্ষ ভোটার আমরা আইডেন্টিফাই করেছি। সাতাশ লক্ষ ভোটার বাদ ছাড়া গেল। জীবনে কোনোদিন হয়নি। উনিশশো পঞ্চাশের পর কোনোদিন হয়নি।”
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ঘটনা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে তৎপরতা দেখা যায় এবং বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
জহর সরকারের বক্তব্যে আদালতের পরবর্তী নির্দেশ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর কথায়, এত বড় সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি আগে এমনভাবে দেখা যায়নি।
ভোটার তালিকা নিয়ে সফটওয়্যারের ভূমিকা (Gyanesh Kumar Impeachment Motion)
জহর সরকারের বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কম্পিউটার ও সফটওয়্যারের ব্যবহার নিয়ে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকা তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ভূমিকা বেড়েছে এবং এই ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তিনি বলেন,
“কম্পিউটার দিয়ে পুরো ইলেকশনটা, পুরো ইলেক্টোরাল প্রসেসটা চালাল।”
এই সফটওয়্যারে কী ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে, সেই বিষয়ে প্রকাশ্যভাবে পরিষ্কার তথ্য দেওয়া হচ্ছে না বলেও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
এখানেই নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বে থাকা সীমা খান্নার প্রসঙ্গ সামনে আসে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সীমা খান্না নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের মহাপরিচালক এবং ভোটার তালিকার তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার সঙ্গে তাঁর দায়িত্ব যুক্ত। কমিশনের অভ্যন্তরীণ আপত্তির ক্ষেত্রেও তাঁর দপ্তরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জহর সরকারের বক্তব্যে প্রশ্ন তোলা হয়, মাঠপর্যায়ের আধিকারিকদের (BLO) হাতে থাকা তথ্য এবং কেন্দ্রীয় সফটওয়্যারে থাকা তথ্যের মধ্যে কীভাবে পরিবর্তন তৈরি হচ্ছে এবং এই ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে রয়েছে।
সীমা খান্নার দপ্তর ও মাঠপর্যায়ের (BLO) আধিকারিকদের প্রসঙ্গ
ভোটার তালিকার তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা নিয়ে জহর সরকারের বক্তব্যে সীমা খান্নার নামও উঠে এসেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের দুই কমিশনার তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার কেন্দ্রীভূত নিয়ন্ত্রণ এবং মাঠপর্যায়ের নির্বাচনী আধিকারিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
গোয়ার ৯৭ জন ভোটারের নামের ঘটনাতেও এই প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা ওই ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তির যোগ্য বলে মনে করলেও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থায় নাম পুনরায় যুক্ত করার সুবিধা না থাকায় চূড়ান্ত তালিকায় তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি।
জহর সরকারের বক্তব্যের মূল প্রশ্নটি এখানেই—মাঠপর্যায়ের আধিকারিকদের সিদ্ধান্ত যদি একটি কেন্দ্রীভূত প্রযুক্তি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা কীভাবে নিশ্চিত হবে।
“এ সত্য আজ নয় তো কাল বেরিয়ে আসবে”
পুরো বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন জহর সরকার।
তাঁর বক্তব্য,
“এই সত্য আজ নয় তো কাল বেরিয়ে আসবে।”
তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ ও গোয়ার মতো রাজ্যের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আগামী দিনে বিহার-সহ আরও রাজ্যের বিষয় সামনে আসতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।
তাঁর বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে দুই কমিশনারের আপত্তির বিষয়টিকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে দেখানো হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশির পক্ষ থেকে গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানানোর কথা বলা হয়েছে। একই দিনে চারবার আপত্তি জানানোর কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
“পুরো বিষয়টাকে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে”
নির্বাচন কমিশনের দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠানগত ভূমিকা নিয়ে নিজের বক্তব্যের শেষদিকে আরও বিস্তৃত প্রশ্ন তোলেন জহর সরকার। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে বহু মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন এবং নির্বাচন পরিচালনার একটি ধারাবাহিক অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন,
“একটা এত বড়, এত নামি গণতান্ত্রিক সংস্থা, যে গণতন্ত্রে একটি স্তম্ভ হিসেবে ধরেছি…”
এরপর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর মন্তব্য,
“পুরো বিষয়টাকে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে।”
নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তার প্রভাব শুধু কমিশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে,
“ইলেকশন কমিশনে যদি বদনাম হয় তো গণতন্ত্রের বদনাম, সরকারের বদনাম, সকলের বদনাম হয়।”
ফর্ম ৬, এসআইআরের আইনগত ভিত্তি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া, সফটওয়্যারের কেন্দ্রীভূত নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ আপত্তি—এই একাধিক বিষয়কে একই সূত্রে দেখেছেন জহর সরকার।
[বক্তার বক্তব্য, মতামত সম্পূর্ণ তার নিজস্ব]
#GyaneshKumar #GyaneshKumarImpeachmentMotion #GyaneshKumarRemoval #ElectionCommission #SIR #OppositionIndia #IndianParliament #CJP #AbhijeetDipke













