Autism Awareness Documentary: ‘মিরর মিরর অন দ্য ওয়াল, হু ইজ দ্য ফেয়ারেস্ট অফ দেম অল?’, স্নো হোয়াইট গল্পে আয়নাকে রোজ প্রশ্ন করতেন রানি, আয়নার উত্তর ছিল, ইউ মাই কুইন! এখানে রানি নেই। আছে এক টুকরো বেঁচে থাকার স্বপ্নের অঙ্গীকার! গল্প বলার স্বপ্ন।
অটিজম রোগ নয়। তাই এর কোনও সম্পূর্ণ ‘নিরাময়’হয় না। চিকিৎসকরা বলেন, অটিজম এমন একটা অবস্থা যেখানে শিশুটির সামাজিক বিকাশ ঠিকমতো হয় না। এ ধরনের শিশুরা অন্যান্য স্বাভাবিক শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলো করতে পারে না। অন্যদের সঙ্গে ঠিকমতো মিশতেও পারে না। এরা একা একা থাকতে ভালোবাসে। সমাজের মূল স্রোত থেকে পিছিয়ে পড়া শিশুদের পুতুলনাচ কীভাবে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করে, সে কথাই তথ্যচিত্র ফুটিয়ে তুলেছিলেন শহর কলকাতার সাংবাদিকতার স্নাতকোত্তরের চার ছাত্রী। আর তাতেই বাজিমাত। নন্দনে অনুষ্ঠিত ডিরেক্টরস চয়েস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরার শিরোপা পেয়েছে বাগবাজারের উইমেন্স কলেজের চার ছাত্রীর সেই কৃতিত্ব।

মনীষা চক্রবর্তী, মৌমা ধারা, মনীষা কর্মকার, মল্লিকা হালদারের তৈরি ‘বাঁধন ছাড়া’ তথ্যচিত্রটিকে সেরা বলে নির্বাচন করেন পরিচালক বীরেশ চট্টোপাধ্যায়, হরনাথ চক্রবর্তী এবং অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। ওই চার পড়ুয়ার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন বন্ধু সোহম চট্টোপাধ্যায়। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শাশ্বত। ছাত্রীরা তাঁদের এই পুরস্কার উৎসর্গ করেছেন উইমেন্স কলেজ ক্যালকাটার প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ড. অনুপমা চৌধুরি, বিভাগীয় প্রধান ড. রোশেল অ্যান লেপচা ও সহপাঠীদের। ছাত্রীদের এই কৃতিত্বে স্বভাবতই খুশি অধ্যক্ষা। তাঁর কথায়, “সাংবাদিকতার স্নাতকোত্তর বিষয়টিকে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। এ বিষয়ের প্রখ্যাত অধ্যাপকদের পাশাপাশি নামী সাংবাদিকরা এখানে ক্লাস নেন। এই স্বীকৃতি আমাদের পড়ুয়াদের মনে আরও উৎসাহ জোগাবে।” চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজক ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার ডিরেক্টরস অ্যাসোসিয়েশন। নন্দনে আয়োজিত দু’দিনের উৎসবে মোট ২১টি ছবি প্রদর্শন করা হয়।
প্রসঙ্গত, অটিজম-এর নানা কারণ আছে। এর মধ্যে যেমন জিন ঘটিত কারণ আছে, তেমনই অনেক অসুখ থেকেও অটিজম হতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্রোমোজোমের সংখ্যার হ্রাস বা বৃদ্ধির কারণেও এই রোগ হয়। এই রোগের প্রকৃত কারণ নিয়ে এখন অনুসন্ধান চলছে। তবে একটা জিনিস বোঝা গিয়েছে তা হল আমাদের মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রের বিভিন্ন কোষগুলির পারস্পরিক সংযোগ কমে যাওয়া অথবা স্নায়ু থেকে নিঃসৃত কিছু রাসায়নিক পদার্থের অভাব— ইত্যাদির কারণেও এই রোগ হতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই এমন ক্ষেত্রে চিকিৎসার পাশাপাশি বাহ্যিক বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এখানে যেমন পড়ুয়াদের তৈরি করা এই তথ্যচিত্রটি। যা এমন শিশুদের মনের শক্তি শুধু বাড়ায় না। তাদের বন্ধু খুঁজে নিতেও সাহায্য করে।
আর সব শেষে বলতে হয় উইমেন্স কলেজের কথা। পড়ুয়াদের মধ্যে নানা ক্ষেত্রে ভিন্ন ধাঁচের কাজ করার উৎসাহ তৈরি করার কাজটি নীরবে করে চলেছে কলেজটি। এই পুরস্কার তো তারই স্বীকৃতি। তাই সব শেষে অধ্যক্ষের কথার সূত্র ধরে বলা যায়, “সাংবাদিকতার পড়ুয়ারা আগামী দিনে দেশের অন্যতম চালিকা শক্তি হয়ে উঠবেন এটাই সমাজ নিয়ম। আশা রাখি উইমেন্স কলেজ ক্যালকাটা কলেজের সাংবাদিকতার পড়ুয়ারা সেই শক্তির সামান্যতম হলেও অংশীদার হয়ে থাকবে।”
#AutismAwarenessDocumentary #AutismAwareness #Autism #PuppetTheatre #KolkataStudents #StudentFilmmakers #DocumentaryFilm #DirectorsChoiceFilmFestival #NandanKolkata













