Air India Phuket Delhi Flight Incident: ফুকেত থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে মাঝআকাশে একসঙ্গে তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থা বিকল হওয়ার ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এক পাইলটের মাদক ও ঘুমের ওষুধ সেবনের বিষয়টিও তদন্তে সামনে এসেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ।
নয়াদিল্লি: ১৩৭ জন যাত্রী নিয়ে উড়ছিল বিমান। কিন্তু মাঝপথে বিমানের তিনটি হাইড্রোলিক সিস্টেম একসঙ্গে বিকল হয়ে যায়। সেই পরিস্থিতি সামলানোর দায়িত্বে যে পাইলট ককপিটে ছিলেন, তিনি আবার বিমানে ওঠার আগে গাঁজা এবং ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন। ফুকেত থেকে দিল্লি আসা এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে এমনই বিস্ফোরক তথ্য উঠে এল। প্রাথমিক রিপোর্ট পেশ করেছে এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো।
মাঝ-আকাশে তীব্র ঝাঁকুনি। তার পরেই হু-হু করে নীচে নামতে শুরু করেছিল বিমান। প্রায় ৩০০ ফুট নেমে থামে ফুকেত-দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান। সেই সময় ঠিক কী ঘটেছিল, তা তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রশ্ন ওঠে, ওই বিমানের পাইলট কি মত্ত ছিলেন? প্রথম ডোপ টেস্টে ফেল করেন এক পাইলট। তাঁর শরীরে সাইকোঅ্যাক্টিভ পদার্থের উপস্থিতি ধরা পড়েছিল। নিশ্চিত হতে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষার ফলাফলও পজিটিভ আসে। পরে ওই পাইলট স্বীকার করে নেন, স্রেফ গাঁজা নয়, বিমানে ওঠার আগে ঘুমের ওষুধও খেয়েছিলেন তিনি। সেই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে ব্যুরোর প্রাথমিক রিপোর্টে।
‘নেশাগ্রস্ত’ পাইলটের দায়িত্বে থাকা বিমানই মাঝআকাশে বিকল হয়ে গিয়েছিল। ব্ল্যাক বক্সের তথ্য যাচাই করে জানা যায়, বিমানের তিনটি হাইড্রোলিক সিস্টেম একসঙ্গে বিকল হয়েছিল। প্রথমে গ্রিন হাইড্রোলিক সিস্টেমের প্রেশার কমে যায়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ব্লু এবং ইয়েলো হাইড্রোলিক সিস্টেমও একই সমস্যার সম্মুখীন হয়। বিমানকে ভাসিয়ে রাখার ক্ষমতা কমে যায় ডানাগুলির। তার জেরেই ঝাঁকুনি। কয়েক সেকেন্ডের জন্য হু হু করে নিচে নামতে থাকে বিমান। তবে সৌভাগ্যবশত সিস্টেমগুলি পুনরায় সঠিকভাবে কাজ করতে শুরু করে। বড় বিপদ এড়ানো যায়।
প্রায় চার সেকেন্ডের জন্য তিনটি হাইড্রলিক সিস্টেমের একাধিক ত্রুটির কারণে পাইলটের কোনও নির্দেশ ছাড়াই তার এলিভেটর ও এইলেরনগুলো নিজে থেকেই কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ফ্লাইট কন্ট্রোল সারফেসগুলোর পরিচালনার জন্য হাইড্রোলিক সিস্টেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন— এলিভেটর যা বিমানের নাককে উপরে বা নীচে ওঠা-নামা করে। এইলেরন যা ডানার সামনের অংশকে কাত করে বিমানটিকে ডানে বা বামে ঘোরায়, এবং স্পয়লার যা বিমানের উত্তোলন শক্তি কমায় ও বায়ুপ্রতিরোধ বাড়িয়ে বিমানটিকে নীচে নামতে বা গতি কমাতে সাহায্য করে। গুরুত্বপূর্ণ কন্ট্রোল সারফেস-এর কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য কয়েক সেকেন্ডের জন্য পাইলটদের হাতে উড়ানের নিয়ন্ত্রণ ছিল না। যদিও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হাইড্রোলিক সিস্টেম আবার সচল হয় এবং বিমানটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়, কিন্তু কেবিনে সিটবেল্ট সাইন বন্ধ থাকায় এই ঘটনার সময়ে প্রবল ঝাঁকুনিতে যাত্রীরা ছিটকে পড়েন।
#AirIndiaPhuketDelhiFlightIncident #AirIndiaFlightIncident #AirIndiaPhuketDelhiFlight #AirIndiaPilotDrugTest #AirIndiaHydraulicFailure #PhuketDelhiFlight #AirIndiaInvestigation #AircraftAccidentInvestigationBureau #AirIndiaPilot #HydraulicSystemFailure #AviationSafetyIndia #AirIndiaFlightSafety #DelhiFlight #PhuketFlight #AviationInvestigation














