Ayushman Bharat: স্বাস্থ্যবিমার পরিধি বাড়ানো থেকে অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের পেনশন দ্বিগুণ, স্বীকৃতি কার্ড ও পুজোর আর্থিক সহায়তা—একগুচ্ছ বড় ঘোষণায় সাংবাদিকদের জন্য নতুন সুযোগের কথা জানালেন শুভেন্দু অধিকারী।
প্রথম কলকাতা ডিজিটাল ডেস্ক: সাংবাদিকদের জন্য একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্তের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা, অবসরকালীন পেনশন, স্বীকৃতির আবেদন এবং পুজোর আর্থিক সহায়তা—একাধিক বিষয় নিয়ে ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হল, আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আসতে না-পারা সাংবাদিকদের পরিবারকে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার সুবিধার মধ্যে আনা। একইসঙ্গে রাজ্যের বাইরে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালেও চিকিৎসার সুযোগের কথা জানানো হয়েছে।
শুধু স্বাস্থ্যবিমাই নয়, অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের মাসিক পেনশনও ২,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫,০০০ টাকা করার কথা জানানো হয়েছে। নতুন পেনশন ব্যবস্থা ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রেস স্বীকৃতি কার্ড না থাকা সাংবাদিকদেরও যোগ্যতার ভিত্তিতে এই সুবিধার আওতায় আনার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
আয়ুষ্মানে না থাকলেও মিলবে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, যে সাংবাদিক বা সাংবাদিকের পরিবার আয়ুষ্মান ভারতের নির্দিষ্ট যোগ্যতার মধ্যে পড়ছেন না, তাঁদের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার আওতায় আনা হবে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি কার্ড প্রতীকীভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে। যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের পরবর্তী সময়ে কার্ড দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতেও যোগ্যরা আবেদন করতে পারবেন।
এই প্রক্রিয়ায় সরকারি আধিকারিকরা সহযোগিতা করবেন বলেও জানানো হয়েছে। আবেদন বা কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রী কিংবা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হবে না—এমন কথাও বলা হয়েছে।
রাজ্যে ১,৯০০, দেশজুড়ে ৩৮ হাজার হাসপাতালে চিকিৎসার দাবি
স্বাস্থ্যসুরক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে উঠে এসেছে চিকিৎসার পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, আগে স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় রাজ্যের প্রায় ১,৭০০টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ ছিল। বর্তমানে আয়ুষ্মান ভারত এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার মাধ্যমে রাজ্যের প্রায় ১,৯০০টি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ মিলবে।
এর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাসপাতালেও চিকিৎসার সুযোগের কথা জানানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই দুই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৩৮ হাজার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সুবিধা পাওয়া যাবে। ভেলোর, মুম্বই, চণ্ডীগড়, হায়দরাবাদ এবং বেঙ্গালুরুর মতো শহরের হাসপাতালগুলির কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
চিকিৎসা খরচের ক্ষেত্রে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সুবিধার কথাও জানানো হয়েছে। ফলে গুরুতর অসুস্থতা বা বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রাজ্যের বাইরে চিকিৎসার সুযোগ সাংবাদিক ও তাঁদের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
আয়ুষ্মানে থাকা পরিবারকে আলাদা কার্ড নিতে হবে না
আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও স্পষ্ট করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। যাঁরা ইতিমধ্যেই আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় রয়েছেন, তাঁদের আলাদা করে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার কার্ড নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ একই পরিবারের ক্ষেত্রে দু’টি আলাদা কার্ডের জন্য নতুন করে আবেদন করার বাধ্যবাধকতা থাকছে না।
৭০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের ক্ষেত্রেও আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এই বয়সের ক্ষেত্রে আলাদা যোগ্যতার শর্ত না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্যে প্রায় ৪০ লক্ষ প্রবীণ নাগরিক এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন বলেও বক্তব্যে জানানো হয়েছে।
পেনশন ২,৫০০ থেকে বেড়ে ৫,০০০ টাকা
সাংবাদিকদের জন্য আর একটি বড় ঘোষণা অবসরকালীন পেনশন নিয়ে। আগে অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের মাসে ২,৫০০ টাকা করে পেনশন দেওয়া হতো। এবার সেই পরিমাণ দ্বিগুণ করে ৫,০০০ টাকা করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থা ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে চালু করার কথা জানানো হয়েছে।
তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট রাখা জরুরি—এই পেনশনের ক্ষেত্রে ‘৬০ বছর পেরোলেই প্রত্যেক সাংবাদিক স্বয়ংক্রিয়ভাবে পেনশন পাবেন’ এমন তথ্য সরকারি ঘোষণার উদ্ধৃত অংশে নেই। বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে বিভিন্ন শ্রেণির গণমাধ্যমকর্মীদের আবেদন এবং নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় সর্বাধিক সংখ্যক যোগ্য সাংবাদিককে সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। আগের ব্যবস্থায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ১৫০-র আশপাশে ছিল বলে জানানো হয়েছে। এবার সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।
স্বীকৃতি কার্ড না থাকলেও আবেদনের সুযোগ
নতুন পেনশন ব্যবস্থার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রেস স্বীকৃতি কার্ডের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা। বিশেষ করে সংবাদমাধ্যমের ডেস্কে কাজ করা এবং সাধারণত যাঁদের প্রেস স্বীকৃতি কার্ড নেই, তাঁদেরও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রকল্পের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
শুধু নির্দিষ্ট ধরনের সাংবাদিক নয়, যোগ্যতার মাপকাঠি পূরণ করলে বিভিন্ন শ্রেণির গণমাধ্যমকর্মী আবেদন করতে পারবেন বলেও জানানো হয়েছে। উদ্দেশ্য হল, বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় নিয়ে আসা।
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার আশ্বাস
নতুন পেনশন প্রকল্পের ক্ষেত্রে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা রাখার কথা জানানো হয়েছে। যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও কোনও সাংবাদিককে অন্য কোনও কারণে প্রকল্পের বাইরে না রাখার কথাও বলা হয়েছে। অর্থাৎ আবেদনকারীদের যোগ্যতার ভিত্তিতেই বিবেচনা করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
পেনশন প্রকল্পের লক্ষ্য শুধু পুরনো সুবিধা বাড়ানো নয়, বরং সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে আরও বেশি যোগ্য সাংবাদিককে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা। এ কারণেই নতুন ব্যবস্থায় আগের তুলনায় বৃহত্তর পরিসরে আবেদন গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
পুজোর সময় সাংবাদিকদের ৩,০০০ টাকা
সাংবাদিকদের জন্য পুজোর আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের ঘোষণা এসেছে। আগে কলকাতা ও জেলার সাংবাদিকদের জন্য আলাদা হারে অর্থ দেওয়া হতো। এবার সেই বিভাজন তুলে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
আবেদনকারী সাংবাদিকরা পুজোর সময় ৩,০০০ টাকা করে পাবেন বলে ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ কলকাতা বা জেলার ভিত্তিতে আলাদা অঙ্ক নয়, আবেদনকারীদের জন্য একই পরিমাণ অর্থ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
এর পাশাপাশি সাংবাদিকদের প্রেস স্বীকৃতি কার্ডের জন্য আবেদন করার সুযোগ দিতে নতুন ব্যবস্থা চালুর কথাও জানানো হয়েছে। আগে যাঁরা বিভিন্ন কারণে স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদেরও নির্দিষ্ট মাপকাঠির ভিত্তিতে আবেদন করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, স্বাস্থ্যবিমা, অবসরকালীন পেনশন, প্রেস স্বীকৃতি এবং পুজোর আর্থিক সহায়তা—এই চারটি ক্ষেত্রেই সাংবাদিকদের জন্য বড় পরিবর্তনের বার্তা এসেছে। বিশেষ করে পেনশন ৫,০০০ টাকা করা এবং আয়ুষ্মান ভারতের বাইরে থাকা সাংবাদিক পরিবারকে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমার আওতায় আনার সিদ্ধান্তকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
#ShubhenduAdhikari #JournalistPension #RetiredJournalists #MediaWorkers #JournalistWelfare #WestBengal
আরও পড়ুন :
২০০৬-এর পর মার্কিন বন্ড বাজারে বড়সড় ধস, তাহলে কি ভারতের শেয়ার বাজারও বিপদের মুখে?
নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে কলকাতার ৩২ জন নিখোঁজ, তাঁদের খোঁজে জরুরি হেল্পলাইন, জানুন নম্বর
‘ইসলামীয় নেটো’-র দিকে কি বাংলাদেশ? মক্কা চুক্তিতে ঢাকার আগ্রহ ঘিরে বাড়ছে ভারতের উদ্বেগ?
বিচ্ছেদের গুঞ্জনের মাঝেই হাত ধরাধরি করে হৃতিক-সাবা, তবে কি থামল জল্পনা?













