Hrithik Roshan Saba Azad Relationship: একদিকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি কথিত ডেটিং অ্যাপের প্রোফাইল, অন্যদিকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রকাশ্যে একসঙ্গে দেখা গেল হৃতিক রোশন ও সাবা আজাদকে। তাই স্বাভাবিকভাবেই বলিউডের এই চর্চিত সম্পর্ককে ঘিরে তৈরি হওয়া বিচ্ছেদের জল্পনায় যেন আচমকাই নতুন মোড়। শনিবার সকালে একটি ভাইরাল স্ক্রিনশটকে কেন্দ্র করে হৃতিক ও সাবার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই আলোচনার মধ্যেই দু’জনকে মুম্বইয়ের জুহুর একটি প্রেক্ষাগৃহ থেকে একসঙ্গে বেরোতে দেখা যায়। শুধু পাশাপাশি হাঁটা নয়, তাঁদের দেখা যায় হাত ধরাধরি করে। ফলে দিনের শুরুতে যে প্রশ্ন উঠেছিল—সম্পর্কে সত্যিই কি চিড় ধরেছে?—সন্ধ্যার আগেই সেই জল্পনার সামনে এসে দাঁড়াল সম্পূর্ণ অন্য একটি ছবি।
তবে এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, যে কথিত ডেটিং অ্যাপের প্রোফাইলকে কেন্দ্র করে যাবতীয় আলোচনা শুরু হয়েছিল, সেটি সত্যিই হৃতিকের কি না, কিংবা সেটি বর্তমানে সক্রিয় কি না—তার কোনও স্বাধীন নিশ্চিতকরণ এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবি আর বাস্তবে দেখা যাওয়া ঘটনাকে এক করে দেখার আগে কিছুটা সতর্ক থাকা জরুরি।
যে স্ক্রিনশট ঘিরে আচমকাই শুরু হয়েছিল বিচ্ছেদের জল্পনা
শনিবার সকালে হৃতিক রোশন ও সাবা আজাদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় একটি কথিত স্ক্রিনশটকে ঘিরে। দাবি করা হয়, ছবিটি এক বিশেষ ডেটিং অ্যাপের প্রোফাইলের, যেখানে হৃতিকের ছবি, বয়স এবং তাঁর ইনস্টাগ্রাম পরিচিতির সঙ্গে মিলে যায় এমন তথ্য দেখা যাচ্ছে। প্রোফাইলে তাঁকে অভিনেতা, প্রযোজক এবং উদ্যোগপতি হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই স্ক্রিনশট দ্রুত সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে এবং তার থেকেই তৈরি হয় নতুন জল্পনা।
কিন্তু এখানেই রয়েছে সবচেয়ে বড় সতর্কতার জায়গা। ভাইরাল হওয়া কোনও স্ক্রিনশট দেখেই সেটিকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সত্যিকারের অ্যাকাউন্ট বলে ধরে নেওয়া যায় না। প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ওই প্রোফাইলটি হৃতিকেরই কি না বা অ্যাকাউন্টটি সক্রিয় কি না, তার স্বাধীন প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। অর্থাৎ, এই মুহূর্তে এটি একটি দাবি এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি—নিশ্চিত তথ্য নয়।
আরও একটি বিষয় এই জল্পনাকে বাড়িয়ে দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগেও ইন্টারনেটে হৃতিকের নামে একই ধরনের কথিত ডেটিং অ্যাপ প্রোফাইল নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সেই সময়ও হৃতিক বা সাবা এই ধরনের জল্পনায় প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানাননি। ফলে পুরনো আলোচনা এবং নতুন স্ক্রিনশট—দুই মিলিয়েই এবার বিষয়টি ফের আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।
জল্পনার মাঝেই জুহুর প্রেক্ষাগৃহে হৃতিক-সাবা
কিন্তু গল্পটা এখানেই থেমে থাকেনি। বিচ্ছেদের গুঞ্জন ছড়ানোর পরই সামনে আসে এমন একটি দৃশ্য, যা আগের কয়েক ঘণ্টার আলোচনাকে কার্যত অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেয়। শনিবার হৃতিক রোশন ও সাবা আজাদকে মুম্বইয়ের জুহুর একটি পিভিআর প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা দেখে বেরোতে দেখা যায়। সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তাঁদের একসঙ্গে বেরিয়ে আসার মুহূর্তটি। দু’জনকে হাত ধরাধরি করে হাঁটতে দেখা যায়।
শুধু তাই নয়, দু’জনের পোশাকেও ছিল মিল। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, হৃতিক ও সাবা দু’জনেই কালো টি-শার্ট পরেছিলেন। হৃতিকের মাথায় ছিল একটি টুপি। ক্যামেরার সামনে তাঁদের এই স্বাভাবিক উপস্থিতি সামাজিক মাধ্যমে তৈরি হওয়া বিচ্ছেদের গুঞ্জনের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ছবি তুলে ধরে।
এখানেই তৈরি হয় কৌতূহল। যদি দিনের শুরুতে ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশটকে ঘিরে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার প্রশ্ন ওঠে, তাহলে একই দিনে তাঁদের একসঙ্গে সিনেমা দেখে হাত ধরাধরি করে বেরিয়ে আসার অর্থ কী? অবশ্যই এই একটি দৃশ্যকে কোনও সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা অস্বীকার হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। তবে অন্তত এটুকু বলা যায়, সাম্প্রতিক বিচ্ছেদের জল্পনার সঙ্গে তাঁদের এই প্রকাশ্য উপস্থিতি পুরোপুরি মেলে না।
২০২১ থেকে সম্পর্কের গল্প, ২০২২-এ প্রকাশ্যে আসা
হৃতিক রোশন ও সাবা আজাদের সম্পর্ক নতুন কোনও বিষয় নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁদের সম্পর্কের শুরু ২০২১ সালে। পরের বছর, ২০২২ সালে, করণ জোহরের ৫০তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দু’জন একসঙ্গে হাজির হয়ে নিজেদের সম্পর্ককে প্রকাশ্যে আনেন। এরপর থেকেই তাঁদের একসঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাওয়ার ঘটনা নিয়মিতভাবেই অনুরাগীদের নজর কেড়েছে।
হৃতিক এর আগে সুজান খানের সঙ্গে বিবাহিত ছিলেন। তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ ২০১৪ সালে চূড়ান্ত হয়। তবে বিচ্ছেদের পরেও দু’জনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা সন্তানদের সহ-অভিভাবক হিসেবেও সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সাবাকেও হৃতিকের প্রাক্তন স্ত্রী সুজানের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যায়। হৃতিকের সঙ্গে সুজানের বর্তমান সঙ্গী আরসলান গোনিরও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে সুজানের বোন ফারাহ খান আলিও তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল ভাব ছিল—একটি সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ার পরও মানুষের মধ্যে অকারণ বিরোধ বা নেতিবাচকতা থাকা জরুরি নয়। বরং প্রত্যেকে নিজের জীবনে এগিয়ে গিয়ে সুখী থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ।
হৃতিক-সাবার ক্ষেত্রেও তাই বারবার একটি বিষয় সামনে আসে—তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যতই আলোচনা হোক, বাস্তব জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে সেই জল্পনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায় না। একটি ছবি, একটি স্ক্রিনশট কিংবা কয়েকটি সামাজিক মাধ্যম পোস্ট কখনও কখনও সম্পূর্ণ গল্পের একটি ছোট অংশ মাত্র।
তাহলে কি সত্যিই বিচ্ছেদের গুঞ্জন থামল?
এই প্রশ্নের উত্তর আপাতত সরাসরি দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ হৃতিক রোশন বা সাবা আজাদ নিজেরা এই সাম্প্রতিক জল্পনা নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিয়েছেন—এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই। অন্যদিকে, কথিত ডেটিং অ্যাপের প্রোফাইলটিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। তাই সেটিকে ভিত্তি করে তাঁদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোও ঠিক হবে না।
তবে একই দিনে তাঁদের একসঙ্গে সিনেমা দেখতে যাওয়া এবং হাত ধরাধরি করে বেরিয়ে আসার দৃশ্য নিঃসন্দেহে আলোচনার গতিপথ বদলে দিয়েছে। সকালে যে গল্পটি বিচ্ছেদের সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হয়েছিল, দিনের শেষে সেটিই দাঁড়িয়েছে আরও একটি প্রশ্নের সামনে—সামাজিক মাধ্যমের গুঞ্জন কতটা সত্য, আর বাস্তব দৃশ্যটাই বা কতটা ইঙ্গিতবহ?
বলিউডে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কৌতূহল নতুন নয়। কিন্তু এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দেয়, ভাইরাল কোনও দাবি আর নিশ্চিত খবর এক জিনিস নয়। বিশেষ করে কোনও সম্পর্কের মতো ব্যক্তিগত বিষয়ে যাচাই না-করা তথ্যকে সত্য ধরে নেওয়ার আগে অপেক্ষা করাই দায়িত্বশীল পথ।
এই মুহূর্তে যা নিশ্চিতভাবে বলা যায়, তা হল—বিচ্ছেদের গুঞ্জনের মধ্যেই হৃতিক রোশন ও সাবা আজাদকে একসঙ্গে দেখা গেছে, এবং তাঁদের হাত ধরাধরি করে বেরিয়ে আসার ছবি নতুন করে অনুরাগীদের নজর কেড়েছে। সম্পর্কের ভিতরে সত্যিই কী চলছে, তার চূড়ান্ত উত্তর অবশ্য একমাত্র তাঁরাই দিতে পারেন।
#hrithikroshan #sabaazad #bollywood #bollywoodnews #celebrityrelationship #relationshiprumours #movies














