Bangladesh Defence Pact: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলেছে। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি গড়ে ওঠা যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামোয় বাংলাদেশ ভবিষ্যতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিজেদের জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে দেখছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এই বক্তব্য সামনে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের এই সম্ভাব্য অবস্থান নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ঘটনাপ্রবাহের দিকে ভারত ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে।
সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্কের জোটে বাংলাদেশের আগ্রহ কেন গুরুত্বপূর্ণ
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান চলতি আগস্টে মক্কায় একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার অঙ্গীকার। ফলে এটি শুধু দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতা নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোটটিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে না দেওয়ার বক্তব্য দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে এখনই বাংলাদেশ এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমনটা বলা যাচ্ছে না। হুমায়ুন কবিরের বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সম্ভাবনাটি খতিয়ে দেখা হতে পারে।
‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতিতেই সিদ্ধান্ত, জানাল ঢাকা
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের সরকার তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতির কথা বারবার তুলে ধরছে। অর্থাৎ কোনও নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে নয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়েই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনার কথা বলা হচ্ছে।
এই নীতির আলোতেই সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টি দেখা হচ্ছে বলে হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট। এর আগে বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্কের প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সম্পর্কও বাড়ানোর উদ্যোগ দেখা গিয়েছে। দুই দেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
ফলে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায় মধ্যপ্রাচ্য ও তুরস্কের সঙ্গে নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার গুরুত্ব বাড়ছে—এমন একটি প্রবণতা স্পষ্ট হচ্ছে।
ভারত কী বলল?
বাংলাদেশের সম্ভাব্য অবস্থান নিয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া অবশ্য যথেষ্ট সংযত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়ালকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, পশ্চিম এশিয়ায় যে ঘটনাগুলি ঘটছে, ভারত সেগুলি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
অর্থাৎ নয়াদিল্লি এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদানের বিষয়ে সরাসরি কোনও আপত্তি বা সমর্থন প্রকাশ করেনি। বরং পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণের কথাই জানিয়েছে।
এই সংযত প্রতিক্রিয়া তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশ যদি ভবিষ্যতে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও কৌশলগত সমীকরণে তার প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক যখন নতুন রাজনৈতিক পর্যায়ের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে, তখন ঢাকার এই ধরনের বহুপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতা নয়াদিল্লির কাছে স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এখনই চুক্তিতে যোগ নয়, দরজা খোলা রাখছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ সূত্রের খবর, এটি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। ‘যোগ দিতে আগ্রহী’ বা ‘বিবেচনা করছে’—এই অবস্থানকে সরাসরি চুক্তিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা স্পষ্ট করেছেন যে দেশের নিজস্ব স্বার্থ এবং পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই বিষয়টি দেখা হবে।
এর ফলে ঢাকা কার্যত একটি কূটনৈতিক দরজা খোলা রাখছে। একদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, অন্যদিকে তুরস্কের সঙ্গে বাড়তে থাকা প্রতিরক্ষা ও রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।
তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বাংলাদেশ কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। ফলে আগামী দিনে ঢাকা কীভাবে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতার কাঠামো এগিয়ে নেয় এবং ভারতের সঙ্গে তার সম্পর্কের ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখে, সেটিই নজরে থাকবে।
#BangladeshDefencePact #TariqueRahman #SaudiArabia #Pakistan #Turkey #BangladeshForeignPolicy #SouthAsia #DefencePact














